29 C
ঢাকা, বাংলাদেশ
সকাল ৬:১৭ | ১৪ই আগস্ট, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | ৩০শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
গ্রীন পেইজ
প্রাকৃতিক দুর্যোগ

বন্যায় লন্ডভন্ড উত্তরাঞ্চলের ৯ জেলা, বাড়ছে দুর্ভোগ

বন্যায় লন্ডভন্ড দেশের উত্তরাঞ্চলের নয়টি জেলা। এর মধ্যে জামালপুরে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। সিরাজগঞ্জে পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দুর্ভোগে পড়ছেন মানুষ। গাইবান্ধায় বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত আছে। তবে লালমনিরহাটে পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে দুর্ভোগ।

জামালপুর : যমুনা, ব্রহ্মপুত্র, ঝিনাইসহ শাখা নদীর পানি বাড়তে থাকায় জামালপুরের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। ২৪ ঘণ্টায় বাহাদুরাবাদঘাট পয়েন্টে যমুনার পানি ৮ সেন্টিমিটার বেড়ে গতকাল বিকালে বিপৎসীমার ৮৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। পানিবৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় নতুন করে মেলান্দহ উপজেলার মাহমুদপুর, দুরমুঠ, নাংলা, কুলিয়া, ফুলকোচা ও ঝাউগড়া ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকায় নতুন করে বন্যা দেখা দিয়েছে। সব মিলিয়ে জেলায় ৩৮টি ইউনিয়ন ও পাঁচটি পৌরসভার আড়াই লাখের বেশি মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। বিভিন্ন সড়কে পানি ওঠায় দুর্গত এলাকায় ব্যাহত হচ্ছে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা।

সিরাজগঞ্জ : যমুনা নদীর পানি সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে বেড়েই চলছে। পানি বাড়ায় পানিবন্দী মানুষেরও দুর্ভোগ ক্রমেই বাড়ছে। পানিবন্দী হয়ে দুর্বিষহ অবস্থায় জীবনযাপন করছেন হাজার হাজার মানুষ। কোথাও আশ্রয় নেওয়ার জায়গা না থাকায় ঘরের মধ্যে চৌকি উঁচু করে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। রান্নাঘর তলিয়ে যাওয়ায় ঠিকমতো খাওয়াও হচ্ছে না। শুকনো ও শিশুখাদ্যের সংকট দেখা দিয়েছে। গোখাদ্যেরও সংকট দেখা দিতে শুরু করেছে।
অনেকে ওয়াপদা বাঁধে গরু-ছাগলের সঙ্গে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। করোনার মধ্যে কর্ম না থাকায় বন্যা যেন মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা হিসেবে দেখা দিয়েছে। সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম জানান, যমুনার পানি বাড়া অব্যাহত রয়েছে। আরও দু-একদিন পানি বাড়তে পারে।

গাইবান্ধা : গাইবান্ধায় বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ব্র্হ্মপুত্রের পানি ১ সেন্টিমিটার ও ঘাঘটের পানি ২ সেন্টিমিটার কমেছে। তবে ব্রহ্মপুত্র এখনো বিপদসীমার ৭৯ সেন্টিমিটার ও ঘাঘট বিপদসীমার ৫২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে বলে গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে। অন্যদিকে করতোয়ার পানি ১২ সেন্টিমিটার বাড়লেও তা বিপদসীমার নিচে রয়েছে আর তিস্তার পানি ২০ সেন্টিমিটার কমে বিপদসীমার অনেক নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এ অবস্থায় জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি। লালমনিরহাট : সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে দেশের উত্তরের সীমান্তবর্তী কৃষিনির্ভর লালমনিরহাট জেলার। তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে পানি কমে বিপদসীমার ১০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে পানি। ধরলার পানিও জেলার কুলাঘাট পয়েন্টে কমতে শুরু করেছে। তবে উজানে পানি কমলেও ভাটিতে পানি প্রবাহ বেড়ে পানিবন্দী মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। পানিবাড়ায় দুর্গত এলাকার অনেক মানুষ পরিবার-পরিজন ও গবাদিপশু নিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন বন্যা আশ্রয় কেন্দ্র, উঁচু রাস্তা ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাঁধের ওপর। এদিকে তিস্তার পানি কমে যাওয়ায় তীব্র নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। সদর উপজেলার চর গোকুন্ডা, আদিতমারীর কুটিরপাড়, চি মারী, দক্ষিণ বালাপাড়া, কালীগঞ্জের শৈলমারী চর, হাতীবান্ধা উপজেলার সানিয়াজান, সিন্দুর্না, ডাউয়াবাড়ি ও গড্ডিমারীতে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। গত দুই দিনে জেলার শতাধিক বসতবাড়ি তিস্তার গর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙনের মুখে পড়েছে কয়েকশ ঘরবাড়ি, স্থাপনা ও ফসলি জমি। ভাঙন আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটছে তিস্তাপাড়ের মানুষের। সূত্র: বিডি-প্রতিদিন

সম্পর্কিত পোস্ট

Green Page | Only One Environment News Portal in Bangladesh
Bangladeshi News, International News, Environmental News, Bangla News, Latest News, Special News, Sports News, All Bangladesh Local News and Every Situation of the world are available in this Bangla News Website.

এই ওয়েবসাইটটি আপনার অভিজ্ঞতা উন্নত করতে কুকি ব্যবহার করে। আমরা ধরে নিচ্ছি যে আপনি এটির সাথে ঠিক আছেন, তবে আপনি ইচ্ছা করলেই স্কিপ করতে পারেন। গ্রহন বিস্তারিত