20 C
ঢাকা, বাংলাদেশ
রাত ৩:৩৮ | ২৭শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ খ্রিস্টাব্দ | ১৪ই ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ বঙ্গাব্দ
গ্রীন পেইজ
দেশ থেকে ক্রমশ হারিয়ে যাচ্ছে দেশীয় গাছ
প্রাকৃতিক পরিবেশ

দেশ থেকে ক্রমশ হারিয়ে যাচ্ছে দেশীয় গাছ

দেশ থেকে ক্রমশ হারিয়ে যাচ্ছে দেশীয় গাছ

বিদেশি গাছের আগ্রাসনে হারিয়ে যাচ্ছে দেশীয় প্রজাতির গাছ। এক সময় বাংলাদেশে পাঁচ হাজার প্রজাতির দেশীয় গাছ থাকলেও বর্তমানে তা কমে তিন হাজার ৮২৮ প্রজাতিতে এসে দাঁড়িয়েছে। এর অন্যতম প্রধান কারণ বিদেশি গাছের আমদানি ও অপরিকল্পিত সবুজায়ন।

‘বিদেশি প্রজাতির গাছের আগ্রাসনে দেশীয় প্রজাতির গাছের বিলুপ্তি’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন ‘সবুজ আন্দোলন’ নামে সংগঠনের নেতারা।

সবুজ আন্দোলনের ষষ্ঠ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে মঙ্গলবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

বিদেশি গাছের আগ্রাসন রোধে ও দেশীয় প্রজাতির গাছের প্রজনন বৃদ্ধিতে পাঁচটি প্রস্তাবনা দিয়েছে সংগঠনটি। পরিবেশ বিষয়ক সংগঠনটির পক্ষ থেকে সরকারের প্রতি এসব প্রস্তাবনা জানানো হয়।

সভায় সভাপতির বক্তব্যে সবুজ আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান বাপ্পি সরদার বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাবের ফলে সবুজ-শ্যামল বাংলাদেশের পরিবেশ হুমকি মুখে পড়ছে।



একদিকে উন্নত রাষ্ট্রগুলো মাত্রাতিরিক্ত কার্বন নিঃসরণ করছে, অন্যদিকে বাংলাদেশে উন্নয়নের নামে নির্বিচারে গাছপালা কাটা হচ্ছে।

স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশে পাঁচ হাজার প্রজাতির দেশীয় গাছ থাকলেও বর্তমানে তা তিন হাজার ৮২৮ প্রজাতিতে এসে দাঁড়িয়েছে। এর অন্যতম প্রধান কারণ বিদেশি গাছ আমদানি এবং অপরিকল্পিত সবুজায়ন।’

বিদেশ থেকে দ্রুত বর্ধনশীল বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষ আমদানি করা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এসব বৃক্ষ জ্বালানি সংকট নিরসনে ভূমিকা রাখছে ঠিকই, কিন্তু ক্রমাগত মাটি ও পরিবেশের সর্বনাশ করে চলছে।

বিদেশি প্রজাতির বিভিন্ন গাছের জন্য প্রচুর জায়গার দরকার হয়। এগুলো দেশি গাছের তুলনায় অনেক বেশি পরিমাণে পুষ্টি ও পানি শোষণ করে।

তাই এসব বৃক্ষের আশপাশে দেশীয় প্রজাতির বৃক্ষ বাঁচতে পারে না। বিদেশি গাছের আগ্রাসন রোধ ও দেশীয় প্রজাতির গাছের প্রজনন বৃদ্ধিতে প্রয়োজন টেকসই পরিকল্পনা।’

সবুজ আন্দোলনের ৫ দফা প্রস্তাবনা হলো–

১. বিদেশি গাছ আমদানির ক্ষেত্রে কোন গাছ আমদানি করা যাবে তা উদ্ভিদ বিজ্ঞানীদের দ্বারা তালিকা করা এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী এল সি খোলার ক্ষেত্রে কয়েকজন পরিবেশবিদের সুপারিশ নেওয়া।

২. দেশের সব নার্সারিতে দেশীয় গাছপালা সংরক্ষণ বাধ্যতামূলক করা এবং বাৎসরিক জেলা ও উপজেলার বন মেলায় নার্সারি মালিকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থার পাশাপাশি সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা দেওয়া।

৩. সারা দেশে ক্ষতিকর বিদেশি গাছ কাটার উদ্যোগ নেওয়া এবং সরকারিভাবে বিনামূল্যে বন বিভাগ থেকে দেশীয় গাছ বিতরণের উদ্যোগ্য গ্রহণ করা।



৪. দেশীয় ফলমূল ও বনজ বৃক্ষের মাদার ট্রি থেকে বীজ উৎপাদনে গবেষণা জোরদারের পাশাপাশি রাষ্ট্রীয়ভাবে সব উদ্ভিদ ও প্রাণিবিজ্ঞানীদের সমন্বয়ে জাতীয় গবেষণা পরিষদ তৈরি করা।

৫. সরকারের পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ে পরিবেশবাদী সব সংগঠনের সমন্বয়ে দেশিয় প্রজাতির বৃক্ষ রোপণের উদ্যোগ গ্রহণের পাশাপাশি আগামী এক বছরে দুই কোটি দেশীয় প্রজাতির বৃক্ষ রোপণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা।

সবুজ আন্দোলনের পরিচালক উদয় খান ও কার্যনির্বাহী পরিষদের নারী ও শিশু বিষয়ক সম্পাদক সাহিন আরা সুলতানার সঞ্চালনায় সভায় আলোচক হিসেবে ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. জসীম উদ্দিন, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্লেনার্সের সাধারণ সম্পাদক শেখ মুহাম্মদ মেহেদী আহসানসহ সবুজ আন্দোলনের নেতারা।

আলোচনা সভা শেষে বন্যপ্রাণী ও পরিবেশ সংরক্ষণে ভূমিকা রাখায় চার জনের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়।

“Green Page” কে সহযোগিতার আহ্বান

সম্পর্কিত পোস্ট

Green Page | Only One Environment News Portal in Bangladesh
Bangladeshi News, International News, Environmental News, Bangla News, Latest News, Special News, Sports News, All Bangladesh Local News and Every Situation of the world are available in this Bangla News Website.

এই ওয়েবসাইটটি আপনার অভিজ্ঞতা উন্নত করতে কুকি ব্যবহার করে। আমরা ধরে নিচ্ছি যে আপনি এটির সাথে ঠিক আছেন, তবে আপনি ইচ্ছা করলেই স্কিপ করতে পারেন। গ্রহন বিস্তারিত