29 C
ঢাকা, বাংলাদেশ
রাত ১০:৪২ | ৭ই এপ্রিল, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | ২৪শে চৈত্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
গ্রীন পেইজ
করোনাভাইরাসের-বিরুদ্ধে-লড়াইয়ে-দক্ষিণ-কোরিয়ার-বিজয়
করোনা ভাইরাস

করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার বিজয়ে Big Data এবং AI এর অবদান

করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার বিজয়ে Big Data এবং AI এর অবদান

By Asfakur Rahman Niloy (Student, Dept. of CSE,
Northern University Bangladesh)

নোভেল কোরোনাভাইরাস (COVID -19) এর বিরুদ্ধে লড়াই করতে দক্ষিন কোরিয়া তার প্রযুক্তিগত শক্তিকে কাজে লাগাচ্ছে।

দক্ষিন কোরিয়ায় Big Data Mining এর জন্য একটি অত্যাধুনিক ডিজিটাল প্লাটফর্ম রয়েছে, একইসাথে কৃত্রিম বৃদ্ধিমত্তা (AI) এবং কোরিয়ানরা প্রযুক্তিগত দিকে সামনে থেকে নেতৃত্ব প্রদান করছে।

করোনাভাইরাসের-বিরুদ্ধে-লড়াইয়ে-দক্ষিণ-কোরিয়ার-বিজয়ে-Big-Data-এবং-AI-এর-অবদান
করোনাভাইরাসের-বিরুদ্ধে-লড়াইয়ে-দক্ষিণ-কোরিয়ার-বিজয়ে-Big-Data-এবং-AI-এর-অবদান

বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রতিষ্ঠান স্যামসাং, আমেরিকার বিখ্যাত APPLE Inc. এর সাথে খুবই ঘনিষ্ঠভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে।

দক্ষিন কোরিয়া Big Data পর্যালোচনা করে AI Powered অত্যাধুনিক অগ্রিম সতর্কতা ব্যবস্থা এবং গভীর পর্যবেক্ষণ পদ্ধতিকে কাজে লাগিয়ে ইতিমধ্যে খুবই স্বল্প সময়ের মধ্যে করোনাভাইরাসের সংক্রমণকে নিয়ন্ত্রনে আনতে পেরেছে ।

সরকার কর্তৃক পরিচালিত Big Data প্লাটফর্মটিতে দেশের সকল নাগরিক এবং সেখানে থাকা প্রবাসী নাগরিকদের তথ্যকে সংরক্ষণ করে রাখা হয় এবং সরকারী সকল প্রকার সংস্থা, হাসপাতাল, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, মোবাইল অপারেটর এবং অন্যান্য সকল সেবাগুলো এই তথ্যভান্ডারে থাকে।

দক্ষিন কোরিয়া এইসকল তথ্যের দ্বারা বিভিন্ন ধরনের পর্যবেক্ষণ, তথ্য ও উপাত্তগুলিকে ব্যবহার করেছে । এই প্লাটফর্মের দ্বারা সকল ধরনের real time responses এবং তথ্য শীঘ্রই ভিন্ন ভিন্ন AI ভিত্তিক Application সহ সকল লোকদেরকে অবগত করা হয়।

যখনই কোনো ব্যক্তি COVID -19 এর পরীক্ষায় পজিটিভ ধরা পড়েন, আশেপাশের সকল লোকদেরকে তৎক্ষণাৎ আক্রান্ত ব্যাক্তির ভ্রমন সম্পর্কিত তথ্য, কার্যকলাপ এবং আক্রান্ত হওয়ার পূর্বের ২ সপ্তাহের চলাচলের একটি মানচিত্র Push System এর মাধ্যমে মোবাইলে বার্তা পাঠানো হয়।

সরকার কর্তৃক পরিচালিত হেলথ্ সার্ভিস, আক্রান্ত ব্যক্তির পরিচিত লোকদের উপর তথ্য সংগ্রহ করে যেটা কিনা আক্রান্ত ব্যক্তি ঐ সময়ে কাদের সাথে দেখা করেছে কিংবা চলাফেরা করেছে তা খুঁজে বের করতে সাহায্য করে এবং তাদেরকে তখন পর্যবেক্ষনণ আনা হয় ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়। AI এই সকল পর্যবেক্ষনগুলোকে করতে সহায়তা করে।

হাসপাতাল, এ্যাম্বুলেন্স ও মোবাইল test lab দক্ষ এবং কার্যকর IT Sector ও প্রযুক্তির উপর নির্ভরশীল। দক্ষ এবং কার্যকর সেবা দেওয়ার জন্য দক্ষিন কোরিয়া আরেকটি পরিষেবা চালু করেছে, যা হচ্ছে “drive through coronavirus testing”, কোনো ব্যক্তি যদি mobile testing lab এর মধ্যে তার গাড়িটিকে চালান, তিনি গাড়িতে বসা অবস্থায়তেই তার নমুনা সংগ্রহ করেন এবং কিছু সময়ের মধ্যেই তিনি ফলাফল পেয়ে যান।

যদি তিনি সংক্রমিত হয়েছে বলে প্রমানিত হন, তবে তৎক্ষনাৎ তাকে বিচ্ছিন্নভাবে এক জায়গায় রাখা হয় এবং তাকে নিবিড় চিকিৎসার আওতায় আনা হয়। অনেক drive through lab হচ্ছে অস্থায়ী, যা কিনা মোবাইল অপারেটর দ্বারা প্রদানকৃত 5G প্রযুক্তি দ্বারা পরিচালিত হয়।

যারা রাস্তায় গাড়ি চালাচ্ছেন তারা যখন কাছের drive-through lab এর পাশ দিয়ে যাচ্ছেন, তখন তাদেরকে অবহিত করা হয়, সেখানে তারা পরীক্ষা করাতে পারেন।

যদি কোনো সংক্রমিত ব্যক্তি বড় কোনো বাসায় বসবাস কিংবা কাজ করেন, তখন সেখানকার সকল বাসিন্দাদের চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য সেখানে অস্থায়ী মেডিক্যাল সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে।

AI data পর্যবেক্ষণ সরকারকে ভাইরাসটির সম্ভাব্য লক্ষণগুলি বা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল সম্বন্ধে অবহিত করে। যাতে সেখানে চিকিৎসা সেবা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রমকে চালু করা যায়।

সরকার মাস্ক ও অন্যান্য সংক্রমনকে প্রতিরোধক জিনিসপত্র সরবরাহ ও প্রদানের জন্য AI এর উপর নির্ভর করে ব্যবস্থাপনা ও প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন করেছে।

প্রতিটি ব্যক্তিকে তাদের কাছের মেডিসিন স্টোর হতে তাদের আইডি কার্ডের ব্যবহারের মাধ্যমে একবারে সর্বোচ্চ ২ টি মাস্ক কিনতে দেয়া হচ্ছে। যদিও দেশটিতে অনেকদিনই অতিবাহিত হয়েছে ভাইরাসটির সংক্রমনের, কিন্তু এখনও সামগ্রিকভাবে নিত্যদিনের পণ্য যেমনঃ চাল, তেল, বাচ্চদের খাবার ইত্যাদির দাম বাড়েনি।

কোরিয়াতে বসবাসরত এক বাংলাদেশী বলেছেন, “তথ্যের ভান্ডার থাকার কারনে ভাইরাসটির সংক্রমনের বিরুদ্ধে দক্ষিণ কোরিয়া সঠিক সিদ্ধান্ত বা উদ্যোগ নিতে সচেষ্ট হয়েছে। অনেক দেশেরই এইরকম সুবিশাল ডিজিটাল প্লাটফর্ম বা প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং শক্তি নেই”।

জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া এক ভাষণে, দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রী চুং সি-কুন সবাইকে আতঙ্কিত বা বিভ্রান্ত না হয়ে সতর্ক থাকতে বলেছেন। এটিও বলেছেন যে, আমরা সবাই এখনও সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছি।

দক্ষিণ কোরিয়ার করোনা ভাইরাসের রোগীদের সংখ্যা কমে যাচ্ছে এবং সরকার সংক্রমণের পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রণে আনতে সমর্থ হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন যে, অতিরিক্ত সতর্কতা হিসেবে অফিসের কার্যক্রম বাসায় বসে কর্মকর্তা ও কর্মচারিদের দ্বারা ডিজিটালভাবে পরিচালিত হবে।

Source: Daily Star

সম্পর্কিত পোস্ট

Green Page | Only One Environment News Portal in Bangladesh
Bangladeshi News, International News, Environmental News, Bangla News, Latest News, Special News, Sports News, All Bangladesh Local News and Every Situation of the world are available in this Bangla News Website.

এই ওয়েবসাইটটি আপনার অভিজ্ঞতা উন্নত করতে কুকি ব্যবহার করে। আমরা ধরে নিচ্ছি যে আপনি এটির সাথে ঠিক আছেন, তবে আপনি ইচ্ছা করলেই স্কিপ করতে পারেন। গ্রহন বিস্তারিত