29 C
ঢাকা, বাংলাদেশ
রাত ১০:২০ | ৪ঠা অক্টোবর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ খ্রিস্টাব্দ | ১৯শে আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ বঙ্গাব্দ
গ্রীন পেইজ
দূষিত পানি-বায়ু কেড়ে নিচ্ছে মানুষের আয়ু
পরিবেশ দূষণ

দূষিত পানি-বায়ু কেড়ে নিচ্ছে মানুষের আয়ু

দূষিত পানি-বায়ু কেড়ে নিচ্ছে মানুষের আয়ু

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে অনায়াসে বলা যায় বাঙালিজীবনের সবচেয়ে বড় ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর। শুধু বাঙালিজীবন নয়, বাংলার রূপবৈচিত্র্য, প্রকৃতি, সংস্কৃতি তাঁর মতো করে কে উপস্থাপন করতে পেরেছেন।

এটি বলা খুব বেশি অমূলক হবে না, বিশ্বের আনাচকানাচে কত লোকের এই বাংলার প্রেমে পড়ার শুরুই হয় রবীন্দ্রনাথকে দিয়ে। তাঁর লেখনীর জাদুর টানে কত কত ভিনদেশি মানুষ এ বাংলার জলে তৃষ্ণা মিটিয়েছে, প্রাণ জুড়িয়েছে ঋতু-রকমফেরের হাওয়ায়, বুকভরা বাতাস নিয়ে দৌড়ে তেপান্তরের মাঠ পেরিয়ে নদীর তীরে এসে দাঁড়িয়ে গেয়ে উঠেছে, ‘স্নিগ্ধ সমীর জীবন জুড়ালে তুমি।’



‘বাংলার মাটি, বাংলার জল, বাংলার বায়ু, বাংলার ফল’-এর টানে এখন কোনো ভিনদেশি যদি পা রাখেন বাংলাদেশে, রবীন্দ্রনাথের প্রতি কী উষ্মাই না প্রকাশ করেন তিনি।

ফাগুনে আমের বনে ঘ্রাণে পাগল হওয়ার বদলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে পড়ে কালো ধোঁয়া ও দূষিত বাতাসেই তিনি পাগল হয়ে যাবেন। তবে বিশ্বজুড়ে শিরোনাম হওয়া বাংলাদেশের বিষয়টি আগে থেকে নজরে এলে এখানে আসার ইচ্ছাটাই তাঁর মরে যাবে নির্ঘাত।

যেহেতু বাংলাদেশ আবারও সবচেয়ে দূষিত বায়ুর দেশ হিসেবে বিশ্বের শীর্ষ অবস্থানে নাম লিখে নিয়েছে। আর ঢাকা সবচেয়ে দূষিত বায়ুর রাজধানী হিসেবে গতবারের মতো এবারও দ্বিতীয়। যদিও দুর্মুখেরা বলতে চাইবেন, বিশ্বজুড়ে কোনো র‌্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষে চলে আসাটা তো গর্বেরই বিষয়!

কিন্তু প্রবাস থেকে দীর্ঘদিন পর দেশে ফিরতে ফিরতে কেউ যখন আবেগে গুন গুন করে ‘কী শোভা, কী ছায়া গো, কী স্নেহ, কী মায়া গো’ গাইতে যাবেন, ঢাকার রাস্তায় নামতেই ‘ও বাবা গো’ বলে আঁতকে উঠতে হবে তাঁকে।

একসময় এ দেশে রোগীর আয়ু বাড়ানোর জন্য চিকিৎসকেরা হাওয়া বদল করতে পাঠাতেন। আর এখন সেই হাওয়াই বদলে গিয়ে আয়ু কেড়ে নিচ্ছে মানুষের।

করোনার কারণে কত মানুষ মারা গিয়েছে, সে সংখ্যা নিশ্চয়ই সবার জানা আছে। কিন্তু অনেকের কাছে অবিশ্বাস্য লাগতে পারে, এই ‘বুক-ভরা-মধু বঙ্গের’ দেড় লক্ষাধিক মানুষ প্রতিবছর মারা যাচ্ছে শুধু দূষিত বায়ুর কারণেই।



বৈশ্বিক বায়ুমান নিয়ে মার্কিন গবেষণা প্রতিষ্ঠান স্টেট অব গ্লোবাল এয়ার তাদের ২০২০ সালের প্রতিবেদনে বলছে, ২০১৯ সালে দূষিত বায়ুর কারণে বাংলাদেশে ১ লাখ ৭৪ হাজার মানুষ মারা গেছে।

সে বছরে অল্প বয়সী শিশুদের মৃত্যুর ২০ শতাংশই ঘটেছে দূষিত বায়ুর কারণে। প্রতিটি শিশুর আয়ু ৩০ মাস করে কমে যাচ্ছে শুধু বায়ুদূষণের কারণে। প্রায় পৌনে এক লাখ মানুষের মৃত্যু ঘটেছে ঘরের বাইরে বাতাসে ক্ষতিকর অতি সূক্ষ্ম কণা পিএম-২.৫-এর কারণে।

বাতাসে এ কণার উপস্থিতি হিসাব করেই সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বৈশ্বিক বায়ুমান পর্যবেক্ষক প্রতিষ্ঠান আইকিউ এয়ার ২০২১ সালের প্রতিবেদন প্রকাশ করে, যেখানে দূষিত বায়ুর দেশের তালিকায় ১ নম্বরে দেখা যায় বাংলাদেশকে।

আন্তর্জাতিক বেশ কিছু সূচকে বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি ঘটেছে। সেই সূত্রেই কয়েক দিন পরপর কোনো না কোনো মন্ত্রীর কাছ থেকে আমরা শুনি, বাংলাদেশ এখন বিশ্বের রোল মডেল।

এমন ‘মধুর বচনও’ শোনা যায়, বাংলাদেশের উন্নয়নের ‘গোপন রহস্য’ জানতে আগ্রহী বিশ্বের অন্যান্য দেশ। এখন সবচেয়ে দূষিত বায়ুর দেশ হয়েই কি সেই ‘গোপন রহস্য’ জানান দিলাম আমরা!

মূলত আগের বছরের ‘সাফল্য’ আরও ‘একনিষ্ঠভাবেই’ অক্ষুণ্ন রেখেছি আমরা। কারণ, আগেরবার পিএম-১০ ও পিএম-৫ অতিসূক্ষ্ম বস্তুকণা আমলে নিয়ে বায়ুমান পর্যালোচনায় আমরা শীর্ষে ছিলাম।

এবার তার চেয়ে আরও সূক্ষ্ম কণা হিসেবে করা হলেও আমাদের অবস্থানকে কেউ টলাতে পারেনি।

“Green Page” কে সহযোগিতার আহ্বান

সম্পর্কিত পোস্ট

Green Page | Only One Environment News Portal in Bangladesh
Bangladeshi News, International News, Environmental News, Bangla News, Latest News, Special News, Sports News, All Bangladesh Local News and Every Situation of the world are available in this Bangla News Website.

এই ওয়েবসাইটটি আপনার অভিজ্ঞতা উন্নত করতে কুকি ব্যবহার করে। আমরা ধরে নিচ্ছি যে আপনি এটির সাথে ঠিক আছেন, তবে আপনি ইচ্ছা করলেই স্কিপ করতে পারেন। গ্রহন বিস্তারিত