18 C
ঢাকা, বাংলাদেশ
সকাল ৮:৫১ | ২৮শে জানুয়ারি, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ খ্রিস্টাব্দ | ১৪ই মাঘ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ বঙ্গাব্দ
গ্রীন পেইজ
ভারতের বর্জ্যে দূষিত হচ্ছে বাংলাদেশের পরিবেশ
পরিবেশ দূষণ

ভারতের বর্জ্যে দূষিত হচ্ছে বাংলাদেশের পরিবেশ

ভারতের বর্জ্যে দূষিত হচ্ছে বাংলাদেশের পরিবেশ

ভারত ও মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশের ১৮টি আন্তঃসীমান্ত নদীতে প্রতিদিন প্রায় ১৫ হাজার ৩৪৫ টন একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক প্রবেশ করে।

এর মধ্য থেকে ২ হাজার ৫১৯ টন ভারত থেকে এবং ২৮৪ টন মিয়ানমার থেকে আসে। এভাবে প্রতি বছর প্রায় অর্ধ মিলিয়ন টন একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক বর্জ্য আমাদের বঙ্গোপসাগরে প্রবেশ করে।

গত দুই বছর ধরে বেশ কয়েকটি আন্তসীমান্ত নদীতে এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন- এসডো’র করা এক গবেষণায় এই তথ্য উঠে এসেছে। শুক্রবার (২৫ নভেম্বর) এসডো আয়োজিত এক আলোচনা সভায় গবেষণা ফলাফলটি তুলে ধরা হয়।

গবেষণার চূড়ান্ত ফলাফল উপস্থাপন করেন এসডো’র সহকারী প্রোগ্রাম অফিসার হৃদিতা ফেরদৌস। এছাড়াও, কর্পোরেট, সরকার, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিগণ, সাংবাদিকগণ এবং এসডো’র বোর্ড মেম্বারস ও সদস্যরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

এসডো জানায়, প্লাস্টিক সল্যুশনস ফান্ড এবং গ্লোবাল অ্যালাসেন্স ফর ইনসিনেরেশন অল্টারনেটিভস –গায়া এর সহযোগিতায় এই গবেষণাটি করেছে তারা।



এই গবেষণার উদ্দেশ্য ছিল বিপজ্জনক প্লাস্টিক বর্জ্যের আন্তঃসীমান্ত চলাচল হ্রাস করার জন্য আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করা এবং নীতিগত সিদ্ধান্ত অগ্রসর করার জন্য সরকার ও নিয়ন্ত্রকদের সাথে পরামর্শ করা।

জানানো হয়, এই গবেষণার জন্য বাংলাদেশের যে সকল আন্তঃসীমান্ত নদীগুলোকে মূল্যায়ন করা হয়েছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল আপস্ট্রিমের ক্ষেত্রে মহানন্দা, ডাহুক, করতোয়া, তিস্তা, ধরলা, দুধকুমার, ব্রহ্মপুত্র, সুরমা, কুশিয়ারা; মিডস্ট্রিমের ক্ষেত্রে গঙ্গা এবং ডাউনস্ট্রিমের ক্ষেত্রে ইছামতি-কালিন্দি এবং নাফ নদী।

গবেষণার জন্য ডিসেম্বর ২০২০ থেকে জুলাই ২০২২ সাল পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে মোট ৭,০২০ জনের সাথে জরিপ করা হয় যার মধ্যে ছিল সাধারণ পেশার মানুষ যেমন শিক্ষক, শিক্ষার্থী, মাঝি, জেলে, দোকানদার, ইত্যাদি।

দেশের বিভিন্ন আন্তঃসীমান্ত এবং পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকে প্রায় ১১,৭০০ ধরণের প্লাস্টিক বর্জ্যের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। গবেষণার জন্য প্রয়োজনীয় সকল তথ্য সংগ্রহ ও নিশ্চিত করার জন্য কাঠামোগত প্রশ্নাবলীর মাধ্যমে জরিপটি পরিচালনা করা হয়।

এই গবেষণার বিষয়ে গবেষক দলের প্রধান ড. শাহরিয়ার হোসেন বলেন, ‘এসডো এর গবেষণার মূল উদ্দেশ্য ছিল আমাদের দেশের জলজ ব্যবস্থায়, বিশেষ করে আন্তঃসীমান্তে প্লাস্টিক দূষণের গতিবিধি বিশ্লেষণ করা’।

এই গবেষণা বাংলাদেশের নদী বাস্ততন্ত্র সংরক্ষণ সম্পর্কিত সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করবে বলেও মনে করেন তিনি।

এ বিষয়ে এসডোর নির্বাহী পরিচালক সিদ্দীকা সুলতানা বলেন, ‘এটা সত্যিই চিন্তার কারণ যে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম প্লাস্টিক-দূষিত দেশ। প্লাষ্টিক তৈরির কারণে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে।

এসব সবারই জানা, কিন্তু বাংলাদেশে প্লাস্টিক দূষণ পরিস্থিতি দিন দিন খারাপ হচ্ছে। কারণ এটি একটি বিশ্বব্যাপী সমস্যা, সমাধানটিও বিশ্বব্যাপী হতে হবে।’



বিইউপির সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অ্যাডজান্ট ফ্যাকাল্টি ও বাংলাদেশ সরকারের সাবেক সচিব ড. মাহফুজুল হক বলেন, ‘আমাদের নদী রক্ষার্থে শুধুমাত্র সরকারের একাই কাজ করলে চলবে না।

আমাদের সকলকেই এগিয়ে আসতে হবে। এছাড়াও যে সকল দেশ থেকে একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকগুলো ভেসে আসছে, সে সকল দেশ এর সাথের আমাদের আলোচনা করতে হবে একটি সঠিক সমাধানের জন্য।’

জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মঞ্জুর আহমেদ চৌধুরী বলেন, ‘বাংলাদেশকে নদীমাতৃক দেশ বলা হয়। কিন্তু এই নদী-ই এখন হুমকির মুখে।

এই ভয়াবহ একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক, যা কখনই পঁচে না আমাদের নদীগুলোর ধ্বংসের জন্য দায়ী। আমরা আশাবাদী যে আমাদের সরকার আবশ্যই এই বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ নিবেন।’

“Green Page” কে সহযোগিতার আহ্বান

সম্পর্কিত পোস্ট

Green Page | Only One Environment News Portal in Bangladesh
Bangladeshi News, International News, Environmental News, Bangla News, Latest News, Special News, Sports News, All Bangladesh Local News and Every Situation of the world are available in this Bangla News Website.

এই ওয়েবসাইটটি আপনার অভিজ্ঞতা উন্নত করতে কুকি ব্যবহার করে। আমরা ধরে নিচ্ছি যে আপনি এটির সাথে ঠিক আছেন, তবে আপনি ইচ্ছা করলেই স্কিপ করতে পারেন। গ্রহন বিস্তারিত