21 C
ঢাকা, বাংলাদেশ
ভোর ৫:২৯ | ২৫শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | ১০ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
গ্রীন পেইজ
জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে লড়াই করে ফসল উৎপাদন করছে সিলেটের নারীরা
জলবায়ু

জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে লড়াই করে ফসল উৎপাদন করছে সিলেটের নারীরা

বিজ্ঞানীরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে মানুষের ফসলের চাষাবাদের ওপর এবং খাবারে থাকা পুষ্টিগুণের ওপরেও প্রভাব পড়ছে। বাগানে ফলমূল এবং সবজি উৎপাদন পরিবেশ বান্ধব বলে মনে করা হলেও ধারণা করা হচ্ছে, এটি জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে লড়াইয়ে একটি অস্ত্র হয়ে উঠতে পারে।ঠিক এই অভিজ্ঞতা হয়েছে বাংলাদেশের একটি এলাকার বাসিন্দাদের, যখন তাদের খাবার ও আয় রোজগারের প্রধান ফসল ধান মৌসুমি বৃষ্টিতে নষ্ট হয়ে যায়।

২০১৭ সালের এপ্রিলে আগাম অতিবৃষ্টির কারণে বাংলাদেশের সিলেট বিভাগের কৃষকদের ক্ষেতের সব ধান নষ্ট হয়ে যায়। অথচ ওই বছর বৃষ্টি শুরু হওয়ার কথা ছিল আরো দুই মাস পরে।বছরের বাকি সময়ের জন্য তাদের আর কোন আয় ছিল না, পরিবারের জন্য যথেষ্ট খাবারও ছিল না।

বার্লিনের চারিটি-ইউনিভার্সিটি মেডিসিনের জলবায়ু ও স্বাস্থ্য বিভাগের অধ্যাপক এবং পটসড্যাম ইন্সটিটিউট ফর ক্লাইমেট ইমপ্যাক্ট রিসার্চের গবেষক সাবিনে গাব্রিয়চ জানান, ”জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষেত্রে এসব মানুষের আসলে কোন ভূমিকাই নেই, কিন্তু তবু তারা এর শিকার হচ্ছে।”

নোবেল ফাউন্ডেশন আয়োজিত স্বাস্থ্য ও জলবায়ু বিষয়ক একটি সম্মেলনে তিনি বলেন, ”তারা ভিন্নভাবে জলবায়ু পরিবর্তনের শিকার হচ্ছে, কারণ তারা তাদের জীবিকার উপায় এবং খাদ্য-পুষ্টির উৎস হারিয়ে ফেলছে।তাদের সন্তানরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হচ্ছে, কারণ তারা দ্রুত বড় হচ্ছে বলেই তাদের পুষ্টিরও বেশি দরকার।এমনকি এক-তৃতীয়াংশ নারীর ওজন স্বাভাবিকের চেয়ে কম বলে দেখা গেছে, আর ৪০ শতাংশ শিশুই মারাত্মকভাবে অপুষ্টির শিকার।অনেক মানুষ আসলে এর মধ্যেই কোনমতে টিকে রয়েছে, তারা অনেক ধরণের রোগে ভুগছে,” বলছেন অধ্যাপক গাব্রিয়চ। ”তাদের কোন বীমাও নেই।”

বাংলাদেশের সিলেট বিভাগে বন্যার প্রভাব নিয়ে তিনি একটি গবেষণার নেতৃত্ব দিচ্ছেন। ওই এলাকার বিভিন্ন গ্রামের ২ হাজারের বেশি নারীর সঙ্গে তিনি কাজ করছেন।এই নারীদের অর্ধেকেরও বেশি বলেছেন যে, বন্যার কারণে তাদের পরিবার মারাত্মকভাবে ক্ষতির শিকার হয়।সেই ক্ষতি কাটাতে বেশিরভাগ পরিবার যা করেছে, তা হলো অন্যের কাছ থেকে টাকাপয়সা ধার করা। বিশেষ করে সেই সব ব্যক্তির কাছ থেকে – যারা চড়া সুদে টাকা ধার দিয়ে থাকে। তাদের কাছ থেকে টাকা এনে পরিবারটি ঋণের জালে আটকে পড়ে।

গাব্রিয়চের গবেষক দলটি এসব মানুষকে তাদের বাড়ির আঙ্গিনার উঁচু জমিতে বাগান করতে শিখিয়েছে। এসব জায়গায় তারা পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ ফলমূল এবং সবজি চাষ করতে এবং মুরগি পালন করতে পারছে।

এ বিষয়ে অধ্যাপক গাব্রিয়চ বলেন, ”আমি মনে করি না এর ফলে তাদের ধান নষ্ট হয়ে যাওয়ার ক্ষতি পূরণ হচ্ছে – কারণ ওটা হচ্ছে তাদের জীবিকার প্রধান ফসল। কিন্তু এটা তাদেরকে অন্তত কিছুটা সহায়তা করতে পারছে।”

ইউনিভার্সিটি অব ওয়াশিংটনের গ্লোবাল হেলথ বিভাগের অধ্যাপক ক্রিস্ট্রি ইবি পুষ্টিমান নিয়ে গবেষণা করেছেন।তিনি বলেন, চাল, গম, আলু আর সাবুর মতো খাবারে কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ বেড়ে যাচ্ছে। এর মানে হলো, এগুলো জন্মাতে কম পানি লাগে। এটা শুনতে ইতিবাচক শোনালেও ব্যাপারটা তা নয়। কারণ এসব ফসল মাটি থেকে কম পুষ্টি টেনে নিচ্ছে।

অধ্যাপক ইবির গবেষণা দল যেসব ধান নিয়ে গবেষণা করেছেন, সেখানে গতে ৩০ শতাংশ হারে ভিটামিন বি কমে গেছে। এতে গর্ভবতী নারীদের জন্য জরুরি ফলিক অ্যাসিডের পরিমাণও স্বাভাবিক মাত্রার চেয়ে কমে যাচ্ছে।

বিশ্বের উষ্ণতা বৃদ্ধির মানে হলো রোগব্যাধির প্রকোপও বেড়ে যাওয়া।তিনি বলেন,”মশাবাহিত রোগের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ার বড় ঝুঁকি রয়েছে। এর পাশাপাশি ডায়রিয়া ও সংক্রমণ রোগের প্রকোপও বাড়ছে।আমাদের পৃথিবী যত বেশি উষ্ণ হয়ে উঠছে, ততই রোগব্যাধি বিস্তারের এলাকা বাড়ছে, দীর্ঘসময় ধরে এসব রোগ থাকছে। এসব রোগের বিস্তার অনেক বেশি হচ্ছে।আর অনেক ক্ষেত্রেই এসব রোগের প্রাথমিক শিকার হচ্ছে শিশুরা। এ কারণেই আমরা মা ও শিশুদের স্বাস্থ্য নিয়ে বেশি উদ্বিগ্ন কারণ তারা ঝুঁকির দিক থেকে সামনের কাতারে রয়েছে। তাদের ওপরেই এসব পরিবর্তনের প্রভাব বেশি পড়ছে।”

যেসব রোগব্যাধি সাধারণত গ্রীষ্মপ্রধান এলাকায় দেখা যেত, এখন সেসব রোগ উত্তরের এলাকাতেও ছড়িয়ে পড়ছে।এ বছর প্রথমবারের মতো জার্মানিতে ওয়েস্ট নিল ভাইরাসের রোগীর দেখা পাওয়া গেছে, যা একটি মশাবাহিত রোগ। গাব্রিয়চ বলেন, ”এসব সংক্রমণ রোগের বিস্তারের ফলে মানুষ উপলব্ধি করতে শুরু করেছে যে, জলবায়ু পরিবর্তন আমাদের ওপরেও আসতে শুরু করেছে।”

নোবেল বিজয়ী পিটার অ্যাগর বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে রোগব্যাধি ছড়িয়ে পড়ছে। এমন সব এলাকায় এমন রোগ দেখা যাচ্ছে যা আগে দেখা যায় নি এবং নতুন নতুন এলাকায় রোগের বিস্তার দেখা যাচ্ছে। দক্ষিণ আমেরিকা ও আফ্রিকায় দেখা যাওয়া কিছু রোগ উঁচু এলাকার দিকেও এখন দেখা যেতে শুরু করেছে।এটা গুরুত্বপূর্ণ এ কারণে যে, গ্রীষ্মপ্রধান এলাকার মানুষজন সাধারণত রোগ থেকে নিজেদের রক্ষা করতে উঁচু এলাকায় বসবাস করেন।সূত্র : বিবিসি।

“Green Page” কে সহযোগিতার আহ্বান

সম্পর্কিত পোস্ট

Green Page | Only One Environment News Portal in Bangladesh
Bangladeshi News, International News, Environmental News, Bangla News, Latest News, Special News, Sports News, All Bangladesh Local News and Every Situation of the world are available in this Bangla News Website.

এই ওয়েবসাইটটি আপনার অভিজ্ঞতা উন্নত করতে কুকি ব্যবহার করে। আমরা ধরে নিচ্ছি যে আপনি এটির সাথে ঠিক আছেন, তবে আপনি ইচ্ছা করলেই স্কিপ করতে পারেন। গ্রহন বিস্তারিত