20 C
ঢাকা, বাংলাদেশ
সকাল ১০:০৫ | ৩০শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | ১৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
গ্রীন পেইজ
বায়ু দূষণে শীর্ষে সাভার ও ত্রিশাল, জনজীবন বিপর্যস্ত
পরিবেশ দূষণ

বায়ু দূষণে শীর্ষে সাভার ও ত্রিশাল, জনজীবন বিপর্যস্ত

দূষণের নগরীর তালিকায় আগে থেকেই আছে ঢাকার নাম। কিন্তু চলতি বছর বারবারই রাজধানী শহরকে পেছনে ফেলছে ঢাকার সাভার ও ময়মনসিংহের ত্রিশাল এলাকাটি। রাজধানীর চেয়ে অনেক বেশি সবুজ থাকার পরও সাভার ও ত্রিশাল কেন দূষণের শীর্ষে অবস্থান করছে তা নিয়ে শঙ্কিত নাগরিকরা। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ারের তথ্যানুযায়ী এই দূষণের মাত্রা ‘অস্বাস্থ্যকর’ অবস্থায় পৌঁছেছে।

রাজধানী ঢাকার চেয়ে সাভার ও ত্রিশালে দূষণ বাড়ার উপযোগী উপাদান দিন দিন বাড়ছে। বিশেষ করে ইটভাটা, বর্জ্য পোড়ানো, কলকারখানা ও গাড়ির কালো ধোঁয়া এই দূষণের জন্য দায়ী। সাভার ও ত্রিশালে চলতি মাসের শুরু থেকেই চালু হয়েছে ইটভাটা। কলকারখানাগুলোর বেশির ভাগেরই নেই প্রয়োজনীয় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতিবছর বায়ুদূষণের কারণে বিশ্বে প্রায় ৭০ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়। দূষিত বায়ু ফুসফুসে ঢুকে ক্রমশ দুর্বল করে দেয়, যা শ্বাসতন্ত্রের সমস্যাজনিত মৃত্যুকে ত্বরান্বিত করে। বায়ুদূষণের সঙ্গে এবার যোগ হয়েছে করোনাভাইরাসের মহামারি। এ ভাইরাসের প্রধান লক্ষ্যই ফুসফুস। এ কারণে এবার কাশি, অ্যাজমা, শ্বাসকষ্টসহ নানা রোগ বাড়ারও আশঙ্কা বেশি।

আইকিউএয়ারের গত বুধবার বিকেল ৫টার তথ্যানুযায়ী, সাভারের বায়ুমান সূচক (ইউএস একিউআই) ছিল ১৬৭, আর ত্রিশালে ১৬২। অন্যদিকে মানিকগঞ্জে ছিল ১৫৩ আর ঢাকায় ১৩৯। রাতে সব কিছু নীরব থাকার পরও দূষণের মাত্রা বেড়ে যায়। বুধবার রাত ৮টায় বায়ুমান সূচক ছিল ত্রিশালে ২৩৪, ঢাকায় ১৯০ ও সাভারে ১৮০। গত শুক্রবার বিকেল ৪টায় দেখা যায়, সাভারে ১৯০, মানিকগঞ্জে ১৮৫, ঢাকায় ১৮১ ও ত্রিশালে ১৬৫। গতকাল শনিবার বিকেল ৫টায় দেখা যায়, ঢাকায় ২৩৩, সাভারে ২৩০, মানিকগঞ্জে ১৬৯ ও ত্রিশালে ১৬৮। ইউএস একিউআই র্যাংকিং অনুযায়ী গতকাল বায়ুদূষণের নগরীর তালিকায় বিশ্বে ঢাকার অবস্থান ছিল তৃতীয়, বায়ুমান সূচক ১৯৭। এ সময় বিশ্বের সর্বোচ্চ দূষণের নগরী ছিল কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেক, বায়ুমান সূচক ২৪১। কলকাতায় ছিল ২০৩, কুয়েত সিটিতে ১৭৭ ও মুম্বাইয়ে ছিল ১৬৪।

পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক (বায়ুমান ব্যবস্থাপনা) মো. জিয়াউল হক বলেন, ‘শুষ্ক মৌসুমে বাতাসে ধূলিকণা বাড়ে, বায়ুদূষণও বাড়ে। ইটভাটার কারণে ঢাকার আশপাশের বাতাস বেশি দূষিত হয়। তাদের নিয়মের মধ্যে রাখতে নিয়মিত অভিযানসহ নানা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।’

রাজধানী ঢাকার উপকণ্ঠ সাভারে সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক, নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়ক, বাইপাইল-আব্দুল্লাহপুর মহাসড়কসহ গোটা উপজেলার বিভিন্ন শাখা সড়কগুলোর পাশে যেখানেই নিচু জায়গা রয়েছে সেখানেই ফেলা হচ্ছে কঠিন বর্জ্য-আবর্জনা। যা মহাসড়কেও চলে আসছে। এ বর্জ্যের মধ্যে রয়েছে ক্ষতিকর প্লাস্টিক, পলিথিন ও রাসায়নিকসামগ্রীও। মাঝে-মধ্যেই এসব বর্জ্য আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। তখন কালো ধোঁয়ায় পুরো এলাকা ছেয়ে যায়। এ ছাড়াও ট্যানারি ও টেক্সটাইল ইত্যাদি প্রকল্প এরই মধ্যে সাভারে স্থানান্তর হয়েছে। পাশাপাশি সিরামিক, অটো মোবাইল, ওষুধ, বিস্কুট ও ব্রেড, রং তৈরির কারখানা, হিমাগার, তেলের কারখানা, ওয়েল্ডিং কারখানা, স মিল, জুতার কারখানা, সাবানের কারখানা, মশার কয়েল তৈরির কারখানা, নিট ও ওভেন, ওয়াশিং, ডায়িং প্যাকেজিংসহ কম-বেশি সব ধরনের কারখানা রয়েছে। লক্কড়ঝক্কড় যানবাহনের কালো ধোঁয়া প্রতিনিয়ত বাতাস দূষিত করছে। আমিনবাজার ও আশপাশের এলাকায় অবৈধভাবে গড়ে ওঠা অন্তত ৫০টি ইটভাটার কারণে মারাত্মকভাবে বায়ু দূষিত হচ্ছে।

সাভার চামড়াশিল্প এলাকার আশপাশের পরিবেশও এখন হুমকির মুখে। সেখানকার উচ্ছিষ্ট চামড়াসহ বিভিন্ন ক্ষতিকারক বর্জ্য স্তূপাকারে জমিয়ে রাখা হয়।

সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সায়েমূল হুদা বলেন, ‘বর্জ্যজাত দূষণ ও ধোঁয়ার প্রভাবে জনসাধারণের চর্মরোগ, শ্বাসকষ্টসহ জটিল সমস্যা, ফুসফুসে সংক্রমণ ও ক্যানসারের মতো রোগ ছড়িয়ে পড়ছে। বিশেষত শিশু ও গর্ভবতী নারীরা বায়ুদূষণের সবচেয়ে বেশি শিকার।’

ত্রিশালে প্রায় ৮০টি ইটভাটা রয়েছে। তবে পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমোদন ও নবায়নকৃত লাইসেন্স রয়েছে এমন ইটভাটার সংখ্যা ১০টির বেশি হবে না। ভাটাগুলোয় কয়লার পরিবর্তে ব্যবহৃত হচ্ছে কাঠ। ফলে আশপাশের পরিবেশ আচ্ছাদিত হচ্ছে কালো ধোঁয়ায়। ফলে অনেকেই নিজেদের বসতবাড়ি অন্যত্র সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, বালিপাড়া ইউনিয়নের বিয়ারা গ্রামে পাশাপাশি ১০-১২টি ইটভাটার কালো ধোঁয়ায় যেন আকাশ ছেয়ে গেছে। একই অবস্থা ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের রাগামারা মোড় থেকে রামপুর সংযোগ সড়ক পর্যন্ত। এ ছাড়া আমিরাবাড়ী, হরিরামপুর ও মঠবাড়ী ইউনিয়নে গড়ে ওঠা শিল্প-কলকারখানার ধোঁয়ায়ও আচ্ছন্ন হচ্ছে পরিবেশ। বেশির ভাগ কারখানাই তাদের বর্জ্য পুড়িয়ে পরিবেশ দূষিত করছে। ত্রিশাল উপজেলায় শতাধিক ক্রাশার মিল ধুলাবালি উড়িয়ে শুঁটকি, মিটবোন, ভুট্টা, কুঁড়া গুঁড়ো করে মাছের খাবার উৎপাদন করে। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে প্রতিদিন রাস্তার কাজের জন্য পাথর ভাঙা হয়। সূত্র: কালের কণ্ঠ

“Green Page” কে সহযোগিতার আহ্বান

সম্পর্কিত পোস্ট

Green Page | Only One Environment News Portal in Bangladesh
Bangladeshi News, International News, Environmental News, Bangla News, Latest News, Special News, Sports News, All Bangladesh Local News and Every Situation of the world are available in this Bangla News Website.

এই ওয়েবসাইটটি আপনার অভিজ্ঞতা উন্নত করতে কুকি ব্যবহার করে। আমরা ধরে নিচ্ছি যে আপনি এটির সাথে ঠিক আছেন, তবে আপনি ইচ্ছা করলেই স্কিপ করতে পারেন। গ্রহন বিস্তারিত