20 C
ঢাকা, বাংলাদেশ
রাত ৩:১৭ | ২৭শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ খ্রিস্টাব্দ | ১৪ই ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ বঙ্গাব্দ
গ্রীন পেইজ
পরিবেশবান্ধব নগরায়ণের সুবর্ণ সুযোগ এখন বাংলাদেশের
পরিবেশ গবেষণা বাংলাদেশ পরিবেশ

পরিবেশবান্ধব নগরায়ণের সুবর্ণ সুযোগ এখন বাংলাদেশের

পরিবেশবান্ধব নগরায়ণের সুবর্ণ সুযোগ এখন বাংলাদেশের

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) থেকে যে ঋণ দেওয়া হয়েছে, তার উদ্দেশ্য হলো পরিবেশবান্ধব এক বাংলাদেশ নির্মাণ। এর মধ্য দিয়ে টেকসই প্রবৃদ্ধি অর্জিত হবে এবং পরিবেশবান্ধব নগর বাস্তবায়িত হবে।

এ অর্থ টেকসই উন্নয়নে বাংলাদেশের অগ্রাধিকারগুলো বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের জন্য এক বিরাট সুযোগ, যা রাজস্ব বৃদ্ধি ও পরিবেশবান্ধব বিনিয়োগেরও সুযোগ বাড়াবে।

এ অর্থায়ন ও এমন উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো পরিবেশবান্ধব, বসবাসের জন্য অধিকতর উপযোগী এবং উৎপাদনশীল নগর গড়ে তোলা। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সুপারিশ হলো, এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে পরিবেশবান্ধব বিনিয়োগ বাড়িয়ে আইএমএফের লক্ষ্য পূরণ, যেখানে বায়ু ও প্লাস্টিকের দূষণ রোধ বিশেষভাবে চিহ্নিত হয়েছে।

সিপিডির গবেষণায় দেখানো হয়েছে, বাংলাদেশের শহরগুলোয় বায়ু ও প্লাস্টিক দূষণের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও পরিবেশগত মূল্য অনেক বেশি ও ক্রমবর্ধমান এবং এটি সবুজ বা পরিবেশবান্ধব অর্থনীতির বিকাশের ক্ষেত্রে একটি বড় হুমকি। তাই আইএমএফের সংস্কার উদ্যোগের মধ্যে এই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলার কৌশল প্রণয়ন করা দরকার।



বাংলাদেশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে চলতি বছরের শুরুতে আইএমএফ ৪ দশমিক ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ অনুমোদন করে। এ ঋণের লক্ষ্যমাত্রাগুলোর মধ্যে রয়েছে সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা, দুর্বলতার বিরুদ্ধে সুরক্ষা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশবান্ধব প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা।

কয়েকটি শর্ত বা নীতিমালার আওতায় এ ঋণ অনুমোদন করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে এক্সটেন্ডেড ফান্ড ফেসিলিটি (ইএফএফ), এক্সটেন্ডেড ক্রেডিট ফেসিলিটি (ইসিএফ) এবং বিশেষ করে, পরিবেশবান্ধব শহর নির্মাণের উদ্দেশ্যে রেসিলিয়েন্স অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটি ফেসিলিটি (আরএসএফ)। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এবং এ খাতে বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়াতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বাংলাদেশের অগ্রাধিকারগুলো হলো—অবকাঠামো নির্মাণের বিনিয়োগকে পরিবেশবান্ধব ও স্থিতিস্থাপক করা, জলবায়ু খাতে বরাদ্দ ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করা এবং জলবায়ু খাতে বেসরকারি অর্থায়নকে কাজে লাগানোর পাশাপাশি আর্থিক খাতকে টেকসই করা।

এসব অগ্রাধিকারের পরিপ্রেক্ষিতে জলবায়ুসহিষ্ণুতা বাড়াতে ও জলবায়ুজনিত ঝুঁকি কমাতে অবকাঠামো শক্তিশালীকরণে আরএসএফ ১১টি সংস্কারের সুপারিশ করেছে।

আরএসএফের আওতায় আইএমএফের এসব সুপারিশ জলবায়ু পরিবর্তনজনিত চ্যালেঞ্জের মুখে থাকা অর্থনীতিগুলোকে সহযোগিতার জন্য প্রণীত হয়েছে। বাংলাদেশের শহরাঞ্চলে বায়ু ও প্লাস্টিক দূষণ কমাতে স্থানীয় নীতিমালা অন্তর্ভুক্ত করার জন্য আরএসএফ প্রকল্পের শর্তাবলি পরিবর্তনযোগ্য।

বাংলাদেশের প্রথম অগ্রাধিকার হলো অবকাঠামোর পেছনে বিনিয়োগকে পরিবেশবান্ধব ও সহিষ্ণু করা। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সিপিডির সুপারিশ হলো বায়ুদূষণের উৎসগুলোকে সরকারি অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্পগুলোর ব্যয় ও লাভ দিয়ে বিচার-বিশ্লেষণ করা এবং একে গ্রিন বুকে অন্তর্ভুক্ত করা। গ্রিন বুক বলতে সাধারণত সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের সংস্কার বা সংশোধনের জন্য প্রয়োজনীয় মানদ বা প্রটোকলকে বোঝায়।

এ ছাড়া পরিবেশবান্ধব ও সহিষ্ণু অবকাঠামো নির্মাণের জন্য বড় বিনিয়োগের আগে বায়ু ও প্লাস্টিক দূষণের সার্বিক মূল্য বিশ্লেষণ করা দরকার। এর পাশাপাশি প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় একবার ব্যবহারের উপযোগী প্লাস্টিক পণ্যের পরিবর্তে যথাসম্ভব টেকসই ও পরিবেশবান্ধব উপকরণের ব্যবহার নিশ্চিত করতে নীতিমালা অন্তর্ভুক্ত করার জন্য সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের কাঠামো পরিমার্জনা করা দরকার।



এই নীতিমালায় উৎপাদক পর্যায়ে দায়িত্বশীলতা বাড়ানোর বিষয়টি থাকা উচিত। বিষয়টি পরিবেশবিষয়ক নীতিমালার আওতায় উৎপাদক পর্যায়ে রিসাইক্লিং নিশ্চিত করারও একটি পদ্ধতি।

প্লাস্টিক রিসাইক্লিং প্ল্যান্ট এবং কার্যকর উপায়ে বর্জ্য সংগ্রহের বিষয়টি নীতিকৌশলে নিশ্চিত করতে হবে, যা রিসাইক্লিংয়ের গতি বাড়াবে। জলবায়ুসহিষ্ণু প্রকল্প নির্বাচনের ক্ষেত্রে এটি একটি বিবেচ্য বিষয় হতে পারে, যা আইএমএফের সুপারিশ করা সংস্কারগুলোয় উল্লেখ করা হয়েছে।

সরকারের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকারভিত্তিক রূপরেখা অনুযায়ী, সামাজিক ও উন্নয়নমূলক লক্ষ্য পূরণে জলবায়ু তহবিল ব্যবস্থাপনা জোরদার করা প্রয়োজন।

এর মধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য হলো জনগণের তহবিল ব্যবস্থাপনা, বিনিয়োগ, সঠিক খাতে ব্যয়ের জন্য ঋণের জোগান নিশ্চিত করা, দক্ষ পরিচালন ও স্বচ্ছতা। আইএমএফের সুপারিশ করা এ সংস্কার পদ্ধতি মূলত জনগণের প্রয়োজনের ভিত্তিতে গঠিত নীতিমালাকে অগ্রাধিকার দিয়ে ও এর সঙ্গে মিল রেখে তৈরি করা হয়েছে।

সিপিডি এ ক্ষেত্রে বায়ু ও প্লাস্টিক দূষণের মতো বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করেছে। এ নীতিমালায় বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মাসিক ভিত্তিতে জীবাশ্ম জ্বালানির দাম সংস্কারের বিষয়টি অন্তর্ভুক্তিরও সুপারিশ করে সিপিডি।

একই সঙ্গে আইএমএফের সুপারিশের ভিত্তিতে পেট্রোলিয়ামজাত পণ্যের ক্ষেত্রে পর্যায়ক্রমে একটি ফর্মুলাভিত্তিক দাম নিয়ন্ত্রণকারী ব্যবস্থা গড়ে তোলা উচিত।

তবে এ ক্ষেত্রে অবশ্যই প্রথমে জীবাশ্ম জ্বালানির ক্ষেত্রে ভর্তুকি দেওয়া বন্ধ করা প্রয়োজন। এ ছাড়া সরকারের অবশ্যই বায়ুদূষণকারীদের জন্য একটি কার্বন নিঃসরণসংক্রান্ত ডেটাবেজের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন এবং একে মধ্যবর্তী সামষ্টিক অর্থনৈতিক পলিসি স্টেটমেন্টে অন্তর্ভুক্ত করা উচিত।

সবশেষ অগ্রাধিকার হলো, বাংলাদেশকে অবশ্যই জলবায়ু খাতে বেসরকারি বিনিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে এবং এ খাতের স্থিতিশীলতা বাড়াতে হবে।

এ ক্ষেত্রে নীতিনির্ধারক, বিশেষজ্ঞ, শিক্ষক, এনজিরও প্রতিনিধি ও সিইও এবং বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিদের নিয়ে ক্লাইমেট রিলেটেড ফিন্যান্সিয়াল ডিসক্লোজার–সংক্রান্ত একটি কার্যকর টাস্কফোর্স (সিএফডি) গঠন করা উচিত। এর মধ্য দিয়ে এ বিষয়ে তাদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়াসহ এ–সংক্রান্ত একটি কাঠামো তৈরি করাও সম্ভব হবে।

এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের পুরো আর্থিক ব্যবস্থার জন্য প্রতিনিয়ত জলবায়ু পরিবর্তনসংক্রান্ত চাপ নির্ণয় ও তা প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়া উচিত। সবুজায়নে বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থায়নসহ সবুজের শ্রেণিবিন্যাসের বিষয়টি পর্যালোচনা করা প্রয়োজন, যাতে এমন সব বিনিয়োগকারীর সঙ্গে কাজ করা সম্ভব হয়, যাদের সরকারের এ ধরনের নীতিনির্ধারণে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

এ ক্ষেত্রে প্লাস্টিকের পরিবর্তে পরিবেশবান্ধব পণ্যের জন্য স্থিতিশীল আর্থিক খাতকে উৎসাহিত করা খুব দরকার। বাংলাদেশ ব্যাংক এ ক্ষেত্রে আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার মধ্য দিয়ে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য মানসম্মত অবকাঠামো এবং প্লাস্টিক ও বায়ুদূষণ কমাতে কার্যকর ইট উৎপাদন প্রযুক্তির মতো উন্নততর প্রযুক্তির উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারে।



এর বাইরে আরএসএফ ছাড়া আইএমএফও রাজস্ব বাড়াতে বাংলাদেশের নতুন কৌশল আয়ত্ত করা প্রয়োজন বলে মত দিয়েছে। এর মধ্য দিয়ে ইএফএফ বা ইসিএফ ব্যবস্থার আওতায় ২০২৪ অর্থবছরের বাজেটে জিডিপির আকার শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ বাড়বে বলেই আশা করা হচ্ছে।

অতএব, রাজস্ব বৃদ্ধি, জলবায়ুর লক্ষ্য পূরণ এবং বায়ু ও প্লাস্টিক দূষণ কমাতে সরকারকে ২০২৪ অর্থবছরের মধ্যে পলিথিন ব্যাগের ওপর অতিরিক্ত ৫ শতাংশ শুল্কহার আরোপ এবং প্লাস্টিক দিয়ে তৈরি তৈজস, বাসন, স্ট্র, ফুড কনটেইনারসহ এ ধরনের একবার ব্যবহার্য প্লাস্টিক পণ্যের ওপর নতুন শুল্কারোপ প্রয়োজন।

একই সঙ্গে ২০২৪ অর্থবছরে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর ৩ শতাংশ কার্বন কর বসানো উচিত, যা ২০২৫ সালের মধ্যে ৫ শতাংশ ও ২০৪১ সালের মধ্যে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো প্রয়োজন, যাতে সরকারের অষ্টম পঞ্চম-বার্ষিক পরিকল্পনার লক্ষ্য পূরণ করা সম্ভব হয়।

এ ছাড়া যানবাহনের কারণে সৃষ্ট বায়ুদূষণ কমাতে জীবাশ্ম জ্বালানিভিত্তিক যানবাহনের ক্ষেত্রে এর ইঞ্জিনের আকার অনুযায়ী বিদ্যমান অ্যাডভান্স ইনকাম ট্যাক্স (এআইটি) ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করা উচিত।

এ ক্ষেত্রে হাইব্রিড ও সম্পূর্ণ বিদ্যুৎ–চালিত যানবাহনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য শুল্কহারের সঙ্গে তুলনা করে এ হার নির্ধারণ করা যেতে পারে। পর্যায়ক্রমে ২০২৪ অর্থবছর থেকে ধীরে ধীরে মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রেও এআইটি প্রয়োগ করা প্রয়োজন।

ঢাকা শহরে ক্রমবর্ধমান উন্নয়নের ফলে সৃষ্ট বায়ু ও প্লাস্টিক দূষণ এমন একটি বিষয়, যার মূল্য জনগণকে দিচ্ছে হচ্ছে। তা ছাড়া অতিরিক্ত পরিমাণ দূষণ ধীরে ধীরে প্রাকৃতিক পরিবেশ, মানুষের দেহ এবং সর্বোপরি অর্থনীতির এত বড় ক্ষতি করে, যা শেষ পর্যন্ত একটি শহরের কার্যকারিতাই নষ্ট করে দেয়।

এ অবস্থায় ইএফএফ, ইসিএফ ও আরএসএফের মধ্য দিয়ে আইএমএফ বাংলাদেশকে যে সহায়তা দিয়ে আসছে, সে সুযোগ কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ যে শুধু এর বিদ্যমান নীতিমালাই শক্তিশালী করতে পারবে, তা নয়, বরং একই সঙ্গে দেশকে একটি সবুজ ও পরিচ্ছন্ন অর্থনীতির দেশে পরিণত করতে প্রয়োজনীয় সব কৌশলও গ্রহণ করতে পারবে।

“Green Page” কে সহযোগিতার আহ্বান

সম্পর্কিত পোস্ট

Green Page | Only One Environment News Portal in Bangladesh
Bangladeshi News, International News, Environmental News, Bangla News, Latest News, Special News, Sports News, All Bangladesh Local News and Every Situation of the world are available in this Bangla News Website.

এই ওয়েবসাইটটি আপনার অভিজ্ঞতা উন্নত করতে কুকি ব্যবহার করে। আমরা ধরে নিচ্ছি যে আপনি এটির সাথে ঠিক আছেন, তবে আপনি ইচ্ছা করলেই স্কিপ করতে পারেন। গ্রহন বিস্তারিত