24 C
ঢাকা, বাংলাদেশ
রাত ২:০৩ | ৫ই ডিসেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | ২০শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
গ্রীন পেইজ
পরিবেশ বিজ্ঞান

গবেষণায় মেঘের ওজন

অনেকেই অনেক কিছুর ওজন জানে এবারের প্রসঙ্গ মেঘের ওজন কত ? বিষয়টি যদি এমন হতো যে হাতে ধরা যায় অথবা ব্যাগে ভড়া যায় কিন্তু বিষয়টি সেরকমও নয়। তাই  মেঘের ওজন মাপার বিষয়টি সকলের কাছেই অন্যরকম। হিলিয়ামে ভর্তি বেলুনের মতোই বাতাসে ভেসে বেড়ায় মেঘ।  তাই ভাববার অবকাশ নেই যে মেঘের কোন ওজন নেই। সুতরাং মেঘের ওজন জানারও উপায় আছে। মেঘের ওজন নিয়ে  মেন্টালফ্লস-এ প্রকাশিত প্রতিবেদন নিয়ে ডেক্স রিপোর্ট প্রকাশ করেছে প্রথম আলো। আর সেই প্রতিবেদনটি তুলে ধরা হলো।

মেঘের ওজন জানতে হলে প্রথমে এর ঘনত্ব জানতে হবে। আমরা সচরাচর তুলার মতো সাদা যে মেঘ দেখি, এর নাম কিউম্যুলাস মেঘ। বাংলা করলে দাঁড়ায় পুঞ্জমেঘ। গবেষকেরা বলছেন, প্রতি ঘনমিটার কিউম্যুলাস মেঘে পানির ঘনত্ব ৫০০ মিলিগ্রাম। মেঘের ধরনভেদে, পানির ঘনত্বও ভিন্ন হবে।

এবার জানতে হবে মেঘের আকার। সূর্য যখন মেঘের ঠিক ওপরে থাকে, তখন ছায়া দেখে এর আকার সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যেতে পারে। গাড়ি চালিয়ে গেলে ওডোমিটারে অতিক্রান্ত দূরত্ব পাওয়া যাবে।

কিউম্যুলাস মেঘের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্ত সচরাচর এক কিলোমিটার হয়ে থাকে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সেন্টার ফর অ্যাটমোস্ফেরিক রিসার্চের গবেষক মার্গারেট লেমোন। মেন্টাল ফ্লস ডটকমকে বলেন, এমন মেঘের উচ্চতাও এক কিলোমিটারের কাছাকাছি হয়ে থাকে। সে হিসাবে ধরে নেওয়া যাক কিউম্যুলাস মেঘের আয়তন ১০০ কোটি ঘনমিটার। অলিম্পিক গেমসের সুইমিংপুলগুলো যদি আড়াই হাজার ঘনমিটার হয়ে থাকে তবে চার লাখ সুইমিংপুলের সমান।

গবেষণায় মেঘের ওজন

এবার দুটো গুণ করলেই মিলবে ওজন। অর্থাৎ পাঁচ লাখ কেজি। পাউন্ডের হিসাবে ১১ লাখ পাউন্ড। তুলনায় গেলে বলা যেতে পারে, ১০০টি হাতির মোট ওজনের সমান। যেহেতু মার্কিন নির্বাচনের মৌসুম, তাই হাতির সঙ্গে গাধার হিসাবটাও দেওয়া যেতে পারে। আড়াই হাজার গাধার ওজনও কিউম্যুলাস মেঘের কাছাকাছিই হবে।

এখন মনে করুন, এই পরিমাণ হাতি বা গাধা আকাশে ভাসছে…নাহ্, কল্পনাতেও সম্ভব নয়। আবার সম্ভবও। ওই কল্পনাতেই। অনেকে তো মেঘেই হাতি-ঘোড়ার আকার কল্পনা করেন, নাকি? আর জীবনানন্দ দাশের কল্পনায় এসেছে পাহাড়ের মতো—‘পাহাড়ের মতো ওই মেঘ/সঙ্গে ল’য়ে আসে/মাঝরাতে কিংবা শেষরাতের আকাশে’। প্রশ্ন হলো, পাহাড়ের মতো এই মেঘ তবে ভেসে থাকে কীভাবে?

মূল কারণ হলো, মেঘের ওজন খুদে খুদে পানির কণায় বিভক্ত। এই পানির কণাগুলোর বিস্তৃতি বিশাল ক্ষেত্রজুড়ে। কণাগুলো এতই ছোট যে কয়েক লাখ কিংবা কোনো কোনো ক্ষেত্রে কোটি কণা জুড়লে এক ফোঁটা বৃষ্টি হবে। কণা ছোট বলেই ওদের মাধ্যাকর্ষণ নগণ্য।

আরেকটি ব্যাপার, শুষ্ক বাতাসের চেয়েও মেঘের ঘনত্ব কম। তাই ওপরের উষ্ণ বাতাস কখনো কখনো এই খুদে পানির কণাগুলো টেনে ওপরে তোলে। সে যাহোক, খুদে কণাগুলো আজীবন ভেসে থাকে না। মেঘে পানির ঘনত্ব বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কণাগুলো বড় হতে থাকে, ওজন বাড়তে থাকে। শেষমেশ ঝরে পড়ে বৃষ্টি হয়ে।

“Green Page” কে সহযোগিতার আহ্বান

সম্পর্কিত পোস্ট

Green Page | Only One Environment News Portal in Bangladesh
Bangladeshi News, International News, Environmental News, Bangla News, Latest News, Special News, Sports News, All Bangladesh Local News and Every Situation of the world are available in this Bangla News Website.

এই ওয়েবসাইটটি আপনার অভিজ্ঞতা উন্নত করতে কুকি ব্যবহার করে। আমরা ধরে নিচ্ছি যে আপনি এটির সাথে ঠিক আছেন, তবে আপনি ইচ্ছা করলেই স্কিপ করতে পারেন। গ্রহন বিস্তারিত