28 C
ঢাকা, বাংলাদেশ
সকাল ৬:৩৮ | ২৭শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ খ্রিস্টাব্দ | ১৩ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ বঙ্গাব্দ
গ্রীন পেইজ
দূষনের কারণে বিলুপ্তির পথে শকুন
জীববৈচিত্র্য

দূষনের কারণে বিলুপ্তির পথে শকুন

দূষনের কারণে বিলুপ্তির পথে শকুন

গ্রাম বাংলা থেকে বিলুপ্তির পথে প্রকৃতির পরিচ্ছন্নতাকর্মী শকুন। এদের আকার চিলের চেয়ে বড়। শরীর কালচে বাদামি। পালকহীন মাথা ও ঘাড়। কালো শক্তিশালী পা ও ঠোঁট। প্রচলিত আছে, এরা নাকি মৃত্যুর খবর আগে থেকে জানতে পারে। তাই এরা অসুস্থ ও মৃতপ্রায় প্রাণির চারদিকে উড়তে থাকে। অপেক্ষায় থাকে কখন ওই প্রাণিটি মারা যাবে।

শকুন তীক্ষ্ম দৃষ্টিসম্পন্ন। তাই এদের বলা হয় শিকারি পাখি। প্রশস্ত ডানা তাদের। তাই দ্রুত ডানা ঝাঁপটে চলাচল করতে পারে। এরা লোকচক্ষুর আড়ালে বট, পাকুড়, অসথ, ডুমুর প্রভৃতি বিশালাকার গাছে বাসা বেঁধে থাকে। অন্ধকার গুহা কিংবা গাছের কোটরে বা পর্বতের চূড়ায় এক থেকে তিনটি সাদা বা ফ্যাকাসে ডিম পাড়ে।

পরিণত বয়সে দলবেঁধে আকাশে উড়ে। এরা তাল, শিমুল, দেবদারু, তেঁতুল ও বট গাছের মগডালে বসে থাকে শিকারের আশায়। এদের গলার স্বর খুবই কর্কশ ও তীষ্ট। দেখতে খুবই কুৎসিত।

শকুনের বৈজ্ঞানিক নাম জিপস বেজ্ঞালেনসিস। এই প্রজাতির পাখি বাংলাদেশের স্থায়ী বাসিন্দা। অথচ দুঃখের বিষয় হচ্ছে এই শিকারি পাখিটি আজ বিলুপ্তির দ্বারপ্রান্তে। শকুন না থাকায় নদীতে, হাওড়-বাওড়ে ও উপকূলীয় চরে প্রায়ই গৃহপালিত জীবজন্তুর মৃতদেহ দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকতে দেখা যায়।

বন-বাদাড় থেকে মৃতদেহ অপসারণের ক্ষেত্রে শকুনের কোনো বিকল্প নেই। যে শকুন প্রাণির মৃতদেহ খেয়ে প্রকৃতিকে পরিস্কার রাখে। তারাই আজ বিলুপ্তি হয়ে যাচ্ছে।



পরিবেশ-প্রকৃতি বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা-ইউসিএন এই শিকারি প্রজাতির শকুনকে ‘বিশ্ব মহাবিপন্ন’ পাখি ঘোষণা করেছে। কয়েক বছর আগেও বাংলাদেশে ৭ প্রজাতির শকুন দেখা যেত।

এর মধ্যে চার প্রজাতির শকুন এদেশের অনিয়মিত আগুন্তুক। প্রজাতিগুলো হলো- ইউরেশিয়া, গৃধিনি, হিমালয়ী-গৃধিনি, ধলা শকুন এবং কালা শকুন। বাকি তিন প্রজাতি বাংলাদেশে স্থায়ীভাবে বসবাস করত। প্রজাতিগুলো হলো- বাংলা শকুন, সরসঠুটি শকুন ও রাজশকুন।

গত প্রায় ৪৫ বছরে সরসঠুটি- শকুন ও রাজ-শকুন বাংলাদেশ হতে পুরোপুরি বিলুপ্ত হয়ে গেছে। এখন অল্প কিছু ‘বাংলা শকুন’ বেঁচে আছে। গত ৩০ বছরের বেশি সময় ধরে দেশে পশুচিকিৎসায় বেদনা নাশক ওষুধ হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে ‘ডাইক্লোফেন’।

পাশাপাশি মানুষের জন্য যে ডাইক্লোফেন আছে তাও গবাদি পশুর চিকিৎসায় ব্যবহার করা হচ্ছে। ডাইক্লোফেনের বিকল্প হিসেবে যে ‘কিটোপ্রোফেন’ ব্যবহার করা হয় তাতেও শকুন মারা যায়। ওইসব ওষুধ খাওয়া মৃত পশু খেয়ে মারা যাচ্ছে শকুন। ফলে দিন দিন আশঙ্কাজনক হারে কমে যাচ্ছে শকুনের সংখ্যা।

কিছু দরকারি পদক্ষেপ ও কঠোর বাস্তবায়ন হলে শকুন বিলুপ্ত রোধ করা সম্ভব। যেমন-পশুচিকিৎসায় ‘ডাইক্লোফেনের’ ব্যবহার বন্ধের জন্য সরকারি নিষেধাজ্ঞাটি মাঠ পর্যায়ে কঠোরভাবে প্রয়োগ করা। মানুষের জন্য যে ডাইক্লোফেন রয়েছে, পশুচিকিৎসায় তার ব্যবহার বন্ধ করতে হবে।

কিটোপ্রোফেন ব্যবহার নিষিদ্ধ ঘোষণা করে মেলোক্সিক্যাম ব্যবহারে উৎসাহিত করা এবং শকুন না মারার জন্য প্রচারণা চালাতে হবে। তাহলেই চোখের সামনে অতি প্রয়োজনীয় ও অতুলনীয় এই পাখিটি বাংলাদেশ থেকে বিলুপ্ত রোধ করা সম্ভব হবে।

“Green Page” কে সহযোগিতার আহ্বান

সম্পর্কিত পোস্ট

Green Page | Only One Environment News Portal in Bangladesh
Bangladeshi News, International News, Environmental News, Bangla News, Latest News, Special News, Sports News, All Bangladesh Local News and Every Situation of the world are available in this Bangla News Website.

এই ওয়েবসাইটটি আপনার অভিজ্ঞতা উন্নত করতে কুকি ব্যবহার করে। আমরা ধরে নিচ্ছি যে আপনি এটির সাথে ঠিক আছেন, তবে আপনি ইচ্ছা করলেই স্কিপ করতে পারেন। গ্রহন বিস্তারিত