18 C
ঢাকা, বাংলাদেশ
সকাল ৮:৪০ | ৫ই ডিসেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | ২০শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
গ্রীন পেইজ
চট্টগ্রামের বাতাসে ধূলিকণার পরিমাণ সহনীয় মাত্রার ৯ গুণ বেশি
পরিবেশ দূষণ

চট্টগ্রামের বাতাসে ধূলিকণার পরিমাণ সহনীয় মাত্রার ৯ গুণ বেশি

অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর হয়ে উঠেছে চট্টগ্রামের পরিবেশ।পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম মহানগর কার্যালয় পরিচালিত এক সমীক্ষায় এবার রাজধানী ঢাকার পর বৃহত্তর চট্টগ্রামের বায়ুতে সহনীয় মাত্রার চেয়ে ৯ গুণ বেশি ধূলিকণা থাকার তথ্য পাওয়া গেছে।

জানা গেছে, রাস্তা খোঁড়াখুঁড়িকর জন্যই এই ধূলিকণার সৃষ্টি।বাতাসে ধূলিকণার পরিমান বৃদ্ধি পাওয়ায় নগরীতে শ্বাসকষ্টসহ নানা রোগব্যাধি ছড়িয়ে পড়ছে।

পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম মহানগর কার্যালয়ের পরিচালক (ল্যাব) মো. নূরউল্লাহ নূরী বলেন, প্রতি ঘনমিটার বাতাসে ধূলিকণার পরিমাণ ১৫০ মাইক্রোগ্রাম পর্যন্ত সহনীয়। কিন্তু চলতি বছরের ২৪ নভেম্বর পরিমাপ যন্ত্রের মাধ্যমে দেখা যায় প্রতি ঘনমিটার বাতাসে ধুলোর পরিমাণ নগরীর আগ্রাবাদে ৩০৯ মাইক্রোগ্রাম, একে খান মোড়ে ৪৫০ মাইক্রোগ্রাম এবং চট্টগ্রাম পরিবেশ অধিদপ্তর অফিসের সামনে ৭০০ মাইক্রোগ্রাম।সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থা নগরীর হেলদি ও ভিআইপি ওয়ার্ড জামালখানের।

এখানে বাতাসে ধূলিকণার পরিমাণ পাওয়া গেছে ১ হাজার ৩৪০ মাইক্রোগ্রাম! এর আগে ২০১৭ সালে চট্টগ্রাম মহানগরে বাতাসে ধুলিকণার পরিমাণ ছিল গড়ে ২৩২ মাইক্রোগ্রাম। ২০১৮ সালে ২৭৩ মাইক্রোগ্রাম ছিল। যা চলতি বছরে ৩৩০ মাইক্রোগ্রামের উপরে।

জানা যায়, নগরীর বহদ্দারহাট, মুরাদপুর, চকবাজার, জামালখান, নাসিরাবাদ, হালিশহর, টাইগারপাসসহ বিভিন্ন স্থানে উন্নয়ন কাজ করছে সরকারি সেবা সংস্থাগুলো। উন্নয়ন কাজ করতে গিয়ে পুরো শহরই পরিণত হয়েছে ধুলার রাজ্যে। উন্নয়ন কাজে দিনে তিনবার পানি ছিটানো কথা থাকলেও তারা এ নিয়ম মানছেন না। ফলে চট্টগ্রামের বাতাসে ধূলিকণার পরিমাণ বেড়েই চলেছে।

পরিবেশ অধিদপ্তর জানায়, বাতাসে প্রতি ঘনমিটারে ২ দশমকি ৫ মাইক্রোমিটার ব্যাসের বস্তুকণার পরিমাণ যদি শূন্য থেকে ৫০ পিপিএমের মধ্যে থাকে, তাহলে ওই বাতাসকে বায়ু মানের সূচকে (একিউআই) ভালো বলা যায়। এই মাত্রা ৫১ থেকে ১০০ পিপিএমের মধ্যে থাকলে বাতাস মধ্যম মানের। ১০১ থেকে ১৫০ পিপিএমের হলে বাতাস বিপদসীমায়। আর পিপিএম ১৫১-২০০ হলে বাতাসকে অস্বাস্থ্যকর, ২০১-৩০০ হলে খুব অস্বাস্থ্যকর এবং ৩০১-৫০০ হলে অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর বলা হয়। সেক্ষেত্রে চট্টগ্রামের পরিবেশকে অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম মহানগরীর পরিচালক আজাদুর রহমান মল্লিক বলেন, বায়ুদূষণের বিষয়ে সতর্ক করে পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম মহানগরীর সেবা সংস্থাগুলোকে চিঠি দিয়েছে। কিন্তু এরপরও ধুলাবালি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না উন্নয়ন সংস্থাগুলো।সড়কে মালামাল, ময়লার স্তূপ আর যানবাহনের ছোটাছুটিতে বাতাসে ধুলাবালির আধিক্যতা জনস্বাস্থ্যকে হুমকির মুখে ফেলেছে। যানবাহনের ধোঁয়ায় বিশুদ্ধ বাতাস হয়ে যাচ্ছে বিষাক্ত। সরকারি সেবা সংস্থাগুলো পরিবেশবান্ধব পদ্ধতি অনুসরণ না করায় তীব্র বায়ুদূষণ হচ্ছে।

বায়ুদূষণে কি কি রোগ সৃষ্টি হতে পারে তা চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অধ্যাপক শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. জাহাঙ্গীর হোসেন খানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বায়ুদূষণে নগরীর বাতাসে বেশি মাত্রায় পিএম থাকায় মানুষের ধমনীতন্ত্র, শ্বাসতন্ত্র এবং স্নায়ুতন্ত্র আক্রান্ত হচ্ছে বেশি। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে শিশুরা। এভাবে বায়ুদূষণ প্রবণতা অব্যাহত থাকলে অকাল মৃত্যুর হার বেড়ে যাবে।

“Green Page” কে সহযোগিতার আহ্বান

সম্পর্কিত পোস্ট

Green Page | Only One Environment News Portal in Bangladesh
Bangladeshi News, International News, Environmental News, Bangla News, Latest News, Special News, Sports News, All Bangladesh Local News and Every Situation of the world are available in this Bangla News Website.

এই ওয়েবসাইটটি আপনার অভিজ্ঞতা উন্নত করতে কুকি ব্যবহার করে। আমরা ধরে নিচ্ছি যে আপনি এটির সাথে ঠিক আছেন, তবে আপনি ইচ্ছা করলেই স্কিপ করতে পারেন। গ্রহন বিস্তারিত