27 C
ঢাকা, বাংলাদেশ
রাত ১১:৫৬ | ২৯শে মে, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | ১৫ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
গ্রীন পেইজ
অ্যান্টার্কটিকার বরফ গলা দেখে অবাক হয়েছে বিজ্ঞানীরা, বিশ্ব ইতিহাসে এটি ঘটলো প্রথমবারের মতো
আন্তর্জাতিক পরিবেশ আশফাকুর রহমান নিলয়

অ্যান্টার্কটিকার বরফ গলা দেখে অবাক হয়েছে বিজ্ঞানীরা, বিশ্ব ইতিহাসে এটি ঘটলো প্রথমবারের মতো

বিজ্ঞানীরা একটি উপগ্রহের মাধ্যমে অ্যান্টার্কটিকার বরফ গলা দেখে অবাক হয়েছে, বিশ্ব ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ঘটলো যা আগে আর কখনও দেখা যায়নি

– আশফাকুর রহমান নিলয়

ICESat-2

মহাকাশ হতে অ্যান্টার্কটিকার অত্যধিক বরফ গলার এমন সব মারাত্বক ছবি এর পূর্বে কখনও পাওয়া যায়নি -যা বিজ্ঞানীদের অ্যান্টার্কটিকার বিষয়ে নতুন তথ্য সরবরাহ করেছে।

ঔ সব দৃশ্যে দেখা গেছে যে, অ্যান্টার্কটিকায় কোন স্থানে খুব তাড়াতাড়ি বরফ জমা হচ্ছে এবং আবার অন্যস্থানে দ্রুততম হারে বরফ অদৃশ্য হয়ে যাচ্ছে এবং কিভাবে পরিবর্তনগুলো সমুদ্রের পানির উচ্চতাকে বাড়িয়ে তুলছে তা দেখা যাচ্ছে।

অ্যান্টার্কটিকার বরফ গলা দেখে অবাক হয়েছে বিজ্ঞানীরা, বিশ্ব ইতিহাসে এটি ঘটলো প্রথমবারের মতো
অ্যান্টার্কটিকার বরফ গলা দেখে অবাক হয়েছে বিজ্ঞানীরা, বিশ্ব ইতিহাসে এটি ঘটলো প্রথমবারের মতো – Photo Credit – Nytimes

গত ৩০/৪/২০২০ তারিখে সায়েন্স জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণামূলক তখ্যচিত্রে অ্যান্টার্কটিকায় কিভাবে ভাসমান বরফ রাশির (ice shelves) পুরুত্ব দ্রুত হ্রাস পেয়ে মহাসাগরে ভেসে যাওয়া এবং সেগুলো গলে যেয়ে সমুদ্রের পানির স্তরকে বাড়িয়ে তুলছে- বরফ হ্রাসের সবচেয়ে বড় এই কারণটি ভবিষ্যত গবেষকদের নতুনভাবে অনুধাবন করতে সাহায্য করবে।

গবেষকরা অনেকদিন হতেই জেনে আসছে যে, জলবাযু পরিবর্তনের সাথে সাথে মহাদেশটির আয়োতনও বেশি পরিমানে হ্রাস হচ্ছে, তবে এই পরিবর্তনটি সমান নয়। এটি পূর্ব অ্যান্টার্কটিকার মত কিছু অঞ্চলে বেশি বরফের পরিমান ও আয়তনের বৃদ্ধি ঘটাচ্ছে এবং অন্য অংশসমূহে যেমন পশ্চিম অ্যান্টার্কটিকা ও অ্যান্টার্কটিক উপদ্বীপে খুবই দ্রুত হ্রাস করছে।

অ্যান্টার্কটিকার বরফ গলা দেখে অবাক হয়েছে বিজ্ঞানীরা, বিশ্ব ইতিহাসে এটি ঘটলো প্রথমবারের মতো
Photo Credit – Nytimes

প্রবন্ধ তথ্যচিত্রটির লেখক হেলেন এ. ফ্রিকার বলেন যে, বিজ্ঞানীরা অ্যান্টাটিকার বরফের খন্ডসমূহের পূরুত্ব হ্রাস এবং বরফ গলার (grounded ice) মাঝে যোগসূত্রকে নিয়ে অধ্যয়ন করার চেষ্টা করছে, তবে বেশিরভাগ পর্যবেক্ষণ এক বা একাধিক অঞ্চল নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন সময়ে গবেষণা করেছে বলে সমস্যা হয়েছে।

ক্যালিফোর্নিয়ার লা জোলার স্ক্রিপস ইন্সটিটিউট অফ ওশানোগ্রাফি এর গ্লাসিওলজিস্ট ড. ফ্রিকার বলেন যে, “এখন আমরা এটি একই ম্যাপে পেয়েছি, যা আসলেই শক্তিশালী জিনিস।”

২০১৮ সালে নাসার আর্থ পর্যবেক্ষণ সিস্টেমের অংশ হিসেবে “The Ice, Cloud and land Elevation Satellite-2” অথবা “ICESat-2” চালু করা হয়। তার আওতায় একটি উপগ্রহকে মহা আকাশে প্রতিস্থাপিত করা হয় যা ২০০৩ থেকে ২০০৯ পর্যন্ত তথ্য সরবরাহক করে।

ICESat-2 লেজার আল্টিমিটার (উচ্চতা মাপার যন্ত্র বিশেষ যাতে রাডার সংযুক্ত থাকে এবং সাধারনত বিমানে বা স্যাটেলাইটে সংযুক্ত করা হয়)ব্যবহার করে, যা ৩০০ মাইল নিচের ভূ-পৃষ্ঠে ৬ ভাগে বিভক্ত করে আলোক কনার বিচ্চুরণ (fires pulses of photons split into six beams toward the Earth’s surface 300 miles below) নিক্ষেপ করে।

এইরূপে ভূ-পৃষ্ঠে প্রেরিত ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন আলোক কনার বিচ্চুরনের মাত্র কিছু সংখ্যক ফতিফলিত হয়ে উপগ্রহে ফিরে আসে যা দ্বারা ভূ-পৃষ্ঠের প্রতিচ্ছবি পাওয়া যায়। এই আলোক কনার বিচ্চুরণের পরিভ্রমণের সময়গুলো অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট, যা দ্বারা ভূ-পৃষ্ঠের বিভিন্ন স্থানের উচ্চতার তথ্য পাওয়া যায় যা কিনা কয়েক ইঞ্চির মধ্যে নির্ভূল।

অ্যান্টার্কটিকার বরফ গলা দেখে অবাক হয়েছে বিজ্ঞানীরা, বিশ্ব ইতিহাসে এটি ঘটলো প্রথমবারের মতো
Photo Credit – Nytimes

ক্যালিফোর্নিয়ার পাসাডেনাতে নাসার জেট প্রপালশন ল্যাবরেটরি এর একজন গ্লাসিওলজিস্ট অ্যালেক্স এস. গার্ডনার বলেন যে, “এটি মহাকাশে আমাদের পূর্বে স্থাপন করা কোনো যন্ত্রের মত নয়।” তিনি আরও বলেন যে, বিশ্লেষণটি এতটাই নিখুত যে এটি বরফ পৃষ্ঠের ফাটল, খুঁত ও অন্যান্য ছোট ছোট বৈশিষ্ট্যগুলোকে খুঁজে বের করতে সক্ষম।

গবেষকরা উভয় উপগ্রহ হতে উচ্চতা পরিমাপক ব্যবহার করে নির্ধারণ করে যে, কিভাবে বরফ জমা হওয়া ও বরফ গলে যাওয়ার মধ্যে বিদ্যমান পার্থক্য দ্বারা অ্যান্টার্কটিকার ভর ভারসাম্য হচ্ছে। অ্যান্টার্কটিকায় ২০০৩ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত সময়ে ২৭ টি নিষ্কাশন অববাহিকার পরিবর্তন হয়। তারা জানায় যে, মহাদেশটিতে এই সময়ের মধ্যে যথেষ্ট পরিমাণ বরফ গলে যায় এবং সমুদ্রের পানির স্তর ৬ মিলিমিটার বা প্রায় ১ ইঞ্চি এর এক-চতুর্থাংশ বৃদ্ধি করে।

যদিও এই অনুসন্ধানটি অন্যান্য গবেষণাগুলোর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ যেগুলো অন্যান্য যন্ত্রের তথ্যকে ব্যবহার করে অনুসন্ধান করা হয়। ইউনিভার্সিটি অফ ওয়াশিংটন এর একজন গ্লাসিওলজিস্ট ও এই গবেষণার লেখক বেন স্মিথ বলেন যে,

“তবে বিভিন্ন দিক থেকে এটি একটি সুনির্দিষ্ট পরিমাপ।” তিনি আরও বলেন যে, “এটি কিছু পার্থক্য দেখায় যা আমরা বিস্তারিতভাবে আসলেই বিষয়টি বুঝতে পারি এবং বরফের শিট বলতে কি বুঝানো হয় তা আমরা জানতে পারি।”

পশ্চিম অ্যান্টার্কটিকা ও অ্যান্টার্কটিক উপদ্বীপে বরফের গলে যাওয়াটা সমান গতিতে চলছে, অপর দিকে পূর্ব অ্যান্টার্কটিক এর বরফ রাশি সময়ের সাথে সাথে বড় হচ্ছে। পূর্ব অ্যান্টার্কটিকের বৃদ্ধিটি সম্ভবত বৃষ্টিপাত হওয়ার ফলেই হতে পারে। ড. গার্ডনার বলেন যে, “যদিও আমরা বলতে পারি না যে এই পরিবর্তনগুলো সমসাময়িক জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে সম্পর্কিত, আমরা বলতে পারি যে, এই ধরণের পরিবর্তনকে একটি উষ্ণায়িত বিশ্ব দেখার আমাদের আশংকাকে বৃদ্ধি করে।”



তুষারপাত বরফের খন্ডের ভর বাড়িয়ে তোলে, কারণ সময়ের সাথে সাথে তুষার সংকোচনের ফলে তা বরফে পরিণত হয়।

গবেষকরা খুঁজে বের করেছে যে, পশ্চিম অ্যান্টার্কটিকায় বরফের খন্ড মহাসাগরে ভেসে যাওয়ার কারণে মহাদেশটির ৩০ শতাংশ গলেেএই সময়ে গিয়েছে।

ভাসমান বরফ ২ ভাবে নষ্ট হয়; তুষারস্তূপ বরফ রাশির উপর জমা হওয়ার ফলে উপরের দিকে ফাটল বা গর্ত সৃষ্টি করে এবং নীচের দিক হতে উষ্ণ পানির স্রোত সে ফাটল বা গর্তে প্রবেশ বা প্রবাহিত হওয়ার ফলে বরফ রাশি ক্রমান্বয়ে ফা্তলা হয়ে যায়, তারপর খন্ডে খন্ডে বিভক্ত হয়ে সমুদ্রে ভেসে যায় এবং উষ্ণ জলের সংষ্পর্শে পরবর্তীতে সম্পূর্ণভাবে গলে যায়।

সংজ্ঞা মতে ভাসমান বরফ যেহেতু পানিতেই থাকে, সুতরাং যখন এটি খন্ডে খন্ডে বিভক্ত হয় অথবা গলে যায় তখন এটি সমুদ্রের পানির স্তরের বৃদ্ধিতে সংযুক্ত হয় না। তবে এগুলো গলে যাওয়ার ফলে তার পশ্চাতের স্তুপাকারের বরফ রাশি গলে যাওয়ার পটভূমি তৈরী হয়, এবং যখন পূর্বের পশ্চাতের স্তুপাকারের বরফ রাশিটি পানিতে পৌঁছে, তখন এটি সমুদ্রের উচ্চতা বৃদ্ধিতে যোগ দেয়।

বিজ্ঞানীরা খুবই উদ্বিগ্ন যে, পশ্চিম অ্যান্টার্কটিকার ভাসমান বরফের ক্ষয় ঐ অঞ্চলের স্তুপাকারের বরফ রাশি আরও দ্রুত সমুদ্রে গলে যাওয়ার প্রক্রিয়া ঘটাচ্ছে এবং পাহাড় সমান উচ্চতার স্তুপাকৃতির একটি বরফ শীটের অংশ এই শতাব্দীতেই ধ্বসে পড়তে পারে, যার ফলে সমুদ্রের পানির স্তরকে বেশ বাড়িয়ে তুলতে পারে।

সমীক্ষাতে গ্রিনল্যান্ডের বরফের শিটের পরিবর্তনগুলোকেও খেয়াল করা হয়েছে। অ্যান্টার্কটিকায় যেখানে বরফের উপরের তলে সামান্য বরফ গলে নিষ্কাশিত হয়, আর গ্রীণল্যান্ডের ক্ষেত্রে এই ভাবে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ বরফ গলে যাচ্ছে।

উচ্চতা উপাত্ত ব্যবহার করে গবেষকরা পেয়েছে যে, প্রতি বছর গ্রিনল্যান্ড গড়ে প্রায় ২০০ বিলিয়ন টন পরিমাণ ভর হারাচ্ছে। যা কিনা সমুদ্রের স্তরকে প্রায় ৮ মিলিমিটার বা ১ ইঞ্চির তৃতীয়াংশ বাড়াতে যথেষ্ট।

ভর হারানোর এই পরিসংখ্যান সাম্প্রতিক সময়ের অন্যান্য অনুমানের সাথে প্রায় একই।

“ICESat-2” থেকে উপাত্ত ব্যবহার করে এই গবেষণাটি প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল, যা কমপক্ষে ৩ বছরের অপারেটিং লাইফের জন্য নকশা করা হয়। আরও অনেক অধ্যয়ন প্রত্যাশিত যা পৃথিবীর হিমায়িত বিস্তৃতিকে বোঝার সাথে যুক্ত হবে।

ড. গার্ডনার বলেন যে, “আমরা যেখানে বরফের শিটের বিজ্ঞানে রয়েছি, এখনও অনেক কিছু অজানা রয়েছে।” তিনি আরও বলেন যে, “ICESat-2” এর একটি সুবিধা হচ্ছে এটির কিছু ক্ষুদ্রতম বরফের শিটের বৈশিষ্ট্যগুলোর পরিবর্তনগুলোকে পরিমাপ করার ক্ষমতা রয়েছে। এটি বিজ্ঞানীদের পরিবর্তনগুলো কিভাবে ঘটছে তা আরও ভালভাবে বুঝতে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে সাথে ভবিষ্যৎতের প্রভাবগুলোর পূর্বাভাসকে উন্নত করতে সাহায্য করবে।

তিনি বলেন যে, “ICESat-2 পরিবর্তনের প্রক্রিয়াটিকে প্রকাশ করে এবং সেই প্রক্রিয়াগুলোকে না বুঝে ভবিষ্যদ্বানী করার ক্ষমতা কারো নাই।”

“এটি আসলেই আমাদেরকে অবিশ্বাস্যভাবে সতেজ ও সমন্বিত ছবি প্রদান করে।”

Source: The New York Times

সম্পর্কিত পোস্ট

Green Page | Only One Environment News Portal in Bangladesh
Bangladeshi News, International News, Environmental News, Bangla News, Latest News, Special News, Sports News, All Bangladesh Local News and Every Situation of the world are available in this Bangla News Website.

এই ওয়েবসাইটটি আপনার অভিজ্ঞতা উন্নত করতে কুকি ব্যবহার করে। আমরা ধরে নিচ্ছি যে আপনি এটির সাথে ঠিক আছেন, তবে আপনি ইচ্ছা করলেই স্কিপ করতে পারেন। গ্রহন বিস্তারিত