27 C
ঢাকা, বাংলাদেশ
সকাল ৬:০৫ | ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | ১১ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
গ্রীন পেইজ
গ্রেটা থুনবার্গ
গ্রেটা থুনবার্গ সুলহাত সালেহীন

একবছর দীর্ঘ স্কুলবিহীন দিনগুলোতে কি করেছিলেন গ্রেটা থুনবার্গ

একবছর দীর্ঘ স্কুলবিহীন দিনগুলোতে কি করেছিলেন গ্রেটা থুনবার্গ

– সুলহাত সালেহীন

সাড়া জাগানো বৈশ্বিক জলবায়ু ধর্মঘট

সম্ভবত, এখন পর্যন্ত গ্রেটা থুনবর্গ এর সবচেয়ে বিখ্যাত বক্তৃতা সেটাই যখন নিউ ইয়র্কে তিনি বলেছিলেন, “আমার এখন স্কুলে থাকা উচিত ছিল।”

এখন হতে ঠিক বারো মাস পূর্বের তার ঘটনা এটি।

শিক্ষা কার্যক্রম থেকে এক বছরের বিরতি নিয়ে জলবায়ুর পরিবর্তন মোকাবিলায় কার্যকর ব্যবস্থা নিতে বিশ্ব নেতাদের বোঝাতে ও তাদের উপর এই বিষয়ে চাপ সৃষ্টির জন্যে চেষ্টা করেছেন গ্রেটা থুনবার্গ, এরপর স্কুলে ফিরেছেন তিনি।

“স্কুলের সঙ্গে এক বছরের দূরত্ব শেষে শেষ পর্যন্ত স্কুলে ফিরতে পেরে অসাধারণ লাগছে,” ইনস্টাগ্রামে একটি ছবির ক্যাপশনে এমনটিই লিখেছেন সাড়া জাগানো এই কিশোরী পরিবেশ আন্দোলনকর্মী।

তার বয়সের কিশোর-কিশোরীদের তুলনায় গত ১২টি মাস অসম্ভব ব্যস্ততায় কেটেছে গ্রেটার, কিন্তু গ্রেটা আসলে করতে কী চাইছেন আর বিশ্ব জুড়ে তার কাজের প্রভাবই বা কেমন পড়ছে তাই খুঁজে দেখার চেষ্টা করা হচ্ছে ।

২০১৯ এর আগস্ট মাস: নিউইয়র্কের উদ্দেশ্যে জলযাত্রা

Media caption: গ্রেটার জলযানে নিউিইয়র্ক যাত্রা

স্কুলের লম্বা ছুটিতে অনেক শিক্ষার্থীই নৌকা ভ্রমণ উপভোগ করেন; কিন্তু গ্রেটার নৌ-ভ্রমণের সঙ্গে অন্য কারো নৌ-ভ্রমণের তুলনা করা চলে না। গত বছরের আগস্টে স্কুলের সঙ্গে তার দীর্ঘ বিরতির শুরু হয়েছিল আটলান্টিক মহাসাগরের ৩ হাজার মাইল জলযাত্রার মাধ্যমে।

সে সময় ১৬ বছর বয়সী গ্রেটা যুক্তরাষ্ট্র ও চিলিতে জাতিসংঘের পরিবেশ বিষয়ক দুটি সম্মেলনে অংশ নেওয়ার জন্যে কার্বনের শূন্য নিঃসরণ হয়- এমন একটি প্রমোদতরীতে চেপে ইংল্যান্ডের প্লাইমাউথ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে যাত্রা করেন। ভ্রমণকালে প্রমোদতরী থেকে যত কম সম্ভব কার্বন নিঃসরণ কম রাখাই ছিল তার লক্ষ্য।

দ্য বিগ অ্যাপলে নেমেই তিনি বলেছিলেন, “প্রকৃতির সঙ্গে আমাদের যুদ্ধ বন্ধ হওয়া উচিত।”

সেপ্টেম্বরের ১০১৯ এর প্রথম দিক: জাতিসংঘে গ্রেটার সে ভাসন

Media captionWATCH: গ্রেটা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জাতিসংঘের জলবায়ু কর্ম সম্মেলনে বিশ্ব নেতাদের উদ্দেশ্যে এক আবেগময় বক্তৃতা প্রদান করে।

যুক্তরাষ্ট্রে জাতিসংঘের ক্লাইমেট অ্যাকশন সম্মেলনের বক্তৃতায় গ্রেটা জলবায়ু পরিবর্তন রোধে বিশ্বনেতাদের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।

এই বক্তৃতায় তিনি তার মনের ক্ষোভ ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, “আমার এখানে থাকা উচিত নয়। আমার এখন সমুদ্রের অন্য প্রান্তে, স্কুলে ফিরে যাওয়া উচিত। তারপরও আপনারা এসেছেন আমাদের মতো ছোটদের কাছে আশা নিতে। কী দুঃসাহস আপনাদের। আপনারা আপনাদের ফাঁকা বুলির মাধ্যমে আমার স্বপ্ন আমার শৈশব চুরি করেছেন।”

ওই সম্মেলনে গ্রেটার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পেরও দেখা হয়েছিল। তবে গ্রেটা যে মার্কিন প্রেসিডেন্টের ভক্ত নন, তা সেখানেই স্পষ্ট হয়েছিল।

সেপ্টেম্বর ২০১৯ এর শেষের দিক: বৈশ্বিক জলবায়ু ধর্মঘট

Media caption: মন্টিলের জনগন জলবায়ুর পরিবর্তণ এর বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে আসে

যুক্তরাষ্ট হতে কানাডা –বৈশ্বিক জলবায়ু ধর্মঘটের অংশ হিসেবে মন্ট্রিয়লে গ্রেটা থুনবার্গ এর নেতৃত্বে বিশাল এক সমাবেশও হয়েছিল। কানাডার বিভিন্ন শহর থেকে লাখ লাখ মানুষ এ সমাবেশে অংশগ্রহন করে। শুধুমাত্র কানাডাতেই নয়, বিশ্বের সবদেশের বিভিন্ন শহর ও অঞ্চলে এই দাবিতে কয়েকশ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

বৈশ্বিক এ জলবায়ু ধর্মঘট শুরু হয়েছিল স্কুলে ধর্মঘট পালনের মধ্য দিয়ে, গ্রেটার ‘ফ্রাইডে ফর ফিউচার’ আন্দোলন থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে এই ধর্মঘট পালিত হয়।

মন্ট্রিয়লের কর্মকর্তারা জানান, পরিবেশ আন্দোলন সংক্রান্ত কোনো কর্মসূচিতে সবচেয়ে তখন বেশি মানুষ উপস্থিত হয়েছিল। প্রায় তিন লাখ ১৫ হাজার মানুষ অংশ নিয়েছিলেন।

কানাডায় গ্রেটা তার সমালোচকদের সম্পর্কে বলতে দ্বিধাবোধ করেন নি। তিনি বলেন , “নিন্দুকেরা অন্য যে কোনো সময়ের চেয়ে এখন সবচেয়ে বেশি সক্রিয়। তারা এখন আমি, আমার চেহারা, পোশাক, আচরণ আর বৈসাদৃশ্যের পেছনে লেগেছে। কেবলাত্র জলবায়ু সংকট ছাড়া অন্য সবকিছু নিয়েই তারা কথা বলছে।”



ডিসেম্বর ২০১৯: গ্রেটার দ্বিতীয় জলযাত্রা

Media caption Greta Thunberg: জলবায়ু কর্মী ইউরোপের মাদ্রিদে ডিসেম্বর ২০১৯ এ অনুষ্ঠিত COP25 সম্মেলনে বক্তৃতা প্রদান করছে।

জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক সম্মেলনে বক্তৃতা দেওয়ার জন্য চিলিতে অবস্থান করার কথা ছিল গ্রেটার। হঠাৎই চিলিতে সরকারবিরোধী তুমুল বিক্ষোভ ও অস্থিরতা দেখা দেওয়ার কারণে সম্মেলনের স্থান পরিবর্তন করা হয় স্পেনে।

কিন্তু তিনি বোর্ডিং পাস নিয়ে বিমানে চড়ে স্পেনের উদ্দেশ্যে রওনা না হয়ে তার পরিবর্তে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনুরোধ করেন, তাকে নৌকায় করে আটলান্টিক পার করে দিতে। তার আহবানে ইউটিউবেরা পরিবারের সদস্যদের বিশ্বভ্রমণের ভিডিও পোস্ট করে আসছিল।

নিউইয়র্ক হতে জলযানে রওনা হয়ে পর্তুগালের লিসবনে নেমে উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে গ্রেটা বলেন, “আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

আমরা যে মানবজাতির ভবিষ্যৎ ও বাসস্থান নিরাপদ করতে পেরেছি এ ব্যাপারে আমাদের নিশ্চিত হতে হবে। আমরা তো শুধুমাত্র আমাদের জন্যই লড়ছি না, বরং লড়ছি আমাদের সন্তান, সন্তানদের সন্তান এবং প্রাণ আছে পৃথিবীর এমন সবকিছুর জন্য।” পর্তুগালের লিসবনে নেমে উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে এসব কথা বলেছিলেন গ্রেটা।

২০২০: ট্রাম্প ও ইইউ নেতাদের উপর চাপ সৃষ্টি:

২০২০ সালের প্রথম, যুক্তরাজ্যের ২য় সর্বোচ্চ জনপ্রিয় অনুষ্ঠান বিবিসি রেডিও- ৪ এর আজকের সকাল অনুষ্ঠান (breakfast show) এর অতিথি সম্পাদক সম্পাদনা করে, যা বিবিসি গুরুত্বসহকারে প্রচার করে।

বিবিসির ঐ অনুষ্ঠানে তাঁকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, আপনার সাথে যদি নিউইয়র্কে ট্রাম্পের সাথে দেখা হতো, আপনি ট্রাম্পেকে কি বলতেন? তার জবাবে তখন গ্রেটা বলেছিল, “… হয়ত কিছু বলতাম না। তিনিতো বিজ্ঞাণীদের কথাই শুনছেন না, তিনি আমার কথা শুনবেন কেন?”

গ্রেটা চলতি বছরের জানুয়ারিতে সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম’ এর বার্ষিক সভায় বিশ্বের প্রভাবশালী দেশগুলোর নেতাদের সঙ্গে যোগদান করেন।

এখানে এসেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মনোযোগ থেকে আড়াল হননি তিনি বরং মনোযোগ আকর্ষণ করেছিলেন তিনি। দুজনই ওই সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন, এতে তাদের দুজনের দেওয়া বার্তা ছিল একেবারেই বিপরীতধর্মী।

মার্চ মাসে গ্রেটা ইউরোপীয় পার্লামেন্টের পরিবেশ বিষয়ক কমিটির এক সভায় জলবায়ুর সংকট মোকাবেলায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের পরিকল্পনাকে ‘আত্মহত্যার শামিল’ অ্যাখ্যা দেন।

ওই সময়ে নতুন মহামারীও অবশ্য গ্রেটাকে তার পথ রোধ করতে পারেনি। মার্চ মাসেই একটি ঘোষণার মাধ্যমে তিনি তার ‘ডিজিটাল ধর্মঘটের’ পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন।

গ্রেটার আন্দোলনের প্রভাব

গ্রেটার এই জলবায়ু পরিবর্তন আন্দোলনের জন্য নেওয়া একের পর এক আহ্বানগুলো সরাসরি বিশ্বের কোনো দেশের সরকারের নীতি পরিবর্তনে প্রভাব ফেলতে না পারলেও এভাবে জলবায়ু ইস্যুতে বিশ্ববাসীর মনোযোগ আকর্ষণের ক্ষেত্রে তার এ আন্দোলনের গুরুত্ব অপরিসীম বলে অনেকে মনে করেন।

গত বছরের শেষদিকে বিজ্ঞান বিষয়ক ম্যাগাজিন ‘দ্য নিউ সায়েন্টিস্ট’ বলেছে, ২০১৯ সালেই বিশ্বে ‘সত্যিকার অর্থে জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত বিষয় মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে।’ এই কারণেই গ্রেটা থুনবার্গ ও এক্সটিঙ্কশন রেবিলিয়ন গ্রুপের আন্দোলনকে কৃতিত্বও প্রদান করেছে তারা।

যুক্তরাজ্যের পরিবেশ বিষয়ক মন্ত্রী মাইকেল গোভ এবং লেবার পার্টির নেতা এড মিলিব্যান্ডসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অনেক রাজনীতিকই গ্রেটার কাজ ও তার সাহসিকতায় প্রশংসায় পঞ্চমুখ ছিলেন।

গ্রেটার সঙ্গে একই মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন ইউরোপীয় কমিশনের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জঁ ক্লদ জাঙ্কার। তিনি জলবায়ু পরিবর্তন রোধে কয়েকশ কোটি ডলার ব্যয়ের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলেন।

শেষ পর্যন্ত গ্রেটা স্কুলে ফিরে আসলেও তিনি যে বিশ্বের প্রভাবশালী নেতাদের স্বস্তিতে থাকতে দেবেন, তেমনটা স্পষ্টতই মনে হচ্ছে না।

কারণ, তাদের উপর তার হুঁশিয়ারি তো এখনও আছে; যেমনটা তিনি আগেও বলেছিলেন, “আমরা আপনাদের উপর নজর রাখছি।”

(BBC হতে সংকলিত)

সম্পর্কিত পোস্ট

Green Page | Only One Environment News Portal in Bangladesh
Bangladeshi News, International News, Environmental News, Bangla News, Latest News, Special News, Sports News, All Bangladesh Local News and Every Situation of the world are available in this Bangla News Website.

এই ওয়েবসাইটটি আপনার অভিজ্ঞতা উন্নত করতে কুকি ব্যবহার করে। আমরা ধরে নিচ্ছি যে আপনি এটির সাথে ঠিক আছেন, তবে আপনি ইচ্ছা করলেই স্কিপ করতে পারেন। গ্রহন বিস্তারিত