27 C
ঢাকা, বাংলাদেশ
রাত ৪:৫৩ | ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | ১১ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
গ্রীন পেইজ
জলবায়ু পরিবর্তন কিভাবে নতুন মহামারীর আর্বিভাব ঘটাতে পারে?
পরিবেশ গবেষণা রহমান মাহফুজ

জলবায়ু পরিবর্তন কিভাবে নতুন মহামারীর আর্বিভাব ঘটাতে পারে?

জলবায়ু পরিবর্তন কিভাবে নতুন মহামারীর আর্বিভাব ঘটাতে পারে?

রহমান মাহফুজ, প্রকৌশলী, পরিবেশ কর্মী, পরিবেশ এবং পরিবেশ অর্থনৈতিক কলামিষ্ট, সংগঠক এবং সমাজসেবী।

 আলাস্কান টন্ড্রা
আলাস্কান টন্ড্রা

বিশ্ব উষ্ণতা যেভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে তাতে উত্তর ও দক্ষিণ মেরুর বরফ, বরফ স্লাব, বরফ বার্গ, এবং পারমাফ্রস্টকে গলিয়ে ফেলছে।

ফলে একদিকে সমূদ্রের পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পাচ্ছে, অন্য দিকে পারমাফ্রস্টের নীচে লুকিয়ে থাকা লক্ষ লক্ষ বছর পূর্বের ভাইরাস ও ব্যাকটিরিয়া উন্মুক্ত হয়ে মানবজাতির মাঝে যেমন মহামারি ছড়াচ্ছে, তেমনি পারমাফ্রস্টের নীচের লক্ষ লক্ষ টন কার্বন বায়ুমন্ডলে ফিরে এসে বিশ্বের উষ্ণতা বৃদ্ধি করছে।

পারমাফ্রস্ট হল মেরু অঞ্চলে বরফ শীটের উপরে মাটি, বালি ও পাথরের কণা মিশ্রিত এক প্রকার হিমায়িত পাতলা স্তর বিশেষ, যার উপর মেরু অঞ্চলের মানুষেরা ফসল ফলায়, বসতবাড়ী নির্মাণ করে, যাতায়ত করে।

মেরু অঞ্চলে বরফের উপরে পারমাফ্রস্ট এর স্তর
মেরু অঞ্চলে বরফের উপরে পারমাফ্রস্ট এর স্তর

মেরু অঞ্চল এটি পৃথিবীর অন্যান্য জায়গার তুলনায় দ্বিগুণ হারে দ্রুত উষ্ণায়িত হয়ে সমুদ্র এবং স্থল উভয় ক্ষেত্রেই দ্রুত পরিবর্তন ঘটাচ্ছে।

জুলাই ২০১৯ মাসে, আইসল্যান্ডের রেইকাজিক অঞ্চলটি ছিল ইতিহাসের সবচেয়ে উষ্ণতম মাস। একইভাবে গত জুন- আগস্টে/২০১৯ পর্যন্ত সময়ে আলাস্কা, অ্যাংরেজ এলাকাসমূহে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।

নরওয়ের সোভালবার্ডে ডিসেম্বরের তাপমাত্রা ১৯৮১-২০১০ সালের গড় তাপমাত্রার চেয়ে ১০ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা প্রায় ৫.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল।

সায়েন্স অ্যাডভান্সস সাময়িকীতে ২০২০ সালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে, উত্তর মেরু অঞ্চলের কিছু কিছু অংশে শরতের শেষের তাপমাত্রা ঐতিহাসিক গড়ের চেয়ে ২৩ ডিগ্রি ফারেনহাইট উষ্ণতর পৌঁছছে।

একইভাবে, পুরো উত্তর মেরুর মানব বসতি পারমাফ্রস্ট দ্বারা নির্মিত বাড়ীতে বসবাস করছে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সে স্থলটি এখন ক্রমশ গলে যাচ্ছে এবং এর ফলে রাস্তাগুলি ভেঙ্গে যাচ্ছে ও ঘরগুলি ভেঙ্গে পড়ছে।

পারমাফ্রস্ট গলার ফলে মেরু অঞ্চলে মানব বসতি ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে
পারমাফ্রস্ট গলার ফলে মেরু অঞ্চলে মানব বসতি ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে

বিশ্ব উষ্ণতা পারমাফ্রস্টকে গলিয়ে ফেলছে যেমন আলাস্কান টুন্ডার এর গলে যাওয়ার সাথে সাথে নতুন কোন ভাইরাসের আর্বিভাবের হুমকি সৃষ্টি হতে পারে কিনা?

(“টুন্ড্রা” অর্থ “গাছহীন উচ্চতা” অর্থাৎ এমন বাস্তুসংস্থান (ecosystems) যেখানে গাছ নাই, কিন্তু শীত রয়েছে। আলাস্কার উত্তর এবং পশ্চিম উপকূলে টুন্ডার উপস্থিতি রয়েছে) ।

পারমাফ্রস্টের নীচে লক্ষলক্ষ বছর যাবৎ ভাইরাস আর ব্যাকটিরিয়া সুপ্ত অবস্থায় রয়েছে
পারমাফ্রস্টের নীচে লক্ষলক্ষ বছর যাবৎ ভাইরাস আর ব্যাকটিরিয়া সুপ্ত অবস্থায় রয়েছে
পারমাফ্রস্টের নীচে লক্ষলক্ষ বছর যাবৎ ভাইরাস আর ব্যাকটিরিয়া সুপ্ত অবস্থায় রয়েছে
পারমাফ্রস্টের নীচে লক্ষলক্ষ বছর যাবৎ ভাইরাস আর ব্যাকটিরিয়া সুপ্ত অবস্থায় রয়েছে

দীর্ঘ দিন বরফের নীচে সুপ্ত অবস্থায় থাকা ভাইরাস পারমাফ্রস্ট গলে যাওয়ার ফলে পুনরুত্থিত হবে কিনা? দরুণ মারাত্মক এবং ভয়াবহ গুটি বসন্তের পুনরুত্থান বা ইউরোপের একটি ডেঙ্গু বা জিকা ভাইরাস?

এ মহামারীগুলো মারাত্মক এবং বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ফলে ক্রমবর্ধমান প্রভাবে লক্ষ্ লক্ষ বছর বরফের নীচে সুপ্ত অবস্থায় থাকা ভাইরাসগুলো ক্রমেই উন্মুক্ত হচ্ছে বলে বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন।

কোবিড -১৯ মহামারীটি পৃথিবীতে অতি স্বল্প সময়ের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ছে এবং এখন অবধিও অনেক লোকের জীবন সংহার করেছে যা নিম্নে চার্টটিতে প্রদান করা হলো –

গ্রহের ক্রমবর্ধমান বন্য জায়গাগুলো মানবজাতি দখলে চলে যাচ্ছে এবং বণ্য প্রাণীগুলো মানুষের মাঝে চলে আসছে ও মানুষের মাঝে ভাইরাস চড়াচ্ছে: যেমন কোভিড – ১৯ প্রায় নিশ্চিতভাবেই বলা হচ্ছে যে একটি বন্য বাদুড় থেকে এসেছে ।



তবে মানব জাতির বাস্তুতান্ত্রিক পদচিহ্ন (ecological footprint) যে ভাবে বন- জঙ্গল- পাহাড়- পর্বতের দিকে প্রসারিত হচ্ছে, অন্যান্য উপায়েও মহামারীসমূহকে মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে পারে।

জলবায়ু পরিবর্তন – ইতোমধ্যে এক ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার বৃদ্ধির সাথে সাথে তা সর্বনাশা ধ্বংসযজ্ঞ সংক্রামক রোগের চালক হিসাবেও আবির্ভূত হচ্ছে। ম্যালেরিয়া এবং ডেঙ্গু বহনকারী মশার বিস্তার প্রসারিত করেছে এবং সাইবেরিয়ান পারমাফ্রস্ট গলে প্রাগৈতিহাসিক প্যাথোজেনগুলোকে উন্মুক্ত করছে।

” অবহেলা এবং অজ্ঞতাই আমাদের শত্রু”

সুইডেনের উমিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিকাল মাইক্রোবায়োলজির গবেষক বিরিজিট্টা ইভনগার্ড বলেছেন, “আমার অন্ধকার মুহুর্তগুলোতে আমি হোমো সেপিয়েন্সের জন্য ( মানুষদের জন্য) সত্যই এক ভয়াবহ ভবিষ্যৎ দেখছি; কারণ, আমরাও একটি প্রাণী, এবং যখন আমরা আমাদের সীমানা প্রসারিত করি তখন জিনিসগুলি আমাদের হয়ে যাবে।”

তিনি আরও বলেন “আমাদের বৃহত্তম শত্রু হ’ল আমাদের নিজস্ব অজ্ঞতা এবং অবহেলা, প্রকৃতি অণুজীব দ্বারা পূর্ণ (Nature is full of microorganisms)।”

পারমাফ্রস্টের কথা চিন্তা করুন, জলবায়ু পরিবর্তনের টাইম বোমাটি রাশিয়া, কানাডা এবং আলাস্কা জুড়ে জ্বলছে যা শিল্পায়ন শুরুর পর থেকে যতটুকু কার্বণ বায়ুমন্ডলে নির্গমণ করেছে তার তিনগুণ কার্বন ঐ সকল স্থানের পারমাফ্রেন্টের নীচে রয়েছে।

পারমাফ্রস্ট গলে যাওয়া দু’ভাবে উষ্ণতার জন্য দায়ী, যেমন পারমাফ্রস্ট কার্বন ডাই অক্সাইডকে ফাঁদে ফেলে রাখে। যেহেতু, সে স্থলটি গলে যাচ্ছে এবং ফাঁদে আটকানো কার্বণসমূহ বায়ুমন্ডলে চলে যাচ্ছে, যার ফলে জলবায়ু পরিবর্তণকে আরও বাড়িয়ে তুলছে।

এমনকি ২০১৫ সালের প্যারিস চুক্তি অনুযায়ী মানবজাতি ভূ-পৃষ্ঠের তাপমাত্রা (global warming) এর বৃদ্ধি দুই ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে পারলেও জাতিসংঘের জলবায়ু বিজ্ঞান প্যানেল, আইপিসিসি (UN’s climate science panel, the IPCC) মতামত অনুসারে পারমাফ্রস্ট অঞ্চলটি এক চতুর্থাংশে হ্রাস পাবে।

এতে করে বের হয়ে আসবে পারমাফ্রস্টের নীচে লুকানো কার্বন এবং প্রাগৈঐতিহাসিক যুগের ভাইরাসসমূহ।

ফেয়ারব্যাঙ্কসের আলাস্কা বিশ্ববিদ্যালয়ের জিওফিজিক্সের অধ্যাপক ভ্লাদিমির রোমানভস্কি বলেছেন,”বরফের নীচে জীবাণু অনেক দীর্ঘ, দীর্ঘকাল ধরে বেঁচে থাকতে পারে।”

মহামারীসমূহের প্রত্যাবর্তন?

তিনি ব্যাখ্যা করেছিলেন যে, স্থল গলে যাচ্ছে, একসময় হিমায়িত মাটির কণা, জৈব পদার্থ এবং অণুজীবগুলো যা সহস্রাব্দ কাল পারমাফ্রস্ট এর নীচে আবদ্ধ ছিল, “এভাবেই স্থল গলে এই অণুজীবগুলিকে বর্তমানের পরিবেশে ছড়িয়ে দিতে পারে।”

ইতোমধ্যে প্রাচীন, দীর্ঘ-হিমায়িত অণুজীবগুলি জীবনে ফিরে আসার উদাহরণ রয়েছে। কারন, ভাইরাসসমূহের কোন মৃত্যু নাই, এরা সহস্রাব্দ কাল বরফের নীচে সুপ্ত অবস্থায় থাকতে পারে। বরফ গলে এরা এখন জীবনে ফিরে আসছে।

ফ্রান্সের আইস-মার্সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অফ মেডিসিনের জিনোমিক্সের ইমেরিটাস অধ্যাপক জ্যান-মিশেল ক্লাভারি বলেছেন, “শিল্পায়ন শুরুর পর থেকে যত কার্বন বায়ুমন্ডলে নি:গমন হয়েছে, পারমাফ্রস্টের নীচে তার তিনগুণ কার্বন রয়েছে; আপনি যখন কয়েক হাজার বছর ধরে জমে থাকা মাটিতে এমন একটি বীজ রাখবেন তখন কিছুই হয় না।”

তিনি আরও বলেন, “মাটি যখন গরম বা উষ্ণ হয় তখন বীজ অঙ্কুরিত হতে সক্ষম হয়, তেমনি পৃথিবী যখন উষ্ণ হবে ভাইরাসসমূহ তখন বিকশিত হবে” “

ক্যালভারির ল্যাব কমপক্ষে ৩০,০০০ বছর পুরানো সাইবেরিয়ান ভাইরাসগুলো সফলভাবে পুনরুদ্ধার করেছে।

এই পুনরুদ্ধার রোগজীবানুগুলো কেবল অ্যামিবাবকে আক্রমণ করে, কিন্তু কয়েক হাজার বছর আগে নিশ্চয়ই এমন আরও কিছু ভাইরাস ছিল যেগুলো মানবজাতির খাদ্য শৃঙ্খল (food chain) এর উচ্চতর ধাপের বস্তুগুলোর প্রতি লক্ষ্য ছিল অর্থাৎ আমাদের খাদ্য শৃঙ্খলের মধ্যে বিরাজমান বস্তুগুলোকে আক্রমন করে আমাদের খাদ্য শৃঙ্খলে ঢুকে পড়ত।

সেগুলো যদি বিশ্ব উষ্ণতা বৃদ্ধির ফলে পারমাফ্রস্ট ও পারমাফ্রস্টের নীচের বরফ গলে বের হয়ে আসে তবে সেগুলো আবার মানুষের খাদ্য শৃংঙ্খলে ঢুকে পড়বে।

ক্ল্যাভারি বলেছিলেন, “নিয়ান্ডারথালস (মানুষের বিলুপ্ত একটি প্রজাতি যারা বরফ যুগে ১,২০,০০০ হতে ৩৫,০০০ পূর্বে ইউরোপে বাস করত), ম্যামথ (অধুনালুপ্ত বিশাল আকৃতির হাতি বিশেষ), উলের গন্ডার সকলেই অসুস্থ হয়ে পড়েছিল এবং অনেকে মারা গিয়েছিল,কিছু কিছু ভাইরাস যেগুলো তাদের অসুস্থতা সৃষ্টি করেছিল তারা সম্ভবত এখনও মাটিতে রয়েছে।”

পারমাফ্রস্টে লুকিয়ে থাকা ব্যাকটিরিয়া এবং ভাইরাসগুলোর সংখ্যা অগণনীয়, তবে আরও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি সেগুলি কতটা বিপজ্জনক! এবং এখানে বিজ্ঞানীরা একমত নন।

ইভেনগার্ড বলেছিলেন,” পশুর রোগ অ্যানথ্রাক্স প্রমান করে যে ব্যাক্টেরিয়া শত শত বছর ধরে পারমাফ্রস্টে নীচে বিশ্রাম নিতে পারে এবং পুনরুদ্ধার হতে পারে,।”

২০১৬ সালে সাইবেরিয়ার একটি শিশু এমন এক রোগে মারা যায় যেটি ৭৫ বছর পূর্বে ঐ এলাকা হতে বিলুপ্ত হয়।

২০ লক্ষ বছর পূর্বের রোগজীবানু সমূহ

অন্যান্য জীবাণু যেমন গুটি বসন্ত বা ইনফ্লুয়েঞ্জা স্ট্রেন (smallpox or the influenza strain) যা ১৯১৭ এবং ১৯১৮ সালে লক্ষ লক্ষ লোককে হত্যা করেছিল — সেগুলোও উত্তর মেরুর কাছাকাছি অঞ্চলে লুকিয়ে থাকতে পারে এবং যেকোন সময় ঐ অঞ্চলে উপস্থিত হতে পারে।

রোমানভস্কি এই বছরের শুরুর দিকে প্রকাশিত একটি গবেষণায় বলেছিলেন, তবে তারা “সম্ভবত নিষ্ক্রিয় হয়ে গেছে।”

ক্ল্যাভেরির উল্লেখ করেছিলেন, গুটি বসন্ত যা ৫০ বছর আগে পৃথিবী হতে বিতারনের ঘোষণা দেয়া হয়েছিল, তবে ” ১৯ তম শতাব্দীতে এই রোগের আক্রান্তে মৃতদেহসমূহ যেগুলো সাইবেরিয়ার কবরস্থানে দাফন করা হয়েছিল সেগুলো বরফ শীত দ্বারা সম্পূর্ণরূপে সংরক্ষণ অবস্থায় রয়েছে।”

স্বস্তির বিষয় হ’ল এই দূর্ভাগ্য স্থানীয় মহামারীটির একটি ভ্যাকসিন পাওয়া যায়।

তিনি আরও বলেন, প্রকৃত বিপদটি আরও গভীর স্তরে রয়েছে যেখানে অজানা রোগজীবাণু যারা ২০ মিলিয়ন বছর বা তারও বেশি দিন ধরে বরফের নীচে রয়েছে, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের দ্বারা তারা পূণরুজ্জীবিত হতে পারে।

ডেংঙ্গুজ্বর

  • ডেঙ্গু জ্বর বিশ্বের সবচেয়ে সাধারণ মশাবাহিত ভাইরাস।
  • প্রতি বছর বিশ্বে আক্রান্তের সংখ্যা: ৩৯.০০ কোটি (৩৯০ মিলিয়ন)।
  • প্রতি বছর বিশ্বে মৃত্যুর সংখ্যা: ২৫,০০০।

লক্ষণ:

  • গুরুতর জ্বর। শিশু হতে বৃদ্ধ পর্যন্ত সকলে এ ভোইরাসে আক্রান্ত হয়।
  • প্রথম অবস্থায় ধরা পড়লে এবং হাসপাতালে ভর্তি হলে মৃত্যুর আশংকা হ্রাস পায়।
  • স্ত্রী এডিস এজিপ্টি (Aedes aegypti) মশার কামড়ে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে।
  • ডেঙ্গুর ভাইরাস ৪ (চার) প্রকারের।
  • কোন একপ্রকার ডেঙ্গু হতে একবার সুস্থ্য হলে ঐ প্রকার ডেঙ্গু জীবনে আর হবে না।
Aedes albopictus মশা
Aedes albopictus মশা
Aedes aegypti মশা
Aedes aegypti মশা

ডেঙ্গু রোগের জীবানু সংক্রামিত করার জন্য যদি কোনও বাহক না থাকে তবে সমস্যা নাই, তবে জলবায়ু পরিবর্তন – পরোক্ষভাবে এখানেও হস্তক্ষেপ করেছে।

ক্লেভারি বলেছিলেন, “উত্তর মেরুতে শিল্পায়ন ও খনিজ আহরনের ফলে, ঝুঁকির সমস্ত কারণ রয়েছে — প্যাথোজেন এবং লোকেরা তাদের বহন করে।”

প্রাচীন ব্যাকটিরিয়া বা ভাইরাসগুলোর পুনরুজ্জীবন অনুমানযোগ্যই রয়ে গেছে, তবে জলবায়ু পরিবর্তন ইতোমধ্যে প্রতিবছর প্রায় অর্ধ মিলিয়ন লোককে মেরে ফেলে এমন রোগের বিস্তারকে বাড়িয়ে তুলেছে: ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া, জিকা।

নিউ মেক্সিকোতে লস আলামোস ন্যাশনাল ল্যাবরেটরির বায়োসিকিউরিটি এবং জনস্বাস্থ্যের উপ-দল নেতা জ্যানি ফেয়ার বলেন, “মশা এখন নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চল হতে উত্তরে কিছুটা অধিক ঠান্ডা অঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়তে সক্ষম হচ্ছে।”

” তাদের প্রজননকালও দীর্ঘ।”

‘জলবায়ু পরিবর্তন রোগজীবানু সংক্রমকের উদ্দীপক হিসাবে কাজ করছ “

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার স্থানীয় এডিস মশা (Aedes albopictus) – যেটি ডেঙ্গু এবং চিকুনগুনিয়া বহন করে – এই শতাব্দীর প্রথম দশকে দক্ষিণ ইউরোপে এসেছিল এবং তখন থেকেই প্যারিসে এবং এর বাইরেও উত্তর দিকে দ্রুতগতিতে ছড়িয়ে পড়ছে।

ইতোমধ্যে ইউরোপে ডেঙ্গু বহনকারী আরেকটি এডিস মশাও দেখা গেছে, এডিস এজিপ্টি (Aedes aegypti)। যে কোনও প্রজাতিই হোক না কেন, ইউরোপ সেন্টার ফর ডিজিজ প্রিভেনশন অ্যান্ড কন্ট্রোল (Europe Centre for Disease Prevention and Control – ECDC)) ২০১০ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে স্থানীয়ভাবে ডেঙ্গু সংক্রমণের ৪০ টি কেস রেজিস্ট্রেশন করেছে।

ইউরোপ সেন্টার ফর ডিজিজ প্রিভেনশন অ্যান্ড কন্ট্রোল এর মতে,”ভাইরাস দ্বারা সংক্রামিত ডেঙ্গু কেসগুলো এডিস এজিপ্টি দ্বারা সংক্রামিত হয়েছে এটি প্রতিষ্ঠিত করতে পারলে তাতে প্রমাণ হবে যে দক্ষিণ ইউরোপে গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে এমনটি হয়েছে। “

ম্যালেরিয়ার কথাই বলিনা কেন —যা একসময় দক্ষিণ ইউরোপ এবং যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চলকে বিধ্বস্ত করেছিল এবং এর জন্য একটি কার্যকর চিকিৎসা বিদ্যমান রয়েছে – সামাজিক-অর্থনৈতিক অবস্থার উপর আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অনেকাংশে নির্ভর করে।

জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কিত আন্তঃসরকারী প্যানেল -আইপিসিসি (Intergovernmental Panel on Climate Change -IPCC) উদ্ধৃত সমীক্ষায় দেখা গেছে যে, জলবায়ু পরিবর্তন অব্যহত থাকলে ২০৫০ সালের মধ্যে পাঁচ বিলিয়নেরও বেশি মানুষ ম্যালেরিয়া-আক্রান্ত অঞ্চলে বসবাস করতে পারে, তবে শক্তিশালী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও সামাজিক বিকাশ এই সংখ্যা কমিয়ে দুই বিলিয়নেরও কম হতে পারে।

আইপিসিসি (IPCC) ২০০৩ সালে গ্রীসে পুনরায় ম্যালেরিয়া পুনরুত্থানের দিকে ইঙ্গিত করে বলেছে, “দক্ষিণ ইউরোপের সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতা থেকে প্রমাণিত হয়েছে যে স্বাস্থ্যসেবা যদি অবনমিত হয় তবে রোগটি কীভাবে দ্রুত পুনরায় আসতে পারে।”

আফ্রিকাতে যা ২০১৩ সালে ম্যালেরিয়ার ২২৮ মিলিয়ন কেস ঘটেছিল, যা বিশ্বের মোট ৯৯ শতাংশ — এই রোগের ভেক্টর (এনিপিলিস মশা) নতুন অঞ্চলে ছড়াচ্ছে, বিশেষত ইথিওপিয়া এবং কেনিয়ার উচ্চ-উচ্চতার সমভূমি অঞ্চলে।

লিভারপুল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব সংক্রামক রোগ এবং গ্লোবাল হেলথের জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে কাজ করা মহামারী বিশেষজ্ঞ সিরিল ক্যামিনেড বলেছেন, মুহুর্তের মধ্যে যোগাযোগযোগ্য গ্রীষ্মমন্ডলীয় রোগের সংকেতগুলি ” সংক্রমণ নয়, বরং জীবানু পরিবহনকারী ভেক্টরগুলোর সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়টি উদ্বেগজনক। “

তিনি আরও বলেছেন, ” আমরা অনেকদিন হতে শুধু জলবায়ু পরিবর্তন উদ্দীকের জন্য এমনটি ভোগ করছি।”


উত্তর মেরু অঞ্চলের উপজাতী

Referance: PHY.ORG and New York Times

সম্পর্কিত পোস্ট

Green Page | Only One Environment News Portal in Bangladesh
Bangladeshi News, International News, Environmental News, Bangla News, Latest News, Special News, Sports News, All Bangladesh Local News and Every Situation of the world are available in this Bangla News Website.

এই ওয়েবসাইটটি আপনার অভিজ্ঞতা উন্নত করতে কুকি ব্যবহার করে। আমরা ধরে নিচ্ছি যে আপনি এটির সাথে ঠিক আছেন, তবে আপনি ইচ্ছা করলেই স্কিপ করতে পারেন। গ্রহন বিস্তারিত