30 C
ঢাকা, বাংলাদেশ
রাত ১:৫৯ | ১১ই জুলাই, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | ২৭শে আষাঢ়, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
গ্রীন পেইজ
জীববৈচিত্র্য

সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য সুরক্ষায় স্থায়ী সমাধানের জোর দাবী 

সেভ দ্য নেচার অব বাংলাদেশ এর চেয়ারম্যান আ.ন.ম মোয়াজ্জেম হোসেন তার ফেসবুকে পেস্ট করেছেন সমুদ্রের জীববৈচিত্র্য নিয়ে। দেশে গত ৬ মাসে যেসকল তিমি মারা গিয়েছে  তিনি  তারিখ অনুযায়ী প্রকাশ করেছেন সেগুলো। তার করা সেই পোস্টটি তুলে ধরা হলো হুবহু-

#সমুদ্রের_জীববৈচিত্র্য_রক্ষায়_আমাদের_গত_৬_মাসে_মৃত_তিমি_ও_ডলফিনগুলো (মৃত কাছিম ব্যাতিত)
১# ১৪/০১/২০২০ বুধবার (১টি বড় মৃত তিমি)
টেকনাফ -সেন্টমার্টিন নৌ রোডের মাঝামাঝি অবস্থানে ৪০ ফুট লম্বা বালেন প্রজাতির একটি তিমি মৃত অবস্থায় পর্যটকরা দেখতে পায়।

২# ২২/০২/২০২০ শনিবার (১টি মৃত ডলফিন)
সেন্টমার্টিন উত্তর সৈকতের কবরস্থানের পাশে সাগর থেকে ভেসে আসা মৃত ১টি ডলফিন কে মাটি চাপা দেয় স্থানীয় বীচ কর্মী ও পরিবেশ অধিদপ্তরের স্থানীয় কর্মীরা।

৩# ২৩/০২/২০২০ রবিবার (১টি মৃত ডলফিন)
সাগর থেকে ভেসে আসা একটি মৃত ডলফিন কে জেটির দক্ষিণ পাশে মাটি চাপা দেয় বীচ কর্মী ও পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মীরা।

৪# ২৪/০২/২০২০ সোমবার (১টি মৃত ডলফিন)
সেন্টমার্টিন পুলিশ ফাঁড়ির সামনে একটি মৃত ডলফিন সাগরের স্রোতে ভেসে আসে। যা স্থানীয় এক যুবক ফেসবুকে পোষ্ট করলে কর্তৃপক্ষ জানতে পারে ও তারা সেটিকে মাটি চাপা দেয়।
একই সময়ে কয়েক দিনের ব্যবধানে আরো ৩টি ডলফিন সহ বেশ কটি সামুদ্রিক প্রানী পরিবেশ অধিদপ্তরের নিয়োজিত কর্মীরা মাটিতে পুতো ফেলার বর্ননা আসে বিভিন্ন গণমাধ্যমে।

৫# ২৫/০২/২০ মঙ্গলবার (১টি মৃত ডলফিন)
সেন্টমার্টিন সমুদ্র সৈকতের পশ্চিম পাশে পশ্চিম পাড়ায় একটি ডলফিন কে মাটি চাপা দেয় সেন্টমার্টিন বীচ কর্মী ৬ জন ও পরিবেশ অধিদপ্তর এর কর্মী ১৭ জন মিলে। যা বিভিন্ন গণমাধ্যমে উটে এসেছে তাদের বক্তব্যে।

৬# ২৭/০২/২০২০ বৃহস্পতিবার (২টি মৃত ডলফিন)
কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের সোনারপাড়া পয়েন্ট থেকে টেকনাফের খুড়েরমুখ পর্যন্ত প্রায় ৬০ কিলোমিটার জুড়ে জাহাজ থেকে ফেলা তৈলাক্ত বর্জ্যের দূষনের কারনে অসংখ্য মৃত কাছিম ও ডলফিন দেখা যায়, যার মধ্যে সোনারপাড়া ও পাটোয়ারটেক সমুদ্র সৈকতে অসংখ্য কাছিম ও ডলফিনসহ সামুদ্রিক প্রাণী মৃত পড়ে থাকতে দেখা যায়। স্থানীয় জেলেরা জানায় সাগরেও তারা অসংখ্য মৃত ডলফিন ও কাছিম ভাসতে দেখে।

৭# ০৩/০৪/২০২০ শুক্রবার (১টি মৃত ডলফিন)
উখিয়া উপজেলার মনখালী সমুদ্র সৈকতে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে নাড়িভুড়ি বেরিয়ে আসা একটি মৃত ডলফিনটি দেখতে পায়, ব্যাপক দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে দেখে স্থানীয়রা তা মাটিতে পুতে ফেলে।

৮# ০৪/০৪/২০২০ শনিবার (১টি মৃত ডলফিন)
টেকনাফ উপজেলার শাপলাপুর সমুদ্র সৈকতে মৃত বিশাল আকৃতির ডলফিন ভেসে আসে, যার দেহে মাথায় ও লেজে আঘাতের চিহ্ন থাকায় জেলেদের আঘাতে মৃত্যু হয় বলে অনুমান করা হয় ডলফিনটির

৯# ০৫/০৪/২০২০ শনিবার (১টি মৃত ডলফিন)
ইনানী সমুদ্র সৈকতে রয়েল টিউলিপের অপজিটে সমুদ্রের পানিতে ভাসমান একটি মৃত ডলফিন কে দেখতে পায় যার কয়েকজন পর্যটক, যার মাথায় ও পেটে আঘাতের চিহ্ন এবং লেজে রশি বাধা ছিল।

১০# ১২/০৫/২০২০ মঙ্গলবার (১টি মৃত ডলফিন)
ককসবাজার – টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের উখিয়া উপজেলার শফির বিল এলাকায় ১১ ফুট লম্বা বিশাল আকৃতির মৃত ডলফিন ভেসে আসে। যা পরিবেশ অধিদপ্তরের স্থানীয় প্রোগ্রামের দায়িত্বরত কর্মচারীরা তা মাটি চাপা দেয়া। এই ডলফিনটির মাথায় ও লেজের উপরের অংশে এবং চোঁখে ধারালো অস্ত্রের আঘাত স্পষ্ট দেখা যায়।

১১# ১৯/০৫/২০২০ মঙ্গলবার (১টি মৃত ডলফিন)
ককসবাজার সমুদ্র সৈকতের লাবনী পয়েন্টের ছাতা মার্কেট বরাবর বীচে একটি ক্ষতবিক্ষত মৃত ডলফিন পড়ে থাকার তথ্য নিশ্চিত করেন ছাতা মার্কেট ব্যাবসায়ী সমিতির সভাপতি তারই প্রেক্ষিতে ঘুর্নিঝড় আম্পানের দুর্যোগময় মুহুর্তে আমি স্ব শরীরে গিয়ে মৃত ডলফিনটির প্রকৃত চিত্র তুলে আনি যা বর্ননা করার ভাসা জানা নেই।

১২# ২০/০৫/২০২০ বুধবার(ভাসমান ১টি মৃত ডলফিন)
কলাতলী পয়েন্টে একটি মৃত ডলফিন দেখতে পায় সী সেভ লাইফ গার্ড কর্মী ভোট্রো ও ইয়াসির লাইফগার্ড় কর্মী সরোয়ার। সময় নিউজ সহ বেশ কয়েকটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে তা উটে আসে।

১৩# ২১/০৫/২০২০ (১টি মৃত বাচ্চা তিমি/ডলফিন )
লাবনী পয়েন্টের টিবি বুথের পয়েন্টের নীচে সাগরের স্রোতে ভেসে আসা একটি মৃত ডলফিন দেখা যায়। যা সময় নিউজের প্রতিবেদক ২০ ও ২১ তারিখে দুটি ডলফিনের মৃত্যু ও ভেসে আসার সংবাদ প্রকাশ করলেও ২১ তারিখের ডলফিনটি তিমির বাচ্চা বলে অনুমান করেন বিশেষজ্ঞরা।

১৪# ২২/০৬/২০২০ মঙ্গলবার (১টি মৃত তিমি)
সকাল ৯টার দিকে টেকনাফ শাহপরীর দ্বীপ এলাকার ঘোলার চরে একটি মধ্য বয়সী ১২-১৫ ফুট লম্বা মধ্য বয়সী ব্রাইডস হোয়েল প্রজাতির তিমি সাগরতীরে মৃত অবস্থায় দেখতে পায়।

১৫# ১৬/০৯/২০১৯ সোমবার (১টি মৃত ডলফিন)
দরিয়া নগর পেরাস্যালিং পয়েন্টে ইন্দো প্যাসিফিক হাম্পব্যাক প্রজাতির আহত ডলফিনটি জ্যান্ত তীরে এসে ভাসতে দেখে সেভ দ্যা ন্যাচার অব বাংলাদেশ ককসবাজার জেলার তৎকালীন সাংগঠনিক সম্পাদক আমাকে জানায় ও তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে গিয়ে সেটি কে বাঁচাতে সরকারের বিভিন্ন সংস্থার সাহায্য চেয়ে ব্যার্থ হই ও রাত ৯টার দিকে মারা যায় সম্ভবত। রাত ১০ টায় বন বিভাগ তা মাটিতে পুতে আসেন।

#৫টি_ডলফিনের_মৃত্যুর_ছবিঃ সেন্টমার্টিনে এই বছরে বিশেষ একটি সরকারী সংস্থার কর্মতৎপরতা চালাতে গিয়ে ৫টি ডলফিন ও একটি তিমির মৃত্যুর কথা ও ছবি প্রকাশ পেলেও দেশের কোন গণমাধ্যম বিশেষ কোন নিষেধাজ্ঞার কারনে হয়ত প্রকাশ করেনি।
এই সময়ে ১২০ কিঃমিঃ সমুদ্র সৈকতে জ্বালে আটকে ও আঘাতে প্রায় ৫০ টির মত মা কাছিম মারা যায় যা তালিকাটি দীর্ঘ হয়ে যাবে বলে আনিনি।

তাছাড়া টেকনাফ, উখিয়া, মাতারবাড়ী, কুতুবদিয়া উপজেলা ও সেন্টমার্টিনের সমুদ্র সৈকতের বিভিন্ন অংশে একই সময়ে আরো ১০ টি ডলফিন মৃত্যুর সংবাদ আমরা পেলেও লকডাউনের কারনে তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি।
#সমুদ্রের_জীববৈচিত্র্য_সুরক্ষায়_স্বায়ত্তশাসিত_প্রতিষ্টান_গঠন_করা_হোক

#২০১২_সালের_বন্যপ্রাণী_সংরক্ষণ_আইন_সংশোধন_করুন
বঙ্গোপসাগরে বিভিন্ন সময়ে আহত সামুদ্রিক প্রাণীগুলো বাঁচার জন্য উপকূলে ছুটে আসলেও তাদের রক্ষার জন্য ককসবাজারে নেই কোন রেসকিউ টিম, নেই কোন আধুনিক যন্ত্রপাতি সমৃদ্ধ চিকিৎসা ব্যবস্থা। আর এর জন্য পরিবেশ কর্মী বা গণমাধ্যম দ্বায় চাপিয়ে দিই বনবিভাগকে । কারন ২০১২ সালের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন অনুসারে ডলফিন সহ ১২ টি সামুদ্রিক প্রাণী সুরক্ষার দায়িত্ব দেয়া হয় বন বিভাগকে।
কিন্তু বন বিভাগ কেন বা কিভাবে সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য সুরক্ষার করবে ? তাদের নেই কোন রেসকিউ টিম, নেই মেরিন সায়েন্সের প্রাতিষ্টানিক শিক্ষা ও আধুনিক প্রযুক্তি সমৃদ্ধ যন্ত্রপাতি এবং চিকিৎসক।
তাদের কাজ বন ও বন্যপ্রাণী সুরক্ষা হতে পারে, তাদের দিয়ে সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য সুরক্ষা কি করে সম্ভব !
যদিও সরকারের নীতি নির্ধারক মহল অজ্ঞতা বশত তাদের উপর একটি দ্বায় চাপিয়ে দিয়েছিল বলে তারা দিনের পর দিন গণমাধ্যম ও পরিবেশকর্মীদের সমালোচনার পাত্র হবে ? আমরা একে অন্যের দোষ খুজব কিন্তু তাতে আদৌ কোন সমাধান আসবে বলে মনে হয়না।

তাই সারাদেশের পরিবেশ কর্মী ও গণমাধ্যমের প্রতি অনুরোধ জানাব, আসুন বাস্তব সম্মত স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে সকলে ঐক্যবদ্ধ ভাবে জোর দাবী জানাই সরকারের প্রতি একটি স্থায়ী সমাধানের জন্য।

সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য সুরক্ষায় স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের ত্তত্ত্বাবধানে সামুদ্রিক প্রাণীদের সুরক্ষা নীতিমালা প্রনয়ন করা হোক এবং ২০১২ সালের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন সংশোধন করা হোক।

আ.ন.ম মোয়াজ্জেম হোসেন
চেয়ারম্যান
Save The Nature of Bangladesh

 

সম্পর্কিত পোস্ট

Green Page | Only One Environment News Portal in Bangladesh
Bangladeshi News, International News, Environmental News, Bangla News, Latest News, Special News, Sports News, All Bangladesh Local News and Every Situation of the world are available in this Bangla News Website.

এই ওয়েবসাইটটি আপনার অভিজ্ঞতা উন্নত করতে কুকি ব্যবহার করে। আমরা ধরে নিচ্ছি যে আপনি এটির সাথে ঠিক আছেন, তবে আপনি ইচ্ছা করলেই স্কিপ করতে পারেন। গ্রহন বিস্তারিত