30 C
ঢাকা, বাংলাদেশ
দুপুর ১২:০৭ | ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | ১২ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
গ্রীন পেইজ
জীববৈচিত্র্য

ফিরে আসছে বিপন্ন দেশি প্রজাতির মাছের সুদিন

আমরা যতো ধরনের মাছ খেয়ে থাকি না কেন, দেশী মাছের স্বাদই আলাদা। কিন্তু বিভিন্ন কারণে আমাদের দেশীয় মাছ হারিয়ে গেছে অনেক। দেশী মাছের স্বাদ গ্রহণের জন্য অনেকেই শহর থেকে গ্রামে যায়। আবার অনেকে গ্রাম থেকে শহরে মাছ নিয়ে আসে। তবে সুখবরের বিষয় হচ্ছে আবারো ফিরে আসছে হারিয়ে যাওয়া বিপন্ন প্রজাতির মাছ।

বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএফআরআই)-এর প্রচেষ্টায় ফিরে আসছে বিপন্ন দেশি প্রজাতির মাছের সুদিন। বিএফআরআই’র উদ্ভাবিত প্রজনন কৌশলের ফলে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে মৎস্য শিল্প এখন জিডিপিতে বড় ভূমিকা রাখছে। এ খাতে অবদান ৩.৬১ শতাংশ। দেশি মাছের পোনা উৎপাদনে বর্তমানে চার শতাধিক হ্যাচারি কাজ করে যাচ্ছে। শুধু ময়মনসিংহ অঞ্চলে ২০০ কোটি পাবদা ও গুলশা মাছের পোনা উৎপাদিত হচ্ছে। বর্তমানে মাঠপর্যায়ে পাবদা, গুলশা, শিং, টেংরা, মাগুর, কৈ, ব্যাপকভাবে চাষ হচ্ছে। বাটা মাছের চাষও বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিএফআরআই সূত্র জানায়, প্রতিষ্ঠানটি এ পর্যন্ত ২৩ প্রজাতির বিলুপ্তপ্রায় মাছের প্রজনন ও চাষাবাদ কৌশল উদ্ভাবন করেছে। এগুলো হচ্ছেÑ পাবদা, গুলশা, টেংরা, শিং, মাগুর, গুজি আইর, চিতল, ফলি, মহাশোল, বৈরালী, রাজপুঁটি, মেনি, বালাচাটা, গুতুম, কুচিয়া, ভাগনা, খলিশা, বাটা, দেশি সরপুটি, কালবাউশ, কৈ, গজার এবং গনিয়া। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এ মাছগুলোতে আছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, লৌহ ও আয়োডিনের মতো প্রয়োজনীয় খনিজ পদার্থ। এগুলো শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করে এবং রক্তশূন্যতা, গলগ , অন্ধত্ব প্রভৃতি রোগের প্রতিরোধে সহায়তা করে। বর্তমানে ইনস্টিটিউটে রানী মাছ, কাকিলা, গজার, শাল বাইম, বৈরালী মাছ, আঙ্গুস ও খোকসা মাছ এবং উপকূলীয় এলাকার কাইন মাগুর (কাউন) মাছের প্রজনন ও চাষ কৌশল উদ্ভাবনের জন্য গবেষণা চালাচ্ছে বলে জানা গেছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, বিলুপ্ত প্রজাতির মাছের প্রজনন ও চাষাবাদ কৌশল উদ্ভাবন করায় পোনা প্রাপ্তি সহজতর হয়েছে। অনেকে চাষাবাদেও আগ্রহী হয়ে উঠছেন। ইনস্টিটিউট থেকে উদ্ভাবিত প্রযুক্তি ব্যবহার করে এখন দেশের প্রায় শতাধিক হ্যাচারিতে দেশীয় প্রজাতির মাছের পোনা উৎপাদন করা হচ্ছে। পরে ব্যবহার করা হচ্ছে চাষাবাদে। কর্মসংস্থান হয়েছে লক্ষাধিক লোকের। এ প্রসঙ্গে বিএফআরআই মহাপরিচালক ড. ইয়াহিয়া মাহমুদ বলেন, দেশীয় প্রজাতির মাছ সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধারে বর্তমানে ইনস্টিটিউটের যশোর, সৈয়দপুর ও ময়মনসিংহ গবেষণা কেন্দ্র থেকে গবেষণা পরিচালনা করা হচ্ছে। মৎস্য অধিদফতরও অভয়াশ্রম প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এসব দেশীয় মাছ সংরক্ষণ ও উন্নয়নে কাজ করছে।

সম্পর্কিত পোস্ট

Green Page | Only One Environment News Portal in Bangladesh
Bangladeshi News, International News, Environmental News, Bangla News, Latest News, Special News, Sports News, All Bangladesh Local News and Every Situation of the world are available in this Bangla News Website.

এই ওয়েবসাইটটি আপনার অভিজ্ঞতা উন্নত করতে কুকি ব্যবহার করে। আমরা ধরে নিচ্ছি যে আপনি এটির সাথে ঠিক আছেন, তবে আপনি ইচ্ছা করলেই স্কিপ করতে পারেন। গ্রহন বিস্তারিত