28 C
ঢাকা, বাংলাদেশ
সকাল ৬:৩৭ | ২৭শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ খ্রিস্টাব্দ | ১৩ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ বঙ্গাব্দ
গ্রীন পেইজ
জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে মাছ উৎপাদন করতে হবে
জলবায়ু পরিবেশ গবেষণা পরিবেশ পরিক্রমা

জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে মাছ উৎপাদন করতে হবে

জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে মাছ উৎপাদন করতে হবে

মাছ আমাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় খাবার। ‘‌মাছে-ভাতে বাঙালি’ আমাদের পরিচয়ের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। জীবন-জীবিকা ও সংস্কৃতিতেও নদী ও মাছ অবিচ্ছেদ্য অংশ। শরীরে প্রয়োজনীয় আমিষের চাহিদা পূরণে মাছের বিকল্প নেই।

নদী থেকে মাছ সংগ্রহ করার পাশাপাশি খাল, বিল ও জলাশয়ে মাছ চাষ করা হয়। চলতি বছরে বৃষ্টিপাত কম হওয়ার পাশাপাশি খরা, তাপপ্রবাহ ও জলাশয়ে কম পানির কারণে মাছ উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

মূলত জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশকে এ বিরূপ প্রতিবেশের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। ফলে মৎস্য শিল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি মাছের প্রজনন মৌসুম শুরু হলেও সাধারণত মে-জুনে সবচেয়ে বেশি রেণু বিক্রি হয়। সাধারণত রেণু পোনার অর্ডার পেলে কৃত্রিমভাবে হ্যাচারি মালিকরা উৎপাদন করেন। কিন্তু চলতি বছর জুলাই পর্যন্ত মাছ চাষের উপযোগী বেশির ভাগ পুকুরে পর্যাপ্ত পানি ছিল না।



এতে মৌসুমের প্রথম পাঁচ মাসে রেণু পোনার চাহিদা একেবারেই কম ছিল। আর আগস্টে বৃষ্টি শুরু হওয়ার পর চাহিদা বাড়তে শুরু করলেও এ সময় মাছের প্রজনন কমে যায়।

ফলে চাহিদা অনুযায়ী রেণু পোনা সরবরাহ সম্ভব হচ্ছে না। পাশাপাশি খরা ও তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে প্রাকৃতিকভাবেও রেণুর উৎপাদন ব্যাপক কমে গেছে বলে মৎস্য খামারিরা জানিয়েছেন।

মৎস্য গবেষকদের মতে, প্রাকৃতিক জলাশয়গুলোয় সাধারণত এপ্রিল-জুনে বৃষ্টি হলে পানি বৃদ্ধি পায়। এ সময় দেশীয় মাছ খাল-বিলের পানিতে ডিম ছাড়ে ও প্রজনন করে।

আর মে-আগস্টে মাছের বৃদ্ধি ঘটে। শীতকালে মাছের খুব বেশি বৃদ্ধি হয় না। কিন্তু এ বছর এপ্রিল-জুলাই অনেকটা বৃষ্টিহীন ছিল। খাল-বিলগুলোয় পর্যাপ্ত পানি ছিল না। আবার আগস্ট থেকে বৃষ্টিপাত শুরু হলেও মাছের প্রজনন মৌসুম প্রায় শেষ।

এরই মধ্যে ৯০ শতাংশ হ্যাচারির উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। এতে দেশের সামগ্রিক মৎস্য খাতে এবার নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। চাষের মাছ পর্যাপ্ত উৎপাদন না হলে বাজারে মাছের দাম বাড়বে।

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে প্রকৃতি এ বিরূপ আচরণ করছে। প্রাকৃতিক জলাশয়ে এবার পানি ছিল না। এপ্রিল-জুনের বৃষ্টিতে খাল-বিলে পানি বাড়লে তখন দেশীয় মাছ প্রজনন করে। কিন্তু চলতি বছর এ সময় বৃষ্টি হয়নি।

পাশাপাশি মাছের প্রজেক্টগুলোর আশপাশের খাল ভরাট হয়ে যাচ্ছে। এসব কারণে এবার শুধু দেশীয় মাছ নয়, পুরো মৎস্য খাতেই নেতিবাচক প্রভাব দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।



এখন জলবায়ুর প্রভাবের সঙ্গে ভারসাম্য রেখেই মাছ উৎপাদনে মনোযোগী হওয়া উচিত, এমনটিই মত বিশেষজ্ঞদের। এ কারণে বৃষ্টিপাত কম হলে ভবিষ্যতে সেচ বা বিকল্প ব্যবস্থাপনায় মাছ চাষের প্রতি তারা জোর দিচ্ছেন। এদিকে বাজারে ইলিশের দাম বেশি হলেও জেলেরা অন্যবারের তুলনায় এবার কম মাছ পাচ্ছেন।

পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু জলবায়ু পরিবর্তনই মৎস্য সম্পদের জন্য হুমকি নয়, নদী-জলাশয়ের দূষণ বন্ধ না করলে এ সম্পদ ঝুঁকির মধ্যেই থেকে যাবে। এজন্য দেশে যেসব নীতি ও আইন আছে তা প্রয়োগ করা প্রয়োজন।

নদী ভরাট ও নদীতে বর্জ্য ফেলা বন্ধ করতে হবে। পৃথিবীর অনেক দেশেই এ রকম সমস্যা ছিল। পরবর্তী সময়ে তারা অবস্থার পরিবর্তন করেছে।

এমনকি ৫০-৬০ বছর আগে যুক্তরাজ্যের লন্ডনে টেমস নদীর অবস্থা বুড়িগঙ্গার চেয়েও খারাপ ছিল। আমাদের দেশেও এভাবে কাজ করতে হবে। নাহলে কোনো মাছই ঠিকভাবে উৎপাদন সম্ভব হবে না।

এখন পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে চলতে হবে। এজন্য জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে মাছের জীববৈচিত্র্য ও উৎপাদনে যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে তা কাটিয়ে ওঠার জন্য মৎস্য অভিযোজন কলাকৌশলকে কাজে লাগাতে হবে।

অভিযোজন বলা হয় প্রতিকূল পরিবেশে বেঁচে থাকার জন্য কোনো জীবের বিভিন্ন ধরনের শারীরবৃত্তীয় ও জৈব রাসায়নিক পরিবর্তনের ফলে খাপ খাইয়ে নেয়ার কৌশলকে।

প্রতিবেশী দেশ ভারত এভাবে মৎস্য শিল্পের সংকটকে কাটিয়ে উঠছে। দেশটিতে বন্যার সময়ে খাঁচায় মাছ চাষ করার পদ্ধতি প্রয়োগ করা হচ্ছে। আমাদের দেশেও এমন পদক্ষেপ নেয়া যেতে পারে। খরা এলাকায় স্বল্প সময়ের পানিতে বড় পোনা ছাড়ার উদ্যোগ নিতে হবে, সংশ্লিষ্ট এলাকায় বড় পোনা মজুদ রাখার ব্যবস্থা নিতে হবে।



বিরূপ পরিবেশে ও স্বল্প সময়ে চাষ করা যায় এমন মাছের প্রজাতির চাষ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও সম্প্রসারণের পাশাপাশি এলাকাভিত্তিক স্থায়ী মৎস্য অভয়াশ্রম গড়ে তোলা প্রয়োজন।

এছাড়া জলাধার নির্মাণ ও যথাযথ ব্যবহার করতে হবে, ভূগর্ভস্থ পানির নিয়ন্ত্রিত উত্তোলন ও পুনর্ব্যবহারের ব্যবস্থা গ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। লবণাক্ততা সহনশীল প্রজাতির মাছ চাষ ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ ঘটাতে হবে।

এভাবে জলবায়ুর নেতিবাচক প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে মৎস্য চাষের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে হবে। সেই সঙ্গে বিশেষজ্ঞদের মতে, বন্যাপ্রবণ এলাকায় মাছ চাষের চাহিদা অনুযায়ী পুকুরের পাড় উঁচু করে সমাজভিত্তিক মৎস্য পোনা ব্যাংক করা যায়, বন্যার আশঙ্কা নেই সে সময় ওই পোনা পুকুরে মজুদ করা যায়।

এভাবে বিকল্প উপায়ে মাছ চাষের ব্যবস্থা করলে সংকটকালে মাছের উৎপাদন স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হবে বলে আশা করা যেতে পারে।

আমরা প্রত্যাশা করি মাছ চাষে উন্নতির জন্য দেশের কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় প্রয়োজনীয় গবেষণা করা হবে। পাশাপাশি বিকল্প পদ্ধতির সম্ভাব্যতা যাচাই ও ব্যাপক প্রচারণার জন্য মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক।

“Green Page” কে সহযোগিতার আহ্বান

সম্পর্কিত পোস্ট

Green Page | Only One Environment News Portal in Bangladesh
Bangladeshi News, International News, Environmental News, Bangla News, Latest News, Special News, Sports News, All Bangladesh Local News and Every Situation of the world are available in this Bangla News Website.

এই ওয়েবসাইটটি আপনার অভিজ্ঞতা উন্নত করতে কুকি ব্যবহার করে। আমরা ধরে নিচ্ছি যে আপনি এটির সাথে ঠিক আছেন, তবে আপনি ইচ্ছা করলেই স্কিপ করতে পারেন। গ্রহন বিস্তারিত