29 C
ঢাকা, বাংলাদেশ
রাত ৩:৩৭ | ১৮ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ খ্রিস্টাব্দ | ৪ঠা জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ বঙ্গাব্দ
গ্রীন পেইজ
শেয়ার বাজার উন্নয়নে কিছু পরামর্শ
জীবনধারা পরিবেশগত অর্থনীতি মিসেস ফাতেমা জিন্নাত

শেয়ার বাজার উন্নয়নে (For the Development of Bangladesh share Market) কিছু পরামর্শ এবং এসইসি’র নতুন চেয়ারম্যান কি পারবেন ”এজিএম পার্টি” কে দমন করতে?

শেয়ার বাজার উন্নয়নে (For the Development of Bangladesh share Market) কিছু পরামর্শ এবং এসইসি’র নতুন চেয়ারম্যান কি পারবেন ”এজিএম পার্টি” কে দমন করতে?

মিসেস ফাতেমা জিন্নাত

বাংলাদশে সিকিউরিটি এন্ড একচেঞ্জ কমিশনের নতুন চেয়ারম্যান আসার পরে মনে হচ্ছে শেয়ার মার্কেটে একটি আশা জাগছে। ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের মনে একটা উৎফুল্লতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। শেয়ার মার্কেটের এতদিনের দম বন্ধ পরিবেশ হতে মুক্তি পেয়ে বিনিয়োগকারীরা যেন বুক ভরে নিঃশ্বাস ফেলার সুযোগ পেয়েছে।

শুধু সিকিউরিটি একচেঞ্জ কমিশনের ২সিসি আইনের কথাই বলিনা কেন- গত প্রায় ১০ বছর যাবত কিছুদিন পর পরই ২সিসি আইন কার্যকর করার ঘোষনা দেয়া হত।

এতে যে সকল কোম্পানীতে পরিচালকদের শেয়ার ধারন নূন্যতম শেয়ার সংখ্যা হতে কম ছিল, কোম্পানীর পরিচালকেরা পদ ধরে রাখার জন্য বাজার হতে শেয়ার ক্রয় করতে হবে বা কোম্পাণীর উন্নয়নে সৎ ইচ্ছার প্রকাশ ঘটতে পারে বিধায় শেয়ারের দাম বৃদ্ধি পেতে পারে – এ আশায় ক্ষুদ্র বিনিযোগকারীরা উক্ত কোম্পানীর শেয়ার ক্রয় করে রাখত। কিন্তু হায় কিছু দিন পর ঘোষনার আর কোন খবর থাকত না।



এভাবে ক্ষুদ্র বিনিযোগকারীরা বার বার প্রতারিত হয়েছে। আমার মনে হয় একমাত্র এ দেশেই ইহা সম্ভব হয়েছিল যে, পরিচালকরা যৌথভাবে কোন কোম্পানীর মাত্র ৩-৫% শেয়ার ধারন করে কোম্পানী পরিচালনা করত।

বাকী ৯৭-৯৮% শেয়ারধারীদের সম্পদের হর্তাকর্তা তারা ছিল, কোম্পানীর পরিচালনা হতে শুরু করে শেয়ার হোল্ডারদের ভাগ্য নিদ্ধারনে মূল ভুমিকা তারাই পালন করত। ইহা দশ্যুতা বই কিছুই ছিল না।

আরেকটি কথা না বল্লেই নয় অনেকদিন হতেই শেয়ার মার্কেটের সাথে জড়িত থাকলেও গত বছরই দেখা গেছে ৪/৫টি কোম্পানী মাত্র ১% লভ্যাংশ দিয়ে “বি” শ্রেণীর ক্যাটাগরীতে অন্তর্ভূক্ত রয়ে গেছে। নতুন চেয়ারম্যানের পক্ষে এতদিনের জঞ্জাল এত সহজে পরিস্কার করা সহজতর হবেনা।

কারণ, বিশাল এক দুষ্ঠচক্র এই মার্কেটের সাথে জড়িত রয়েছে, যার শাখা-প্রশাখা খোদ সিকিউরিটি এক্সচেঞ্জ কমিশনসহ বহু উচ্চে ছড়িয়ে আছে। তবুও সত্যিকারের বিনিয়োগকারীদের কল্যানে তথা স্টক র্মাকেটের কল্যানে নতুন চেয়ারম্যানের নিকট ২/৩টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারের পরামর্শ দিতে চাই, তা হল-

১। শেয়ার মার্কেটে “এজিএম পার্টি” নামে ৩/৪টি গ্রুপ রয়েছে। এদের কাজ হল কোম্পানীর রেকর্ড ডেট এর পূর্বে ১টি বা ২টি বা নগণ্য সংখ্যক শেয়ার ক্রয় করে এজিএমে অংশগ্রহন করা (এখন অন লাইনে অংশ নেয়া আরও সুবধিা হচ্ছে) এবং কিছু  আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে এজিএম এ বার্ষিক প্রতিবেদন পাশ করিয়ে দেয়া।

স্টক মার্কেট শুরুর পর হতেই ক্রমেই এ চক্রটির যাত্রা শুরু হয়েছিল এবং কিছু কোম্পাণী শেয়ারধারীদের ঠকানোর জন্য এজিএম এ প্রকৃত শেয়ারধারীদের বক্তৃতা দিতে না দিয়ে তাদের পক্ষে বা এজিএম এ উপস্থাপিত বার্ষিক প্রতিবেদনের পক্ষে বক্তৃতা দিয়ে তা সহজে পাশ করিয়ে নেয়ার জন্য এ শ্রেণী সৃষ্টি করেছিল যা এখন সর্বত্রই ছড়িয়ে পড়েছে। এখন ভাল কোম্পাণীগুলোও এদেরকে সুবিধা না দিলে এরা দল বেঁধে কোম্পাণীর বার্ষিক সভায় বিশৃংখলা তৈরী করে এবং কোম্পাণীর বিরুদ্ধে আবোল তাবোল বলে সভা পন্ড করতে চেষ্টা করে।

বিশেষ করে এজিএম এ অংশ গ্রহনকারী শেয়ারধারীদের গিফট বা লাঞ্চ বন্ধ করে দেওয়ার পর সাধারন বিনিয়োগকারীগণ যখন এজএিম এ অংশ গ্রহন বন্ধ করে দেয়, তখন হতেই এই এজিএম পার্টির বড় উত্থান ঘটে। করনার সময়ে এখন এজিএমের আগেই এজিএম পার্টির সদস্যগনকে বিকাশে বা রকেটের মাধ্যমে আর্থিক সুবধিা পাঠিয়ে দেওয়া হয়, আর এজিএম এর দিন তাদেরকেই অন লাইনে বক্তব্য রাখার সুযোগ দেওয়া হয়, ফলে কোম্পানীর পরিচালাকদের ইচ্ছে অনুযায়ী এজিএমে উপস্থাপতি প্রতবিদেন সহজইে পাশ হয়ে যায়।

কোম্পানীর সংশ্লিষ্টরা জানে কিছু অর্থকড়ি ব্যয় করেই যেহেতু এজিএম পাশ করা যায়, সুতরাং কোম্পানীর পরিচালনায় দায়িত্বশীলতা এবং জবাবদিহিতা (Responsibility and Accountability) প্রতিষ্ঠার বিষয়টি নগণ্য হয়ে যায়| বর্তমানে নতুনভাবে যে সকল পাবলিক লি: কোম্পাণী মার্কেটে আসছে গণপ্রস্তাবিত শেয়ার এর আবেদনের লটারির দিনই কোম্পাণীর হর্তাকর্তাদের সাথে এদের প্রথম পরিচয় হয় এবং ভবিষ্যতে এজিএম পাশে হীনকর্ম সম্পাদনে তাদের সহযোগীতার ম্যাসেজটি দিয়ে দেয়।

এ সকল বিষয় সিকিউরিটি একচেঞ্জ কমিশনের পক্ষে প্রমাণ করা তেমন কষ্টকর নয়, শেয়ার এর আবেদন লটারির দিন, কোম্পাণীসমূহের বার্ষিক সাধারণ সভার দিনসমূহে এদের লাগাতার উপস্থিতি ও বক্তব্য এবং এদের পোর্ট পোলিওতে ১ বা ২ বা সামাণ্য শেয়ার ধারনের চিত্র পর্যবেক্ষণ করলেই প্রমাণ পাওয়া যাবে। যে ব্যক্তির পোর্টপোলিওতে কোন কোম্পাণীর ১ বা ২ বা ১০ টি শেয়ার রয়েছে সে ব্যক্তি উক্ত কোম্পাণীর বার্ষিক সাধারণ সভায় কোম্পাণীর প্রতিবেদনের উপর বক্তব্য রাখা তার কোন স্বার্থের মধ্যে পড়ে ?

তাই কোন পাবলিক লি: কোম্পাণীর বার্ষিক সাধারণ সভায় বক্তব্য রাখার একটা মানদন্ড ঠিক করা প্রয়োজন এবং কোম্পাণীর বার্ষিক প্রতিবেদন ও অডিট রির্পোট সিকিউরিটি একচেঞ্জ কর্তৃক গঠিত একটি নিরপেক্ষ অভিজ্ঞ মূল্যায়ন কমিটি কর্তৃক মূল্যায়নের ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিৎ।

২। বাংলাদেশ ব্যাংকের ঘোষনা অনুযায়ী শুধুমাত্র ক্রেডিট কার্ড ব্যতীত সকল ঋনের সুদের হার এক অংকে নামাতে হবে। কিন্তু ব্রোকারেজ হাউজগুলো এখনও আগের নিয়ম মোতাবেক মার্জিন ঋণের সুদের হার সেই ১৩-১৪%ই রাখছে। এ বিষয়ে সিকিউরিটিজ এন্ড একচেঞ্জ কমিশনের হস্তক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।

৩। শেয়ার মার্কেটের প্রকৃত বিনিয়োগকারীগণেরই  IPO এর শেয়ার বরাদ্দ পাওয়ার একমাত্র অধিকার, অথচ বরাদ্দ পাচ্ছে কিছু পরগাছা। যারা আত্বীয়-স্বজন, চাকর- বাকর হতে শুরু করে গ্রামের পাড়াপড়শির নামে পোর্টপলিও  ও ব্যাংক হিসাব খুলে প্রতিটি IPO তে ২০০/৩০০ টি বিভিন্ন নামে আবেদন জমা দিচ্ছে এবং লটারীতে গড়ে ১০% আবেদনে শেয়ার প্রাপ্তি হয়ে কোম্পাণীর সেকেন্ডারী মার্কেটে ট্রেডিং শুরুর প্রথম দিকেই শেয়ার বিক্রয় করে পরবর্তি  IPO তে আবেদনের প্রস্তুতিতে চলে যাচ্ছে।

সাধারণত ব্যাংকের চাকুরীজিবীদের কাহারো কাহারো মধ্যে এ প্রবনতা রয়েছে যাদের দ্বারা এতগুলো ব্যাংক হিসাব পরিচালনা করা সহজতর। মূলত এরা শেয়ার মার্কেটের রক্তচোষা। এরা মার্কেটের বিষম ক্ষতি করছে। এদের কারনেই IPO তে বেশী আবেদন পড়ে, ফলে প্রকৃত বিনিয়োগকারীদের IPO তে শেয়ার প্রাপ্তী দূর্লভ হয়ে যায়। অন্য দিকে বেশী আবেদন পড়ায় কো্ম্পাণীর শেয়ারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের বেশী আগ্রহ সৃষ্টি হয়, যার প্রভাবে সেকেন্ডারী মার্কেটের ট্রেডের প্রথম দিকে কোম্পাণীটির শেয়ার দাম অত্যাধিক বেড়ে যায়।

এ সুযোগে রক্ত শোষা শ্রেণী তাদের IPO তে প্রাপ্ত শেয়ার বিক্রয় করে বিশাল এক মূলধন মার্কেট হতে নিয়ে সটকে পড়ে। অথচ প্রকৃত বিনিয়োগকারীরা  IPO তে শেয়ার বরাদ্দ প্রাপ্ত হলে এ ধরণের মানসিকতা থাকে না। তাই  IPO এর আবেদনে যাতে  এ পরগাছা – রক্তশোষা শ্রেণীর কেহ  আবেদন করতে না পারে তার ব্যবস্থা নেয়া জরুরী। যে পোর্ট পলিওতে একটা নিদিষ্ট অংকের বিনিয়োগ থাকবে না – সে পোর্টপলিওসমূহকে  IPO তে আবেদনের অযোগ্য ঘোষণা করা যেতে পারে।

৪। ২০১০ সালে শেয়ার মার্কেট বিপর্যয়ের পর সরকার কর্তৃক ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদেরকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হলেও বড় বিনিয়োগকারীদেরকে সহায়তায় কোন প্রদক্ষেপ না নেওয়ায় গত কয়েক বছর যাবৎ সরকার কর্তৃক শত চেষ্টার পরও মার্কেটকে গতিশীল করতে ব্যর্থ হয়েছে।

কারণ, ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগ সংক্রান্ত কোন দূর দৃষ্টি নাই, তারা অন্যের কথায় বা গুজবের উপর ভিত্তি করে শেয়ার কেনাবেচা করে, আর বড় বা মাঝারী ধরণের বিনিয়োগকারীরা কোম্পাণীর অতীত,বর্তমান, ভবিষ্যতের অবস্থা বিবেচনা করে শেয়ার ক্রয় বিক্রয় করে।

তাছাড়া সরকার কর্তৃক ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের প্রদত্ত সুবিধায় ক্ষুদ্রবিনিয়োগকারীদের মূলত কোন লাভ হয়নি, প্রকৃত লাভ হয়েছে মার্ঝিণ ঋণ বিতরণকারী বোকারেজ হাউজগুলোর, ঐ বিপর্যযের পর ক্ষুদ্রবিনিয়োগকারীদের অধিক সংখ্যককে আর খুজেই পাওয়া যায়নি, তারা ছিল মৌসুমী ঝড়ের পাখি, শেয়ার মার্কেট উল্থানের মৌসুমে তারা এসেছে এবং পতনের ঝড়ে শেষ হয়ে গেছে।

যারা টিকে ছিল সরকারের প্রদত্ত সুবিধা প্রাপ্তির জন্য মার্জিণ ঋণ প্রদানকারী বোকারেজ হাউজগুলো এমন সব নতুন বিনিয়োগের শর্ত  জুড়ে দিয়ে ছিল যে তা পূরণ করা বেশীর ভাগের ক্ষেত্রেই ছিল দূঃসাধ্য, তাহলে সুবিধাটা নিল কে ? এতদবিষয়ে একটা  Study / মূল্যায়নের দাবী রাখে বৈকি!

 এতদ্ব্যতীত,  সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সরকার কর্তৃক সুবিধা প্রাপ্ত ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের যৌথ মূলধন কিছুতেই ২০% অধিক হবে না, ফলে ৮০% মূলধনের ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের  Support  না দিয়ে শেয়ার মার্কেটের উন্নয়নের চিন্তাটা সঠিক ছিল না। তাই শেযার মার্কেটকে সত্যিকারভাবে উন্নয়ন ও গতিশীল করতে হলে ২০১০ সালে ক্ষতিগ্রস্ত মাঝারী ও বড় বিনিয়োগকারীদের সহায়তা দিয়ে মার্কেটে ফিরে আনা প্রয়োজন।

৫। শেয়ার মার্কেট বিপর্যয়ের পূর্বে যে বিনিয়োগকারী তার ২০ লক্ষ টাকার বিনিয়োগের বিপরীতে ১০ লক্ষ টাকা মার্জিণ ঋণ নিয়েছিলেন, তার পোর্ট পোলিও এখন ১০ লক্ষ টাকার মত ঋণাত্বক হয়েছে। খোজ নিলে দেখা যাবে এর মধ্যে ১০ লক্ষ টাকার ঋণের বিপরীতে ২০ লক্ষ টাকাই সূদ।

১০ লক্ষ টাকা ঋণের বিপরীতে যদি ২০ লক্ষ টাকা সূদ হিসাব করা হয়/ কেটে রাখা হয় এবং এখনও সূদ চলতে থাকে, তবে সে বিনিয়োগকারী কিভাবে এই মার্কেটে উঠে দাড়াতে পারে? ইতোমধ্যে আইসিবি বিভিন্নভাবে মার্জিন ঋণ গ্রহণকারীদের ঋণের সূদ মওকুফ করে দিয়ে সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগকারীদের শেয়ার মার্কেটে ফিরিয়ে আনলেও অন্য মার্জিণ ঋণ প্রদানকারী বেসরকারী ব্যাংক, আর্থিক কোম্পাণী, বীমা কোম্পাণী বা প্রতিষ্ঠান এ রকম কোন উদ্যোগ নেয়নি, তাই তাদের বিতরণ করা মার্জিণ ঋণ যেমন আদায় হচ্ছে না, তেমনি তাদের সংলিষ্ট মার্জিণ ঋণ গ্রহনকারী বিনিয়োগকারীগণও মার্কেটে ফিরে আসতে পারেনি। তাই মার্কেটকে গতিশীল ও উন্নয়ন করতে হলে সিকিউরিটি এন্ড একচেঞ্জ কমিশনের এতদ বিষয়ে কার্যকর ভূমিকা পালনের সুযোগ রয়েছে।

৬। সিকিউরিটি এন্ড একচেঞ্জ কমিশনের ওয়েভ সাইটে মতামত বা অভিযোগ জানানোর জ্ন্য যে সাংকেতিক চিহ্ন ব্যবহার করতে হয় তা অত্যন্ত জটিল এবং সাধারণের পক্ষে ব্যবহার করা সম্ভব নয়। সর্ব সাধারণের মতামত, অভিযোগ বা পরামর্শ প্রদানের জন্য উহাকে সহজ করা উচিৎ।

এতদ্ব্যতীত সাধারণ বিনিয়োগকারীদের অভিযোগ/ মতামত যাতে সরাসরি চেয়ারম্যানকে জানাতে পারে সে জন্য সিকিউরিটি একচেঞ্জ কমিশন কর্তৃক মাসিক একদিন গণশুনানীর ব্যবস্থা করতে পারে। বর্তমান সরকারের জনসেবার নীতিতে এ বিষয়টি অন্তর্ভূক্ত রয়েছে। সরকারের মাঠ পর্যায়ের সকল স্তরে মাসিক একদিন গণশুনানীর ব্যবস্থা করা হয়েছে।

মোট কথা সিকিউরিটি একচেঞ্জ কমিশন বিনিয়োগকারীদের অভিযোগ, পরামর্শ সরাসরি অবগতি হলেই কেবল বিনিয়োগকারীদের সেবা দিতে পারবে। ইহা টেকসই উন্নয়ন লক্ষমাত্রা (Sustainable Development Goals – SDG) অর্জনের অর্ন্তভূক্ত।

৭। কোন নতুন কোম্পাণীর IPO ছাড়ার পর নূন্যতম ৫ বছরের মধ্যে কোম্পাণীর ব্যাবসায়িক ও আর্থিক অবস্থা IPO এর প্রসফেক্টাস অনুযায়ী না হলে বা শেয়ারের মূল্য IPO মূল্য অপেক্ষা কম হলে, IPO এর সাথে সংশ্লিষ্ট Issuer, Issue Manager, Underwriters, Auditor, Credit Rating Company সমূহকে দায়বদ্ধতা ও জবাবদিহিতার আওতায় আনার ব্যবস্থা করা উচিৎ এবং IPO এর পর শেয়ার মার্কেটে কোম্পাণীর অবস্থানের ভিত্তিতে এ সকল প্রতিষ্ঠানের Ranking করা উচিৎ যাতে এদের সুনাম মূল্যায়ন করে নতুন কোম্পাণীসমূহের শেয়ারে বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগ করতে পারে।

৮। প্রাইমারী মার্কেট এর ন্যয় সেকেন্ডারী মার্কেটের কোম্পাণসিমূহের অডিট প্রদ্ধতিতে পরিবর্তণ আনা আবশ্যক। পরবর্তী বছরের অডিট কাজ পাওয়ার আশায় কোম্পাণীর হর্তাকর্তাদের মনমত সাজানো অডিট সম্পাদনের নিয়মের পরিবর্তন আনার উদ্যোগ গ্রহন করা আবশ্যক। এই বিষয়ে এসইসি একটি অডিট প্যানেল তৈরী করতে পারে।

কোন কোম্পাণীর বার্ষিক সাধারন সভায় উক্ত প্যানেল হতে পরবর্তী বছরের অডিট কার্য সম্পাদনের জন্য নূন্যতম ৩ টি অডিট ফার্মের প্রস্তাব পাশের ব্যবস্থা গ্রহন করা যেতে পারে। উক্ত প্রস্তাব হতে এসইসি যে কোন একটিকে অথবা প্রস্তাবের বাহিরে নিদ্ধারিত প্যানেল হতে অন্য যে কোন ফার্মকে পরবর্তী বছরের অডিটর নিয়োগ অনুমোদন করতে পারে। এতে কাজ পাবার আশায় বা কাজ হারানোর ভয়ে কোন অডিট ফার্ম কোম্পাণীর তৈরীকৃত অডিট অনুমোদন না করে স্বাধীনভাবে অডিট কাজ সম্পন্ন করতে পারবে।

অডিট সম্পন্ন করা কোম্পাণীর পরবর্তী অবস্থা সম্পাদিত অডিটের সাথে তুলণা করে অডিটর ফার্মসমূহেরও একটি Ranking list তৈয়ার করা যেতে পারে। এতে অডিটর ফার্মগুলোর সুনাম অর্জণের জন্য অডিট কাজে সর্তক হবে, দায়িত্বশীলতা ও জবাদিহীতা অর্জণে অধিক মনোযোগী হবে। একইভাবে Credit Rating Company ক্ষেত্রেও একই ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

৯। বিশ্ববাসীর সাথে বাংলাদেশও ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (Sustainable Development Goal- SDG) বা এজেন্ডা ২০৩০ বাস্তবায়নের জন্য অঙ্গিকারবদ্ধ এবং ২০৫০ সালের মধ্যে গড় শূণ্য কার্বণ নির্গমন অর্জণে প্যারিসচুক্তিসহ জাতীসংঘের আওতায় পরিবেশ ও জলবায়ু সংক্রান্ত সকল চুক্তি ও কনভেনশণে স্বাক্ষরকারী দেশ। এতদ্ব্যতীত আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বিশ্বের জলবায়ু পরিবর্তনে ঝুঁকিপূর্ণ দেশসমূহের সংগঠন Climate Vulnerable Forum -(CVF) এর সভাপতি।

বাংলাদেশের এজেন্ডা ২০৩০ ও প্যারিস চুক্তি বাস্তবায়নের অর্থ হল বাংলাদেশে সরকারের বিভিন্ন অঙ্গ কর্তৃক এগুলোর বাস্তবায়ন। সেক্ষেত্রে এজেন্ডা ২০৩০ ও প্যারিস চুক্তি বাস্তবায়নে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হিসাবে বাংলাদেশ সিকিউরিটি একচেঞ্জ কমিশনের দায়িত্ব ও কর্তব্য অপরিসীম। আর তা হল তালিকাভূক্ত কোম্পাণীসমূহ বাংলাদেশ পরিবেশ আইন “The Bangladesh Environment Conservation Act, 1995 (Amended in 2010)” এবং পরিবেশ বিধি “ The Environment Conservation Rules, 199 “ অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে কিনা?, Environment management System (EMS), ISO 14001 or EMAS মানদন্ডে অর্জণ করেছে কিনা বা করার প্রস্তুতি গ্রহন করছে কিনা?



মোট কথা কার্বণ নির্গমণ হ্রাস ও সবুজ শক্তি ব্যবহারে কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে কিনা? সবুজ বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দিকে ধাবিত হচ্ছে কিনা? পরিবেশ দূষণ ছড়াচ্ছে কিনা – এগুলো যথাযতভাবে মনিটর করা এবং কোম্পাণীসমূহের Ranking করা।

এ বিশাল কর্মকান্ড পরিচালনায় বাংলাদেশ সিকিউরিটি একচেঞ্জ কমিশনের ’পরিবেশ ও জলবায়ু মনিটর সেল’ নামে একটি নতুন উইং খোলার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে যথায় পরিবেশ প্রকৌশল, পরিবেশ বিজ্ঞান এবং পরিবেশ অর্থণীতি -এই তিন পর্যায়ের ডিগ্যীধারীরা কাজ করতে পারে।

পরিবেশ সংরক্ষণ সংক্রান্ত উপরোক্ত আইন ও নিয়ম কানুন পরিপালন বিষয়সমূহ পর্যবেক্ষণ উত্তর একটা নিদিষ্ট সময়ের মধ্যে তা বাস্তবায়নে কোম্পাণীসমূহ হতে প্রতিশ্রুতি আদায় করা ও সময় মত তার বাস্তবায়ন মনিটর করা এবং যে সকল কোম্পাণী পরিবেশ সংক্রান্ত আইন ও নিয়ম কানুন প্রতিপালন করছে সে সকল কোম্পাণীসমূহের আয়কর হ্রাসসহ সরকারী সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধি করার ব্যবস্থা নেয়া।

বর্তমানে বাংলাদেশে অনেক সবুজ ও পরিবেশ বান্ধব কোম্পানী গড়ে উঠেছে বা উঠার চেষ্টা করছে। বিশেষ কর্মসূচীর আওতায় এ সকল কোম্পাণীসমূহকে শেয়ার বাজারে তালিকাভূক্ত করার ব্যবস্থা নেয়ার প্রয়োজন, যাতে অন্য তালিকাভূক্ত/অতালিকাভূক্ত কোম্পাণীগুলোও সবুজ ও পরিবেশ বান্ধব হতে অনুপ্রেরণা পায়।।

মনে রাখতে হবে যারা এই পৃথিবীকে দূষণমুক্ত রাখতে ব্রতী হয়েছে তারা কোম্পাণী পরিচালনায়ও দায়িত্ব ও কর্তব্যশীল হবে এবং জবাবদিহীতা প্রতিষ্ঠা করবে, কারো সাথে প্রতারণায় করার হীন কর্মে তারা দূষিত হবে না।

আসুন, পরিবেশ দূষণ প্রতিরোধ করি, পৃথিবী নামক এ গ্রহটিকে মানুষের বাসযোগ্য রাখি ।
“Green Page” কে সহযোগিতার আহ্বান

সম্পর্কিত পোস্ট

Green Page | Only One Environment News Portal in Bangladesh
Bangladeshi News, International News, Environmental News, Bangla News, Latest News, Special News, Sports News, All Bangladesh Local News and Every Situation of the world are available in this Bangla News Website.

এই ওয়েবসাইটটি আপনার অভিজ্ঞতা উন্নত করতে কুকি ব্যবহার করে। আমরা ধরে নিচ্ছি যে আপনি এটির সাথে ঠিক আছেন, তবে আপনি ইচ্ছা করলেই স্কিপ করতে পারেন। গ্রহন বিস্তারিত