27 C
ঢাকা, বাংলাদেশ
ভোর ৫:১৮ | ১০ই জুলাই, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | ২৬শে আষাঢ়, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
গ্রীন পেইজ
বুলবুলে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি, ক্ষতির পরিমান ২৬৩ কোটি টাকা : কৃষিমন্ত্রী
প্রাকৃতিক দুর্যোগ বাংলাদেশ পরিবেশ

বুলবুলে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি, ক্ষতির পরিমান ২৬৩ কোটি টাকা : কৃষিমন্ত্রী

ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে ফসলের ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আবদুর রাজ্জাক বলেছেন, ঘূর্ণিঝড় বুলবুলে উপকূলীয় ১৬ জেলায় ২২ হাজার ৮৩৬ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ৭২ হাজার ২১২ টন ফসলের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, যার আর্থিক মূল্য ২৬৩ কোটি ৫ লাখ টাকা। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ৫০ হাজার ৫০৩ কৃষক।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে ফসলের ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান কৃষিমন্ত্রী। এ সময় কৃষি সচিব নাসিরুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন।

গত রবিবার সকালে দেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ১৬ জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যায় ঘূর্ণিঝড় বুলবুল। জেলাগুলো হল- খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, নড়াইল, বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী, বরগুনা, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, শরীয়তপুর, নোয়াখালী, ফেনী ও লক্ষ্মীপুর।

ঝড়ের পরই ফসলের ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া না গেলেও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর ১৬ জেলার ২ লাখ ৮৯ হাজার হেক্টর জমির ফসল আক্রান্ত হওয়ার তথ্য দিয়েছিল, যার মধ্যে রোপা আমন, খেসারি, পানের বরজসহ রবিশস্য ও শীতকালীন সবজি রয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে একই তথ্য দেন কৃষিমন্ত্রী আবদুর রাজ্জাক।

কৃষিমন্ত্রী আবদুর রাজ্জাক বলেন, ১৬ জেলার ১০৩ উপজেলায় ঝড়ের প্রভাব পড়েছে। প্রাথমিকভাবে প্রাপ্ত তথ্য মোতাবেক আক্রান্ত ফসলি জমির পরিমাণ ২ লাখ ৮৯ হাজার ৬ হেক্টর (মোট আবাদকৃত জমির ১৪ শতাংশ) এবং ক্ষতিগ্রস্ত জমির পরিমাণ ২২ হাজার ৮৩৬ হেক্টর (মোট আক্রান্ত জমির ৮ শতাংশ)। আক্রান্ত ফসলগুলো হল রোপা আমন, শীতকালীন সবজি, সরিষা, খেসারি, মসুর ও পান।

ক্ষতিগ্রস্ত ফসলের পরিমাণ ৭২ হাজার ২১২ টন। ক্ষতিগ্রস্ত ফসলি জমির মধ্যে রোপা আমনের ২ লাখ ৩৩ হাজার ৫৭৮ হেক্টর, সরিষার ১ হাজার ৪৭৬ হেক্টর, শীতকালীন সবজির ১৬ হাজার ৮৮৪ হেক্টর, খেসারির ৩১ হাজার ৮৮ হেক্টর, মসুরের ১৯৫ হেক্টর, পানের দুই হাজার ৬৬৩ হেক্টর এবং অন্যান্য ৩ হাজার ১২৬ হেক্টর জমি রয়েছে বলে জানান কৃষিমন্ত্রী।

ধানে কী পরিমাণ ক্ষতি হবে জানতে চাইলে কৃষি সচিব নাসিরুজ্জামান বলেন, অনুমান করছি ৪৭ কোটি টাকা রোপা আমনে এবং ৭৯ কোটি টাকা সবজিতে ক্ষতি হবে।

ফসলের যে ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে বাজারে তেমন প্রভাব পড়বে না জানিয়ে ড. রাজ্জাক বলেন, গত বোরো ও আমন মৌসুমে অতিরিক্ত উৎপাদন হয়েছিল। এবার আমন মাঠে যে ফসল আছে, ধান কাটা কেবল শুরু হয়েছে। আমার আশা করছি, খুব ভালো ফলন হবে। এছাড়া এবার ধানে চিটা কম হবে। অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে বরাদ্দ পাওয়ার পর দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় কৃষি পুনর্বাসন শুরু হবে বলেও জানান মন্ত্রী।

আর্থিক বরাদ্দের পরিমাণ এবং কবে নাগাদ তা দেয়া হতে পারে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, সরিষা পুনর্বাসন করা যাবে, বিএডিসির কাছে বীজ আছে, সরিষা বা খেসারি তারা আবার করতে পারবে। দক্ষিণাঞ্চলে শীতকালীন সবজিও খুব কম হয়। চুলচেরা হিসাব করার পর জানানো যাবে কত টাকা বরাদ্দ দেয়া হবে।

অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ বাংলাদেশ ও ভারতের উপকূলের দিকে ধেয়ে আসার পরিপ্রেক্ষিতে ৯ নভেম্বর ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত জারি করে আবহাওয়া অধিদফতর। ওইদিন গভীর রাতে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ উপকূলে আঘাত হানে ‘বুলবুল’। ১০ অক্টোবর সকালের দিকে কিছুটা দুর্বল হয়ে ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ বাংলাদেশের খুলনা উপকূল অতিক্রম করে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়। ঘূর্ণিঝড়ে ভোলায় ফিশিংবোট ডুবিতে নিহত ১০ জেলের লাশ দাফন করা হয়েছে।বরগুনার পাথরঘাটা ও আমতলীতে এখনও নিখোঁজ রয়েছেন ৯ জেলে। বিভিন্ন স্থানে বেড়িবাঁধ ভেঙে গেছে। বিধ্বস্ত হয়েছে হাজারও বাড়িঘর। ভেসে গেছে পুকুর ও ঘেরের মাছ। অভুক্ত অবস্তায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন অনেকে। স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা ত্রাণ বিতরণ শুরু করেছে।

ভোলা, লালমোহন ও চরফ্যাশন (দক্ষিণ) : ভোলার মেঘনা নদীতে ফিশিংবোটডুবিতে নিহত ১০ জেলের লাশ মঙ্গলবার ভোরে চরফ্যাশনে পৌঁছতেই কান্না আর আহাজারিতে ভেঙে পড়েন স্বজনরা। ৫ গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ ভিড় জমান। পরিবারের একমাত্র উপর্জনক্ষম ব্যক্তিদের মৃত্যুতে দিশেহারা ১০ জনের মধ্যে ৮ পরিবার। মঙ্গলবার আহম্মদপুর , চরশিবা, নূরাবাদ গ্রামে গেলে এমন করুণ আবেদন শুনতে হয় স্বজনদের কাছ থেকে। এদের তাৎক্ষণিক পরিবারপ্রতি ২৫ হাজার করে টাকা সহায়তা দিতে ছুটে যান ভোলার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদ আলম ছিদ্দিক।

২৪ জেলেসহ ডুবে যাওয়া এসভি আম্মাজন-২ শিপিংবোটের ১০ জেলের জানাজা শেষে দাফন সম্পন্ন হয়েছে। এদের বাড়ি ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে। সোমবার রাতে মেহেন্দিগঞ্জের বাহাদুরপুর থেকে ফিশিংবোটের কেবিন থেকে ৯ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়। এর আগে উদ্ধার হয় আরও এক লাশ। এখনও নিখোঁজ রয়েছেন ৪ জন। ফিশিংবোটডুবির ঘটনায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২ সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

চরফ্যাশন উপজেলায় ক্ষতিগ্রস্ত ৪ ইউনিয়নের ১০০ পরিবারের মাঝে ২০০ বান্ডিল টিন ও নগদ টাকা বিতরণ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার উপজেলা পরিষদে ভোলা জেলা প্রশাসক মাসুদ আলম সিদ্দিকী প্রধান অতিথি থেকে টিন ও টাকা বিতরণ করেন। এ সময় উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন আখন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুহুল আমীন, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আনিচুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া লালমোহন উপজেলায় ৬০ পরিবারের মাঝে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুই বান্ডিল করে ঢেউটিন, শুকনো খাবার ও ৬ হাজার টাকা করে বিতরণ করা হয়েছে।

বরিশাল, উজিরপুর ও বাবুগঞ্জ : কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ বরিশাল খামারবাড়ি থেকে দেয়া তথ্যমতে, এ বছর জেলার ১০ উপজেলায় ১ লাখ ৩৩ হাজার ৭৪২ হেক্টর জমিতে ফসল আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে ১ লাখ ৫ হাজার ২৭০ হেক্টর জমির ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। জেলা কৃষি অফিসের দেয়া তথ্যানুযায়ী, শুধু আমন ধান রোপণ করা হয়েছে ১ লাখ ২৬ হাজার ৫৩ হেক্টর জমিতে। আর বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে ১ লাখ হেক্টর জমির ধান। এছাড়া ২ হাজার হেক্টরে বিভিন্ন ধরনের সবজি, ১ হাজার ৩৫০ হেক্টরে খেসারি ডাল, ১৮০ হেক্টরে ধনিয়া, ৪৬৬ হেক্টরে কলা, ৩০০ হেক্টরে পেঁপে ও ১ হাজার ৩৪০ হেক্টর জমির পান পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে।

উজিরপুরে গাছচাপায় এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন শতাধিক। লণ্ডভণ্ড হয়েছে উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ও জনপদ। মঙ্গলবার পর্যন্ত বিচ্ছিন্ন রয়েছে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা।

বাবুগঞ্জ উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দু’দিন ধরে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ থাকায় হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীরা মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

কাঁঠালিয়া ও রাজাপুর (ঝালকাঠি) : কাঁঠালিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আকন্দ মোহম্মদ ফয়সাল উদ্দীন জানান, গাছ উপড়ে পড়ে দুইশ’ ঘরবাড়ি, নদীর পানি বৃদ্ধিতে পাঁচ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ভেঙেও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া ১৭৭টি মাছের ঘের ও পুকুর, ৯০ কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা, ১২ হাজার হেক্টর জমির ধান, পান, কলা ও সবজি ফসল এবং ৩০ লক্ষাধিক টাকার গাছ নষ্ট হয়েছে। রাজাপুর উপজেলায় গুচ্ছগ্রামে নির্মাণাধীন ৩৫টি ঘরের মধ্যে ১৮টি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

পাথরঘাটা, আমতলী ও বরগুনা (দক্ষিণ) : পাথরঘাটা থেকে দক্ষিণ-পশ্চিমে বঙ্গোপসাগরের নারিকেলবাড়িয়া এলাকায় মাছধরা ট্রলারডুবিতে নিখোঁজ ১৫ জেলের মধ্যে ৮ জন উদ্ধার হয়েছে। বাকি ৭ জেলে এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। মঙ্গলবার বিকাল ৪টার দিকে বরগুনা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এছাড়া আমতলী উপজেলার আড়পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের বালিয়াতলী গ্রামের দুই জেলে শানু গাজী ও জয়নাল মিয়া এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। আমতলীতে ১০ হাজার পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে।

আমতলী উপজেলা চেয়ারম্যান গোলাম সরোয়ার ফোরকান, ইউএনও মনিরা পারভীন ও পৌর মেয়র মতিয়ার রহমান মঙ্গলবার এ ত্রাণ বিতরণ করেন। জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, জেলায় ৯৮.৬৩৯ হেক্টর আমন চাষ করেন কৃষকরা। ক্ষতি হয়েছে ৯.৮৬৩ হেক্টর জমি, যা মোট জমির ১০ শতাংশ। জেলার কৃষকরা এ বছর শাকসবজি চাষ করেছেন ১১ শত হেক্টর জমিতে। ক্ষতি হয়েছে ৫০ শতাংশ। এছাড়া পানের বরজ ও মরিচের বীজতলার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

দশমিনা ও মির্জাগঞ্জ দক্ষিণ (পটুয়াখালী) : মির্জাগঞ্জে সোমবার সকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সরোয়ার হোসেন বুলবুলের আঘাতে ঘরচাপা পড়ে নিহত হামেজ ফকিরের ছেলে মো. ইউসুফ ফকিরের হাতে ১০ হাজার টাকা তুলে দেন। উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম, সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর মিয়া ও মাধবখালী ইউপি চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম তালুকদার। এছাড়া গত দুই দিনেও উপজেলায় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে কোনো ত্রাণ বিতরণের খবর পাওয়া যায়নি। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ খোলা আকাশের নিচে কিংবা ঝুপড়ি ঘরের মধ্যে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

দশমিনা উপজেলায় ২১০ পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে। মঙ্গলবার রনগোপালদী ইউনিয়নের পাতার চরে ৫৮ চরবোরহানে ৯২ এবং চরহাদীতে ৬০টি পরিবারের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ কার্যত্রমে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শুভ্রা দাস, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বনি আমিন খান ও দশমিনা থানার ওসি এসএম জালাল উদ্দিন।

মঠবাড়িয়া (পিরোজপুর) : মঠবাড়িয়ায় প্রায় ২০ হাজার পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বলেশ্বর নদ তীরবর্তী কচুবাড়িয়া, খেতাছিরা ও ভাইজোড়া জেলেপাড়ার ৩ শতাধিক পরিবার ৪ দিন ধরে অভুক্ত অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সোমবার বিকালে বলেশ্বর বাজার সংলগ্ন জেলেপল্লীর ২০ পরিবারের মধ্যে কিছু খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হলেও প্রয়োজনের তুলনায় তা ছিল অপ্রতুল। উপজেলায় প্রায় ১৭ হাজার বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, ১৮টি গবাদিপশু মারা গেছে, দেড় শ মৎস্য চাষের পুকুর ও ঘের ডুবে গেছে এবং ঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে ৫০ কোটি টাকার ফসলহানি হয়েছে। ঝড়ে বিভিন্ন স্থানে গাছ পড়ে বিদ্যুতের খুঁটি হেলে গেছে।

খুলনা : খুলনার কয়রা, দাকোপ ও পাইকগাছায় ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে প্রায় ৪৭ হাজার ২৭৫টি ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। মাটির সঙ্গে মিশে গেছে কয়েক হাজার কাঁচা বসতঘর। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর বলছে, ঘূর্ণিঝড়ে শুধু খুলনা জেলায় ২৫ হাজার হেক্টর জমির ফসলের ক্ষতি হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় ১ হাজার ৯২ হেক্টর জমিতে শীতকালীন সবজি ও ভেসে গেছে কয়েক হাজার মাছের ঘের। এ ছাড়া দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ১৬ জেলার রোপা আমনের ফসল বিনষ্ট হয়েছে দুই লাখ ৮৯ হাজার হেক্টর জমির। এতে অর্থনৈতিকভাবে বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে কৃষক।

নড়াইল : জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক চিন্ময় রায় বলেন, রোপা আমন ধান এবং রবি মৌসুমের ৩ হাজার ৮৪৫ হেক্টর জমির বিভিন্ন ফসল আক্রান্ত হয়েছে। বিভিন্ন ইউনিয়নে কর্মরত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয়ের জন্য কাজ করছেন।

ফরিদগঞ্জ (চাঁদপুর) : লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে অসহায় নাজমা বেগমের ঘর। ফরিদগঞ্জ উপজেলার পৌর এলাকার পূর্ব বড়ালী গ্রামে নাজমার ঘরে গাছ পড়ে দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এ সময় ঘরের মধ্যে পরিবারের সদস্যরা থাকলেও ভাগ্যক্রমে সবাই বেঁচে যান।

শরীয়তপুর : বুলবুলের তা-বে নড়িয়া, ডামুড্যা, জাজিরা ও ভেদরগঞ্জ উপজেলায় প্রায় ২০টি ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে।

লক্ষ্মীপুর : রামগতিতে ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের আঘাতে অর্ধশতাধিক কাঁচা ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। জেলার বিভিন্ন স্থানে অন্তত অর্ধশত গাছ উপড়ে গেছে।

বাগেরহাট : ঘূর্ণিঝড়ের পানিতে ভেসে গেছে চিংড়িসহ ৭ হাজার ২৩৪টি মৎস্য খামার। মাছচাষিদের ২ কোটি ৯৩ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

নোয়াখালী : নোয়াখালীতে ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের আঘাতে রবিশস্যের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। জেলার হাতিয়া, সুবর্ণচর ও কোম্পানীগঞ্জে আমন ধান ও রবিশস্যের ক্ষতির পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। প্রবল বর্ষণে আমন ধান ও রবিশস্য পানিতে তলিয়ে গেছে। বৃষ্টির কারণে রবিশস্যের বীজতলা নষ্ট হয়েছে।

মাদারীপুর : বুলবুলের আঘাতে কালকিনি উপজেলার নিম্নাঞ্চলে আমন ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। রাজৈরে উঠতি ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। কাঁচা ও আধাপাকা ঘরবাড়িসহ রাস্তাঘাটের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। রাজৈর পৌরসভার, মজুমদারকান্দি, আমগ্রাম, কদমবাড়ী এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

সাতক্ষীরা : বুলবুলের আঘাতে সাতক্ষীরার উপকূলীয় উপজেলা আশাশুনি ও শ্যামনগরে ১৩ হাজার কাঁচা ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত ও ৩৩ হাজার ৪৬০টি কাঁচা ঘরবাড়ি আংশিক বিধ্বস্ত হয়েছে এবং ১৬ হাজার ২০০ হেক্টর ফসলের ক্ষতি হয়েছে। এ ছাড়া উপকূলীয় উপজেলায় শত শত বিঘা মৎস্য ঘের ও ফসলি জমি বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে।

সম্পর্কিত পোস্ট

Green Page | Only One Environment News Portal in Bangladesh
Bangladeshi News, International News, Environmental News, Bangla News, Latest News, Special News, Sports News, All Bangladesh Local News and Every Situation of the world are available in this Bangla News Website.

এই ওয়েবসাইটটি আপনার অভিজ্ঞতা উন্নত করতে কুকি ব্যবহার করে। আমরা ধরে নিচ্ছি যে আপনি এটির সাথে ঠিক আছেন, তবে আপনি ইচ্ছা করলেই স্কিপ করতে পারেন। গ্রহন বিস্তারিত