27 C
ঢাকা, বাংলাদেশ
ভোর ৫:০২ | ৪ঠা জুলাই, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | ২০শে আষাঢ়, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
গ্রীন পেইজ
কোভিড-১৯ করোণাভাইরাসঃ স্বাস্থ্য সংক্রান্ত কিছু পরামর্শ – সবসময় মাক্স পরা কি উচিৎ?
করোনা ভাইরাস রহমান মাহফুজ

কোভিড-১৯ করোণাভাইরাস স্বাস্থ্য সংক্রান্ত পরামর্শ – সার্বক্ষণিক মাস্ক পরা উচিত কি না??

কোভিড-১৯ করোণাভাইরাসঃ স্বাস্থ্য সংক্রান্ত কিছু পরামর্শ – সার্বক্ষণিক মাস্ক পরা উচিত কি না??

রহমান মাহফুজ, প্রকৌশলী, পরিবেশ কর্মী, পরিবেশ এবং পরিবেশ অর্থনৈতিক কলামিষ্ট, সংগঠক এবং সমাজসেবী।

কোভিধ ১৯ করোণাভাইরাসের সংক্রামণ হতে রক্ষা পাওয়ার প্রতিরোধী কার্যকর ব্যবস্থাগুলোর একটি হ’ল মাক্স পরা এবং আমরা সকলেই এই মহামারী হতে রক্ষা পেতে মাক্স পরে যাচ্ছি।

এখন কথা হ’ল আমরা কখন মাক্স পরব, আমরা কি সবসময় মাক্স পরে থাকব?

উত্তর হ’ল “না”। একটা সীমিত সময়ের জন্য সীমিত পরিসরে মাক্স পরা উচিৎ। যদি অনেক সময় ধরে মাক্স পরা থাকে, তবে নিন্মবর্ণিত অসুবিধাগুলো হতে পারে।

  • রক্তে অক্সিজেন এর স্বল্পতা দেখা দিতে পারে।
  • অক্সিজেনের অভাবে ব্রেণ এর কার্যক্রমের হ্রাস ঘটতে পারে।
  • দূর্বলতা অনুভব হতে পারে।
  • মৃত্যুর আশংকা থাকে।
উপদেশ:
  • যখন একা অবস্থান করেন ইহা খুলে ফেলুন।
  • শীততাপ নিয়ন্ত্রিত গাড়ীতে যখন একা থাকেন খুলে ফেলুন।
  • বাসায় মাক্স পরা প্রয়োজন নাই, যদি না বাসায় আক্রান্ত কাহারও সংষ্পর্শে যেতে না হয় বা বাসায় কোন আগন্তকের সাথে স্বাক্ষাৎ করতে না হয়।
  • বাসা হতে বের হলে যে সকল স্থানে ৩ ফুট দূরত্বের মধ্যে কাহারো উপস্থিতির আশংকা থাকলে অথবা কাহারো সাথে কথোপকথন করলে অবশ্য মাক্স পরিধান করতে হবে। পার্কে বা জনশূন্য রাস্তায় যেখানে ৩ ফুট দূরত্বের অবস্থান বা চলাচল করা সম্ভব সে সকল স্থানে মাক্স পরার প্রয়োজন নাই।
০২। আইসোলেসন হাসপাতালে অবস্থান করার সময় নিরাপদে অবস্থান করুন
০৩। খাদ্য তালিকায়:
  • ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার যেমন লেবুর রস, কমলা লেবু, লিচু, পেঁপে, পেয়ারা, স্ট্রবেরী খান অথবা ভিটামিন সি ১০০০ মিলিগ্রাম ট্যাবলেট সেবন করুন।
  • ভিটামিন ই সমৃদ্ধ খাবার যেমন চিনাবাদামসহ অন্য সকল বাদাম, সূর্যমূখীর বিচি, সূর্যমূখী তেল, মাছের কলিজা, আম, অ্যাবোকাড, কালো জাম, জলপাই, বাদাম তেল, পাম ওয়েল ইত্যাদি খাবার খান, অন্যথায় বিটামিন ই ট্যাবলেট সেবন করুন।
  • প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় ডিম রাখুন।
  • অ্যালকালীন (Alkaline) বা ক্ষার জাতীয় খাদ্য বেশী পরিমানে গ্রহন করুন।
০৪। অভ্যাস করুন:
  • প্রতিদিন সকাল ১০- ১১ টা পর্যন্ত ১৫/২০ মিনিট রোদে থাকুন।তাতে দেহে ভিটামিন ডি এর অভাব পূরণ হবে। সম্ভব না হলে ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাবার বা ক্যাপসেল খান (ডাক্তারের পরামর্শ মতে)।
  • দৈনিক ৭- ৮ ঘন্টা ঘুমান।
  • প্রতিদিন অন্তত ১.৫ লিটার পানি পান করুন।
  • সবসময় গরম খাওয়া খান এবং ঠান্ডা খাওয়া পরিত্যাগ করুন।

এর অর্থ হল আমাদেরকে সবসময় আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির চেষ্টা করতে হবে। ইহা স্মরণ রাখতে হবে যে, আমাদের রক্তের PH মান 5.5 হতে 8.5 এর মধ্যে পরিবর্তন হতে থাকে।

PH হল পানীয় কোন একটা বস্তু এসিড কি ক্ষার (Alkaline) তা বুঝাবার একটা স্কেল। মূলত: PH হল নেগেটিভ হাইড্রোজেন আয়ন এর লগারিদম ঘনত্বের পরিমান (Logarithm of Negative Hydrogen (H+) ion concentration) । ইহাকে রাসায়নিক শ্রাস্রে নিন্মরুপে প্রকাশ করা হয়:

PH = log10 (1/H+)

অর্থাৎ কোন দ্রবণে হাইড্রোজেন আয়ন কমলে ঐ দ্রবনের PH বাড়বে এবং এসিডিয় হবে। আবার হাইড্রোজেন আয়ন বাড়লে ঐ দ্রবনের PH কমবে এবং ক্ষারীয় হবে।

অধিকন্ত PH মান ১ কমলে বা বাড়লে ঐ দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়ন ১০ টি গুচ্ছ বাড়ে বা কমে। কোন পানীয় দ্রবন এসিডীয় না ক্ষারীয় তার পরিমাপের জন্য যে স্কেল ব্যবহার করা হয় তাকে PH স্কেল বলা হয়। PH স্কেলে ১ হতে ১৪ পর্যন্ত সংখ্যা থাকে।

নিচে PH পরিমাপের স্কেল দেওয়া হ’ল। ২৫ ডিগ্রী সেন্টিগ্রেড রুম তাপমাত্রায় বিশুদ্ধ পানির PH =7 । কোন পানিয় দ্রবনের PH  এর মান  7 হতে কমতে থাকলে ঐ দ্রবণটি তীব্র এসিডীয় হচ্ছে এবং 7 হতে বাড়তে থাকলে তীব্র ক্ষারীয় হচ্ছে।

PH scale
PH scale

যেহেতু করোণা ভাইরাসসমূহের উপরের আবরণ ও সূঁচালো কাঁটার মত অংশসমূহ প্রোটিন বা অ্যামিনো এসিড দিয়ে গঠিত এবং অ্যামিনো এসিড একটি দূর্বল এসিড। তাই যে সকল খাদ্যে PH বেশী, সে সকল খাদ্য গ্রহন করে শরীরের ক্ষারীয় উপাদান বৃদ্ধি পাবে।

ফলে করোণা ভাইরাসের এসিডীয় প্রলেপ ও সূচালো কাঁটা ভেঙ্গে যাবে বিধায় করোণা ভাইরাস দেহের অভ্যন্তরে ধ্বংস হয়ে যাবে।

মূলত: এই সূঁচালো কাটাঁই হলো ভাইরাসের এন্টোজেন যা দ্ধারা ভাইরাস জীবকোষকে ছিদ্র করে ভিতরে প্রবেশ করে জীব কোষের নিউক্লিয়াসের বস্তুগুলো ব্যবহার করে অনুরূপ ভাইরাস তৈরী করতে থাকে, অপর দিকে জীবকোষ ধ্বংস হতে থাকে।

চিত্রে লাল রংয়ের একটি করোণা ভাইরাসের এন্টিজেনকে মানবদেহে উৎপন্ন এন্টিবডি ধ্বংস করছে তা দেখানো হ’ল।
চিত্রে লাল রংয়ের একটি করোণা ভাইরাসের এন্টিজেনকে মানবদেহে উৎপন্ন এন্টিবডি ধ্বংস করছে তা দেখানো হ’ল।
চিত্রে ভাইরাস এন্টোজেন কিভাবে দেহের এপিথিয়াল কোষের ভিতর ডুকে দেহ কোষটি ধ্বংস করছে – তা দেখানো হ’ল।
চিত্রে ভাইরাস এন্টোজেন কিভাবে দেহের এপিথিয়াল কোষের ভিতর ডুকে দেহ কোষটি ধ্বংস করছে – তা দেখানো হ’ল।



ফলে আমাদের রক্তসহ দেহের অভ্যন্তর ক্ষারীয় করার জন্য অধিক মাত্রায় PH বিদ্যমান রয়েছে নিন্মে বর্ণিত খাদ্যগুলো বেশী পরিমান খাওয়া উচিৎঃ

 

 

 খাদ্যের নামPH valueখাদ্যের নামPH value
ভূট্টা (Cron)6.0 – 7.5কেক, চকলেট (Cake, chocolate)7.2 – 7.8
অল্প বয়সী গরুর মাংস

(Beef – Unaged)

7.0ক্র্যার্কাস (Crackers)7.0 – 8.5
মিঠা পানির মাছ

(Fresh water fish)

6.9 – 7.3 তফু, সয়াবিন দধি (Tofu – soybean curd)7.20
দুধ (Milk)6.2 – 8.5বিস্কুট (Biscuit)7.1 – 7.3
পনির (Camembert Chess)7.44ডিম (Egg)7.3 – 9.5
মিষ্টি Sweet)7.3চিংড়ী/কার্ব মাছ (Shrimp or carbs)6.8-7.0
ব্রেকিং সোডা (Breaking Soda)9.0মিল্ক অব ম্যাগনেশিয়া (Milk of Magnesia), সাধারনত টয়লেট কষা (constipation) হলে ডাক্তারগন প্রেসক্রাইব করে।10.0
সমুদ্রের পানি (Sea water)8.0অ্যামোনিয়য়া (Ammonia)11.0

Source: FDA

ওকলাহোমা স্টেট ইউনিভার্সিটি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট (OKLAHOMA State University, USA) এর তথ্য মতে কোন খাদ্যের PH কম বা বেশী যাহাই হউক না কেন তা ইস্ট, মোল্ড, ভাইরাস বা ব্যাকটোরিয়া জাতীয় মাইক্রোঅর্গানিজমকে প্রতিরোধ করে।

তাই যে সকল খাদ্যে কম PH আছে সেগুলোও মানবদেহে ভাইরাস, ব্যাকটোরিয়া জাতীয় মাইক্রোঅর্গানিজম প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। মোটামুটি PH মান ৭ এর কাছাকাছি মানবদেহের জন্য উপকারী আমাদের পরিচিত ও সহজলব্য এমন খাদ্যগুলোর একটি তালিকা নিন্মে দেওয়া হ’লঃ-

খাদ্যের নাম ও PH valueছবিখাদ্যের নাম  ও PH valueছবি
ফুলকফি (Cauliflower) = 5.6তরমুজ (Melon, Honey) = 6.00-6.67
বাঁধাকফি (Cabbage) = 5.20-6.80 আলু (Potatoes) = 5.40-5.90
ছোট বাঁধাকফি (Brussels sprout) = 6.00-6.30কলা (Bananas) = 4.50-5.20
গাজর(Carrots) = 5.88-6.40মটর, শুকানো (Peas, Garbanzo) = 6.48-6.80
পাথুনি শাক (Celery) = 5.70-6.00মটর, গ্রীণ (Peas, Green) = 5.70- 6.00
খরমুজ(Cantaloup) = 6.13-6.58আদা (Ginger) 5.60 – 5.90
শশা(Cucumbers) = 5.12-5.78টমেটু (Tomato) = 4.30-4.47
কলমী জাতীয় সবজী (Watercress) = 7.0মরিচ (Peppers) = 4.65-5.45
ডুমুর(Calamyrna) = 5.05-5.98কাঁচা মরিচ (Peppers, green) = 5.20-5.93
শিম (Beans) = 5.60-6.50ভাত (cooked rice) = 6.0 – 6.7
পেঁয়াজ জাতীয় গাছ (Leeks) = 5.50-6.17আর্টিচোক (Artichokes) = 5.50-6.00
পেঁয়াজ, লাল (Onions, red) = 5.30-5.880বেগুন (Eggplant) = 4.5-5.3
রসুন (Garlic) = 5.0 – 6.0কঁচি বাঁশ বা খবিচা (Bamboo Shoots) = 5.10-6.20
মাশরুম(Mushrooms) = 6.00-6.70ম্যাপল গাছের রস বা ম্যাপল সিরাপ (Maple syrup) = 5.15
আনারস(Pineapple) = 3.20-4.00মিষ্টি কুমড়া (Pumpkin) = 4.990-5.50
আপেল(Apple) = 3.10-3.90লাল মূলা, শালগম (Radishes, red) = 5.85-6.05
অ্যাভাকাডো (Avocado) = 6.27-6.58সাদা মূলা, শালগম (Radishes, white) = 5.52-5.69
অ্যাসপ্যারাগাস (Asparagus) = 6.00-6.70শশার ন্যয় কুমড়া (Zucchini, cooked) = 5.69-6.10
ব্রুকুলি(Broccoli) = 6.30-6.85ঢেঁড়শ, রান্না করা (Okra cooked) = 5.50-6.60
পেঁপে(Papaya) = 5.20-6.00কুমড়া, হলুদ রংয়ের, রান্না করা (Squash, yellow, cooked) = 5.79-6.00
গাঁজর জাতীয় সবজী (Parsnip) = 5.30-5.70মিষ্টি আলু (Sweet potatoes) = 5.30-5.60
ক্ষিরা(Pickles,fresh pack) = 5.10-5.40কঁচি তাল গাছের ভিতরের শাঁষ (heart of Palm) = 6.70
মাখন(Butter)= 6.1-6.4চিনি (Sugar) = 5.0-6.0
ময়দা (Flour) = 6.0-6.3গুড় (Molasses) = 5.0-5.5
 কাঁঠাল (Jackfruit) = 4.80 – 6.80আম (Mango) = 5.8- 6.0

Source: US Food and Drug Administration (FDA)

তবে সাইট্রাস এসিডিয় কিছু ফল রয়েছে যাদের PH মান কম যেমন ক্যানবেরী (Cranberry)এর শরবত =২.৩- ২.৫, আংগুর ফলের শরবত (Grape juice) =৩.৩, আপেল শরবত (apple juice) = ৩.৩৫, কমলা লেবুর শরবত (orange juice), লেবুর শরবত (Lemon Juice) = 2.0 এবং মধূ (Honey) = ৩.৯ হলেও রোগ জীবানু ধ্বংসে অত্যন্ত উপকারী।

অনেকের মতে সাইট্রিক এসিডিয় ফলসমূহ বিপাক ক্রিয়া সম্পন্নের পর উচ্চমাত্রার অ্যাকালিন অর্থাৎ উচ্চ PH মানে পরিবর্তিত হয়।

এর কোন বিজ্ঞান ভিত্তিক প্রমান না থাকলেও মানবদেহের অভ্যন্তরে রোগ জীবানু ধ্বংসে এগুলো গুরুত্ব পূর্ণ ভূমিকা পালন করে। যেমন গরম জলে লেবুর রস ও মধু নিয়মিত সেবন করলে ভা্ইরাস, ব্যকটোরিয়ার মত রোগ জীবানু মানব ফুসফুসে পৌাছানোর পূর্বেই ৭ দিনের মধ্যে ধ্বংস করে দেয়।

মধু একটি শক্তিশালী এন্টিব্যাকটোরিয়াল ও এন্টিভাইরাল। এ ছাড়া মধু এন্টিঅক্নিডেন্ট উপাদান সমৃদ্ধ এবং অত্যন্ত শক্তিশালী। ফলে মধু ব্যাকটোরিয়া এবং ভাইরাসের বীরুদ্ধে অত্যন্ত কার্যকরী।

ইহা ছাড়াও মধুতে রয়েছে Vitamine –k, D and E এবং এই তিনের সমষ্টিকে বেটা- কেরোটিন (beta-carotene) বলা হয়। বেটা-কেরোটিন রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিসহ নাসান্দ্র পরিষ্কার রাখে ও শ্বাসযন্ত্রের প্রদাহের বীরুদ্ধে অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা রাখে।

আর লেবুর রসে রয়েছে প্রচুর পরিমান এন্টিঅক্নিডেন্ট ও ভিটামিন সি। এন্টিঅক্নিডেন্ট রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা (Immunity)বৃদ্ধি করে এবং শরীরে অভ্যন্তরে বিষাক্ত পদার্থ প্রবেশ করলে, উহার মূলভিত্তি(Radical) ভেঙ্গে ধ্বংস করে দেয়। দেহের অভ্যন্তরীণ সকল প্রদাহ (Infection) প্রতিরোধের মাধ্যমে সারিয়ে তোলে, হৃদয় রোগ (Heart Disease), ডায়াবেটিস (Diabetes), পার্কিংসন্স (Parkinson’s) অর্থাৎ হাত পা কাঁপুনি রোগ প্রতিরোধেও লেবুর রস অত্যন্ত কার্যকরী ও উপকারী।

ভিটামিন সি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে ভাইরাস, ব্যাকটোরিয়ার, ফানজাই, ই- কোলি, প্যারাসাইট জীবানুর আক্রমণ হতে সুরক্ষা দেয়। এ ছাড়াও ইহা দেহের ত্বক, শ্বাসনালীসহ দেহের অভ্যন্তরীণ সকল অঙ্গের ভিতরের ও বাহিরের কাঠামো গঠনের এপিথেলিয়াল কোষ (epithelial cells) ও ভাইরাস, ব্যাকটোরিয়া, ফানজাই, ই- কোলি, প্যারাসাইট ইত্যাদি প্যাথোজেন এর মাঝে একটি প্রতিরোধ মূলক পর্দা তৈরী করে (Develop a thin membrane) সুরক্ষা দেয়।

তাই গরম পানির সাথে লেবুর রস এবং পরিমানমত কাঁচা মধু (Raw or unprocessed honey) গলা ব্যথা, মুখের ভিতর ভাইরাল প্রদাহ, কফের সমস্যা দূর করে এবং শ্বাসযন্ত্রসহ শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করণসহ দেহের নানাবিধ উপকার করে (HEALTHYSAB and PUbMed)। ইহা দেহের অভ্যন্তরের স্বল্প সময়ে শক্তির উৎপাদক (energy booster)ও বটে। মধু ছাড়া গরম জলে লেবুর রস দিয়ে পান করাও উপকারী।

রোগ জীবানুগুলো আমাদের নাক, মূখ বা চোখ দিয়ে প্রবেশ করে গলদেশে যেয়ে উষ্ণ ও সিক্ত হয় এবং ঐ স্থানে বেশ কিছু সময় লেগে থাকে। তাই মুখ ও নাক দিয়ে গরম বাষ্পের তাপ গ্রহন করলে, গরম পানি পান করলে ও গরম জলে গরগর করলে রোগ জীবানুসমূহ মারা যায়। ফলে এরা আর দেহের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে পারে না।

তাছাড়াও মানবদেহের অভ্যন্তরে সবসময় ৩০ ডিগ্রী সেলসিয়াস বা ৯৭-৯৮ডিগ্রী ফানেহাইট তাপমাত্রা থাকে বলে এর কম তাপমাত্রার খাদ্য গ্রহন করলে বা পরিবেশে অবস্থান করলে আমাদের দেহের জীবকোষ গুলো চুপসে যায় এবং এ জাতীয় খাদ্যের সাথে ভাইরাস, ব্যাকটোরিয়া জাতীয় প্যাথোজেনসমূহ প্রবেশ করলে তখন দেহ কোষ ঐ গুলোকে ধ্বংসে কোন কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারে না।

অপর পক্ষে ৩০ ডিগ্রী সেলসিয়াস এর উপরের তাপমাত্রার খাদ্য গ্রহন করলে বা পরিবেশে অবস্থান করলে আমাদের দেহের রোগ জীবকোষ গুলো উদ্দিপ্ত হয় এবং ঐ অবস্থায় প্যাথোজেনসমূহ দেহের অভ্যন্তরে প্রবেশ করলে সহজে মানব কোষগুলো উহাদেরকে ধ্বংস করতে অত্যধিক কার্যকরী ভূমিকা পালন করে।

এজন্যই রোগ আক্রান্ত সময়ে আমরা গরম কিছু পান করলে বা গরম পরিবেশে অবস্থান করলে অপেক্ষাকৃত আরাম ও স্বাছন্দ্য বোধ করি। তাই আমাদেরকে রোগক্রান্ত অবস্থায় তো বটেই, সাধারণ সময়ও ঠান্ডা খাদ্য ও ঠান্ডা আবহাওয়া এড়িয়ে চলা ও গরম খাদ্য গ্রহন ও কিছুটা উষ্ণ আবহাওয়ায় অবস্থান করা উচিৎ।

Reference:
1) OKLAHOMA State University, USA
2। US Food and Drug Administration (FDA)
৩। Wikipedia, HEALTHYSAB and PUbMed

আরও পড়ুন:
# কিভাবে করোনাভাইরাস (COVID-19) দেহের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে এবং শ্বাসযন্ত্রকে আক্রান্ত করে?
# করোনা ভাইরাসের লক্ষণ: কিভাবে বুঝব এবং কখন ডাক্তারের শরণাপন্ন হব?
# ভ‍্যাকসিন আবিস্কার প্রণালি এবং COVID-19 Coronavirus ভ‍্যাকসিনের জন‍্য ১৮ মাসের প্রয়োজন কেন?
# ইতিহাসের মহামারীগুলো- তখনও মহামারীর বিস্তার রোধে মাস্ক, জনবিছিন্নতার নিয়মের প্রচলন ছিল
# বিশ্বের বেশীর ভাগ মানুষেরই হাত ধোঁয়ার সুযোগ কম – বিশ্ব ব্যাংক
# কোভিড-১৯ করোনাভাইরাস – পাবলিকেরা হাত ধোয়ার সাবান পাবে কই?

সম্পর্কিত পোস্ট

Green Page | Only One Environment News Portal in Bangladesh
Bangladeshi News, International News, Environmental News, Bangla News, Latest News, Special News, Sports News, All Bangladesh Local News and Every Situation of the world are available in this Bangla News Website.

এই ওয়েবসাইটটি আপনার অভিজ্ঞতা উন্নত করতে কুকি ব্যবহার করে। আমরা ধরে নিচ্ছি যে আপনি এটির সাথে ঠিক আছেন, তবে আপনি ইচ্ছা করলেই স্কিপ করতে পারেন। গ্রহন বিস্তারিত