32 C
ঢাকা, বাংলাদেশ
রাত ১০:০৩ | ১৭ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ খ্রিস্টাব্দ | ২রা শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ বঙ্গাব্দ
গ্রীন পেইজ
জলবায়ু পরিবর্তনে বাঁড়ছে বৈশ্বিক উষ্ণতা
জলবায়ু

জলবায়ু পরিবর্তনে বাঁড়ছে বৈশ্বিক উষ্ণতা

জলবায়ু পরিবর্তনে বাঁড়ছে বৈশ্বিক উষ্ণতা

গ্রিনহাউস গ্যাসগুলোর (কার্বন ডাই-অক্সাইড, মিথেন, জলীয় বাষ্প, ওজোন, ক্লোরো-ফ্লুরো কার্বন) অতিরিক্ত ব্যবহারের প্রভাবে বেড়ে যাচ্ছে বৈশ্বিক উষ্ণতা। বাংলাদেশ এর অন্যতম ভুক্তভোগী। সাম্প্রতিক সময়ের তাপদাহ যেন তারই ইঙ্গিত দিচ্ছে। এ বছরের এপ্রিল মাসে তীব্র তাপদাহে বাংলাদেশের জনজীবন বিপর্যস্ত হয়।

সে সময় চুয়াডাঙ্গায় ৪২ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়, যা ৫৮ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। এ ছাড়া মে মাসের ৩০ তারিখের পর থেকে নতুন করে শুরু হয়েছে আরেকটি তাপপ্রবাহ। সাময়িক বৃষ্টিতে কিছুটা স্বস্তি মিললেও এ তাপদাহ থেকে চিরস্থায়ী তো দূর স্থান, দীর্ঘ সময়ের জন্যও মুক্তির কোনো উপায় আছে বলে মনে হয় না।



বাংলাদেশের তীব্র তাপদাহের কারণ বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, বনায়নের পরিমাণ কমে যাওয়া, কলকারখানা বৃদ্ধি, গ্রিনহাউস গ্যাসের ব্যবহার বৃদ্ধি, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, অতিরিক্ত জনসংখ্যা ইত্যাদি। তবে গবেষকরা তাপদাহের পেছনে গ্রিনহাউস গ্যাসের অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে বৈশ্বিক উষ্ণায়নকে প্রধান কারণ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

পৃথিবীর স্বাভাবিক তাপ বৃদ্ধির মাত্রা ১ দশমিক ৭৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গ্রিনহাউস গ্যাসের প্রভাবে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। ১৮৫০-১৯০০-এর চেয়ে বিগত এক দশকে (২০১১-২০২০) ভূপৃষ্ঠের তাপমাত্রা ১ দশমিক শূন্য ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়েছে।

তাপমাত্রা কমানোর উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে এই শতকেই পৃথিবীর তাপমাত্রা ২ থেকে ৩ ডিগ্রি বাড়তে পারে। এতে মেরু অঞ্চলের বরফ ও হিমবাহ গলে গিয়ে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ১ দশমিক ৫ মিটারের অধিক হলে সমগ্র মালদ্বীপ এবং নিউইয়র্ক, লন্ডন, সিউল, টোকিও শহরের পাশাপাশি উপকূলবর্তী অনেক অঞ্চল সমুদ্রে তলিয়ে যেতে পারে।

এর প্রভাব বাংলাদেশের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ দেশের ওপরেও পড়বে। জার্মান ওয়াচের গ্লোবাল ক্লাইমেট রিস্ক ইনডেক্স ২০২১ অনুযায়ী, গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনে বাংলাদেশের অবদান শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ হলেও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশের তালিকায় বাংলাদেশ অবস্থান সপ্তমে রয়েছে।

এই শতাব্দীতে বঙ্গোপসাগরে পানির উচ্চতা প্রায় ১ মিটার বাড়বে। এতে বাংলাদেশের মোট ভূমির ১৫ দশমিক ৮ শতাংশ পানিতে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সুন্দরবনের প্রায় ৭০ শতাংশ তলিয়ে যাবে। ২০৫০ সালের মধ্যে ১৮ মিলিয়ন মানুষ বাস্তুচ্যুত হবে এবং প্রতি ৭ জনে ১ জন জলবায়ু উদ্বাস্তুতে পরিণত হবে।



২১০০ সালের মধ্যে এ সংখ্যা ৫০ মিলিয়নে দাঁড়াবে বলে জানিয়েছে সায়েন্টিফিক আমেরিকান ম্যাগাজিন। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের এক হিসাব অনুযায়ী, ২০১০-২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশে অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুতির শিকার ১ কোটি ১৪ লাখের বেশি মানুষ।

এছাড়া বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাড়বে প্রাকৃতিক দুর্যোগের তীব্রতা। তীব্র তাপদাহ, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, লবণাক্ততা, বন্যা, খরা, বজ্রপাত, নদীভাঙন, ভূমিকম্প ইত্যাদি আগের তুলনায় আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গেছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বন্যাঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ রয়েছে প্রথম অবস্থানে।

গ্লোবাল ক্লাইমেট রিস্ক ইনডেক্স ২০২১ অনুযায়ী, ২০০০-২০১৯ সালের মধ্যে বাংলাদেশ ১৮৫টি প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখোমুখি হয়েছে এবং ৩ দশমিক ৭২ বিলিয়ন ইউএস ডলার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

প্রতিবছর জলবায়ুজনিত প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফলে বাংলাদেশের শূন্য দশমিক ৮-১ দশমিক ১ শতাংশ জিডিপি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আইপিসিসির রিপোর্ট অনুযায়ী, বৈশ্বিক উষ্ণতা ও জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে ২০১৪-২১ সালের মধ্যে প্রায় ৮,৫০,০০০ পরিবার এবং ২,৫০,০০০ কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ডব্লিউএমও অনুযায়ী বিগত ৫০ বছরে জলবায়ুজনিত প্রাকৃতিক দুর্যোগে বাংলাদেশে প্রায় ৫ লাখ মানুষ মৃত্যুবরণ করেছে।

বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কমানোর জন্য দেশগুলোর সমন্বিত সহযোগিতা প্রয়োজন। বিগত বছরগুলোতে জলবায়ুবিষয়ক সম্মেলনে গৃহীত পদক্ষেপ এবং চুক্তিগুলো বাস্তবায়নে বৈশ্বিক অংশীদারিত্ব জোরদার করতে হবে।



বিশেষ করে ২০১৫ সালে কপ-২১ সম্মেলনে প্যারিস জলবায়ু চুক্তিতে বৈশ্বিক উষ্ণতা ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে আনতে এবং ২১০০ সাল নাগাদ গড় তাপমাত্রা ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস ধরে রাখার অঙ্গীকার পূরণে দেশগুলোকে আরও বেশি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হওয়া উচিত।

গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন হ্রাস, জীবাশ্ম জ্বালানির পরিবর্তে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো, বনায়ন, পরিবর্তিত পরিবেশের সঙ্গে অভিযোজন, প্রশমন কার্যক্রম বাড়ানো, টেকসই উন্নয়ন এবং পরিকল্পিত নগরায়ণ করতে হবে।

ইতোমধ্যে বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ড ২০০৯, ডেল্টা প্ল্যান ২১০০, কোস্টাল গ্রিন বেল্ট প্রকল্প, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা কৌশল ও কর্মপরিকল্পনা ২০০৯, দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার জাতীয় পরিকল্পনা ২০২১-২৫, ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি, মুজিব জলবায়ু সমৃদ্ধি পরিকল্পনা দশক ২০৩০সহ অসংখ্য কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

তা সঠিকভাবে বাস্তবায়ন এবং নিজ নিজ অবস্থান থেকে সবার সহযোগিতার মাধ্যমে বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কমাতে পারবে।

“Green Page” কে সহযোগিতার আহ্বান

সম্পর্কিত পোস্ট

Green Page | Only One Environment News Portal in Bangladesh
Bangladeshi News, International News, Environmental News, Bangla News, Latest News, Special News, Sports News, All Bangladesh Local News and Every Situation of the world are available in this Bangla News Website.

এই ওয়েবসাইটটি আপনার অভিজ্ঞতা উন্নত করতে কুকি ব্যবহার করে। আমরা ধরে নিচ্ছি যে আপনি এটির সাথে ঠিক আছেন, তবে আপনি ইচ্ছা করলেই স্কিপ করতে পারেন। গ্রহন বিস্তারিত