27 C
ঢাকা, বাংলাদেশ
বিকাল ৩:৪০ | ২০শে জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ খ্রিস্টাব্দ | ৬ই আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ বঙ্গাব্দ
গ্রীন পেইজ
সহনীয় মাত্রার চেয়ে দ্বিগুন-তিনগুন শব্দ দূষণ সিলেটে
পরিবেশ দূষণ

সহনীয় মাত্রার চেয়ে দ্বিগুন-তিনগুন শব্দ দূষণ সিলেটে

সহনীয় মাত্রার চেয়ে দ্বিগুন-তিনগুন শব্দ দূষণ সিলেটে

সহনীয় মাত্রার চেয়ে দ্বিগুন এবং তিনগুন থাকলেও শব্দ দূষণ প্রতিরোধে সচেতনতা নেই সংশ্লিষ্টনের। গ্রহণ করা হয়নি আইনানুগ পদক্ষেপও। এই অবস্থা সিলেটের প্রতিটি স্থানে।

সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত শব্দ দূষণের মাত্রা অতিক্রম করছে। যানবাহনের উচ্চশব্দ, নির্মাণ কাজে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি, ধর্মীয় ও সামাজিক আচার অনুষ্ঠান, বিভিন্ন উৎসবে আতশবাজির উচ্চমাত্রার শব্দ দূষণে নগরবাসী রীতিমতো অতিষ্ঠ।



যার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্রভাব পড়ছে স্বাস্থ্যের ওপর। যানবাহনের আধিক্যের কারণে শব্দ দূষণের মাত্রা অতিক্রম করেছে বলে জানায় পরিবেশ অধিদপ্তর।

শব্দ দূষণের কারণে বয়স্ক ও শিশুরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন সব থেকে বেশি। বিশেষ করে নীরব এলাকা হিসেবে চিহ্নিত হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এলাকায় দূষণের মাত্রা বড়েছে আশংকাজনক হারে।

গুরুত্বপূর্ণ সরকারী অফিস আদালত, হাসপাতাল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ নীরব এলাকায় নেই ‘হর্ণ বাজাবেন না’ নির্দেশক। প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ না নেয়ায় বেড়েছে দূষণের মাত্রা অভিযোগ পরিবেশবাদীদের। শব্দ দূষণকে একটি সামাজিক ব্যাধি বলে মনে করছেন তারা।

ধর্মীয় অনুষ্ঠান ওয়াজ মাহফিলে দীর্ঘ এলাকাজুড়ে অতিরিক্ত মাইক ব্যবহার, বিভিন্ন পূজা অর্চনা, বিয়ে ও সামাজিক অনুষ্ঠানে লাউড স্পিকার ব্যবহার করা হচ্ছে।

পরিবেশ আইন ২০০৬ অনুযায়ী দ-নীয় অপরাধ হলেও এসব অনুষ্ঠান থেকে শব্দ দূষণ বন্ধে নেই কোনো কার্যকর পদক্ষেপ। শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণে পরিবেশ অধিদপ্তর ও ট্রাফিক পুলিশকে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি।

অথচ সিলেটে জ্যামিতিক হারে বাড়ছে ছোট বড় যানবাহন। সেই সাথে বিধিমালায় নির্দেশিত ৫টি এলাকায় (আবাসিক, মিশ্র, বাণিজ্যিক, শিল্প এবং নীরব) বাড়ছে শব্দ দূষণের মাত্রা।

সিলেট নগরীর মধ্যে নির্বাচিত স্থানগুলির মধ্যে মেন্দিবাগ পয়েন্ট, সোবহানীঘাট, আম্বরখানা, কদমতলী, করিমউল্লাহ মার্কেট সহ বিভিন্ন পয়েন্টে সবচেয়ে বেশি শব্দ দূষণ হচ্ছে।

নগরীর কোর্ট পয়েন্টে সর্বনিম্ন অবস্থানে থাকলেও এখানেও শব্দের মাত্রা নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে দ্বিগুণ। কদমতলী সোবহানীঘাট, আম্বরখানায় শব্দ দূষণের মান মাত্রা ৯০ থেকে ১১০ ডেসিবল। যেখানে সহনীয় পর্যায় দিনের বেলায় ৬০ ও রাতে ৫০ ডিসেবল থাকার কথা।



সংশ্লিষ্টরা বলেন, নগরীর আম্বরখানা রিকাবীবাজার বন্দরবাজার এলাকায় দিনের ব্যস্ত সময়ে প্রতি ১০ মিনিটে ১১২১টি হর্ণ বাজাতে দেখা যায়, যার মধ্যে ১০৮টি হাইড্রালিক হর্ণ এবং ১০১৩টি সাধারণ হর্ণ বাজানো হয়।

চিকিৎসকদের মতে, ১১০ ডেসিবলের অধিক শব্দ মানুষের কানে ব্যথার সৃষ্টি করে। বর্তমানে সিলেট নগরীতে শব্দের গড় মাত্রা ৮০ থেকে ১১০ ডেসিবল, যা আমাদের শ্রবণশক্তির সর্বোচ্চ ক্ষমতার সমান।

শব্দ দূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা, ২০০৬ এ আবাসিক এলাকার জন্য শব্দের নির্ধারিত মানমাত্রা দিনে ৫৫ এবং রাতে ৪৫ ডেসিবল।

এদিকে, সিলেট জেলায় পরিবেশ অধিদপ্তরের কোনো কার্যালয় নেই। সিলেটের কার্যক্রম পরিচালনা করছে বিভাগীয় অফিস। জনবল সংকটের কারণে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা সম্ভব হয় না বলে জানিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তরের একটি সূত্র। সিলেটে শিল্প কলকারখানা কম তাই সিলেট জেলায় কার্যালয় নেই বলে জানালেন বিভাগীয় পরিচালক এমরান হোসেন।

পরিবেশ অধিদপ্তরের অনেকগুলো বিষয় নিয়ে কাজ করতে হয়। প্রতিমাসে পৃথক এলাকা থেকে শব্দ দূষণের মানমাত্রা সংগ্রহ করা হয়। জনবল সংকটের কারণে বিভিন্ন সময়ে শব্দ দূষণে পরিবেশ অধিদপ্তর কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারছে না বলে জানান নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পরিবেশ অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা।

সিলেট নগরী জুড়ে শব্দ দূষণের প্রধান কারণ যানবাহনের উচ্চ শব্দ। নগরীর প্রধান প্রধান সড়কগুলোতে সকাল থেকে চলছে সিএনজি অটোরিকশা, প্রাইভেট কার, বাস, মিনিবাস ইত্যাদি।

আর রাতে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ট্রাক। আর অলিগলিতে সিএনজি চালিত অটোরিকশা-মোটর সাইকেল। যানবাহনের সাধারণ হর্ণের সাথে হাইড্রোলিক হর্ণ বাজানো হয়, যা সহ্যের সীমা অতিক্রম করে।



এছাড়া, দ্রুতগতিতে হাউড্রোলিক হর্ণ বাজিয়ে মোটরসাইকেলে বেপোরোয়া তরুণদের দৈরাত্ম্য এ যন্ত্রণা বাড়িয়ে দেয় কয়েকগুণ। উচ্চশব্দের জন্য মোটরসাইকেলের সাইলেন্সার (বাশি) খুলে দিব্যি গাড়ি দৌড়াতে দেখা যায়।

এছাড়া, গ্রাইন্ডার মেশিনসহ নির্মাণকাজে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি, ওয়ার্কশপ, অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ারসার্ভিসের গাড়ি, জেনারেটর, মাইকিং, উচ্চ শব্দে টেলিভিশন অহরহ শব্দ দূষণ করছে।

ওসমানী হাসপাতাল সূত্র জানায়, গত ছয় মাসে যেসব রোগী কানের সমস্যা নিয়ে চিকিৎসা নিতে এসেছেন তাদের প্রায় ১০ শতাংশই উচ্চশব্দে টেলিভিশন দেখেন অথবা মোবাইলে কথা বলেন।

শব্দদূষণের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজের উপ পরিচালক ডা. হিমাংশু লাল রায় বলেন, শব্দ দূষণের কারণে সবচেয়ে বড় যে সমস্যা হয় তা হচ্ছে কাজে একাগ্রতা কমে যাওয়া।

“Green Page” কে সহযোগিতার আহ্বান

সম্পর্কিত পোস্ট

Green Page | Only One Environment News Portal in Bangladesh
Bangladeshi News, International News, Environmental News, Bangla News, Latest News, Special News, Sports News, All Bangladesh Local News and Every Situation of the world are available in this Bangla News Website.

এই ওয়েবসাইটটি আপনার অভিজ্ঞতা উন্নত করতে কুকি ব্যবহার করে। আমরা ধরে নিচ্ছি যে আপনি এটির সাথে ঠিক আছেন, তবে আপনি ইচ্ছা করলেই স্কিপ করতে পারেন। গ্রহন বিস্তারিত