30 C
ঢাকা, বাংলাদেশ
রাত ১২:২১ | ১৪ই জুলাই, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | ৩০শে আষাঢ়, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
গ্রীন পেইজ
আগামী দুই দিনে তাপমাত্রা আরও কমবে: আবহাওয়া অধিদপ্তর
আবহাওয়া ও পরিবেশ

আগামী দুই দিনে তাপমাত্রা আরও কমবে: আবহাওয়া অধিদপ্তর

ঘন কুয়াশায় দুই দিন ধরে রাজধানীসহ দেশের বেশির ভাগ এলাকায় সূর্যের আলো  দেখা যাচ্ছে না। ফলে তাপমাত্রা দুই দিনের ব্যবধানে চার থেকে আট ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত কমে গেছে।আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ আবদুর রহমান বলেন, আগামী দুই দিন দেশের বেশির ভাগ জেলায় তাপমাত্রা আরও কমতে পারে। এরপর ধীরে ধীরে তাপমাত্রা বাড়বে। তবে মাসের শেষের দিকে আরেকটি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের সূত্রে জানা যায়, বছরের এই সময়টায় সাইবেরিয়া থেকে আসা হিমেল হাওয়া হিমালয়ে বাধা পায়। ওই হিমেল বাতাসের সঙ্গে বঙ্গোপসাগর থেকে আসা জলীয় বাষ্পপূর্ণ বাতাসের মিশ্রণ হয়। এতে বিপুল পরিমাণ জলীয় বাষ্প তৈরি হয়। এই জলীয় বাষ্পই কুয়াশা হয়ে নেপাল থেকে বাংলাদেশ পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে।

ঘন কুয়াশায় দেশের সাতটি জেলা রাজশাহী, পাবনা, নওগাঁ, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, যশোর ও চুয়াডাঙ্গায় বয়ে যাচ্ছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ। এতে তীব্র শীতে কষ্ট পাচ্ছে নিম্ন আয়ের মানুষ, আবার মাঠের ফসলের জন্য বিপদ ডেকে এনেছে ঘন কুয়াশা।

এদিকে কুয়াশা বেড়ে যাওয়ায় ও তাপমাত্রা কমে আসায় রাজধানীসহ দেশের বেশির ভাগ প্রধান শহরের বায়ু দূষণ পরিস্থিতি ধারাবাহিকভাবে খারাপ হচ্ছে। গতকাল সকাল আটটা থেকে রাত সাড়ে সাতটা পর্যন্ত বেশির ভাগ সময় রাজধানীর বায়ু মানবদেহের জন্য অস্বাস্থ্যকর অবস্থায় ছিল। বায়ুর মান সবচেয়ে খারাপ ছিল রাজধানীর মিরপুর এলাকায়। আর তুলনামূলকভাবে ভালো ছিল নর্দা এলাকায়।

বৈশ্বিকভাবে বায়ুদূষণ পর্যবেক্ষণকারী যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংস্থা এয়ার ভিজ্যুয়ালের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, গতকাল রাত সাড়ে আটটার দিকে ঢাকা ছিল বিশ্বের তৃতীয় দূষিত বায়ুর শহর। প্রথম স্থানে ছিল ভারতের দিল্লি, দ্বিতীয় স্থানটি ছিল পাকিস্তানের লাহোরের। চতুর্থ স্থানে ছিল মঙ্গোলিয়ার রাজধানী উলানবাটোর। এক মাসের মধ্যে ১২ থেকে ১৩ দিন (দিনের বেশির ভাগ সময়) ঢাকা বিশ্বের দূষিত বায়ুর শীর্ষ ১০ শহরের মধ্যে ছিল। পরিবেশ অধিদপ্তরের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, গত বুধবার ঢাকা, গাজীপুর, ময়মনসিংহ, রংপুর ও কুমিল্লা শহরের বায়ু খুবই অস্বাস্থ্যকর অবস্থায় ছিল।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস বলছে, আজ শুক্রবারের মধ্যে শৈত্যপ্রবাহ ও কুয়াশার দাপট দেশের আরও কয়েকটি জেলায় ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাপমাত্রা এক থেকে দুই ডিগ্রি সেলসিয়াস কমে গিয়ে শীতের দাপট আরও বাড়তে পারে। শৈত্যপ্রবাহের সঙ্গে দেশের বিভিন্ন স্থানে ও নদীতীরবর্তী এলাকায় ঘন কুয়াশা সৃষ্টি হচ্ছে। এতে দেশের সড়ক ও নৌপথে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। মাঠে থাকা বোরো ধানের বীজতলা, আলু ও সরিষার চারা কুয়াশার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

এদিকে মাঠের ফসল রক্ষায় কৃষি আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, বোরো ধানের বীজতলা পলিথিন দিয়ে ঢেকে রেখে ও রাতে সেচ দিয়ে ভোরে সেই পানি সরিয়ে ফেলতে। এ ধরনের আবহাওয়ায় ধানে পোকার আক্রমণ ও আলুতে রোগ দেখা দিতে পারে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তার সহায়তা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল চুয়াডাঙ্গায় ৭ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ ছাড়া রাজশাহী, ঈশ্বরদী, কুড়িগ্রাম ও যশোরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮ থেকে ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ছিল। এসব এলাকায় তীব্র শীতের দাপটে মানুষের জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে।

সম্পর্কিত পোস্ট

Green Page | Only One Environment News Portal in Bangladesh
Bangladeshi News, International News, Environmental News, Bangla News, Latest News, Special News, Sports News, All Bangladesh Local News and Every Situation of the world are available in this Bangla News Website.

এই ওয়েবসাইটটি আপনার অভিজ্ঞতা উন্নত করতে কুকি ব্যবহার করে। আমরা ধরে নিচ্ছি যে আপনি এটির সাথে ঠিক আছেন, তবে আপনি ইচ্ছা করলেই স্কিপ করতে পারেন। গ্রহন বিস্তারিত