29 C
ঢাকা, বাংলাদেশ
রাত ১১:১৬ | ৪ঠা অক্টোবর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ খ্রিস্টাব্দ | ১৯শে আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ বঙ্গাব্দ
গ্রীন পেইজ
জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় ঢেউ থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন
জলবায়ু

জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় ঢেউ থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন

জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় ঢেউ থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন

জলবায়ু সংকট মোকাবিলা ও যুদ্ধবিগ্রহের চাপে বর্তমানে বিকল্প জ্বালানির সন্ধান বাড়তি গুরুত্ব পাচ্ছে৷ সমুদ্রের ঢেউ ও জোয়ারভাটার শক্তি কাজে লাগিয়েও বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে নানা গবেষণা চলছে৷

১৯৭৪ সালে স্কটল্যান্ডের এক প্রোফেসর এমন এক উদ্ভাবন করেছিলেন, যা জ্বালানি ব্যবহারের ইতিহাস বদলে দিতে পারতো৷ সেই যন্ত্রের নাম ‘এডিনবরা হাঁস’৷ অদ্ভুত নাম হলেও ভালো করে নজর দিলে নামের উৎস আন্দাজ করা যায়৷ হাঁসের শরীরের পেছনের অংশ ঢেউয়ের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে দূষণহীন বিদ্যুৎ উৎপাদন করে৷

গোটা বিশ্বের সংবাদ মাধ্যম ও ব্রিটিশ সরকার এই উদ্ভাবন সম্পর্কে গভীর আগ্রহ দেখিয়েছিল৷ কারণ এমন আইডিয়ার পেছনে বিশাল সম্ভাবনা লুকিয়ে রয়েছে৷ সব জায়গাই ঢেউ দেখা যায়, যেগুলির মধ্যে পূর্ণ মাত্রায় শক্তি জমা রয়েছে৷ কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই আইডিয়া মুখ থুবড়ে পড়লো৷ পরের কয়েক শতাব্দীর অনেক ভবিষ্যতমুখী উদ্ভাবনের মতো এটিও সাফল্যের মুখ দেখতে পেলো না৷



মনে রাখতে হবে, ঢেউয়ের প্রত্যেকটি কণা কিন্তু মহাসাগর অতিক্রম করে না, বরং বাতাসের ধাক্কায় প্রায় একই জায়গায় চক্রাকারে নড়াচড়া করে৷ তার ফলে যে শক্তি সৃষ্টি হয়, সেটি পরের কণায় স্থানান্তরিত হয়৷ ঢেউয়ের উপরিভাগে সবচেয়ে শক্তিশালী সঞ্চালন ঘটে৷

গভীরতা বাড়লে সেই শক্তি কমতে থাকে৷ ঢেউয়ের গতিবিধি বেশ জটিল হলেও এর পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব৷ বাতাস সম্পর্কে স্যাটেলাইট থেকে পাওয়া তথ্য সেই কাজে সহায়তা করে৷

ঢেউ থেকে জ্বালানি উৎপাদন করার একাধিক উপায় রয়েছে৷ যেমন পযেন্ট অ্যাবসর্বার ব্যবহার করা যায়৷ সেটি পানির উপর ভাসে এবং সব দিক থেকে শক্তি সংগ্রহ করে৷ সমুদ্রের নীচের মাটিতে নোঙর করা থাকে বলে নড়চড় হয় না৷

বয়া ও স্থায়ী অংশের মধ্যে সঞ্চালনের ফলে ভেতরের পিস্টন একটি জেনারেটর চালায়৷ সারফেস অ্যাটেনুয়েটারও কাজে লাগানো যেতে পারে৷ একাধিক অংশ নিয়ে তৈরি এই যন্ত্র ঢেউয়ের মুখে খাড়া হয়ে থাকে৷ ঢেউয়ের ধাক্কায় অংশগুলির মধ্যে সঞ্চালনের ফলে শক্তি সৃষ্টি হয়৷

অসিলেটিং ওয়াটার কলাম বা স্তম্ভও সেই কাজ করে৷ ফাঁপা এই যন্ত্রের কিছু অংশ পানির নীচে থাকে৷ প্রত্যেকটি ঢেউ ভেতরের বাতাস চেপে ধরে, যার ফলে এক টার্বাইন ঘুরতে থাকে৷ হাঁসটি সারফেস অ্যাটেনুয়েটারের মতো কাজ করে৷

১৯৭৩ সালের পেট্রোলিয়াম সংকটের ফলে অভাব মোতেই সেটি তৈরি করা হয়েছিল৷ কিন্তু সেটির পরীক্ষামূলক প্রয়োগের আগেই পরমাণু বিদ্যুৎ জনমানসে বাড়তি গুরুত্ব পেয়েছিল৷ হাঁসটি সেই প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারে নি৷

আজও সত্তরের দশকের মতো জ্বালানি সংকট দেখা যাচ্ছে৷ কার্বন নির্গমন শূন্যে কমিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা স্থির করা হয়েছে৷ অথচ বিদ্যুতের চাহিদা বেড়েই চলেছে৷ ২০৪৫ সালের মধ্যে সেই চাহিদা আনুমানিক ৩০ শতাংশ বেড়ে যাবে৷



এমনই প্রেক্ষাপটে জোয়ারভাটা ও ঢেউ থেকে জ্বালানি উৎপাদন আবার গুরুত্ব পাচ্ছে৷ কারণ শীতকালের অন্ধকার দিনগুলিতে সূর্য না দেখা গেলে এবং বাতাস না বইলে জ্বালানির বিকল্প উৎসের প্রয়োজন হবে৷

ঢেউ সম্পর্কে শুধু আগাম আভাস পাওয়া যায় না, সারা বছর ঢেউ নির্ভরযোগ্যভাবে সমুদ্রে গতি আনে৷ উইন্ড টার্বাইনের তুলনায় ওয়েভ এনার্জি প্লান্ট আরও অনেক গুণ বেশি জ্বালানি উৎপাদনের ক্ষমতা রাখে৷ বাতাসের তুলনায় পানির ঘনত্ব কয়েক’শো গুণ হওয়ায় এমনটা ঘটে৷

২০২১ সালে ইউরোপে তার আগের বছরের তুলনায় তিন গুণ বেশি ঢেউচালিত বিদ্যুৎ কেন্দ্র গড়ে তোলা হয়েছে৷ সরকারি ও বেসরকারি সংস্থাগুলি জোয়ারভাটা ও ঢেউয়ের শক্তি পেছনে মোট প্রায় সাত কোটি ইউরো বিনিয়োগ করেছে৷

কাগজে-কলমে ঢেউয়ের শক্তির পরিমাণ বিশ্বব্যাপী চাহিদার প্রায় তিন গুণ বেশি৷ বাস্তবে ২০৫০ সাল পর্যন্ত এর অনুপাত প্রায় দশ শতাংশ হবে বলে অনুমান করা হচ্ছে৷

বর্তমানে ঢেউয়ের শক্তি কাজে লাগানোর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্লান্টটি স্কটল্যান্ডে চালু হয়েছে৷ প্রবল বাতাস, বিশাল ঢেউ ও ওয়েভ এনার্জি নিয়ে গবেষণার এমন দীর্ঘ ঐতিহ্য অন্য কোথাও দেখা যায় না৷



বিশেষজ্ঞদের মতে, বায়ুশক্তির তুলনায় ঢেউয়ের শক্তি এখনো প্রায় ২০ বছর পিছিয়ে রয়েছে৷ অদূর ভবিষ্যতে বায়ু বা সৌরশক্তিকে পেছনে ফেলে এগিয়ে যাবার সম্ভাবনাও অত্যন্ত ক্ষীণ৷ কিন্তু অফশোর প্ল্যাটফর্মের মতো বিশেষ কিছু বাজারের জন্য এই উৎস আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারে৷ নির্গমনহীন জ্বালানির পথে ঢেউচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র ভালো সমাধানসূত্র হতে পারে৷ সেই লক্ষ্যে পরীক্ষানীরিক্ষা চলছে৷

কর্মক্ষমতা ও ব্যয়ের নিরিখে বর্তমানে ওয়েভ এনার্জি অন্যান্য পুনর্ব্যবহারযোগ্য শক্তির তুলনায় অনেক পিছিয়ে রয়েছে৷ তবে ভবিষ্যতের ‘এনার্জি মিক্স’-এর অংশ হিসেবে এই উৎস অনেক সুবিধা বয়ে আনতে পারে৷

“Green Page” কে সহযোগিতার আহ্বান

সম্পর্কিত পোস্ট

Green Page | Only One Environment News Portal in Bangladesh
Bangladeshi News, International News, Environmental News, Bangla News, Latest News, Special News, Sports News, All Bangladesh Local News and Every Situation of the world are available in this Bangla News Website.

এই ওয়েবসাইটটি আপনার অভিজ্ঞতা উন্নত করতে কুকি ব্যবহার করে। আমরা ধরে নিচ্ছি যে আপনি এটির সাথে ঠিক আছেন, তবে আপনি ইচ্ছা করলেই স্কিপ করতে পারেন। গ্রহন বিস্তারিত