28 C
ঢাকা, বাংলাদেশ
বিকাল ৩:১৬ | ২৮শে নভেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ খ্রিস্টাব্দ | ১৩ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ বঙ্গাব্দ
গ্রীন পেইজ
কার্বনের বোঝা কমাতে সহায়তা করতে পারে অ্যালজি শৈবাল
জীববৈচিত্র্য পরিবেশ গবেষণা

কার্বনের বোঝা কমাতে সহায়তা করতে পারে অ্যালজি শৈবাল

কার্বনের বোঝা কমাতে সহায়তা করতে পারে অ্যালজি শৈবাল

শুধু যানবাহন থেকে কার্বন নির্গমন কমিয়ে জলবায়ু পরিবর্তনের মোকাবিলা করা যে আর সম্ভব নয়, তা এখন স্পষ্ট হয়ে গেছে৷ বায়ুমণ্ডলে কার্বন-ডাই-অক্সাইডের মাত্রা কমাতে অ্যালজিও যথেষ্ট অবদান রাখতে পারে বলে বিজ্ঞানীরা মনে করছেন৷

একেবারে আদি লগ্নে পৃথিবী ছিল বিষাক্ত গ্যাসে ভরা উত্তপ্ত এক খণ্ড৷ প্রাণের কোনো লক্ষণ ছিল না৷ ব্লু অ্যালজি বা সিয়ানোব্যাকটিরিয়া সেই পরিস্থিতি বদলে দিয়েছিল৷ মাইক্রোবায়োলজিস্ট হিসেবে মোরিৎস কখ বিশেষ গোত্রের এই অ্যালজি নিয়ে গবেষণা করছেন৷ তাঁর মতে,

“আমরা যে আজ এমন জগতে বাস করছি, যেখানকার বায়ুমণ্ডলে অক্সিজেন রয়েছে – সেই রূপান্তরের পেছনে তথাকথিত ‘গ্রেট অক্সিজেনেশন ইভেন্ট’-এর অবদান রয়েছে৷ কয়েক কোটি বছর আগে সিয়ানোব্যাকটিরিয়া অক্সিজেন সৃষ্টির কাজ শুরু করেছিল বলেই আজকের প্রাণবন্ত পৃথিবী গড়ে উঠেছে৷”



সিয়ানোব্যাকটিরিয়া আসলে ক্ষুদ্র মাইক্রো অ্যালজি৷ অন্যদিকে ম্যাক্রো অ্যালজি সমুদ্রে ভেসে সৈকতে এসে পড়ে৷ অনেকে সেটিকে শুধু অ্যালজি বা শৈবাল বলেন৷ সামুদ্রিক ইকোলজিস্ট হিসেবে মার ফার্নান্ডেস-মেন্ডেস বলেন,

“অ্যালজি আসলে সামুদ্রিক উদ্ভিদের মতো৷ মাটির উপরের গাছপালার মতো সেগুলিও সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়া চালায়৷ কার্বন-ডাই-অক্সাইড গ্রহণ করে সূর্যের আলোর সাহায্যে সেটি রূপান্তরিত করে৷”

অ্যালজি কীভাবে কার্বন আবদ্ধ করে এবং গোটা সামুদ্রিক খাদ্য শৃঙ্খলাকে প্রভাবিত করে, সামুদ্রিক ইকোলজিস্ট হিসেবে মার ফার্নান্ডেস-মেন্ডেস সে বিষয়ে গবেষণা করছেন৷ বিষয়টি ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন,

“কোনো অ্যালজি যখন সমুদ্রে কার্বন গ্রহণ করে, সেই অভাব পূরণ করতে মহাসাগর সঙ্গে সঙ্গে বায়ুমণ্ডল থেকে কার্বন শুষে নেয়৷ অর্থাৎ কোনো কিছু সরিয়ে ফেরলে ভারসাম্য রক্ষার স্বার্থে বায়ুমণ্ডল তা পূরণ করে৷”

সামুদ্রিক অ্যালজি প্রতি বছর বিশ্বব্যাপী কার্বন নির্গমনের এক চতুর্থাংশ থেকে এক তৃতীয়াংশ শুষে নেয়৷ এমনকি সমুদ্রে না থাকলেও সব অ্যালজি সেই কাজ করে৷ যে কাজেই সেই অ্যালজি ব্যবহার করা হোক না কেন, সেটি চাষ করলে কার্বন ধরা পড়ে৷

কয়েক হাজার বছর ধরে মানুষ অ্যালজি কাজে লাগিয়ে আসছে৷ অ্যামেরিকা ও পূর্ব এশিয়ার আদিবাসীরা সবার আগে অ্যালজি চাষ করেছিল৷ এমনকি সবচেয়ে পুরানো জাপানি কবিতায়ও অ্যালজির উল্লেখ রয়েছে৷

আয়ারল্যান্ডের ‘ক্নর্পেলটাং’ জাতের অ্যালজি গোটা বিশ্বে ‘ক্যারাজিন’ নামের খাদ্যের অ্যাডিটিভ বা সংযোজক হিসেবে কাজে লাগানো হচ্ছে৷ সে দেশে ১৮৪০ সালের বিশাল দুর্ভিক্ষের সময়েও অ্যালজি বিকল্প খাদ্য হিসেবে কাজে লেগেছিল৷



বর্তমানে এশিয়া মহাদেশেই সবচেয়ে বেশি অ্যালজি চাষ হয়৷ রান্নার মধ্যেও এই উপকরণের ব্যবহার হয়৷ টুথপেস্ট, কসমেটিক্স ও ওষুধের মধ্যেও এর প্রয়োগ দেখা যায়৷ এই সব পণ্যের জন্য অ্যালজি চাষের সময় কার্বন ধারণ করা হয় বটে, কিন্তু এখনো পর্যন্ত গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন কমানো এমন কৃষিকাজের প্রধান লক্ষ্য ছিল না৷

এবার সেই পরিস্থিতি বদলাতে পারে৷ কারণ পশুর খাদ্য, সার এবং অরগ্যানিক প্লাস্টিক হিসেবে অ্যালজির ব্যবহার বিভিন্ন শিল্পশাখার ক্ষতিকর কার্বন নির্গমন কমিয়ে দেয়৷ অর্থাৎ কার্বন নির্গমন দুই গুণ কমে যায়৷

যেমন প্লাস্টিকের কথাই ধরা যাক৷ কিছু জাতের অ্যালজি পিএইচবি নামের এক অরগ্যানিক প্লাস্টিক সৃষ্টি করে৷ প্রচলিত প্লাস্টিকের দ্বিতীয় প্রধান উপাদান পলিপ্রোপিলিনের বিকল্প হয়ে উঠতে পারে এই পদার্থ৷ এক যুগান্তকারী গবেষণার মাধ্যমে মোরিৎস ও অন্যান্য গবেষকরা নীল-সবুজ মাইক্রো অ্যালজি বা সিয়ানোব্যাকটেরিয়ায় রূপান্তর ঘটিয়ে এর উৎপাদন বাড়াতে সক্ষম হচ্ছেন৷

মাইক্রোবায়োলজিস্ট হিসেবে মোরিৎস কখ বলেন, “কিছু মেটাবলিক ইঞ্জিনিয়ারিং প্রক্রিয়া কাজে লাগিয়ে আমরা উৎপাদনের পরিমাণ দশ শতাংশ থেকে ৮০ শতাংশ বাড়াতে পেরেছি৷ বলতে গেলে আমরা অরগ্যানিক প্লাস্টিকের এমন ব্যাকটিরিয়া সৃষ্টি করেছি, যা মূলত অরগ্যানিক প্লাস্টিক দিয়েই গঠিত৷”

পিএইচবি আবর্জনা হিসেবে সহজেই পচে যায় এবং অন্যান্য অরগ্যানিক প্লাস্টিকের মতো পরিবেশে কোনো ক্ষতিকর পদার্থ নিঃসরণ করে না৷ সেই অ্যালজি উৎপাদনের অবকাঠামোও প্রস্তুত রয়েছে৷



কখ বলেন, “আসলে বর্তমান প্রযুক্তি কাজে লাগিয়েই নানা ধরনের সিয়ানোব্যাকটেরিয়া উৎপাদন করা সম্ভব৷ শুধু স্পিরুলিনার মতো খাওয়ার উপযোগী উপকরণই নয়, অরগ্যানিক প্লাস্টিক উৎপাদনও এভাবে করা যায়৷”

পানিভিত্তিক চাষের পদ্ধতি কাজে লাগিয়েও ম্যাক্রো অ্যালজি চাষ করা যেতে পারে৷ অ্যাসপারাগোপসিস টাক্সিফর্মিস নামের বিশেষ একটি জাতের অ্যালজির বিস্ময়কর বৈশিষ্ট্য রয়েছে৷ পশুর খাদ্যে সেটি যোগ করলে গবাদি পশুর কারণে মিথেন নির্গমন ৮২ শতাংশ পর্যন্ত কমানো সম্ভব৷

হজমের সময় গবাদি পশুর পেটের মধ্যে মিথেন সৃষ্টি হয়৷ তারপর পশুর শরীর থেকে সেই গ্যাস বেরিয়ে যায়৷ লাল রংয়ের এই অ্যালজির নির্দিষ্ট গুণ সম্ভবত শুরু থেকেই সেই গ্যাস সৃষ্টি হতে দেয় না৷

“Green Page” কে সহযোগিতার আহ্বান

সম্পর্কিত পোস্ট

Green Page | Only One Environment News Portal in Bangladesh
Bangladeshi News, International News, Environmental News, Bangla News, Latest News, Special News, Sports News, All Bangladesh Local News and Every Situation of the world are available in this Bangla News Website.

এই ওয়েবসাইটটি আপনার অভিজ্ঞতা উন্নত করতে কুকি ব্যবহার করে। আমরা ধরে নিচ্ছি যে আপনি এটির সাথে ঠিক আছেন, তবে আপনি ইচ্ছা করলেই স্কিপ করতে পারেন। গ্রহন বিস্তারিত