27 C
ঢাকা, বাংলাদেশ
ভোর ৫:১৬ | ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | ১১ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
গ্রীন পেইজ
জলবায়ু পরিবর্তন
পরিবেশ বিশ্লেষন সুলহাত সালেহীন

জলবায়ু পরিবর্তন:তাপমাত্রার উপর লকডাউন এর প্রভাব ‘অতি সামান্য’/’উপেক্ষণীয়’

জলবায়ু পরিবর্তন: তাপমাত্রার উপর লকডাউন এর প্রভাব ‘অতি সামান্য’/’উপেক্ষণীয়’

মূল: Matt McGrath for BBC
বাংলারূপ: সুলহাত সালেহীন

চিত্র: কোভিড-১৯ লকডাউন চলাকালে সড়কে গাড়ী চলাচল কদাচিৎ ছিল।
চিত্র: কোভিড-১৯ লকডাউন চলাকালে সড়কে গাড়ী চলাচল কদাচিৎ ছিল।

বিজ্ঞানীরা জানিয়েছে যে বিশ্বে লকডাউন চলাকালীন সময়ে নাটকীয়ভাবে গ্রীনহাউস এবং পরিবেশ দূষণকারী গ্যসমূহের নির্গমণের অবনতি আমাদের এই উষ্ণ পৃথিবীতে খুব কম প্রভাব ফেলবে।

তাদের নতুন গবেষণা থেকে জানা যায় যে, ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বের তাপমাত্রা প্রত্যাশার চেয়ে o.০১ ডিগ্রী সেন্টিগ্রেট কম হবে।

তবে গবেষণার লেখকগণ জোর দিয়েছেন যে, দীর্ঘ সময়ের জন্য পরিবেশের উন্নয়ন উল্লেখযোগ্য হারে পরিবর্তন হতে পারে।

একটি শক্তিশালী সবুজ উদ্দীপনা এই শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে বিশ্বকে উষ্ণায়ন ১.৫ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড ছাড়িয়ে যেতে পারে।

  • পুরানো ভবন ধ্বংস করবেন না, স্থপতিদের তাগিদ দিন
  • অতিরিক্ত দূষণকারী গাড়িগুলোর বিজ্ঞাপনগুলি ‘নিষিদ্ধ করা উচিত’
  • ইউরোপীয় কৃত্রিম উপগ্রহগুলিকে বিশ্বের কার্বন নিঃসরণের মানচিত্র তৈয়ার করতে হবে।

ইতোমধ্যে পূর্ববর্তী গবেষণায় প্রমানিত হয়ছে যে, মহামারীর কারনে বিশ্বজুড়ে পরিবহন ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গ্রিনহাউস গ্যাস (কার্বণ ডাই অক্সাইড, মিথেন, নাইট্রাস অক্সাইড ইত্যাদি) নিঃসরণে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।
বিশ্বে দৈনিক কার্বন-ডাই-অক্সাইডের নিঃসরণের সঙ্কট পর্যায় হতে ১৭ শতাংশ কমেছে।

এই গবেষণার ভিত্তি মূলত গুগল এবং অ্যাপল থেকে বিশ্বব্যাপী গতিশীল ডাটা ব্যবহার করে এই অনুসন্ধানগুলি তৈরি করে।

লিডস বিশ্ববিদ্যালয় এর অধ্যাপক পাইর্স ফোস্টার, যিনি এই গবেষণার নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, তিনি তাঁর কন্যা হ্যারিয়েটের সাথে এই গবেষণায় কাজ করেছিলেন, যখন কোভিড ১৯ এর লকডাউনের কারণে তার এ-লেভেল পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছিল।

অন্যান্য গবেষকদের সাথে একত্রে তারা হিসাব করেছেন যে কিভাবে ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে জুনের মধ্যে ১০ টি বিভিন্ন গ্রিনহাউস গ্যাস এবং বায়ু দূষণকারী গ্যসমূহের নির্গমণ ১২৩টি দেশে পরিবর্তিত হয়েছে।




চিত্র: যুক্তরাজ্যের প্রতিবাদকারীরা সরকারকে সবুজ শক্তি (Green energy) তে অধিক বিনিয়োগ করার আহ্বান জানান।
চিত্র: যুক্তরাজ্যের প্রতিবাদকারীরা সরকারকে সবুজ শক্তি (Green energy) তে অধিক বিনিয়োগ করার আহ্বান জানান।

তারা দেখতে পেল যে এপ্রিল মাসে কার্বন -ডাই- অক্সাইড, নাইট্রোজেন অক্সাইড এবং অন্যান্য নির্গমনসমূহ বিশ্বব্যাপী হ্রাস পেয়েছে ১০-৩০ শতাংশ। এটি ঘটেছে মূলত ভূপৃষ্ঠের পরিবহন চলাচল হ্রাসের কারণে।

তবে এই নতুন উদ্যোগটি প্রমাণ করে যে গ্রীনহাউস গ্যাসের কিছুটা হ্রাস হওয়া আসলে উষ্ণায়নের ক্ষেত্রে একে অপরকে বাতিল করে দিয়েছে।

পরিবহন থেকে আসা নাইট্রোজেন অক্সাইডগুলি বায়ুমণ্ডলে সাধারণত উষ্ণতার উপর প্রভাব ফেলেছে। এগুলি ৩০% কমে যাওয়ার সময় সালফার ডাই অক্সাইডকেও হ্রাস করেছিল,যা মূলত আসে কয়লা পোড়ানো থেকে।এই গ্যাসের নিঃসরণ অ্যারোসোল গঠনে সহায়তা করে যা সূর্যের আলোকে আবার মহাকাশে প্রতিফলিত করে এবং গ্রহকে শীতল করে।

মহামারীগুলির সীমানায় অস্থায়ীভাবে প্রকৃতির এই ভারসাম্যটি সাধারনত ঘটে, যার ফলে ২০৩০ সালের মধ্যে উষ্ণায়নের প্রভাব খুব কমই অনুভূত হবে।

চিত্র: সরকারসমূহ চাছ্ছে যে মানুষ বেশী বেশী পরিমানে সাইকেলে যাতায়ত করুক যা স্বাস্থ্যের জন্য এবং পবিশ ও জলবায়ুর জন্য উপকারী।
চিত্র: সরকারসমূহ চাছ্ছে যে মানুষ বেশী বেশী পরিমানে সাইকেলে যাতায়ত করুক যা স্বাস্থ্যের জন্য এবং পবিশ ও জলবায়ুর জন্য উপকারী।

লিডস বিশ্ববিদ্যালয় এর অধ্যাপক পাইর্স ফোস্টার বলেছেন, “অস্থায়ী পরিবর্তনগুলি সহায়তা করতে পারলেও, বৈশ্বিক উষ্ণায়ন রোধ করতে হলে স্থায়ীভাবে কার্বন ডাই অক্সাইড এর নি:সরণ হ্রাস করতে হবে।”

“কার্বন ডাই অক্সাইড দীর্ঘসময় বায়ুমন্ডলে বেঁচে থাকে, অতএব পূর্বের নির্গত কার্বন ডাই অক্সাইডকে নি:শেষ করতে হলে দীর্ঘসময়ের জন্য আমাদেরকে কার্বন নিঃসরণ শূন্য পর্যায়ে নামিয়ে আনতে হবে।

হ্যারিয়েট ফোস্টার, এই গবেষণাটির সহলেখক যিনি তার বাবার সাথে কাজ করেছেন, বলেছেন যে, সাম্প্রতিক প্রভাবগুলি স্থায়ী হবে না, তবে সরকারসমূহের পক্ষে পথ পরিবর্তন করার সুবর্ণ সুযোগ রয়েছে।

তিনি ব্যাখ্যায় বলেন যে, “আমাদের গবেষণা দলিল দেখায় যে, লকডাউনের প্রকৃত প্রভাবটি জলবায়ুর উপর খুব কম। এ ক্ষেত্রে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হ’ল সবুজ শিল্পে বিনিয়োগের মাধ্যমে আমাদের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির বিশাল সুযোগ দেওয়া – এবং ভবিষ্যতে জলবায়ুর ক্ষেত্রে এটি একটি বিশাল পরিবর্তন আনতে পারে।”

এই মুহুর্তে, গবেষণা দলিল লেখকদের ভাষায় রাস্তার যানজট এখনও অনেক দেশে কম রয়েছে, গুগলের তথ্য অনুসারে যুক্তরাজ্যের পরিবহনের সমস্ত খাতে ২৫ শতাংশ বা তারও কম রয়েছে, যেখানে যুক্তরাজ্যের সরকারের সরকারী তথ্যে মোটর গাড়ীর চলাচল ১২ শতাংশের নিচে রয়েছিল, তবে বাস এবং ট্রেনগুলি ৫০ শতাংশেরও কম চলছে।

গবেষণা দলটি বলেছে যে পরিবহন ব্যবস্থা যদি ঠিক আগের মত ফিরে যায় এবং বিশ্ব যদি অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের সময় জীবাশ্ম জ্বালানিতে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে দৃঢ় থাকে, তবে ২০৫০ সাল নাগাদ পৃথিবীর উষ্ণতা ১.৫ ডিগ্রী সেলসিয়াসের উপরে চলে যাওয়ার খুব আশংকা রয়েছে।

কিন্তু যদি পৃথিবীর অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে সবুজ হয়, জীবাশ্ম জ্বালানীর অন্তর্গমন ও বহির্গমন পরিহার করে এবং ২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বে কার্বণ নির্গমনকে গড় শূন্যে আনা সম্ভব হয়, তবে শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে বিশ্বের তাপমাত্রা ১.৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস এর নিচে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

সুতরাং এটি ঘটতে সহায়তা করার জন্য কি করা প্রয়োজন? গবেষণার সহ-লেখক আঞ্জলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক করিনে লে কুরি বলেছেন যে, এখনি কিছু পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।

তিনি বিবিসি নিউজকে বলেন, “শহরগুলিতে, সাইকেল চালানো (বৈদ্যুতিক বাইক সহ) এবং হাঁটাকে সমর্থন করা উচিত। কারণ এটি জলবায়ুর বহুমূখী উপকারিতা, এটি বায়ু দূষণ হ্রাস করে এবং স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।“

“অন লাইনের মাধ্যমে দূরবর্তী কাজ সম্পাদনকে উৎসাহ প্রদান করা যতক্ষণ না পর্যন্ত পরিবহনের উপর জনসাধারণের চাপ কমানোর জন্য সামাজিক দূরত্ব মেনে চলা পরিহার করা না হয়। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সমস্ত গাড়ি বৈদ্যুতিক হওয়া দরকার।“

চ্যালেঞ্জটি পূরণ করার ব্যাপারে অধ্যাপক ফোস্টার আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন যে, “কোভিড-পরবর্তী অর্থনৈতিক কর্মপ্রেরণাটি কেবল বৈদ্যুতিক গাড়ি উৎপাদনের মাধ্যমে শিল্পের পরিবর্তনে ব্যাপক সহায়তা করতে পারে।“
তিনি বলেন, “ ঐতিহাসিকভাবে দুর্যোগগুলোই সবচেয়ে বড় পরিবর্তনের সময়”।

“সরকার, শিল্প এবং জনসাধারণের কণ্ঠস্বর সব মিলিয়ে যদি একসাথে কাজ করে; যেমন সবুজ কর্ম এবং সবুজ বিনিয়োগ, তবে ফেলে আসা জলবায়ুতে ফিরে যাওয়ার ভাল উপায় হবে”

“আমাদের অবশ্যই এটি করা প্রয়োজন”।

Ref: BBC

সম্পর্কিত পোস্ট

Green Page | Only One Environment News Portal in Bangladesh
Bangladeshi News, International News, Environmental News, Bangla News, Latest News, Special News, Sports News, All Bangladesh Local News and Every Situation of the world are available in this Bangla News Website.

এই ওয়েবসাইটটি আপনার অভিজ্ঞতা উন্নত করতে কুকি ব্যবহার করে। আমরা ধরে নিচ্ছি যে আপনি এটির সাথে ঠিক আছেন, তবে আপনি ইচ্ছা করলেই স্কিপ করতে পারেন। গ্রহন বিস্তারিত