21 C
ঢাকা, বাংলাদেশ
ভোর ৫:৪৬ | ২৫শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | ১০ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
গ্রীন পেইজ
গাবতলী-মিরপুর সড়ক যেন ধুলার রাজত্ব
পরিবেশ দূষণ

গাবতলী-মিরপুর সড়ক যেন ধুলার রাজত্ব

সড়কে নেই খোঁড়াখুঁড়ি, নেই কোনো নির্মাণযজ্ঞও তবুও রাজধানী ঢাকার গাবতলী বাসস্ট্যান্ডের দিকে এগোতেই ধুলার রাজ্য যেন গ্রাস করে নিলো সকল কিছুকে।তাহলে চিন্তার বিষয় এত ধুলা আসলো কোথা থেকে? জানা যায়, বাসস্ট্যান্ডের কাছেই বেড়িবাঁধ।আর সেখানেই বুড়িগঙ্গা নদীর ঘাটে ভেড়ানো  কতগুলো নৌকা থেকে কয়েক শ শ্রমিক ঝুড়িতে করে বালু নিয়ে সেই বালু স্তূপ করে রাখছে নদীর পাড়ে।আবার এর পাশেই শ্রমিকেরা হাতুড়ি দিয়ে ইট ভাঙছে। সেই ইটভাঙার ধুলা, রাস্তার ধুলা, বাতাসে উড়ে আসা বালু—সব মিলিয়ে গোটা এলাকা ধুলার রাজ্যে রূপ নিয়েছে।

শুধু গাবতলী ও মোহাম্মদপুর এলাকা নয়, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের প্রায় সব এলাকাতেই এখন ধুলার রাজত্ব। নগরের প্রধান-অপ্রধান সড়ক ঘেঁষে লাগানো গাছগুলোর সবুজ পাতায় ধুলার আস্তর দেখে পরিস্থিতি কিছুটা আঁচ করা যায়। এই মুহূর্তে ঢাকায় চলছে মেট্রোরেল ও অ্যালিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েসহ বেশ কয়েকটি বড় উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ। পাশাপাশি নগরজুড়ে চলছে বিভিন্ন সেবা সংস্থার খোঁড়াখুঁড়ি ও আবাসন সংস্থার নির্মাণযজ্ঞ।

গতকাল বৃহস্পতিবার গাবতলী বেড়িবাঁধ এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় এই চিত্র। সেখানকার বাসিন্দা আশরাফুল আলম বলেন, ‘এই ধুলার অত্যাচারের কোনো শেষ নাই। শুনি, সিটি করপোরেশন পানি ছিটাচ্ছে। গত ১৫ দিনে এই এলাকায় কোনো পানির গাড়ি দেখলাম না।’

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) হিসাবে, সংস্থাটি এই মুহূর্তে ১০ কিলোমিটারের মতো সড়কে খোঁড়াখুঁড়ি করছে। পাশাপাশি ওয়াসা, ডেসকো, ডিপিডিসিসহ বিভিন্ন সেবা সংস্থা ৩০ কিলোমিটারের মতো সড়ক খুঁড়ে রেখেছে। দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) সূত্রে জানা যায়, দক্ষিণে প্রায় ৬০ শতাংশ সড়কে চলছে খোঁড়াখুঁড়ির কাজ। যার মধ্যে ওয়াসার কাজই সবচেয়ে বেশি।

ডিএনসিসির যান্ত্রিক সার্কেলের ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আবুল হাসনাত মোহাম্মদ আশরাফুল আলম বলেন, বর্তমানে গাবতলীসহ উত্তর সিটির বিভিন্ন এলাকার প্রধান প্রধান সড়কে ১০টি গাড়িতে করে প্রতিদিন ৪ লাখ ৫ হাজার লিটার করে পানি ছিটানো হচ্ছে। তবে বেড়িবাঁধ এলাকার অন্তত পাঁচজন বাসিন্দা বলেন, তাঁরা গত ১৫ দিনে এই সড়কে ডিএনসিসিকে পানি ছিটাতে দেখেননি।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের যুগ্ম সম্পাদক ইকবাল হাবিব বলেন, নদীপাড়ের আচ্ছাদনহীন এই স্তূপগুলো থেকে যখন বালু ট্রাকে করে শহরের বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়, তখনো তাতে ঢাকনা দেওয়ার কোনো ব্যবস্থা থাকে না। ফলে তা শহরময় ছড়িয়ে পড়ে। এ ছাড়া ইটভাঙা থেকে যে সূক্ষ্ম ধূলিকণা বের হয়, তা-ও তো আটকানোর কোনো পথ নেই। শুধু গাবতলী কিংবা আমিনবাজার নয়, শহরের মধ্যেও নানা জায়গায় এভাবে উন্মুক্ত পরিবেশে ইট ভাঙতে দেখা যায়।

এদিকে গত বুধবার মিরপুর ১৪ নম্বর থেকে ভাসানটেক যাওয়ার সড়কে গিয়ে নির্মাণকাজের ধুলা দেখা গেল। সড়কটির উন্নয়নকাজ চলছে প্রায় এক বছর ধরে। দুই পাশের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে সড়কটি সম্প্রসারিত হচ্ছে, পাশাপাশি চলছে নিষ্কাশনের নালা বসানোর কাজ। এই সড়কে প্রতিদিন সকালে একবার পানি ছিটিয়ে যায় সিটি করপোরেশনের গাড়ি। কিন্তু রোদে পানি শুকিয়ে যাওয়ার পর আবার ধুলায় ডুবে যায়। একই অবস্থা দেখা যায় মিরপুরের কালসী রোড, ইসিবি চত্বর, মিরপুর ১২ নম্বর এলাকায়। এ ছাড়া পুরান ঢাকার ধোলাইখাল, দয়াগঞ্জ, যাত্রাবাড়ীর শহীদ ফারুক রোড, গেন্ডারিয়া, জুরাইন ও পোস্তগোলাও ধুলায় ধূসর হয়ে আছে।

উল্লেখ্য, এয়ার ভিজ্যুয়ালের পর্যবেক্ষণ অনুসারে, গত ১ থেকে ২৫ নভেম্বর পর্যন্ত আট দিন (দিনের বেশির ভাগ সময়) ঢাকা ছিল বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত বায়ুর শহর। বাংলাদেশে বায়ুদূষণের উৎস নিয়ে চলতি বছরের মার্চে একটি গবেষণা প্রকাশ করে পরিবেশ অধিদপ্তর ও বিশ্বব্যাংক। তাতে দেখা যায়, ঢাকায় বায়ুদূষণের প্রধান তিনটি উৎসের মধ্যে ইটভাটা ও যানবাহনের কালো ধোঁয়ার পাশাপাশি নির্মাণকাজসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে সৃষ্ট ধুলা অন্যতম।

“Green Page” কে সহযোগিতার আহ্বান

সম্পর্কিত পোস্ট

Green Page | Only One Environment News Portal in Bangladesh
Bangladeshi News, International News, Environmental News, Bangla News, Latest News, Special News, Sports News, All Bangladesh Local News and Every Situation of the world are available in this Bangla News Website.

এই ওয়েবসাইটটি আপনার অভিজ্ঞতা উন্নত করতে কুকি ব্যবহার করে। আমরা ধরে নিচ্ছি যে আপনি এটির সাথে ঠিক আছেন, তবে আপনি ইচ্ছা করলেই স্কিপ করতে পারেন। গ্রহন বিস্তারিত