29 C
ঢাকা, বাংলাদেশ
দুপুর ১২:১১ | ১২ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ খ্রিস্টাব্দ | ২৯শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ বঙ্গাব্দ
গ্রীন পেইজ
বিশ্ব পানি দিবসের তাৎপর্য
রহমান মাহফুজ সাম্প্রতিক সংবাদ

বিশ্ব পানি দিবসের তাৎপর্য

বিশ্ব পানি দিবসের তাৎপর্য

আজ ২২ মার্চ, ২০২১ বিশ্ব পানি দিবস। কোভিধ -১৯ মহামারীর কারণে এ বছর দিবসটি জাতিসংঘের নেতৃত্বে বিশ্বব্যাপী অনলাইন কর্মসূচীর মাধ্যমে পালিত হচ্ছে।

বৈশ্বিক মিঠা পানির সংকট সম্পর্কে বিশ্ববাসীর মধ্যে সচেতনেতা জাগ্রত করার উদ্দেশ্যে ১৯৯২ সালের রিও ধরণী সম্মেলন (UN Conference on Environment and Development/UNCED “Earth Summit”– Rio) এ গৃহীত সিদ্ধান্তানুযায়ী ১৯৯৩ সাল হতে প্রতিবছর বছর ২২ মার্চ এ দিনটি পানি দিবস হিসাবে উদযাপিত হয়ে আসছে।



২০৩০ সালের মধ্যে বাস্তবায়নের জন্য নির্ধারিত জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (Sustainable Development Goals– SDG) বা এজেন্ডা-২০৩০ (Agenda-2030) এর লক্ষ্যমাত্রা: ৬: সকলের জন্য পানি এবং স্যানিটেশন (Water and Sanitation for all by 2030) কে কেন্দ্রবিন্দুতে রেখে এ দিবসটি পালনের গুরুত্ব এবং প্রতিপাদ্যটি নির্বাচন করা হয়েছে।

চলতি ২০২১ সালের পানি দিবসের প্রতিপাদ্যটি হলো –মূল্যবান পানি বা পানির মূল্য নির্ধারণ (valuing water)।

পানির মূল্য তার দামের চেয়ে অনেক অনেক বেশি – আমাদের পরিবার, খাদ্য, সংস্কৃতি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, অর্থনীতি এবং আমাদের প্রাকৃতিক পরিবেশের অস্তিত্বের জন্য পানির বিশাল এবং জটিল মূল্য রয়েছে। যদি আমরা এই মূল্যগুলোর কোনও একটি অবহেলা করি, তবে আমরা এই অসীম, অপূরনীয়যোগ্য সম্পদটি (finite, irreplaceable resource) অব্যস্থাপনার ঝুঁকিতে ফেলে ধ্বংস করে দিব।

এসডিজি:৬ হ’ল এ বিশ্ববাসীর সবার জন্য পানি এবং স্যানিটেশন নিশ্চিত করা। পানির অপরিহার্যতা এবং এর বহুমাত্রিক মূল্য সম্পর্কে আমাদের বিস্তৃত ধারণা না থাকলে আমরা এ সংকটপূর্ণ মহামূল্যমান সম্পদটি বিশ্ববাসীর কল্যানের জন্য রক্ষা করতে পারব না।

পানি ছাড়া পৃথিবীতে বেঁচে থাকা অসম্ভব। পানি পান ব্যতীত মানুষ তিন বা চার দিনের বেশি বাঁচতে পারি না। একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দেহের ৬০% অবধি পানি।

আমাদের সৌরজগতের গ্রহগুলোর মধ্যে শুধুমাত্র পৃথিবীতে পানি রয়েছে বিধায় পৃথিবীতে জীবন রয়েছে। অন্যান্য গ্রহে পানি নেই; তাই অন্য গ্রহে কোন জীবনও নেই।

মানব জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে পানি অপরিহার্য। পানি ব্যাতিত আমরা এক মুহুর্তে চলতে পারি না। আমাদের নিত্য প্রয়োজনীয় বস্তুর উৎপাদন, প্রক্রিয়াকরণ, পরিবহনে প্রয়োজন পানির। পানিই জীবন, জীবনই পানি।

আমাদের এ পৃথিবীর ভূ-উপরিস্থতলের দুই তৃতীয়াংশ পানি এবং এক তৃতীয়াংশ স্থল রয়েছে। কিন্তু মানুষের ব্যবহায্য ও পান করার পানির পরিমান খুবই সীমিত।

উপরের চিত্র হতে দেখা যায় যে, পূথিবীতে যত পানি রয়েছে তার মধ্যে ৯৭% লবন পানি এবং মাত্র ৩% মিঠা পানি। আবার, এ ৩% মিঠা পানির ৬৮.৭% বরফ, বরফের শীট ও হিমবাহ, ৩০.১% ভূ- গর্ভস্থ পানি এবং মাত্র ০.৩% ভূ –উপরস্থ মিঠা পানি। আবার এ ০.৩% এর ৮৭% বিভিন্ন হ্রদে রয়েছে, যার মধ্যে শুধু বৈকাল হ্রদেই রয়েছে পৃথিবীর অর্ধেক মিঠা পানি, ১১% রয়েছে বিভিন্ন জলাভূমি (Swamps) তে এবং মাত্র ২ % নদী, খাল- বিলে রয়েছে বিশ্ববাসীর ব্যবহারের জন্য।

সুতরাং কত নগণ্যই না রয়েছে মানুষের ব্যবহারযোগ্য ও পান করার পানি।

অথচ এটুকু পানিই বর্তমান বিশ্বের ৭.৮ বিলিয়ন মানুষসহ সমগ্র প্রাণী জগৎ এবং প্রায় ৯০% উদ্ভিদ জগৎ ব্যবহার করছি। আমরা পান করছি, দৈনন্দিন কাজে ব্যবহার করছি, কৃষিতে, শিল্পে, মৎস চাষে ব্যবহার করছি। আবার নির্বোধের মত কতনা ভাবে দূষিত করছি, বিষাক্ত করছি।

আসলে আমরা সত্যিকারে পানির মূল্য উপলবি্দ করতে পারছি না। বর্তমানে পৃথিবীর ২.২ বিলিয়ন মানুষ অর্থাৎ পৃথিবীর ৪ ভাগের ১ ভাগেরও অধিক মানুষ সুপেয় পানি হতে বঞ্চিত

তাই বিশ্ব পানি দিবস ২২ মার্চ, ২০২১ পালনের এর অর্থ হ’ল বিশ্ববাসীর কাছে পানির মূল্য কি এবং কিভাবে এ অত্যাবশ্যকীয় সম্পদটিকে আরও ভালভাবে রক্ষা করতে পারা যায় – তা সত্যিকারভাবে অনুধাবনের ব্যবস্থা করা ।

বিশ্ববাসীর বিভিন্ন স্তরের, বিভিন্ন পর্যায়ের বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে পানির বিভিন্ন অর্থ বুঝায়। পানি মানব জীবনে যে সকল পন্থায়, স্তরে স্তরে, পর্যায়ে উপকার করে – এমন বিভিন্ন পন্থা, স্তর ও পর্যায়ে পানির যথাযথ মূল্য নির্ধারণ করে গুরুত্ব সহকারে সবার জন্য কার্যকরভাবে এটি রক্ষা করা প্রয়োজন।




পানির যথাযথ মূল্য দেওয়া জাতিসংঘের বৈশ্বিক লক্ষ্য অর্জনের মূল চাবিকাঠি।

শিল্প উৎপাদন ও কৃষিতে বায়ু দূষণ, পানি দূষনে এ পৃথিবীর তাপমাত্রা ক্রমেই বেড়ে চলছে। জীবাস্ম জ্বালাণী যেমন ডিজেল, প্রেট্রোল, অকটেন, কয়লার ব্যবহার, খাদ্য উৎপাদন, যোগাযোগ অবকাঠামো নির্মাণ, শিল্পের, বসত বাড়ী নির্মাণ ও যোগাযোগ আবকাঠামোর কাঁচা মাল সরবরাহের জন্য বন ও বনজ সম্পদ পাহাড়- পর্বত ধংসের কারণে ক্রমশই বায়ু মন্ডলে গ্রীণ হাইজ গ্যাস যথায় কার্বণ ডাই অক্সাইড, মিথেন, নাইট্রাস অক্সাইড, ক্লোফ্লেফ্লোরো কার্বন ইত্যাদির উৎপাদন বৃদ্ধির ফলে পৃথিবীর তাপমাত্রার ক্রমশই বৃদ্ধি ঘটছে।

ফলে পৃথিবীতে মিঠা পানির অবিরামভাবে সরবরাহকারী বরফ, বরফ শীট, হিমবাহ দ্রুত গলে মিঠা পানি উৎস ক্রমশই সীমিত হয়ে আসছে। ইতোমধ্যে বিশ্বের পর্বতমালাসমূহের চুড়াঁর, অনেক হিববাহ গলে নি:শ্বেস হয়ে গেছে।

বিশ্বের ২য বৃহৎ ভিক্টোরিয়া জল প্রবাৎ ইতোমধ্যে শুকিয়ে গেছে। উজানের হিমবাহ, পর্বত মালার বরফ উচ্চ তাপমাত্রায় দ্রুত গলে যাওয়ায় ভাটির নদীগুলো ক্রমশই পানি শূন্য হয়ে যাচ্ছে, খরায়ে সর্বত্র পুড়ে যাচ্ছে।

আজ বিশ্ব পানি দিবসে, ‘মূল্যবান পানি (valuing water’ সম্পর্কিত জাতিসংঘের বিশ্ব পানি উন্নয়ন প্রতিবেদন ২০২১ (United Nations World Water Development Report 2021- (UN WWDR 2021) প্রকাশিত হচ্ছে।

এটি একটি বার্ষিক এবং বিষয়ভিত্তিক প্রতিবেদন যা প্রতিবছর বিভিন্ন কৌশলগত পানির বহুমাত্রিক দিকগুলোর প্রতি মনোনিবেশ এবং পানিসম্পদের টেকসই ব্যবহার বাস্তবায়নে নীতি নির্ধারকদের নীতি প্রণয়নে সহায়তা করে।

প্রতিবেদনটি সারা বিশ্বের বিভিন্ন স্তরের এবং বিভিন্ন ভৌগলিক অঞ্চলের পাঠকদের বিস্তৃত পরিসরে উপভোগ্যের জন্য আরবি, চীনা, ইংরেজি, ফরাসি, রাশিয়ান এবং স্প্যানিশ ভাষায় একযোগে প্রকাশিত হচ্ছে এবং পানি সম্পর্কিত পৃথিবীর বিভিন্ন আঞ্চলিক দিকগুলো, গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলো, বিভিন্ন ঘটনা এবং গল্পগুলো এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

UN WWDR প্রতিবেদনটি মূলত একটি ত্রিবার্ষিক প্রতিবেদন ছিল এবং ২০০৩, ২০০৬, ২০০৯ এবং ২০১২ সালে বিশ্ব পানি সংগঠন (World Water Forum) এর সাথে যৌথভাবে প্রথম চারটি সংস্করণ প্রকাশ করা হয়েছিল। ত্রৈমাসিক সংস্করণটিতে সামগ্রিকভাবে বিশ্বের স্বাদুপানির উৎস, জলাধার ও ব্যবহার এবং পরিচালনার সামগ্রিক চিত্র তুলে ধরা হ’ত।

২০১২ সালে এর প্রকাশণা পর্যালোচনা করা হয় এবং পাঠকদের চাহিদা আরও ভালভাবে পূরণ করার জন্য এবং সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে পাঠকদের মাঝে পৌছানোর জন্য প্রতিবেদনের ক্ষেত্রটি সংশোধন এবং এর কাঠামোর উন্নয়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যা ক্রমবর্ধমান তথ্য-ভিত্তিক এবং আরও নির্দিষ্ট বিষয়বস্তুযুক্ত করে বার্ষিক ভিত্তিতে প্রকাশিত হয়ে আসছে।

চলতি ২০২১ সালে বিশ্ব পানি দিবসের প্রতিপাদ্যটি “মূল্যবান পানি (Valuing Water), ২০২০ সালে বিশ্ব পানি দিবসের প্রতিপাদ্যটি ছিল ‘পানি এবং জলবায়ু; পানি এবং জলবায়ুর পরিবর্তন কিভাবে ওতোপ্রোতভাবে সংযুক্ত তা অনুসন্ধান কর (‘Water and Climate Change’, explores how water and climate change are inextricably linked) এবং ২০২২ সালের প্রতিপাদ্যটি হবে, ভূগর্ভস্থ পানি (Ground Water) নিয়ে ।

পানি আমাদের গৃহের এবং আমাদের পারিবারিক জীবন, আমাদের জীবিকা,সাংস্কৃতিক অনুশীলন, আমাদের মঙ্গল, আমাদের স্থানীয় পরিবেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের পরিবার, স্কুল এবং কর্মক্ষেত্রগুলিতে পানির অর্থ স্বাস্থ্য, স্বাস্থ্যকরতা, মর্যাদা ও উৎপাদনশীলতা। সাংস্কৃতিক, ধর্মীয় এবং আধ্যাত্মিক জায়গাগুলিতে পানির অর্থ সৃষ্টি।

প্রাকৃতিক স্থানগুলিতে পানি বলতে শান্তি, সম্প্রীতি এবং সংরক্ষণ। বর্তমানে পানি বর্ধমান জনসংখ্যা, কৃষিক্ষেত্র এবং শিল্পের ক্রমবর্ধমান চাহিদা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান প্রভাবগুলোর দ্বারা চরম হুমকির মধ্যে রয়েছে।

অর্থনৈতিক বিকাশ এবং ক্রমবর্ধমান বিশ্ব জনসংখ্যার অর্থ কৃষি এবং শিল্প তৃষ্ণার্ত হচ্ছে এবং বিদ্যুৎ চাহিদা মিটাতে পানি শক্তির ব্যবহার বাড়ছে। জলবায়ু পরিবর্তন জলকে আরও অনিয়মিত করে তুলছে এবং জলাধারগুলোতে দূষণ ছড়াচ্ছে।

যে সকল ক্ষেত্রে পানির মূল্য অপরিসীম সেগুলোর কয়েকটি নিন্মে সীমিত আকারে তুলে ধরা হলো:

১। মিঠা পানির উৎস – প্রাকৃতিক পানি সম্পদ এবং বাস্তুতন্ত্র (Ecosystem) জীবনের জন্য মূল্যবান। সমস্ত পানি বাস্তুতন্ত্র দ্বারা উৎপাদিত হয় এবং আমাদের ব্যবহারের সকল পানিই শেষ পর্যন্ত পরিবেশে ফিরে আসে, ফিরে আসে আমাদের দ্বারা বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় দূষণের দূষকগুলো সাথে নিয়ে।



ইহাই পানি চক্র (Water Cycle) পানিচক্র আমাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ‘বাস্তুতন্ত্রের পরিষেবা (Ecosystem Service)। একটি ভাল মানের পানির সরবরাহ নিশ্চিত করতে এবং বন্যা ও খরার মতো ধাক্কায় স্থিতিস্থাপকতা তৈরি করতে পরিবেশ রক্ষার জন্য উচ্চতর মূল্য দিতে হবে।

পানি চক্র (Water Cycle)
পানি চক্র (Water Cycle)

২। পানি অবকাঠামো মূল্যবান – সংরক্ষণ, চিকিৎসা এবং সরবরাহ। পানি অবকাঠামো পানি যেখানে সর্বাধিক প্রয়োজন সেখানে সঞ্চার করে এবং তা পরিস্কার ও বিশুদ্ধতা করণ ও মানব ব্যবহারের পরে প্রকৃতিতে ফিরিয়ে আসে। এ ধরনের অবকাঠামো যেখানে অপর্যাপ্ত, সেখানে আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন হ্রাস পাচ্ছে এবং বাস্তুতন্ত্র বিপন্ন হয়ে পড়েছে।

কিন্তু বাস্তবে পানি অবকাঠামো মূল্যায়নে প্রকৃত মূল্যকে বিশেষত সামাজিক ও পরিবেশগত ব্যয়কে অবমূল্যায়ন করার প্রবণতা থাকে। শুল্ক আরোপ করে পানির সমস্ত মূল্য পুনরুদ্ধার করা কঠিন। উদাহরণস্বরূপ বলা যায় একটি কৃষি সেচ প্রকল্পের অবকাঠামো বিনিয়োগে শুধুমাত্র উৎপাদিত ফসলের মূল্য দিয়ে উহার ব্যয় পুনরুদ্ধার এর ধারণা করা ঠিক নয়।

এ বিনিয়োগ যে পরিবেশ, জীব বৈচিত্র তথা বাস্তুতন্ত্র, আর্থ সামাজিক, শিক্ষা- স্বাস্থ্য প্রভৃতি ক্ষেত্রে যে মূল্য সংযোজন করে তার মূল্য নির্ধারণ করা ও আদায় করা জটিল ও কঠিন।

৩। পানিসেবা মূল্যবান – পানীয়জল, স্যানিটেশন এবং স্বাস্থ্য পরিষেবাগুলোর ক্ষেত্রে মহামূল্যবান। পরিবার, স্কুল, কর্মস্থল এবং স্বাস্থ্যসেবা সুবিধাগুলোতে পানির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। পানি ব্যতিত পরিস্কারকরণ- প্রবিত্র করণ, স্যানিটেশন এবং জীবানুমুক্ত – পরিষেবাগুলো বৃহত্তর স্বাস্থ্য সেবার ক্ষেত্রে অচিন্তনীয়।

কখনো পানির এ পরিসেবার মূল্য নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। আমাদের সরকার ভর্তুকি দিয়ে এ পরিষেবাগুলো জনগনের জন্য নিশ্চিত করছে – এর প্রকৃত মূল্য কি জনগনের পক্ষে কখনো পরিশোধ করা সম্ভব?

বিশ্বের অনেক দরিদ্র দেশ রয়েছে তাদের পক্ষে জনগনের জন্য এ পরিষেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই জনগনকে এ পরিষেবার প্রকৃতমূল্যের বিষয়টি অনুধাবন করে এর অপচয়, অপব্যবহার ও দূষণ রোধ করা উচিৎ।

৪। খাদ্য ও কৃষি, জ্বালানি ও শিল্প, ব্যবসা ও কর্মসংস্থান – উৎপাদন ও আর্থ-সামাজিক ক্রিয়াকলাপের অবদানে পানির মূল্য অপরিসীম । কৃষিক্ষেত্রে বৈশ্বিক মিঠা পানির সংস্থানগুলোতে পানির সর্বাধিক চাহিদা রয়েছে এবং পরিবেশের অবনতি প্রতিরোধে (Environmental Degradation ) পানি প্রধান অবদান রাখে।

যেমন, কৃষিতে পানির ব্যবহারিক মূল্য অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোন থেকে খাদ্য নিরাপত্তা ব্যতীত অন্য কিছু ভাবা হয় না। পুষ্টির উন্নতি, আয় উৎপাদক, জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়া এবং অভিবাসন হ্রাস করা – এর অনেক সুবিধাগুলো প্রায়শই পানির ব্যয়ে প্রতিফলিত হয় না।

শক্তি, শিল্প ও ব্যবসায় খাতের জন্য, পানির সংকট, বন্যা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মতো পানির সাথে সম্পর্কিত কারণে জাতীয় ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়গুলো অনেক ক্ষেত্রে চিন্তা করা হয় না। পানির কাঠামোগত অব্যবস্থাপনা বাস্তুতন্ত্রের ক্ষতি করতে পারে।

৫। পানির সামাজিক-সাংস্কৃতিক দিকগুলোর মূল্যবান- বিনোদনমূলক কর্মকান্ড, সাংস্কৃতিক এবং আধ্যাত্মিক ব্যবহারের ক্ষেত্রে পানি মহামূল্যবান। পানি আমাদের সৃষ্টি, ধর্ম এবং সম্প্রদায়ের ধারণার সাথে নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত।

প্রাকৃতিক জলাধারগুলো আমাদের শান্তিতে অনুভব করতে সহায়তা করতে খোরাক জোগায়। পানি প্রতিটি সংস্কৃতির একটি অন্তর্নিহিত অংশ। আমরা যে ক্রিয়াকলাপগুলোতে এ কর্মসূচীগুলো পালন করি তার মূল্যবান স্পষ্ট করে নির্ণয় করা মুশকিল।

অর্থনীতি প্রায়ই পানিকে মানব ব্যবহারের জন্য একটি উৎস হিসাবে বিবেচনা করে এবং এর আর্থ-সামজিক ও আর্থ-সাংস্কৃতিক বা পরিবেশগত মূল্য খুব কম ধরা হয় বা কোনও মনোযোগ দেওয়া হয় না।

পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় আরও বিভিন্ন ধরণের স্টেকহোল্ডারকে জড়িত করে পানির চারপাশে সাংস্কৃতিক মূল্যবোধকে পুরোপুরি বোঝার প্রয়োজন রয়েছে।

পৃথিবীর তাপমাত্রার বৃদ্ধির জন্য দায়ী গ্রীণ হাউজ গ্যাসের উৎপন্নের লাগাম টেনে ধরার জন্য ১৯৯৭ সালে জাতি সংঘের নেতৃত্বে কিয়োটো প্রটোকল স্বাক্ষরিত হয়।

পৃথিবীর তাপমাত্রা ১৭৫০ সালে শিল্প বিল্পব শুরুর আগের সময় হতে এ শতাব্দিতে ১.৫ ডিগ্রী সেলসিয়াসে সীমাবদ্ধ রাখা এবং ২ ডিগ্রী সেলসিয়াসের নীচে রাখার জন্য ২০৫০ সালের মধ্যে কার্বণ ডাই অক্রাইডের উৎপাদন গড় শূণ্যে আনার লক্ষ্যে ২০১৫ সালে প্যারিস চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

কিন্তু চুক্তি অনুযায়ী কার্বণ ডাই অক্সডের উৎপাদন হ্রাসের পরিস্থিতি খুবই হতাশাজনক। পৃথিবীর প্রধান প্রধান কার্বণ উৎপাদনকারী দেশগুলো প্রদত্ত ওয়াদা রক্ষা করছে। চলতি বছরের নভেম্বরে স্কটল্যান্ডের বন্দর নগরী গ্লাসগোতে অনুষ্ঠিতব্য কপ ২৬(COP 26) এর প্রতি পরিবেশবাদীরা এখন আশায় বুক বেধেঁ রয়েছে।



বিশ্বসম্প্রদায়ের কোর্বণ নির্গমণ হ্রাসের অনিহার বীরুদ্ধে এ সৌচ্চারে আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে যাচ্ছে। একটু লক্ষ্য করলেই দেখ বুঝা যায় যে আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রতিদিন সরকার পরিচালনা ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাথে আলোচনায় যতসব কথা বলেন, যতসব নির্দেশণা/মতামত প্রদান করেন তাঁর ৭০%ই পরিবেশ এর সাথে সম্পর্কিত।

বিশ্বের যে কয়জন প্রধানমন্ত্রী, সরকার প্রধান পরিবেশ ও জলবায়ু নিয়ে সোচ্চার তার মধ্যে আমাদের মানণীয় প্রধানমন্ত্রী প্রথম ৫ জনের মধ্যে একজন, তিনিই তৃতীয় বিশ্বের পরিবেশবাদী প্রধানমন্ত্রী। তাইতো জলবায়ুর প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত এশিয়া, আফ্রিকা, ক্যারাবিয়ান, লেটিন আমেরিকা ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের বিশ্বের ৪৮ টি দেশের ফোরাম এবং জলবায়ু ক্ষতিগ্রস্ত গ্রুপ (Climate Vulnerable Forum (CVF), and the Vulnerable Twenty (V20) Group বর্তমানে তিনি চেয়ারম্যান। তার বলিষ্ট নেতৃত্বের গুণে বাংলাদেশের রাজধানী ঢকায় ইতোমধ্যে জলবায়ু সংক্রান্ত বেশ কয়েকটি সংস্থার প্রধান ও আঞ্চলিক অফিস স্থাপিত হয়েছে।

মূলত: ১৭৫০ সালে শিল্প বিপ্লব শুরুর পর হতে এ পৃথিবীটা জ্যামিতিক হারে দূষণের কবলে পড়ে। শিল্প উৎপাদনে জীবাস্ম জ্বালানী (Fossil Fuel) এর ব্যবহার অধিক মাত্রায় বেড়ে যাওয়ায় বায়ু দূষণ, শিল্প বর্জ্যের অব্যস্থাপনা, শিল্পের কাঁচামাল সংগ্রহে, যোগাযোগ অবকাঠামো, মানুষের সীমাহীন আরাম আয়েশ, ভোগ বিলাস, বিনোদন ও সৌন্দর্য চর্চা এবং বড় হতে বড় এবং আরও বড় হওয়ার প্রাণাত্বক চেষ্টা, ভোগের সীমাহীন বিস্তৃতি এ মা পৃথিবী গ্রহটি (Mather Earth Planet) আজ ধ্বংসের সম্মূখীন। জীবনের অস্তিত্ব ক্রমশই এ পৃথিবী হতে বিলুপ্তি ঘটছে।

এভাবে চলতে থাকলে এ পৃথিবী হতে শুধু মানুষ কেন কোন জীবনেরই অস্তিত্ব থাকবে না। তাই এ পৃথিবীতে জীবনের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে হলে বিশ্ব মানব সমাজকে এখনই সতর্ক হতে হবে, মানুষের সীমাহীন লোভ লালসার সীমা রেখা এখনই টানতে হবে। আমাদের ভবিষ্যত বংশদরদের জন্য পরিবেশ দূষণ বন্ধ এখনই করতে হবে।



আমাদের ভবিষ্যত বংশদরদের জন্য জায়গা-জমি, নয়, বাড়ী গাড়ী, ধন সম্পদ নয় বরং তারা যেন এ পৃথিবীতে সুষ্ঠুভাবে বাঁচতে পারে, তাঁদের জীবনের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে পারে – আসুন পানিসম্পদসহ পরিবেশে সম্পদের প্রতিটি অংগ দূষণ মুক্ত রেখে যাওয়ার আমরা অঙ্গীকার করি।

আগামী প্রজন্মের জন্য একটি দূষণ মুক্ত উন্নত পরিবেশের পৃথিবী রেখে যেতে পারি, আজ বিশ্ব পানি দিবসে – এ যেন আমাদের ব্রত হয়।

“Green Page” কে সহযোগিতার আহ্বান

সম্পর্কিত পোস্ট

Green Page | Only One Environment News Portal in Bangladesh
Bangladeshi News, International News, Environmental News, Bangla News, Latest News, Special News, Sports News, All Bangladesh Local News and Every Situation of the world are available in this Bangla News Website.

এই ওয়েবসাইটটি আপনার অভিজ্ঞতা উন্নত করতে কুকি ব্যবহার করে। আমরা ধরে নিচ্ছি যে আপনি এটির সাথে ঠিক আছেন, তবে আপনি ইচ্ছা করলেই স্কিপ করতে পারেন। গ্রহন বিস্তারিত