32 C
ঢাকা, বাংলাদেশ
রাত ১০:৪৭ | ১৭ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ খ্রিস্টাব্দ | ২রা শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ বঙ্গাব্দ
গ্রীন পেইজ
সমন্বিত উদ্যোগে গড়তে হবে বাসযোগ্য বিশ্ব
পরিবেশ রক্ষা

সমন্বিত উদ্যোগে গড়তে হবে বাসযোগ্য বিশ্ব

সমন্বিত উদ্যোগে গড়তে হবে বাসযোগ্য বিশ্ব

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা করতে তাই নানা ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। নানা পক্ষ বিভিন্ন দিক থেকে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট প্রভাব কমিয়ে আনতে চাইছে।

গত মাসের শেষদিকে বাংলাদেশের ওপর দিয়ে বয়ে গেল প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় ‘রেমাল’। এই ঝড়ের পরবর্তী প্রভাব অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী। ঝড়ে লন্ড-ভন্ড হয়ে গেছে দেশের উপকূলীয় অঞ্চল ও সুন্দরবন, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১ লাখ ৭১ হাজার হেক্টরেরও বেশি ফসলি জমি, বাড়িঘর বিধ্বস্ত হয়েছে প্রায় পৌনে ২ লাখ।

সবমিলিয়ে ঝড়ে দুর্গত মানুষের সংখ্যা প্রায় ৪৬ লাখ। অথচ এর ঠিক আগের সপ্তাহ পর্যন্ত প্রচণ্ড তাপপ্রবাহে মানুষের জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছিলেন অসুস্থ, বয়স্ক, শিশু ও সমাজের শ্রমজীবী মানুষ।

এই আকস্মিক ঘূর্ণিঝড়, আবার তাপপ্রবাহ, সকল প্রাকৃতিক দুর্যোগই তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে। এর সঙ্গে আছে ঋতুচক্রের অস্বাভাবিক আচরণ।
একদিকে, অতিরিক্ত গরমে খাল-নদী-বিল শুকিয়ে যাওয়া, আবার পাহাড়ি ঢলে অসময়ে বন্যা, অপর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত। অন্যদিকে মাটি-পানি-বায়ুসহ নানা ধরনের দূষণ। এসব প্রাকৃতিক দুর্যোগের পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে রয়েছে জলবায়ুর আকস্মিক পরিবর্তন।

১৯৭১-২০২২ সাল পর্যন্ত দেশে প্রতি ২-৩ বছরে একটি ঘূর্ণিঝড় আঘাত করত। সেখানে গত বছর ৪টি ঘূর্ণিঝড় বঙ্গোপসাগর হয়ে বাংলাদেশের ওপর প্রভাব ফেলেছে।



এ বছরের এপ্রিল মাসে টানা ৩০ দিন প্রায় সারাদেশে তাপপ্রবাহ বয়ে গেছে, যা ৭৬ বছরের ইতিহাসের নতুন রেকর্ড। এ সময় এপ্রিল মাসের স্বাভাবিক গড় তাপমাত্রা আগের বছরগুলোর তুলনায় ২-৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল।

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা করতে তাই নানা ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। নানা পক্ষ বিভিন্ন দিক থেকে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট প্রভাব কমিয়ে আনতে চাইছে।

সারাবিশ্বই ভূমি অবক্ষয়, মরুকরণ ও খরা প্রবণতায় ভুগছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নির্বিচারে বন উজাড়, প্রাণ-প্রকৃতি ও বাস্তুসংস্থান ধ্বংস করা, নদী-পাহাড় ও বনাঞ্চলের দখল ও দূষণ, আধুনিকায়ন ও নগরায়নের নামে অপরিকল্পিত ও অস্থিতিশীল উন্নয়ন। স্বভাবতই বাংলাদেশও এর বাইরে নয়।

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতার অংশ হিসাবে ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে প্যারিসে ‘জাতিসংঘ জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলন’ অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের প্রতিনিধিরা যত দ্রুত সম্ভব কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে আনতে এবং বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির হার ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে রাখার ক্ষেত্রে একমত হন।

বৈশ্বিক এই জলবায়ু বিপর্যয়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে আছে বাংলাদেশের মতো তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলো। এসব দেশে ক্ষতির প্রভাব কমিয়ে আনতে ‘গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ড’ বরাদ্দ দেওয়া হয়। মূলত জলবায়ু-সহিষ্ণু অবকাঠামো তৈরি করা, উপকূলীয় এলাকার মানুষসহ ক্ষতিপ্রবণ কমিউনিটিগুলোকে প্রস্তুত করা, দেশের বেসরকারি খাতে জ্বালানি-সাশ্রয় প্রকল্পে বিনিয়োগে এসব বরাদ্দ দেওয়া হয়।

তবে, দেশের বিভিন্ন স্থানে নানাভাবে এই জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষ যেমন সমুদ্রের পানি বৃদ্ধি, লোকালয়ে নোনাপানির প্রকোপ বা ঘূর্ণিঝড়ের সরাসরি ক্ষয়ক্ষতির মুখে রয়েছেন, তেমনি দেশের অন্যান্য অঞ্চলের মানুষও নদীর নাব্য কমে যাওয়া বা হঠাৎ পাহাড়ি ঢলের কারণে হওয়া বন্যা ও নদীভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছেন। বলা চলে, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় বাংলাদেশের অঞ্চলভেদে বিভিন্ন রকম প্রস্তুতি নেওয়া প্রয়োজন।

একদিকে কৃষক সেচের সময় পানির অভাবে ভুগছেন, অন্যদিকে অকাল বৃষ্টিতে ক্ষতির মুখে পড়ছেন তারা। ফলে, সামগ্রিকভাবে দেশের কৃষি খাত ও খাদ্য নিরাপত্তা ক্রমশ হুমকির মুখে পড়ছে।

আমাদের জাতীয় প্রবৃদ্ধি বজায় রেখে স্মার্ট বাংলাদেশ বাস্তবায়ন করতে হলে সবার আগে কৃষি খাতকে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি থেকে রক্ষা করতে হবে।

জলবায়ু পরিবর্তন রোধ করা, কার্বন নিঃসরণের হার কমানো ও ভূমির অবক্ষয় মোকাবিলায় বৃক্ষরোপণ অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমাধান। বিশেষ করে জাতিসংঘ ভূমির অবক্ষয় নিয়ে সদস্যভুক্ত দেশগুলোকে ক্রমাগত সাবধান করে যাচ্ছে।

ইউএন এনভায়রনমেন্ট প্রোগ্রামের এক নিবন্ধে জানানো হয়, মাত্র ১৫ শতাংশ ভূমি পুনরুদ্ধার করে পরবর্তী অবক্ষয় রোধ করা সম্ভব হলে, ৬০ শতাংশ প্রজাতির বিলুপ্তি ঠেকানো সম্ভব হবে। ভূমির অবক্ষয় রোধে প্রতিষ্ঠানটি বেশ কিছু পরামর্শ দিয়েছে।

এর মধ্যে টেকসই কৃষি, স্বাদুপানির বাস্তুসংস্থান সংরক্ষণ এবং নগরে সবুজায়নের মতো বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে উঠে এসেছে। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা করতে হলে আমাদের ব্যাপকভাবে বৃক্ষরোপণ করা ছাড়া ভিন্ন উপায় নেই।

আমাদের দেশে বনাঞ্চলের পরিমাণ কম। তাই আমাদের সচেতন হওয়া আরও বেশি জরুরি। সম্প্রতি বয়ে যাওয়া তাপপ্রবাহ ও ঘূর্ণিঝড়ে এই বিষয়টি আরও গভীরভাবে উপলব্ধি করা গেছে।

আমাদের নগরে পরিকল্পিতভাবে সবুজায়ন করা গেলে তাপপ্রবাহে অস্বস্তির মাত্রা অনেকখানি কমে আসতে পারত। আর ঘূর্ণিঝড়ে প্রাকৃতিক ঢাল হিসাবে বিপদ সামাল দিয়েছে সুন্দরবন।



এর আগেও সিডর, আইলার মতো প্রলয়ঙ্করী ঝড়ে আমাদের উপকূলকে আগলে রেখেছিল সুন্দরবন। তাই, এই বন সংরক্ষণ এবং উপকূলজুড়ে এ রকম ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল গড়ে তুলতে বৃক্ষরোপণের প্রতি আমাদের বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।

একসময় গরমের তীব্রতা আর রাজশাহী শহর যেন সমার্থক শব্দ ছিল। এখন সে অবস্থার আমূল পরিবর্তন এসেছে। শহরটি এখন পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও স্বাস্থ্যকর হিসেবে দেশে-বিদেশে ব্যাপক প্রশংসা কুড়াচ্ছে। বিগত বছরগুলোতে নগরীর সড়ক বিভাজক, ফুটপাত, সড়কদ্বীপ ও চত্বরে নানা প্রজাতির ১২ লাখের বেশি গাছ লাগানো হয়েছে।

বিএটি বাংলাদেশও নগরীর সৌন্দর্যবর্ধক বেশকিছু বৃক্ষ যেমন- কৃষ্ণচূড়া, জারুল, ঝাউ, বকুল, রাধাচূড়া, দেবদারু ইত্যাদি বৃক্ষ সিটি করপোরেশনকে উপহার দিয়ে জনবান্ধব এই উদ্যোগে শামিল হয়েছে।

সফলতার আরেকটি উদাহরণ হতে পারে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি। ২০১৭ সালে পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে বিতাড়িত জনগোষ্ঠী রোহিঙ্গারা ব্যাপকহারে বাংলাদেশে প্রবেশ করে।

দেখা দেয় মানবিক বিপর্যয়। এ সময় প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গা কক্সবাজার জেলায় আশ্রয় নেয়। ঘনবসতিপূর্ণ ক্যাম্প গড়ে তুলতে উজাড় করা হয় সেখানকার বন।

“Green Page” কে সহযোগিতার আহ্বান

সম্পর্কিত পোস্ট

Green Page | Only One Environment News Portal in Bangladesh
Bangladeshi News, International News, Environmental News, Bangla News, Latest News, Special News, Sports News, All Bangladesh Local News and Every Situation of the world are available in this Bangla News Website.

এই ওয়েবসাইটটি আপনার অভিজ্ঞতা উন্নত করতে কুকি ব্যবহার করে। আমরা ধরে নিচ্ছি যে আপনি এটির সাথে ঠিক আছেন, তবে আপনি ইচ্ছা করলেই স্কিপ করতে পারেন। গ্রহন বিস্তারিত