30 C
ঢাকা, বাংলাদেশ
সন্ধ্যা ৭:০৮ | ২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | ১৪ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
গ্রীন পেইজ
প্রাকৃতিক দুর্যোগ

দেশের ১২ জেলায় বন্যার বিস্তৃতি, পানিবন্দী মানুষ সাথে ভাঙছে নদী

এবার একটু আগেভাগেই শুরু হয়েছে বন্যা। এরই মধ্যে বন্যার কবলে পড়ে দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলার ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাটসহ তলিয়ে গেছে কৃষকের স্বপ্নে বোনা সোনার ফসল। একই সাথে ভেঙে চলেছে নদী। প্রতি বছর নদী ভাঙনের ফলে অনেক পরিমাণ ক্ষতি হয়। সব মিলিয়ে বন্যা কবলিত এলাকার অবস্থার অবনতি হয়েছে। ভারী বৃষ্টিপাত আর উজানের পানি আসায় এবছর আগাম বন্যা হয়েছে। বর্তমানে নদীর পানি বেড়েই চলেছে। কিছু কিছু নদীর পানি অতিক্রম করেছে বিপদসীমার উপর দিয়ে।

দেশের ১২ জেলায় বন্যার বিস্তৃতি ঘটেছে। এ জেলাগুলোর মধ্যে রয়েছে লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, জামালপুর, নেত্রকোনা, সিলেট, সুনামগঞ্জ ও কুমিল্লা। বন্যাকবলিত এলাকাগুলোতে একের পর এক রাস্তাঘাট-জনপদ ডুবে মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়ছেন। একই সঙ্গে বাড়ছে নদী ভাঙন। আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

লালমনিরহাট : লালমনিরহাটে সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। উজানের ঢলে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় ৫ উপজেলার নদী তীরবর্তী ১৬টি ইউনিয়নের প্রায় ৪৫ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। প্রায় ১১০০ হেক্টর জমির পাট, ভুট্টা ও চিনা বাদাম খেত তলিয়ে গেছে। পানি বৃদ্ধির সঙ্গে দেখা দিয়েছে তীব্র ভাঙন। ২৪ ঘণ্টায় তিস্তা ধরলার ভাঙনে ২৭টি বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, দেশের সর্ববৃহৎ তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি গতকালও বিপৎসীমার ২০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। ধরলার পানি কুলাঘাট পয়েন্টে ১৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছিল। গত শুক্রবার থেকে তিস্তার পানি একই পয়েন্টে ২০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার বিপৎসীমা ৫২ দশমিক ৬০ মিটার। বর্তমানে পানির প্রবাহ চলছে ৫২ দশমিক ৮০ মিটার, যা প্রতি মুহূর্তে বৃদ্ধি পাচ্ছে। তিস্তার ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানায়, ২৪ ঘণ্টায় তিস্তা অববাহিকায় বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ৮৮ মিলিমিটার। পানি উন্নয়ন বোর্ড ডালিয়া রক্ষণাবেক্ষণ প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম জানিয়েছেন, তিস্তার পানি নিয়ন্ত্রণে ব্যারাজের সবগুলো গেট খুলে দেওয়া হয়েছে। তিস্তা ব্যারাজের ফ্লাড বাইপাস (ফ্লাড ফিউজ) এর কাছে ঢলের পানি এখনো ৪ ফুট নিচে থাকায় লাল সংকেত জারির পরিস্থিতি হয়নি। তবে হলুদ সংকেতের মাধ্যমে তিস্তাপাড়ের মানুষজনকে নিরাপদে থাকতে বলা হয়েছে।

নীলফামারী : নীলফামারীর ডিমলা ও জলঢাকা উপজেলায় বন্যাকবলিত হয়েছেন ২০ হাজার মানুষ। ভাঙনের মুখে পড়ে বসতঘর ও ভিটা হারিয়েছে ডিমলার ঝুনাগাছচাঁপানী ইউনিয়নের ছাতুনামা ও ভেন্ডাবাড়ি গ্রামের ২২টি পরিবার। এ ছাড়া আরও ৪০ পরিবারের বসতঘর ভাঙনের মুখে পড়ায় তারা ওইসব ঘর নৌকায় করে অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছেন। টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ময়নুল হক বলেন, তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধির কারণে পূর্বখড়িবাড়ি টাপুরচর এলাকায় স্বেচ্ছাশ্রমে করা বাঁধটির ২০০ মিটার নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার চারালকাটা ও যমুনেশ্বরীর নদী ভাঙনও অব্যাহত রয়েছে। রংপুর : উজান থেকে নেমে আসা তিস্তায় ঢল এবং অতিবর্ষণে রংপুর বিভাগের বিভিন্ন জেলায় বন্যা পরিস্থিতি বিরাজ করছে। বিভাগের ৫ জেলায় প্রায় ৫ হাজার হেক্টর জমির ফসল পানির নিচে রয়েছে। যেসব ফসল নিমজ্জিত হয়েছে সেগুলো হচ্ছে আমন বীজতলা, আউশ, শাকসবজি, চীনাবাদাম ও তিল। খেতের ফসল পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় এসব এলাকার কৃষকরা চোখেমুখে অন্ধকার দেখছেন। কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা বন্যা দুর্গত এলাকা পরিদর্শন করে বন্যার পানি চলে যাওয়ার পর কৃষকদের আগাম অন্য ফসল রোপণের পরামর্শ দিয়েছেন। এদিকে বন্যা দুর্গত এলাকার জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে রংপুর বিভাগে ৭০৯টি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। এসব টিম বন্যায় দুর্গত প্রতিটি এলাকায় অবস্থান করে পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেটসহ নানা ধরনের ওষুধসামগ্রী বিনামূল্যে সরবরাহ করছে। কুড়িগ্রাম : কুড়িগ্রামে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় বন্যা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি ঘটছে। চর ও দ্বীপচরের মানুষের কষ্ট আরও চরমের দিকে যাচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, গতকাল দুপুর ৩টার দিকে ব্রহ্মপুত্রের পানি চিলমারী পয়েন্টে বিপৎসীমার ৭২ সেন্টিমিটার, নুনখাওয়া পয়েন্টে ৬০ সেন্টিমিটার ও ধরলার পানি সেতু পয়েন্টে বিপৎসীমার ৭১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। অন্যদিকে তিস্তার পানি বৃদ্ধি পেলেও এখনো বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি হু হু করে বাড়ায় জেলার চিলমারী, উলিপুর, সদর, রৌমারী, রাজিবপুর ও নাগেশ্বরীসহ ৮টি উপজেলায় নদ-নদীর অববাহিকার নিম্নাঞ্চলসহ প্রায় আড়াই শতাধিক চর ও দ্বীপচর প্লাবিত হয়ে পড়েছে। পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন লক্ষাধিক মানুষ। এসব এলাকার রাস্তাঘাট তলিয়ে থাকায় ভেঙে পড়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। তলিয়ে গেছে বন্যাকবলিত এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও। সেখানে এখন বানভাসিরা অবস্থান নিতে শুরু করেছেন। নিচু এলাকার মানুষজন ঘরবাড়ি ছেড়ে উঁচু জায়গায় আশ্রয় নিচ্ছেন।
গাইবান্ধা : গাইবান্ধায় নদ-নদীর পানি দ্রুতগতিতে বৃদ্ধি পাচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কন্ট্রোল রুম জানায়, ২৪ ঘণ্টায় ফুলছড়ি উপজেলার তিস্তামুখঘাট পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্রের পানি ৩২ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ৬৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। ঘাঘট নদীর পানি ২৪ ঘণ্টায় ৩৮ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ৪১ সেন্টিমিটার ওপরে চলে গেছে। অন্যদিকে তিস্তার পানি ১০ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি ও করতোয়ার পানি ৫৪ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেলেও তা বিপৎসীমার নিচে রয়েছে। পানি বৃদ্ধির ফলে জেলায় ৪টি উপজেলার ১৯ ইউনিয়ন বন্যাকবলিত হয়ে পড়েছে। সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন, গাইবান্ধা সদরের ৩টি, ফুলছড়ির ৬টি ও সাঘাটার ৩টি ইউনিয়ন বন্যাকবলিত হয়ে পড়ায় প্রায় ২০ হাজার মানুষ এখন পানিবন্দী। পানি উঠে পড়েছে অনেক মাদ্রাসা ও প্রাথমিক বিদ্যালয়েও। গাইবান্ধা-ফুলছড়ি আঞ্চলিক সড়কের বেশ কিছু অংশে পানিতে তলিয়ে গেছে। ফুলছড়ি উপজেলার গজারিয়া, খাটিয়ামারী ইউনিয়নের বেশির ভাগ এলাকা ও বালাসীঘাট এলাকার ১৫ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। অন্যদিকে যমুনার পানি বৃদ্ধিতে সাঘাটা উপজেলার চিনিরপটল, চকপাড়া, হলদিয়া, পালপাড়া, গোবিন্দি, পবনতাইড়, থৈকরপাড়াসহ বেশ কিছু গ্রামে পানি ঢুকে পড়েছে। এ ছাড়া তিস্তার পানি বৃদ্ধিতে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার চন্ডিপুর, শ্রীপুর, কাপাসিয়া, তারাপুর, বেলকা ও হরিপুর গ্রামে পানি ঢুকেছে। গাইবান্ধা সদরের কামারজানি, মোল্লারচর, গিদারী ইউনিয়নের গ্রামগুলো পানিতে তলিয়ে গেছে। বগুড়া : কয়েকদিনের বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে বগুড়ার সারিয়াকান্দি পয়েন্টে যমুনা নদীতে পানি ব্যাপকহারে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিপৎসীমার ৪৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে শুরু করেছে পানি। এই রিপোর্ট লেখা চলাকালীনও পানি নদীতে বাড়ছিল। এ অবস্থায় নদী এলাকার বাসিন্দারা অন্যত্র চলে যাচ্ছেন। অনেকেই গৃহপালিত প্রাণীসহ উঁচু স্থানে চলে যাচ্ছেন। চরাঞ্চলে চালুয়াবাড়ী, কর্নিবাড়ী, কুতুবপুর, চন্দনবাইশা, কাজলা কামালপুর ও সারিয়াকান্দি সদর ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলের সবজি, পাট, বর্ষালি ধানসহ উঠতি ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান জানান, চরাঞ্চলে কিছু জায়গায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। তবে নদী তীর সংরক্ষণ প্রকল্পে কোথাও কোনো ভাঙন নেই। সিরাজগঞ্জ : যমুনার নদীর পানি সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে দ্রুতগতিতে বাড়ছে। ফলে বসতভিটাসহ ফসলি জমি তলিয়ে যাচ্ছে। যমুনার অরক্ষিত তীরে ভাঙনও শুরু হয়েছে। প্রতিদিন বিলীন হচ্ছে বসতিসহ ফসলি জমি। দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, উজান থেকে পাহাড়ি ঢল ও ভারি বর্ষণের ফলে যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে। বর্তমানে যমুনার পানি সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে বিপৎসীমার ১২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে সিরাজগঞ্জ সদর, কাজিপুর, বেলকুচি, চৌহালী ও শাহজাদপুরের চরাঞ্চলের প্রায় ৩০টি ইউনিয়ন তলিয়ে গেছে। হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। এসব অঞ্চলের কৃষকের ফসল পানিতে তলিয়ে নষ্ট হয়ে গেছে। একদিকে করোনায় কর্মহীন অন্যদিকে বন্যা দুই মহাদুর্যোগে পানিবন্দী মানুষগুলো দুর্বিষহ অবস্থায় পড়ে গেছেন। সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম গতকাল জানান, আগামী ৭২ ঘণ্টা যমুনার পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে।

বড় ধরনের না হলেও মাঝারি ধরনের বন্যার কবলে পড়বে সিরাজগঞ্জ। পানি উন্নয়ন বোর্ড সার্বক্ষণিক তীর সংরক্ষণ বাঁধগুলোর ওপর নজর রাখছে। কোথাও কোনো সমস্যা হলে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

জামালপুর : যমুনার পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় জামালপুরের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। ২৪ ঘণ্টায় যমুনার পানি আরও বেড়ে গতকাল বিকালে বিপৎসীমার ৬৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। নতুন করে প্লাবিত হয়েছে ইসলামপুরের বেলগাছা, কুলকান্দি, সাপধরি; দেওয়ানগঞ্জের বাহাদুরাবাদ, পৌরসভা; বকশীগঞ্জের সাধুরপাড়া, মেরুরচর; সরিষাবাড়ীর পিংনা, পোগলদীঘা, আওনা, কামারাবাদ ও সাতপোয়া ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা। সব মিলিয়ে ৪ উপজেলার ২০টি ইউনিয়নের অন্তত ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। সড়কে পানি ওঠায় ইসলামপুর-উলিয়া-মাহমুদপুর সড়ক ও গুঠাইল-জারুলতলা-মলমগঞ্জ সড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। পানিতে তলিয়ে গেছে এসব এলাকার পাট, কলা ও সবজিসহ বিভিন্ন ফসল। নেত্রকোনা : কয়েকদিনের প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে পাহাড়ি নদী উব্দাখালি, কংশ উপচে নেত্রকোনার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলে পানি প্রবেশ করছে। এতে নদীগুলোর তীরঘেঁষা গ্রামগুলোর নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হচ্ছে। জেলার সদর, বারহাট্টা এবং কলমাকান্দা উপজেলার বেশকিছু নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এই পানি এক দুই দিনে সরে না গেলে আমন বীজতলার ক্ষতি হবে বলে জানা গেছে। নেত্রকোনা সদরের মৌগাতি, কে-গাতি, রৌহা ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রাম এবং বারহাট্টা উপজেলার চিরাম, সিংধা, রায়পুর ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলও প্লাবিত হয়েছে। অপরদিকে পাহাড়ি সীমান্ত উপজেলা কলমাকান্দার আটটি ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রামের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। আমন বীজতলা, কাঁচা রাস্তাঘাট, পুকুর, গাছপালাসহ নদী তীরের ঘরবাড়ির উঠান আঙিনায় পানি চলে এসেছে।

কলমাকান্দা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. ফারুক আহম্মেদ জানান, গতকাল দুপুর পর্যন্ত ৫৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। এ বন্যায় ১৪ একর আমন বীজতলা পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। সিলেট : সিলেটে সুরমা-কুশিয়ারাসহ সবকটি নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বন্যা পরিস্থিতিরও অবনতি হয়েছে। পানিতে ডুবে গেছে জেলার নিম্নাঞ্চলের জনপদ ও রাস্তাঘাট। পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন লাখো মানুষ। পানি উন্নয়ন বোর্ডের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গতকাল বিকাল ৩টা পর্যন্ত সুরমা নদীর পানি সিলেট পয়েন্টে বিপৎসীমার ২৮ সেন্টিমিটার ও কানাইঘাটে ৬৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। কুশিয়ারা, লোভা ও সারি নদীর পানিও বিপৎসীমা ছুঁই ছুঁই। নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় সিলেট সদর, গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর ও কানাইঘাট উপজেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে গোয়াইনঘাট ও জৈন্তাপুর উপজেলা। বন্যায় গোয়াইনঘাট উপজেলার অর্ধেক জনপদ তলিয়ে গেছে। রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় গোয়াইনঘাটের সঙ্গে জেলা শহরের সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। এদিকে জৈন্তাপুর উপজেলার নিজপাট, দরবস্ত ও চারিকাটা ইউনিয়নের বেশির ভাগ এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। সুরমা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় সিলেট সদর ও কানাইঘাটের নিম্নাঞ্চলও প্লাবিত হয়েছে। ডুবে গেছে গ্রামীণ রাস্তাঘাট।

সুনামগঞ্জ : সুনামগঞ্জে টানা ভারি বর্ষণ, পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। জেলার অন্তত ৩২টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় ৪৪ হাজার পরিবার। বন্যাকবলিত এলাকায় ৭৮টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রেখেছে প্রশাসন। এরই মধ্যে ১৪৮টি পরিবারকে নেওয়া হয়েছে আশ্রয়কেন্দ্রে। এদিকে উজান থেকে নেমে আসা পানির প্রবল তোড়ে সুনামগঞ্জ-জামালগঞ্জ সড়কের ঘাঘটিয়া এলাকায় এবং সুনামগঞ্জ- ছাতক সড়কের কাটাখালি এলাকায় রাস্তা ভেঙে যাওয়ায় জেলা সদরের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। স্থানীয় অনেক সড়ক পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।

কুমিল্লা : টানা তিন দিনের বৃষ্টিতে কুমিল্লায় বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে নদী-খাল দখল হয়ে যাওয়ায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। টানা বৃষ্টির কারণে মানুষ ঘরবন্দী। নিম্নআয়ের মানুষ কাজ পায়নি। ভাঙা সড়কে চলাচলে দুর্ভোগ বেড়েছে। কুমিল্লা পানি উন্নয়ন বোর্ডের দক্ষিণ পূর্বাঞ্চলীয় পরিমাপক নির্বাহী প্রকৌশলী এবিএম খান মোজাহেদী জানান, ভারি বৃষ্টিপাত হলেও কুমিল্লায় জলাবদ্ধতা বা বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটবে না। শুধু ভারতের ত্রিপুরা থেকে আসা পাহাড়ি ঢলে বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।

সম্পর্কিত পোস্ট

Green Page | Only One Environment News Portal in Bangladesh
Bangladeshi News, International News, Environmental News, Bangla News, Latest News, Special News, Sports News, All Bangladesh Local News and Every Situation of the world are available in this Bangla News Website.

এই ওয়েবসাইটটি আপনার অভিজ্ঞতা উন্নত করতে কুকি ব্যবহার করে। আমরা ধরে নিচ্ছি যে আপনি এটির সাথে ঠিক আছেন, তবে আপনি ইচ্ছা করলেই স্কিপ করতে পারেন। গ্রহন বিস্তারিত