24 C
ঢাকা, বাংলাদেশ
সকাল ৬:৫১ | ২৮শে মে, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | ১৪ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
গ্রীন পেইজ
ভ‍্যাকসিন-আবিস্কার-প্রণালি--এবং--COVID-19-Coronavirus-ভ‍্যাকসিনের-জন‍্য-১৮-মাসের-প্রয়োজন-কেন
করোনা ভাইরাস রহমান মাহফুজ

ভ‍্যাকসিন আবিস্কার প্রণালি এবং COVID-19 Coronavirus ভ‍্যাকসিনের জন‍্য ১৮ মাসের প্রয়োজন কেন?

ভ‍্যাকসিন আবিস্কার প্রণালি এবং COVID-19 Coronavirus ভ‍্যাকসিনের জন‍্য ১৮ মাসের প্রয়োজন কেন? এবং ধাপগুলো কি কি ?

রহমান মাহফুজ, প্রকৌশলী, পরিবেশ কর্মী, পরিবেশ এবং পরিবেশ অর্থনৈতিক কলামিষ্ট, সংগঠক এবং সমাজসেবী।

একদিনেই Covid -19 Coronavirus এর ভ্যাকসিন তৈরী করা সম্ভব, কিন্তু মানব দেহের জন্য নিরাপদ একটি ভ্যাকসিন বাজারে আনতে অনেক সময়ের প্রয়োজন হবে।

বিশ্বব্যপি রকেটের গতিতে বর্তমানে করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে। প্রতিদিনই পৃথিবীর হাজার হাজার মানুষ মারা যাচ্চে। সারা পৃথিবী জুড়ে এক ভয়াভহ আতংকের নাম Covid -19 Coronavirus। পৃথিবীর মানুষকে করোনা ভাইরাসের হিংস্র থাবা হতে রক্ষায় বায়োটেক কোম্পাণীগুলো, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এবং সরকারী – বেসরকারী প্রতিষ্ঠানগুলো যৌথভাবে বা এককভাবে Covid -19 Coronavirus এর ভ্যাকসিন আবিষ্কারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

ইতোমধ্যে কিছু কোম্পাণী ঘোষণা করেছে যে, ভ্যাকসিন আবিষ্কারে তারা বেশ অগ্রগতি অর্জণ করেছে। কেহ কেহ জেনেটিক বেসইড (genetics-based) ভ্যাকসিন তৈরর করে স্বাস্থ্য সংস্থাগুলোকে মূল্যায়ন করার জন্য সরবরাহ করেছে।



ভ্যাকসিন ঔষধ অপেক্ষাও বেশী চাহিদাজনক হলেও ভ্যাকসিন এর অনুমোদনের প্রক্রিয়া ঔষুধ অপেক্ষা জটিল ও খুবই সময় সাপেক্ষ। কোন ব্যত্যয় ছাড়া কোন নমুনা যদি ক্লিনিক্যাল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ও (the samples pass clinical tests) তারপরও করোনা ভ্যাকসিন উৎপাদনে যেতে ১২ হতে ১৮ মাস পর্যন্ত সময় ব্যয় হতে পারে।

স্ট্রানপোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুজীববিজ্ঞান ও রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বিভাগের অধ্যাপক এবং ফ্রীম্যান স্পলি ইন্সটিটিউট অব ইন্টারণ্যাশনাল স্টাডিজ এর ফেলো ড. ডেভিট রেলম্যান এ প্রসংগে বলেন যে, ”মানুষকে সুস্থ্য রাখার জন্য ভ্যাকসিন, কিন্তু কোন সুস্থ্য মানুষকে অসুস্থ্য করার জন্য নয়।”

প্রতিষেধক ভ্যাকসিন কোন অসুখের চিকিৎসার জন্য নয় – ইহা কোন সম্ভাব্য রোগের বীরুদ্ধে লড়াই করার শক্তি যোগাতে মানুষের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য (to fight a potential disease) । ভেষজ ভ্যাকসিনগুলো মানুষের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে কার্যকর ও বৃদ্ধি করে যাতে শরীরের ভিতরে কোন জীবানু যেমন ব্যাকটোরিয়া, ভাইরাস প্রবেশ করলে তার বীরুদ্ধে যুদ্ধ করতে সক্ষম হয়।

কোষ পর্যায়ে জীবকোষ ও জীবানুর মধ্যে এ সকল আক্রমণ ও প্রতিরোধ যুদ্ধ হয়ে থাকে- যা এত ক্ষদ্র ক্ষুদ্র পর্যায়ে যে খালী চোখে দেখা যায় না।

মানব শরীরের ভিতরে মানব কোষের বীরুদ্ধে যারা যুদ্ধে লিপ্ত হয় – চিকিৎসা বিজ্ঞানে এ প্রতিপক্ষকে বলা হয় প্যাথোজেনস (pathogens), ব্যকটরিয়া, ভাইরাস জীবানু, হেভী মেটাল ইত্যাদি ইহার অর্ন্তভূক্ত। মূলত: প্যাথজেন নাম হতেই মানবদেহে রোগ জীবানু আছে কিনা সে পরীক্ষাকে প্যাথলজী পরিক্ষার নাম করণ করা হয়েছে।


মানুষের শরীরের যে সকল জীব কোষ প্যাথোজেনস তথা ব্যকটরিয়া, ভাইরাস জীবানু, হেভী মেটাল ইত্যাদির বীরুদ্ধে যুদ্ধ করে সেগুলো হল রক্তের শ্বেত কণিকা (white blood cells), বিশেষত এদেরকে লিম্পসাইট (lymphocytes) বলা হয় যারা রোগ জীবানুর বীরূদ্ধে এন্টিবোডি (antibodies) তৈয়ার করে।

মানব দেহে ৩ প্রকার রক্ত কণিকা রয়েছে - 

১। লোহিত কনিকা (Red Blood Cell)- এরা ফুসফুস হতে অক্সিজেন বহন করে শরীরে বিভিন্ন কোষে পৌছে দেয় এবং বিভিন্ন কোষ হতে কার্বন ডাই অক্সাইড বহন করে ফুসফুসে নিয়ে যায়। 

২। শ্বেত কণিকা (white blood cells) - এরা মানব দেহের সুরক্ষা সৈনিক। মানবদেহে যখনই কোন রোগ জীবানু বা বিষাক্ত কোন কিছু দেহের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে, তখনি দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তাদেরকে চিহ্নিত করে এ সকল কোষকে সংকেত পাঠায় এবং সাথে সাথে দলে দলে এরা রোগজীবানুকে আক্রমণ করে এবং যুদ্ধ শুরু করে। 

৩। অনুচক্রিকা (Platelets)- এরা রক্তের ঘণত্ব রক্ষাকরে এবং শরীরের কোথায়ও কেটে গেলে বা ক্ষত হলে মানব রক্ত যাতে বের না হতে পারে তার জন্য একপ্রকার রাসায়নিক বন্ড তৈরী করে রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে। কোন কারণে রক্তে এদের সংখ্যা হ্রাস ফেলে রক্তের ঘনত্ব হ্রাস পেতে থাকে এবং শরীরের খোলা অংশ যেমন মূখ, চোখ, পায়ুপথ, প্রস্রাবের পথ, লোমকুপ এর মাধ্যমে রক্ত শরীর হতে বের হয়ে যায়।

ভ্যাকসিন যেভাবে আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে সাহায্য করে (help our immune system):

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা প্রক্রিয়ায় (Immune system) দেহের অভ্যন্তরীন ভাল ও ক্ষতিকারক কোষগুলোকে চিহ্নিত করে ক্ষতিকারক কোষগুলোকে প্রতিরোধ করার জন্য ভাল কোষগুলোকে শক্তি যোগায়।

ভাইরাস এর একটা বড় সীমাবদ্ধতা হলো একটি ভাইরাস নিজে আরেকটা ভাইরাস উৎপাদন করতে পারেনা। মূলত এরা অতিথি কোষ এবং মানব কোষের নিউক্লিয়াসে প্রবেশ করে কোষের জেনেটিক বস্তুগুলোকে দখল করে নেয় (hijacks the cell’s genetic material) এবং সেগুলোকে অধিক সংখ্যক ভাইরাস কোষে রূপান্তরিত করতে শক্তি প্রয়োগ করে।

যখন ক্ষতিকারক প্যাথজেনগুলো মানব কোষকে আক্রামণ করে ‍এবং বংশ বৃদ্ধি শুরু করে, তখন ঐ গুলোর গঠন দেখে মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সেগুলোকে চিহ্নিত করে ফেলে। প্যাথজেনগুলোরও এন্টিজেন (antigens) নামক এক প্রকার বিশেষ প্রোটিন রয়েছে যেগুলোকে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কাঠামোকে আক্রমণ করে।

যে সকল লোকের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা পর্যাপ্ত নয়, তার দেহের কোষসমূহের নিউকিলয়াস ভেঙ্গে ভাইরাসের উৎপাদন বৃদ্ধি পেতে থাকে এবং ক্রমান্বয়ে ফুষফুসকে আক্রান্ত করত: তথায় প্রদাহ সৃষ্টি করে এবং তখন এ পরিস্থিতিতে শ্বাষযন্ত্রের তীব্র দূর্দশার লক্ষণ (Acute respiratory distress syndrome) বলা হয়। কোন ব্যক্তির এ অবস্থায় উপনীত হলে তখন তাকে করোনা ভাইরাস আক্রান্ত রোগী বলা হয়।

মানবদেহে ভ্যাকসিন হিসাবে ভাল জাতের প্যাথজেন এন্টিবডি হিসাবে সূচের মাধ্যমে প্রবেশ করানো হয় (being injected)। এই নকল প্যাথজেনেরও একটি সংক্রমণ ক্ষমতা রয়েছে (That mimics an infection)। এই নকল প্যাথজেন সুস্থ্য মানবদেহে পুশ করানোর কারনে কেহ সাধারনত অসুস্থ্য হয় না, তবে কারো শরীরে হালকা জ্বর জাতীয় লক্ষণ দেখা দিতে পারে।

মানবদেহে প্রবেশ করানো নকল প্যাথজেনের এন্টিবডিসমূহ প্যাথজেন সমূহের (রোগ জীবানু) এন্টিজেন প্রোটিন এর সাথে যুক্ত হয়ে মানব কোষকে প্যাথজেনের আক্রমণ হতে সুরক্ষা দেয়। এন্টিবডিসমূহ রক্তের শ্বেত কণিকাকে প্যাথজেন বিষয়ে সংকেত দেয় এবং তখনই শ্বেত কনিকা প্যাথজেনকে আক্রমণ করে মেরে ফেলে এবং রক্ত হতে পরিশোধন করে দেয়।

করোনা ভাইরাসের ভ্যাসকিনের জন্য কেন ১৮ মাসের প্রয়োজন ?

সমস্যা হল এ যুদ্ধের জন্য একপ্রকার বিশেষ আকারের এন্টিবডির প্রয়োজন। মানব দেহে বিলিয়ন বিলিয়ন শ্বেত কণিকা রয়েছে, একেক শ্বেত কণিকা একেক আকারের এন্টিবডি তৈয়ার করে। কিন্তু মাত্র সামাণ্য কয়েকটি আকারের এন্টিবডিসমূহ প্যাথজেনের বিরুদ্ধে কার্যকর।

প্যাথজেনসমূহকে ধ্বংস করার জন্য মানব দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে যথেষ্ট পরিমাণ উপযুক্ত আকারের প্রয়োজনীয় এন্টিবডি তৈয়ার করতে বেশ কয়েক দিনে সময়ের প্রয়োজন হয়। এই সময়ের মধ্যে একটি দ্রুত আক্রমণকারী প্যাথজেন তার অনুরূপ বিলিয়ন বিলিয়ন প্যাথজেন উৎপাদন করে ফেলে এবং তখন দেহের অবস্থা সংকটপূর্ণ হয়ে পড়ে। তখন পুশ করা ভ্যাকসিন ইহাকে মানবদেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির প্রক্রিযা বিশ্বাস করে উহাকে আরো শক্তি যোগা এবং পরিণতীতে রোগাক্রান্ত ব্যক্তি মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যায়। তাই আক্রান্ত রোগীর দেহে ভ্যাকসিন প্রয়োগ করা যাবে না।

কিন্তু প্যাথজেন দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার পূর্বে ভ্যাকসিন প্রয়োগ করা হলে উহা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কাঠামোতে যুক্ত হওয়ার পর মেমোরী সেল নামে অনেকগুলো শ্বেত রক্ত কণিকা এন্টিবডি তৈয়ার করার জন্য প্রস্তুত থাকে। ড. রেলম্যান বলেন যে, “যদি বহু বছর পূর্বেও এসব মেমোরী সেল প্রস্তুত হয়ে থাকে, তারপরও প্যথজেন মানব দেহে প্রবেশ করা মাত্রই এগুলোর শক্তি সক্রিয় হয়ে উঠে [ jump into gear])। “

ভ্যাকসিন প্রস্তুত প্রণালী

অনেক প্রকার ভ্যাকসিন রয়েছে এবং প্রকারভেদ নির্ণয় করা হয় উহার তৈয়াীর প্রদ্ধতির উপর।। সবচেয়ে সাধারণ ভ্যাকসিন হলো অকার্যকর ভ্যাকসিন, যা প্যাথজেনকে মেরে ফেলে অথবা বংশবৃদ্ধি ক্ষমতাকে অকার্যকর করে তৈয়ার করা হয়।

এ ভাইরাস উৎপাদন প্রদ্ধতি:

১) জীবন্ত কোষের ভিতর একটি ভাইরাসকে ইনজেক্ট করানো হয়, যেমন একটি মূরগীর ভ্রণ (chicken embryo) অর্থাৎ মুরগীর ডিমের কথাই ধরি – এর মাধ্যমে মানব দেহে উহার বংশবৃদ্ধি ক্ষমতাকে অকার্যকর করা হয়। তারপর ভাইরাসটিকে একটি অধিক পুষ্টির তরলে রাখা হয়।

২) মূরগীর কোষ এর ভিতর ভাইরাসটি উহার জীন (genes) কে বংশবিস্তারের জন্য পূণ:গঠন/পরিবর্তণ করে এবং বংশবিস্তার করতে থাকে। যেহেতু ‘ মুরগীর কোষ মানব কোষ হতে আলাদা , পরিবর্তিত ও উৎপাদিত ভাইরাসগুলো মানব দেহে বংশবিস্তারের ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে।

৩) তারপর ভাইরাসগুলোকে ডিমের প্রোটিণ ও অন্যান্য ম্যাটারিয়ালগুলো হতে পরিস্কার করার জন্য বিশুদ্ধ (purified) করা হয়। তারপর মানব দেহের রোগ প্রতিরোধ প্রক্রিয়ায় সাড়া দেওযার জন্য ঐ গুলোর সাথে কতকগুলো জৈব পদার্থ বা অ্যালুমিনিয়াম লবন মিশানো হয়।

৪) অতপর ভাইরাসগুলো তাপ বা মিথান্যাল (formaldehyde) প্রয়োগে মেরে ফেলা হয়।

[ফরমালডিহাইড বা মিথান্যাল হল এক ধরনের রাসায়নিক যৌগ এবং এর রাসায়নিক সংকেত হচ্ছে CH₂O। এগুলো বর্ণহীন ও দূর্গন্ধযুক্ত গ্যাস এবং আগুনে জ্বলে ও বিষাক্ত পদার্থবিশেষ। ফরমালডিহাইড বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে পানিতে দ্রবীভূত করা হয়, তখন ইহাকে ফরমালিন বলা হয়।]

৫) তারপর প্রস্তুতকৃত তরল মানব দেহে ইনজেক্ট করার জন্য একটি সুবিধাজনক বোতলে ভরা হয়।

ভ্যাকসিনের ক্লিনিক্যাল পরীক্ষায় বহু সময়ের প্রয়োজন (Vaccine clinical tests take months)

ভ্যাকসিন মানব শরীরে ব্যবহারের পূর্বে U. S. Food and Drug Administration (FDA) হতে অনুমোদন ও লাইসেন্স নিতে হয়। ভ্যাকসিন পরীক্ষাগারে প্রস্তুত ও উন্নয়ন করা হয় এবং মানব সেচ্ছা সেবকগণের উপর পরীক্ষা চালানোর পূর্বে পশুর দেহে ক্রমাগতভাবে পরীক্ষা চালানো হয়।

ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা চালানো হয় ভ্যাকসিনটি মানুষের জন্য নিরাপদ কিনা -তার জন্য এবং প্রকৃত রোগীর শরীরে ইহা প্রয়োগ করার পূর্বে কোন সুস্থ্য পৌঢ় সেচ্ছাসেবকদের দেহে প্রথমে প্রযোগ করা হয় ও প্রতিক্রিয়া গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়।

[মানব সেচ্ছা সেবক (Human volunteers: মানব বিষয়ে কিংবা বিজ্ঞান বিষয়ক পরীক্ষা নিরীক্ষার জন্য মানবদেহে প্রতিক্রিয়া জানার জন্য পরীক্ষার ট্রায়াল হিসাবে মানব দেহে প্রয়োগ করতে হয়। বিশেষ করে মানুষের জন্য ঔষধ বা ভ্যসকিন আবিস্কার ও প্রস্তুত করার পর প্রথমে পশুর দেহে প্রয়োগ করে এর কার্যকারিতা, পাশ্ব প্রক্রিয়া ও ডোজ নিদ্ধারণ করা হয় এবং তার পর মানবদেহে পরীক্ষা চালানোর মাধ্যমে এর কার্যকারিতা, পাশ্ব প্রক্রিয়া ও ডোজ নিদ্ধারণ পর্যবেক্ষণ করতে হয়্। একইরূপ রসায়ণ ও বায়োলোজিক্যাল শাখায়ও বস্তুর ধর্ম, মানবদেহে উহার প্রতিক্রিয়া জানার জন্য মানবদেহে প্রয়োগ করতে হয়। মানব জাতীর কল্যাণে যেসকল লোক সেচ্ছায় তাদের দেহে এ সকল পরীক্ষা চালানোর জন্য নিবদ্ধিত হয়- তারাই হল মানব সেচ্ছা সেবক ( Human volunteers)। অনেক ক্ষেত্রে বহু সেচ্ছাসেবকদের মুত্যু ঘটে, তবুও মানব কল্যাণে স্বেচ্ছায জীবন দানে নিবন্ধিত হয়। ইচ্ছায় কোন ব্যক্তিকে মানব সেচ্ছা সেবক হতে হলে এবং এর নিবন্ধনে আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুসরনযোগ্য।]

ভ্যাকসিনের ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা ধাপে ধাপে সম্পন্ন করা হয়। ক্লিনিক্রাল পরীক্ষার পূর্বে ইহাকে পশুর দেহে প্রয়োগ করা হয় এবং ইহার বিষাক্ততা ও পরিমাণভিত্তিক ক্ষমতা পরিমাপ হয় (measure toxicity, efficiency of dosage) এবং প্রয়োগ প্রদ্ধতি যেমন, মূখ দিয়ে খাওয়া নাকি ইনজেকশনের মাধ্যমে অথবা নাকের ভিতরে বা অন্য প্রদ্ধতিতে প্রয়োগ সুবিধা জনক, নিরাপদ ও কার্যকর নির্ণয় করা হয়।

টেস্টের প্রদ্ধতি:

ধাপ: ১

এ ধাপে পৌঢ় মানব সেচ্ছাসেবক এবং যাদের রোগ আছে বা রোগের সম্ভাবনা রয়েছে তাদের উপর প্রয়োগ করা হয় এবং এর কার্যকারিতা ও পাশ্বপ্রতিক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করা হয়্। এতে কয়েক মাস লেগে যায়।

ধাপ: ২

এ ধাপে ১০০ হতে ৩০০ সংখ্যক মানব সেচ্ছাসেবক এবং যাদের রোগ আছে বা রোগের সম্ভাবনা রয়েছে এমন একই বয়সের এবং যারা ভাল স্বাস্থ্যের অধিকারী তাদের উপর প্রয়োগ করা হয়। রোগের সম্ভাবনা রয়েছে -এমন একই বয়সের এবং ভাল স্বাস্থ্যে অধিকারী বলতে মূলত যে শ্রেণীর মানুষের রোগ প্রতিরোধের জন্য ভ্যসকিন আবিস্কার করা হচ্ছে ঐ শ্রেণীর অর্থাৎ Target peoples কে বুঝানো হয়েছে। এ পরীক্ষা চালাতে এবং ফলাফল পর্যবেক্ষন ও সিদ্ধান্তে উপণীত হতে কয়েক মাস হতে ২ বছর সময় পর্যন্ত লেগে যেতে পারে।

ধাপ: ৩

এ পর্যায়ে ৩০০ হতে ৩০০০ সংখ্যক মানব সেচ্ছাসেবক এবং যাদের রোগ আছে বা রোগের সম্ভাবনা রয়েছে – এমন একই বয়সের এবং যারা ভাল স্বাস্থ্যের অধিকারী তাদের উপর প্রয়োগ করা হয় এবং এর কার্যকারিতা ও পাশ্বপ্রতিক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করা হয়্। এতে ১ বছর হতে ৪ বছর সময় পর্যন্ত লেগে যেতে পারে।

এক্ষেত্রে ক্লিনিক্যাল পরীক্ষাও চলতে থাকে এবং পাশাপাশি মানব শরীরের ইহার কার্যকারিতা ও নিরাপদের উপর অনুমোদন প্রদান বিষয়ে FDA কর্তৃক পর্যবেক্ষণ (Review) ও পর্যায়ক্রমে চলতে থাকে।

৪র্থ পর্যায়টি হল বাজারজাত করার পূর্ব অবস্থা।, যেথায় দীর্ঘ দিন যাবত ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা ও নিরাপদ এর উপর লাগতার পর্যবেক্ষণ করা হয়।



COVID -19 Coronavirus এর ভ্যাকসিন আবিস্কারে বর্তমান বিশ্ব অগ্রগতি

বিশ্বের বিভিন্ন বায়োটেক কোম্পাণীগুলো, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এবং সরকারী – বেসরকারী প্রতিষ্ঠানগুলো যৌথ ভাবে বা এককভাবে Covid -19 Coronavirus এর ভ্যাকসিন আবিষ্কারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

তারমধ্যে বৃহত্তমটি হল নরওয়ের রাজধানী ওসলো ভিত্তিক Epidemic Preparedness Innovations এর সহযোগিতায় বিশ্বের বিভিন্ন কোম্পানী, সরকারী প্রতিষ্ঠাণ ও জনহিতকর প্রতিষ্ঠাণসমূহের সমন্বয়ে বিশ্ব যৗথ অংশিদারীত্বে ভ্যাকসিন আবিস্কারে কর্মসূচীটি দ্রুত গতিতে চলমান রয়েছে।

বিশ্বে বর্তমানে ন্যূনতম যে সকল প্রতিষ্ঠান ভ্যাকসিন আবিস্কারে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে সেগুলোর নাম এবং বিশ্ব মানচিত্রে উহাদের অবস্থান দেখানো হল:

প্রতিষ্ঠানবায়োটেক কোম্পাণীঔষুধ কোম্পাণীবিশ্ববিদ্যালয় ও স্থাস্থ্য সংস্থ্যা
৭৯৪০১৪১২

বর্তমানে বিশ্বে ভ্যাকসিন তৈরী, উন্নয়ন ও পরীক্ষা নিরীক্ষা চালনোর কাজে বিশ্বের যে সকল কর্পোরেশন, সরকারী – বেসরকারী প্রতিষ্ঠানসমূহ এবং অন্যান্য গবেষণা দল অবিরামভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে সেগুলো হল:-

স্টানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়, ডিউক বিশ্ববিদ্যালয়, ওয়েস্ট ভারজিন বিশ্ববিদ্যালয়, কোয়ালিশন ফর ইপিডিমিক পিপার্ডনেস ইনোভেশনস, ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব এলার্জিস এন্ড ইনফেকশন ডিজিসেস, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, সেন্টার ফর ডিজিজ কন্টোল এন্ড প্রিভেনশন, বায়োসেন্সুরী ডট কম, ভ্যাসিনস্টুডি ডট ইইউ, ডিপার্টমেন্ট অব হেল্থ এন্ড হিউম্যান সার্ভিসেস,সায়েন্সমেগ ডট অর্গাইনেজেশন ( SOURCE: USA TODAY).

Covid -19 Coronavirus এর ভ্যাকসিন তৈরী, উন্নয়ন এবং মানবদেহে প্রযোগের উপযুক্ততায় এত সময়ের প্রয়োজন কেন হতে পারে সেটা নিশ্চই পাঠকের আর বুঝতে বাকি নেই।

Original Writers: George Patras, Ramon Padilla, and Veronica Bravo.
SOURCE: USA TODAY, WIKIPEDIA AND KHAN ACCODEMY

সম্পর্কিত পোস্ট

Green Page | Only One Environment News Portal in Bangladesh
Bangladeshi News, International News, Environmental News, Bangla News, Latest News, Special News, Sports News, All Bangladesh Local News and Every Situation of the world are available in this Bangla News Website.

এই ওয়েবসাইটটি আপনার অভিজ্ঞতা উন্নত করতে কুকি ব্যবহার করে। আমরা ধরে নিচ্ছি যে আপনি এটির সাথে ঠিক আছেন, তবে আপনি ইচ্ছা করলেই স্কিপ করতে পারেন। গ্রহন বিস্তারিত