30 C
ঢাকা, বাংলাদেশ
রাত ৮:২১ | ২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | ১৪ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
গ্রীন পেইজ
ঘূর্ণিঝড় আম্ফান প্রাকৃতিক পরিবেশ

ঘূর্ণিঝড় আম্ফানে সুন্দরবনে উপড়ে পড়েছে প্রায় সাড়ে ১২ হাজার গাছ, মারা যায়নি বন্যপ্রানী

সুপার সাইক্লোন আম্ফানের কবলে পড়ে দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ভেসে গেছে মাছের ঘের। পানিতে তলিয়ে আছে অনেক ঘরবাড়ি। ভেঙ্গে গেছে বিভিন্ন স্থানের বাঁধ। কিছু কিছু স্থানে এখনো জোয়ারের পানি প্রবাহিত হচ্ছে ভাঙ্গা বাঁধের উপর দিয়ে।

সব মিলিয়ে অনেক ক্ষতি সম্মুখিন হয়েছে উপকূলবাসী। কিন্তু তুলনামূলকভাবে সুন্দরবনের বেশি ক্ষতি হয়নি। সবচেয়ে ভালো খবর হচ্ছে বনের কোনো প্রাণীই এই মারাক্তক ঝড়ে প্রাণ হারায়নি।

সুপার সাইক্লোন আম্ফান সুন্দরবনে ৮ ঘন্টার সময় ধরে তান্ডব চালালেও বড় ধরনের কোন ক্ষয়ক্ষতির চিহ্ন রেখে যেতে পারেনি। গাছ উপড়ে পড়েছে ১২ হাজার ৩৫৮টি। এতে করে গাছের ক্ষতি হয়েছে ১১ লাখ ৪৫ হাজার ৬০ টাকার। মারা যায়নি রয়েল বেঙ্গল টাইগার ও হরিণসহ কোন বন্যপ্রানী।

১০টি জলযানসহ অবকাঠামোর ক্ষতির পরিমান দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৩ লাখ ৮৭ হাজার ৪০০ টাকার। সবাই মিলিয়ে আম্ফানে আঘাতে সুন্দরবনে ক্ষয়ক্ষতির পরিমান দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ২৫ লাখ ৩২ হাজার ৪৬০ টাকায়। সুন্দরবনের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে গঠিত ৪টি তদন্ত কমিটির দাখিলকৃত রিপোর্টে এসব তথ্য উঠে এসেছে।



গতকাল রবিবার (২৪ মে) রাতে সুন্দরবনের পূর্ব ও পশ্চিম বিভাগের দুই ডিএফও পৃথক ৪টি তদন্ত রিপোর্ট হাতে পেয়েই তার ঊর্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়ে দেন। বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন্ধ কর্মকর্তা (ডিএফও) মুহাম্মদ বেলায়েত হোসনে ও খুলনার পশ্চিম সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) বশির আল মামুন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সুন্দরবন বিভাগের এ দুই শীর্ষ কর্মকর্তা তাদের কাছে চারজন রেঞ্জ কর্মকর্তার জমা দেয়া তদন্ত রিপোর্টের উদ্ধৃতি দিয়ে জানান, পশ্চিম সুন্দরবন বিভাগে আম্ফানের তান্ডবে ১২ হাজার ৩৩২টি গেওয়া, গরান গাছ ভেঙে -উপড়ে গেছে।

এরমধ্যে গরান গাছের সংখ্যা ১০ হাজার ৫৭৯টি। আর বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবন বিভাগে গাছ ভেঙে -উপড়ে পড়েছে মাত্র ২৬টি। এই ২৬টি গাছ হচ্ছে বন অফিস চত্ত্বরে বনায়ন করা নারকেল, তাল, ঝাউ, বট ও রেইনটি গাছ।

সুন্দরবনে আম্ফানের তান্ডবলীলায় ২৬টি জেটি ধ্বংস হয়ে গেছে। ৪৯টি ফরেস্ট অফিস ও ব্যারাক চাল উড়ে এবং গাছ পড়ে ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। হারবাড়িয়ায় একটি ওয়াচ টাওয়ার ভেঙে পড়েছে। করমজল বন্যপ্রানী প্রজনন কেন্দ্রর হরিণ ও ডলফিনের শেড ভেঙে লন্ডভন্ড হয়ে গেছে।

পশ্চিম সুন্দরবন বিভাগের ১০টি জলযানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। পূর্ব বিভাগে ১৭টি ও পশ্চিম সুন্দরবন বিভাগের ২৩টিসহ ৪০টি পুকুর জলোচ্ছ্বাসে লবণ পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে করে সুন্দরবনে বাঘ-হরিণসহ বন্যেপ্রানীদের খাবার পানির উৎসে চরম সংকট দেখা দিয়েছে।

সম্পর্কিত পোস্ট

Green Page | Only One Environment News Portal in Bangladesh
Bangladeshi News, International News, Environmental News, Bangla News, Latest News, Special News, Sports News, All Bangladesh Local News and Every Situation of the world are available in this Bangla News Website.

এই ওয়েবসাইটটি আপনার অভিজ্ঞতা উন্নত করতে কুকি ব্যবহার করে। আমরা ধরে নিচ্ছি যে আপনি এটির সাথে ঠিক আছেন, তবে আপনি ইচ্ছা করলেই স্কিপ করতে পারেন। গ্রহন বিস্তারিত