27 C
ঢাকা, বাংলাদেশ
রাত ৪:৩০ | ২৬শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ খ্রিস্টাব্দ | ১০ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ বঙ্গাব্দ
গ্রীন পেইজ
তুরস্কের মারমারা সাগর এখন নিত্যদিনের দূষণের শিকার
আন্তর্জাতিক পরিবেশ পরিবেশ দূষণ

তুরস্কের মারমারা সাগর এখন নিত্যদিনের দূষণের শিকার

তুরস্কের মারমারা সাগর এখন নিত্যদিনের দূষণের শিকার

জলবায়ু পরিবর্তন ও লাগামহীন জঞ্জালের কারণে তুরস্কের মারমারা সাগরে মাছের পরিমাণ এখন অনেক কমে গেছে৷ পরিবেশ বিপর্যয়ের পরিণতির মাত্রা এখনো স্পষ্ট নয়৷ সরকার ও প্রশাসনের বিলম্বিত উদ্যোগেও তেমন ভালো ফলের আশা করা হচ্ছে না৷



চারিদিকে কাদার মতো ভাসমান পদার্থ৷ এমনকি ইস্তানবুল শহরের বন্দরও রেহাই পায়নি৷ আলি কসকুন সেই দৃশ্য দেখে স্তব্ধ৷ বিশেষ করে জেলেদের জন্য এটা একটা বড় বিপর্যয়৷ আলি বলেন, পানিতে মাছ কীভাবে বেঁচে থাকবে?

কাদায় আটকা পড়লে দুই মিনিটের মধ্যেই মরে যাবে৷ মাছ নয়, প্লাস্টিক ধরছেন জেলেরা। জাল খোলার পর মাছের সঙ্গে প্লাস্টিক বর্জ্য দেখছেন জেলেরা৷ গ্রিসের রয়েছে ২৫০টি ট্রলারের বিশাল মাছ ধরার বহর৷ এই বহর সমুদ্রের একটি নির্দিষ্ট গভীরতা অবধি জাল ফেলে মাছ ধরতে পারে৷

আলি কসকুমের মতো জেলেরা অতীতে শহরের মানুষদের সরাসরি তাজা মাছ সরবরাহ করতেন৷ কিন্তু কয়েক বছর ধরে মাছের পরিমাণ কমে চলেছে৷ দূষণের মাত্রা বেড়ে চলেছে৷ তবে এর আগে কখনো এত বড় পরিবেশ বিপর্যয় ঘটেনি৷

মারমারা সাগরের একটা বড় অংশ কাদার মতো পদার্থের গালিচায় ঢেকে গেছে৷ আলি কসকুন বলেন, চলতি শতাব্দীর শুরুর দিকেও আমরা সমুদ্রে এমন দূষণের গালিচা দেখেছি৷ মাছের জাল থেকে কাদার মতো সেই পদার্থ ধুয়ে ফেলে বিষয়টি ভুলে গেছি৷ কারণ এর ফলে মাছের তো কোনো ক্ষতি হয়নি৷

এবার আর সেটা সম্ভব হচ্ছে না৷ সামুদ্রিক জীবের শরীর থেকে বেরিয়ে আসা পুরু এই পদার্থ কয়েক কিলোমিটার জুড়ে পানির উপর ও নীচের অংশ ঢেকে দিচ্ছে৷ জলবায়ু পরিবর্তনের পরিণতি এবং ইস্তানবুল শহরের বর্জ্য পদার্থই এই বিপর্যয়ের জন্য দায়ী৷

কর্তৃপক্ষ তড়িঘড়ি করে বিশেষ জাহাজ নামিয়ে পাম্প চালিয়ে সেই কাদার মতো পদার্থ দূর করার চেষ্টা করছে৷ তবে সেই উদ্যোগে কাজ হবে কিনা, তা স্পষ্ট নয়৷ কারণ কিছু জায়গায় সেই গালিচা এমনকি ৩০ মিটার পর্যন্ত গভীর৷ পরিস্থিতি বদলাতে হলে মারমারা সাগরের তীরে অসংখ্য নিকাশী ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট আধুনিক করে তুলতে হবে৷

সরকার দ্রুত এক ‘মারমারা অ্যাকশন প্ল্যান’ শুরু করেছে৷ তুরস্কের পরিবেশ মন্ত্রী মুরাত কারুম বলেন, ‘‘আমরা তুরস্কের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় সমুদ্র সংস্কার অভিযান চালাবো৷ দেশের সব মানুষকে এ কাজে সহায়তার ডাক দিচ্ছি৷”



মের্ট গ্যোকাল্পের মতো তুরস্কের সামুদ্রিক জীববিজ্ঞানীদের মতে, এই কাজে বড় দেরি হয়ে গেছে৷ সমুদ্রের ইকোসিস্টেম আগেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে৷

মের্ট বলেন, দুটি প্রণালীর মাধ্যমে মারমারা সাগর কৃষ্ণ সাগর ও ভূমধ্যসাগরের সঙ্গে যুক্ত৷ এই সাগর প্রায় হ্রদের মতো৷ প্রায় ৫০ বছর ধরে আড়াই কোটি মানুষের বর্জ্য সেখানে গিয়ে পড়ছে৷

আলি কসকুম শ্লেষ্মার কারণে সমুদ্রে আর জাল ফেলতে পারছেন না৷ জাল আর পানির নীচে নামছে না৷ নামলেও মাছ ছাড়া অন্যান্য পদার্থে ভরে যাচ্ছে৷

সে কারণে তিনি প্রায় ৪০ বছর পর জালের বদলে ছিপ দিয়ে মাছ ধরার চেষ্টা করছেন৷ কিন্তু আজ পর্যন্ত কোনো মাছ ধরা পড়ছে না৷ আলি কসকুনকেও সম্ভবত নিজের পেশা পাকাপাকিভাবে ছেড়ে দিতে হবে৷

সমুদ্রে সাঁতারের কথাও এখন ভাবা যাচ্ছে না৷ কারণ দূষিত গালিচার মধ্যে মানুষের জন্য বিপজ্জনক জীবাণু ও ভাইরাসের বাড়বাড়ন্ত দেখা যাচ্ছে৷ কয়েক জন বিশেষজ্ঞ এমনকি কলেরার বিপদ সম্পর্কে সতর্ক করে দিচ্ছেন৷

সে কারণে মারমারা সাগরের তীরে বেশ কয়েকটি সৈকত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে৷ এককালে সমুদ্রে মাছের অভাব ছিল না৷ আজ দূষণের কারণে পরিস্থিতি বদলে গেছে৷

“Green Page” কে সহযোগিতার আহ্বান

সম্পর্কিত পোস্ট

Green Page | Only One Environment News Portal in Bangladesh
Bangladeshi News, International News, Environmental News, Bangla News, Latest News, Special News, Sports News, All Bangladesh Local News and Every Situation of the world are available in this Bangla News Website.

এই ওয়েবসাইটটি আপনার অভিজ্ঞতা উন্নত করতে কুকি ব্যবহার করে। আমরা ধরে নিচ্ছি যে আপনি এটির সাথে ঠিক আছেন, তবে আপনি ইচ্ছা করলেই স্কিপ করতে পারেন। গ্রহন বিস্তারিত