28 C
ঢাকা, বাংলাদেশ
সকাল ৮:৫৬ | ১৯শে এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ খ্রিস্টাব্দ | ৬ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ বঙ্গাব্দ
গ্রীন পেইজ
পরিবেশপন্থী সমাজটা আসলে কেমন দেখতে হবে
কৃষি পরিবেশ প্রাকৃতিক পরিবেশ

পরিবেশপন্থী সমাজটা আসলে কেমন দেখতে হবে ?

পরিবেশপন্থী সমাজটা আসলে কেমন দেখতে হবে ?

আজকের মনুষ্য সমাজ, রাষ্ট্র ব্যবস্থা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিকে পরিবেশের বিপরীতে দাঁড় করিয়ে ফেলেছে – যেন এমনটা যে প্রগতি আর প্রকৃতি একে অপরের বিপরীত মূখী অবস্থিত | তারই অনিবার্য ফল হিসাবে পাহাড়-পর্বত, নদী-নালা, বন-জঙ্গল নিঃশেষ করে গড়ে উঠেছে নগরায়ন আর কল-কারখানা, যন্ত্র-পাতি এবং সকল আধুনিক সভ্যতার উপকরণ সমূহ | প্রতিদিন লোক সংখ্যা বাড়ছে , বাড়ছে সুখ সুবিধা ও স্বাচ্ছন্দ্য – ফলে প্রাকৃতিক সম্পদগুলিকে একে একে কমে যাচ্ছে | এর কারন হল বর্তমানের সমাজব্যবস্থা ও রাষ্ট্রব্যবস্থা ও সার্বিক পরিবেশ অসচেতনতা।



প্রাকৃতিক সম্পদ যথেচ্ছা অপব্যাবহারের ফলে পরিমানে কমে যাওয়ায় যে প্রাকৃতিক ভারসাম্যহীনতা সৃষ্টি হচ্ছে তাতে পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে ক্রমেই জীব-যন্তু বসবাসের অনুপযুক্ত হয়ে পড়ছে – প্রভাব পরছে মানুষের উপর | ফলে কিছু মানুষ প্রকৃতিকে রক্ষা করার একটা অসম্পূর্ণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে |

নানা রকম বৃক্ষরোপন কর্মসূচি, গাছ পালা নদী নালা পাহাড় জঙ্গল বাঁচানোর আন্দোলন সংগঠিত হচ্ছে | এখন রাষ্ট্র ব্যবস্থাও জঙ্গল নদী নালা খাল বিল জলাশয় বাঁচানোর মত কিছু চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে | কিন্তু সব কিছুর মধ্যে অসম্পূর্ণতা ও বিশৃঙ্খলা বিরাজ করছে | যেহেতু পরিবেশ পন্থী দর্শনকে আধার করে সমাজ ব্যবস্থা ও রাষ্ট্রব্যবস্থা চালিত হয় না, তাই কোন কিছুতেই কিছু হচ্ছে না – পরিবেশ প্রতিদিন আরো বিপন্ন হয়ে পড়ছে |

পরিবেশ পন্থী সমাজ যা ভবিষ্যতে পরিবেশ পন্থী রাষ্ট্র ব্যবস্থা সৃষ্টি করবে – যা প্রযুক্তিকে , বিজ্ঞানকে পরিবেশের বিপরীতে দাঁড় করায় না | এখানে প্রগতি সুস্থ ভারসাম্যযুক্ত পরিবেশের অন্তরায় নয় |

প্রতিদিন প্রগতির সাথে সাথে মানুষের সংখ্যা উত্তোরত্তর বৃদ্ধি পায়, বৃদ্ধি পায় তার সুখ স্বাচ্ছন্দ্য , ফলে পরিবর্তিত পরিস্থিতির ভারসাম্য রক্ষা করতে প্রাকৃতিক সম্পদের পরিমান ও গুণাগুণেরও বৃদ্ধির পাওয়া আবশ্যক – কিন্তু বর্তমান সমাজব্যবস্থা ও রাষ্ট্রব্যবস্থায় তার বিপরীতটিই পরিলক্ষিত হয় |

একটা উদাহরণ প্রদান কার হচ্ছে বিষয়টি স্পষ্ট করার জন্য | ধরুন নতুন একটি নগর গড়ে তুলতে হবে, বা নগরের লোক সংখ্যা ও তাদের চাহিদা বেড়ে গেছে – সেক্ষেত্রে বর্তমান রাষ্ট্রব্যবস্থা নতুন নতুন সড়ক, মহাসড়ক, স্কুল কলেজ, নানারকম প্রতিষ্ঠানাদি গড়ে তোলে | প্রগতির সাথে এগুলি যেমন দরকার তেমনি প্রাকৃতিক সম্পদ – যেমন প্রচুর অক্সিজেন, পানির যথাযথ উৎসও বাড়ানো দরকার। মানে আরো বেশি গাছপালা, নদীনালা জলাশয় দরকার | কিন্তু বর্তমান রাষ্ট্রব্যবস্থা নতুন বাসস্থান সড়ক, স্কুল-কলেজ, প্রতিষ্ঠানাদি তৈরি করায় গাছপাল-জঙ্গল, নদীনালা জলাশয় ধ্বংস করে ফেলছে |



পরিবেশপন্থী সমাজ এমনটি কি করবে? অবশ্যিই করবে না আশা করি তবে, তারা প্রগতির সাথে প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে যেমন আরো আধুনিক বাসস্থান, সড়ক, প্রতিষ্ঠানাদি নির্মাণ করবে তেমনি গাছপালা নদী-নালা জলাশয় বৃদ্ধির জন্যও প্রযুক্তিকে ব্যবহার করবে | নতুন নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও ব্যবহার করবে যাতে জঙ্গলে গাছের ঘনত্ব বৃদ্ধি পায়, নদী নালা জলাশয়গুলির জল ধারণ ক্ষমতা যাতে আরো বৃদ্ধি পেতে পারে – কম জায়গায় আরো বেশি সমৃদ্ধ প্রাকৃতিক হট স্পট গড়ে ওঠে | মানে উন্নয়নের মধ্যে প্রযুক্তির ব্যবহারে শুধু বাসস্থান , সড়ক , প্রতিষ্ঠানাদির বৃদ্ধি ও আধুনিকীরন পড়বে না তার সাথে প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষা, বৃদ্ধিও চিহ্নিত হবে |

অর্থাৎ পরিবেশপন্থী সমাজ ব্যবস্থা বিজ্ঞানকে প্রযুক্তিকে সঠিকভাবে ব্যবহার করবে | পরিবেশপন্থী সমাজ চালিত পৃথিবীতে প্রযুক্তি প্রকৃতির বিপরীত আসনে বসবে না – প্রকৃতি ও প্রযুক্তির মেলবন্ধনে ভারসাম্যযুক্ত সুস্থ পৃথিবী গড়ে উঠবে – প্রগতির প্রকৃত স্বরূপ প্রতিষ্ঠিত হবে |

“Green Page” কে সহযোগিতার আহ্বান

সম্পর্কিত পোস্ট

Green Page | Only One Environment News Portal in Bangladesh
Bangladeshi News, International News, Environmental News, Bangla News, Latest News, Special News, Sports News, All Bangladesh Local News and Every Situation of the world are available in this Bangla News Website.

এই ওয়েবসাইটটি আপনার অভিজ্ঞতা উন্নত করতে কুকি ব্যবহার করে। আমরা ধরে নিচ্ছি যে আপনি এটির সাথে ঠিক আছেন, তবে আপনি ইচ্ছা করলেই স্কিপ করতে পারেন। গ্রহন বিস্তারিত