29 C
ঢাকা, বাংলাদেশ
ভোর ৫:৪৪ | ১৪ই জুলাই, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | ৩০শে আষাঢ়, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
গ্রীন পেইজ
খাগড়া গাছ, গাছের মাধ্যমে খনিজ উত্তোলন, ফিরবে মাটির বিশুদ্ধা
প্রাকৃতিক পরিবেশ

গাছের মাধ্যমে খনিজ উত্তোলন, ফিরবে মাটির বিশুদ্ধা

আমরা পৃথিবী সম্পর্কে অনেক ধরনের তথ্য জানতে পারি। শুধু পৃথিবী নিয়ে আমাদের বিজ্ঞানিরা থেমে থাকেনি। সমগ্র মহাবিশ্ব নিয়ে বিজ্ঞানিরা গবেষণা চালাচ্ছেন। গবেষণা চলাকালীন সময়ে নানান ধরনের অবিশ্বাস্য সব তথ্য জানতে পারি আমরা। এমনই এক ধরনের তথ্য উঠে এসেছে যে গাছের মাধ্যমে মাটিতে থাকা ভারি ধাতু মুষে নিতে পারে। গাছের মাশ্যমেই আহরণ করা যাবে খনিজ পদার্থ। যার ফলে ফিরে আসবে মাটির বিশুদ্ধা। ভালো হবে পরিবেশ।

পৃথিবীতে এক প্রজাতির গাছ রয়েছে যা মাটিতে মিশে থাকা ভারি ধাতু শুষে নিতে পারে। যার ফলে মাটির শুদ্ধতা ফিরে আসে। এসব গাছের মাধ্যমে গতানুগতিক কোনো যন্ত্রপাতি ছাড়াই খনিজ পদার্থ আহরণ করা যায়। জার্মানির ফ্রাইবুর্গ টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটির গবেষকরা এক ধরনের খাগড়া ঘাসের মাধ্যমে মাটি থেকে জারমেনিয়াম নামে একটা খনিজ পদার্থ উত্তোলন করেছেন। পৃথিবীতে ধাতুর চাহিদা তেলের মতোই ব্যাপক। এমনকি কোনো কোনো পূর্বানুমান বলছে, ইলেকট্রিক গাড়ির সংখ্যা বাড়তে থাকায় একটা সময়ে গিয়ে তেলের চেয়েও ধাতুর চাহিদা বেড়ে যাবে। সমস্যা হচ্ছে, এসব ধাতু অনেক মূল্যবান এবং এগুলোর উত্তোলনও সহজ নয়। উপধাতু জার্মেনিয়ামের কথাই ধরা যাক। এটা ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতিতে ব্যবহার করা হয়। এ জন্য সংশ্লিষ্ট শিল্প কারখানায় এর বেশ চাহিদা রয়েছে। এটা আলো পরিবাহী। এ কারণে রাতের গগলস, গাড়ির দূরত্ব পরিমাপক সেন্সরে এর ব্যবহার রয়েছে। কিন্তু জার্মেনিয়াম সহজে মিলে না। যদিও এটা সিলিকনের কাছাকাছি এবং সারা পৃথিবীর মাটিতেই এটা পাওয়া যায়। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, মাটিতে এর ঘনত্ব খুবই কম। এক মেট্রিক টন মাটিতে সাধারণত ১ দশমিক ৫ গ্রাম জার্মেনিয়াম পাওয়া যায়। এই প্রকল্পের পেছনে রয়েছেন ডাচ ডিজাইনার ডান রোসেনগার্ড। তিনি মনে করেন, বিশুদ্ধ বাতাস পাওয়াটা মানবাধিকার। আর সেটা নিশ্চিত করতেই এই প্রকল্প এগিয়ে নিয়ে যেতে চান রোসেনগার্ড।এই পদ্ধতি বেশ ব্যয়বহুল হওয়ায় শিল্প কারখানাগুলো তাদের চাহিদা মেটাতে কয়লার ছাই বা প্রক্রিয়াজাতকৃত আকরিক দস্তা থেকে এটা সংগ্রহ করে। এক কেজি জার্মেনিয়ামের দাম দুই হাজার ইউরোর মতো।ফ্রাইবুর্গের ইউনিভার্সিটি অফ মাইনিং অ্যান্ড টেকনোলজির জীববিজ্ঞানী হ্যারমান হাইলমায়ার মাটি থেকে জার্মেনিয়াম সংগ্রহে গাছকে কাজে লাগিয়েছেন। তিনি এক ধরণের খাগড়া ঘাসের মাধ্যমে এই পরীক্ষা চালান। আর্দ্র তৃণভূমিতে এই গাছটি বেশ চোখে পড়ে। দক্ষিণ স্ক্যান্ডিনেভিয়ার কৃষকরা জ্বালানি চাহিদা মেটাতে এর চাষ করে থাকেন। এই গাছগুলো সিলিকন অ্যাসিড শুষে নেয় এবং তাদের পাতায় ছোট ছোট বালুকণার মতো করে একত্রিত করে। এটা শিকারীর হাত থেকে গাছকে সুরক্ষা দেয়। বালুকণা বা ঘাসের স্বাদ ভালো না।এই ঘাস জার্মেনিয়ামকেও একইভাবে প্রক্রিয়াজাত করে। চাষের পর এটিকে শুকিয়ে পোড়ানো হয়। এই ঘাস থেকেও খুব বেশি জার্মেনিয়াম পাওয়া যায় না। এক মেট্রিক টন ছাই থেকে ১০০ গ্রাম পাওয়া যায়।

সম্পর্কিত পোস্ট

Green Page | Only One Environment News Portal in Bangladesh
Bangladeshi News, International News, Environmental News, Bangla News, Latest News, Special News, Sports News, All Bangladesh Local News and Every Situation of the world are available in this Bangla News Website.

এই ওয়েবসাইটটি আপনার অভিজ্ঞতা উন্নত করতে কুকি ব্যবহার করে। আমরা ধরে নিচ্ছি যে আপনি এটির সাথে ঠিক আছেন, তবে আপনি ইচ্ছা করলেই স্কিপ করতে পারেন। গ্রহন বিস্তারিত