27 C
ঢাকা, বাংলাদেশ
রাত ৩:৪৮ | ২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | ৯ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
গ্রীন পেইজ
প্রাকৃতিক দুর্যোগ

একনজরে রাজধানী-কুড়িগ্রাম-শরীয়তপুর ও মুন্সীগঞ্জের বন্যা পরিস্থিতি

বন্যার পানি নামার সঙ্গে সঙ্গে জেগে উঠছে মাসব্যাপী পানিতে ডুবে নষ্ট হওয়া কৃষকের ফসলের খেত। পচে-গলে নষ্ট হয়ে গেছে একরের পর একর জমির ধান, পাট, সবজি। মাথার ঘাম পায়ে ফেলে ফলানো ফসলের খেতের দিকে তাকিয়ে কৃষকের বুক ফেটে বেরিয়ে আসছে আর্তনাদ। আগামী দিনের চিন্তায় দিশাহারা দরিদ্র কৃষক। নতুন করে চারা, বীজের জন্য হন্যে হয়ে ঘুরছে দ্বারে দ্বারে। তবে অধিকাংশ বন্যাদুর্গত এলাকায় কৃষকের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে এখনো কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

এদিকে বন্যার পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে প্রায় প্রতিটি নদীতীরবর্তী এলাকায় তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙনে অসংখ্য মানুষ ঘরবাড়ি হারিয়ে নিঃস্ব হচ্ছেন। বন্যার পানি নেমে যাওয়ায় ঘরবাড়ি মেরামতে ব্যস্ত সময় পার করছেন দুর্গত এলাকার মানুষগুলো। তবে অনেকেই বাড়িঘর মেরামত করতে পারছেন না অর্থাভাবে। সেই সঙ্গে দুর্গত এলাকায় সরকারিভাবে ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত থাকলেও তা অপ্রতুল হওয়ায় দেখা দিয়েছে খাদ্য সংকট। অনেক পরিবারই ত্রাণ না পেয়ে অর্ধাহারে, অনাহারে দিন কাটাচ্ছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বলছেন, যে ত্রাণ আসছে তা তালিকা করে বিতরণ করছেন, তবে ত্রাণ অপর্যাপ্ত হওয়ায় সবাইকে দিতে পারছেন না। এদিকে করোনার কারণে দীর্ঘদিন কাজকর্ম না থাকার মধ্যে আবার মাসব্যাপী বন্যায় অনেক পরিবার দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে গেছে। হাতে টাকা-পয়সা না থাকায় খাবার কিনেও খেতে পারছেন না। আবার ত্রাণও জুটছে না। ফলে অবর্ণনীয় দুর্ভোগে আছেন বন্যাকবলিত এলাকার লাখ লাখ মানুষ।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্যমতে, গত কয়েক দিন ধরে বিভিন্ন নদ-নদীর পানি কমার পর ফের বাড়তে শুরু করেছে। যদিও এক দিনের ব্যবধানে গতকাল সকালে আরও একটি নদীর পানি বিপৎসীমার নিচে নেমে এসেছে। এতে এখন বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে পাঁচটি নদ-নদীর পানি। তবে একই সময়ে ১০১টি পর্যবেক্ষণাধীন পানিসমতল স্টেশনের ৩৯টিতে পানি বেড়েছে। এর আগের দিন ২৭টি স্টেশনে পানি বেড়েছিল। গঙ্গা-পদ্মার পানি কমতে থাকলেও ফের বাড়ছে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের আপার মেঘনা অববাহিকার সুরমা-কুশিয়ারা নদীর পানি। আর এই বৃদ্ধি অব্যাহত থাকতে পারে আগামীকাল পর্যন্ত। যদুকাটা নদীর পানি লরেরগড় স্টেশনে এক দিনেই বেড়েছে ২৫৫ সেন্টিমিটার। এতে শিগগিরই আবারও অনেক এলাকা প্লাবিত হওয়ার শঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জেলাগুলো থেকে বন্যার পানি নামতে থাকলেও নতুন করে প্লাবন দেখা দিয়েছে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে। আমাদের বেনাপোল প্রতিনিধি জানান, ভারতীয় ইছামতী নদীর উজানের পানিতে তলিয়ে গেছে যশোরের শার্শা উপজেলার দক্ষিণাঞ্চল। ডুবে গেছে আউশ, আমনসহ সবজি খেত। অনেকের বাড়িতে পানি উঠতে শুরু করেছে। স্থানীয়রা জানান, গত কদিন ধরে ইছামতী নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। পানি রুদ্রপুর খাল দিয়ে প্রবেশ করে শার্শার দক্ষিণাঞ্চলের মাঠ ঘাট ভাসিয়ে দিয়েছে। রুদ্রপুর গ্রামের মনির হোসেন জানান, প্রতিদিন আধা ফুট করে পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে বিলে। খালমুখে স্লুইস গেট থাকলেও সেটা পানি আটকাতে পারছে না। কায়বা ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আনিছুর রহমান জানান, কায়বার ঠেঙ্গামারী, আওয়ালী, গোমর, পান্তাপাড়া, ডেয়ো ও মহিষা বিলের আশপাশের প্রায় ৪০০ হেক্টর জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে আউশ, আমনসহ তরকারি ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো আরও খবর-

কুড়িগ্রাম : বন্যার পানি নামতেই বাড়িঘর মেরামত শুরু করেছেন বানভাসিরা। তবে অনেকের ঘর একেবারেই ভেঙে গেছে। অর্থের অভাবে মেরামত শুরুই করতে পারেননি। ধরলা নদীর পাড়ের রহিমা বেগম বলেন, ‘ঘরবাড়ি বানের পানিত ভাঙি পড়িচে। এল্যা ক্যামন করি ভালো করিম বা। টেকা নাই, পইসা নাই, ক্যামন করি কি করি, খাই না খাই থাকি।’

এদিকে মাসব্যাপী বন্যায় মারাত্মক বিপর্যয়ে পড়েছেন জেলার ৯টি উপজেলার লক্ষাধিক কৃষক। কৃষি বিভাগের উপ-পরিচালক ড. মোস্তাফিজার রহমান বলেন, ‘বন্যায় লক্ষাধিক কৃষকের বিভিন্ন শাকসবজি, পাট, রোপা আমন বীজ ও ভুট্টাসহ ১৮ হাজার হেক্টর জমির ফসল নিমজ্জিত হয়। সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে ১১ হাজার ৬২২ হেক্টর জমির ফসল। উৎপাদনের ক্ষতি হয়েছে ১ লাখ ৯৬৩ মেট্রিক টন, যার আনুমানিক মূল্য ১৩১ কোটি ৫০ লাখ টাকা।’ সরকারের পক্ষ থেকে কৃষকদের ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার কথা বলা হলেও তা এখনো শুরু না হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। সদর উপজেলার ভোগডাঙ্গা ইউপি চেয়ারম্যান সাইদুল ইসলাম বলেন, তিনবারের বন্যায় আমার ইউনিয়নের সব ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। এখন পর্যন্ত কৃষি বিভাগের কোনো খবর নেই। অন্যান্য বছর নড়াচড়া থাকলেও এবার নেই। অথচ ক্ষতি হয়েছে এবার অনেক বেশি। কৃষকরা বীজ চারার জন্য হন্যে হয়ে ঘুরছে। যাদের সামর্থ্য আছে তারা বাইরের জেলা থেকে এনে জমিতে লাগাচ্ছে। অন্যদিকে, গত কয়েক দিন ধরে তীব্র হয়েছে নদীভাঙন। এতে দিশাহারা মানুষ। উলিপুর উপজেলার সাহেবের আলগা ইউনিয়নের চরবাগুয়ার বাসিন্দা জানু মিয়া জানান, গত এক বছরে আমাদের অনেকের ঘরবাড়ি ভেঙে গেছে নদীতে। কারও ভাগ্যে পুনর্বাসনের সহায়তা মেলেনি। চর গুঁজিমারির বাসিন্দা আমিনুল ইসলাম বলেন, ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙনে চরের প্রায় শতাধিক পরিবার আমরা গৃহহারা হয়েছি। বন্যায় ওই এলাকায় বাড়িঘরের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতিসহ জমির আবাদ নষ্ট হয়েছে। বিঘার পর বিঘা ফসল একেবারে নষ্ট হয়ে গেছে। অভাবের তাড়নায় গরু, ছাগল ও মুরগি সস্তা দামে বিক্রি করেছে অনেকেই। সাহেবের আলগা ইউপি চেয়ারম্যান সিদ্দিক আলী মন্ডল বলেন, বন্যায় যে পরিমাণ ত্রাণ পাওয়া গেছে তা দিয়ে সব দুর্গত পরিবারে সহায়তা করা সম্ভব হয়নি। আরও বরাদ্দ পেলে হয়তো তাদের সহায়তা করা যেত। কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান জানান, নদ-নদীর পানি কমে গিয়ে জেলার ১৯টি পয়েন্টে নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। আমরা দ্রুত ওই পয়েন্টগুলোতে বালুর বস্তা ফেলে নিয়ন্ত্রণে কাজ করছি।

শরীয়তপুর : বন্যার পানি বাড়িঘর ও রাস্তাঘাট থেকে নেমে গেছে। তবে বন্যায় জেলার গ্রামীণ সড়ক ও আঞ্চলিক মহাসড়কসহ ছয় শতাধিক রাস্তাঘাট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। বালুর বস্তা ও ইট ফেলে আঞ্চলিক মহাসড়ক চলাচলের উপযোগী করার চেষ্টা করছে সড়ক বিভাগ। তবে গ্রামীণ সড়কগুলো মেরামতের কোনো উদ্যোগ এখনো গ্রহণ করা হয়নি। বন্যার কারণে শরীয়তপুরের কৃষিজমি, মৎস্য খামারের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। পাঁচ শতাধিক ভাঙনকবলিত পরিবার আশ্রয় সন্ধান করছে। এখনো আশ্রয় মেলেনি। গত কয়েক বছরের ভাঙনে জেলার প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ গৃহহারা হয়ে অন্যের জায়গায় ভাড়া নিয়ে বসবাস করছে।

মুন্সীগঞ্জ : ধীরগতিতে কমতে শুরু করেছে মুন্সীগঞ্জের বন্যার পানি। পানি কমতে থাকায় তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে পদ্মা, মেঘনা ও ধলেশ্বরী নদী তীরবর্তী গ্রামগুলোতে। সিরাজদিখানেও দেখা দিয়েছে ধলেশ্বরী নদীর ভাঙন। এবারের বন্যায় জেলার ৩৯টি ইউনিয়নের ২৬৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। নষ্ট হয়েছে জমির ফসল। ভেসে গেছে জেলার ১ হাজর ৭০২টি পুকুরের মাছ। সূত্র: বিডি-প্রতিদিন

সম্পর্কিত পোস্ট

Green Page | Only One Environment News Portal in Bangladesh
Bangladeshi News, International News, Environmental News, Bangla News, Latest News, Special News, Sports News, All Bangladesh Local News and Every Situation of the world are available in this Bangla News Website.

এই ওয়েবসাইটটি আপনার অভিজ্ঞতা উন্নত করতে কুকি ব্যবহার করে। আমরা ধরে নিচ্ছি যে আপনি এটির সাথে ঠিক আছেন, তবে আপনি ইচ্ছা করলেই স্কিপ করতে পারেন। গ্রহন বিস্তারিত