29 C
ঢাকা, বাংলাদেশ
রাত ৩:১৫ | ২৪শে জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ খ্রিস্টাব্দ | ১০ই আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ বঙ্গাব্দ
গ্রীন পেইজ
উজানের দেড়শো কিমিজুড়ে ছড়িয়েছে লবণাক্ততা
পরিবেশগত সমস্যা সাম্প্রতিক সংবাদ

উজানের দেড়শো কিমিজুড়ে ছড়িয়েছে লবণাক্ততা

উজানের দেড়শো কিমিজুড়ে ছড়িয়েছে লবণাক্ততা

সম্প্রতি বরিশাল অঞ্চলে যে ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব হয়েছে এর পেছনে পানির লবণাক্ততাকেও দায়ী করছেন জনস্বাস্থ্য গবেষকেরা। অনাবৃষ্টি, তীব্র তাপপ্রবাহ ও নদ-নদীতে অস্বাভাবিক লবণাক্ততার প্রভাবে পাল্টে যাচ্ছে পুরো দক্ষিণ উপকূলের পানি, মাটি ও পরিবেশের গুণগত চরিত্র।

কীর্তনখোলা নদীটি বরিশালের শায়েস্তাবাদ থেকে ঝালকাঠির নলছিটি পর্যন্ত ২১ কিলোমিটার দীর্ঘ। নলছিটিতে গিয়ে এটি বিষখালীতে মিশে বঙ্গোপসাগরে মিশেছে। বঙ্গোপসাগর থেকে এই নদীর দূরত্ব ১৩০ কিলোমিটার। কীর্তনখোলা এ অঞ্চলের স্বাদু পানির এক সুরক্ষিত আঁধার।

গত ফেব্রুয়ারিতে এই নদীর পানির তড়িৎ পরিবাহিতা বা ইলেকট্রিক্যাল কনডাক্টিভিটি (ইসি) ছিল প্রতি সেন্টিমিটারে ৩০০ থেকে ৪০০ মাইক্রো সিমেন্স পর্যন্ত। কিন্তু মার্চে নাটকীয়ভাবে এই মান বেড়ে হয় প্রতি সেন্টিমিটারে ১ হাজার ৩৬২ মাইক্রোসিমেন্স।



বরিশাল আঞ্চলিক মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট, পরিবেশ অধিদপ্তর এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) উপাত্ত ঘেঁটে এসব তথ্য পাওয়া গেল। এই সংস্থাগুলো এ অঞ্চলের নদ-নদীর পানির মান নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করে।

মৃত্তিকা ও কৃষি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তড়িৎ পরিবাহিতা বা ইসি পানির লবণাক্ততা পরিমাপের একটা মাপকাঠি। পানিতে লবণাক্ততা সহনীয় মাত্রা হচ্ছে প্রতি সেন্টিমিটারে ৭৫০ মাইক্রো সিমেন্স।

বরিশালের নদীগুলোর পানি সহনীয় মাত্রার অনেক বেশি পরিমাণে লবণাক্ত। বরিশালসহ দক্ষিণ উপকূলের নদীগুলোতে উজানের প্রায় ১৫০ কিলোমিটারের বেশি জুড়ে এই লবণাক্ততা ছড়িয়ে পড়েছে। এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে কৃষি, পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যে। সম্প্রতি বরিশাল অঞ্চলে যে ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব হয়েছে, এর পেছনে পানির লবণাক্ততাকেও দায়ী করছেন জনস্বাস্থ্য গবেষকেরা।

লবণাক্ততার মাত্রা এতটা উজানে চলে আসার বিষয়টি আমাদের জন্য অশনিসংকেত। এখনই তা অনুসন্ধান করা উচিত। খরা, তাপমাত্রার পাশাপাশি উজানে পানি প্রবাহ হ্রাস হওয়ার পেছনে এর ভূমিকা আছে।

সাব্বির হোসেন, প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, বরিশাল আঞ্চলিক কার্যালয়, মৃত্তিকা সম্পদ ইনস্টিটিউট অনাবৃষ্টি, তীব্র তাপপ্রবাহ ও নদ-নদীতে অস্বাভাবিক লবণাক্ততার প্রভাবে পাল্টে যাচ্ছে পুরো দক্ষিণ উপকূলের পানি, মাটি ও পরিবেশের গুণগত চরিত্র।

কীর্তনখোলার মতো বরগুনার বিষখালী অংশে এপ্রিলে লবণাক্ততার পরিমাণ ছিল প্রতি সেন্টিমিটারে ২ হাজার ৮৪ মাইক্রোসিমেন্স। একই সময়ে পটুয়াখালীর লোহালিয়া নদীতে লবণাক্ততা ছিল প্রতি সেন্টিমিটারে ৩ হাজার ৭১ মাইক্রো সিমেন্স। পায়রা নদীর আমতলী অংশে লবণাক্ততা ১২ হাজার ৮০ সিমেন্স, বলেশ্বর নদের পাথরঘাটার চরদুয়ানি অংশে পাওয়া যায় ১৪ হাজার ৪০ সিমেন্স।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অসংখ্য নদী-খালবেষ্টিত হওয়ায় অন্যান্য উপকূলীয় এলাকা থেকে বরিশালের মাটি, পানি ও আবহাওয়ার বৈশিষ্ট্য আলাদা। শুষ্ক মৌসুমেও উজান থেকে মিষ্টি পানির যথেষ্ট প্রবাহ থাকায় সাগরের লবণ পানি এসব নদীর অভ্যন্তরে ঢুকতে পারত না। তবে গত কয়েক বছর লবণাক্ততা, অনাবৃষ্টি ও তাপপ্রবাহের ফলে এর বিরূপ প্রভাব পড়তে শুরু করে। কিন্তু এবার হঠাৎ করেই এই পরিবর্তন আরও ত্বরান্বিত হয়। সুরক্ষিত এলাকায় অস্বাভাবিক লবণাক্ততা ছড়িয়ে তা উজানের দিকে ধেয়ে এসেছে। এর মধ্যেই দেড় শ কিলোমিটারের বেশি এলাকায় লবণাক্ততা ছড়িয়েছে। এ নিয়ে নিবিড় অনুসন্ধান প্রয়োজন বলে মনে করছেন পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা।

তীব্র খরতাপে পানির উৎসগুলো শুকিয়ে গেছে। নদ-নদীর পানিও লবণাক্ত। তাই দূরের গ্রাম থেকে পানি সংগ্রহ করেন নারীরা। কীর্তনখোলায় ২০১৮ সালের মার্চে লবণাক্ততার মান ছিল ৪৪০ মাইক্রোসিমেন্স।



২০১৯ সালে তা ছিল ৪০৪ মাইক্রোসিমেন্স। ২০২০ সালেও একই মান বজায় ছিল। ভোলার তজুমদ্দিন এলাকার মেঘনা-সুরমা পয়েন্টে ২০১৮ সালের মার্চে এই মান ছিল ১ হাজার ২৯৮ মাইক্রোসিমেন্স, ২০১৯ সালের মার্চে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১ হাজার ৮৯৫ মাইক্রোসিমেন্স।

২০২০ একই সময়ে তা আরও বেড়ে হয় ২ হাজার ২২১ মাইক্রো সিমেন্স। বিষখালী নদীর বরগুনার বেতাগী পয়েন্টে ২০১৮ সালের মার্চে লবণের মান ছিল ১ হাজার ৭২৫ মাইক্রোসিমেন্স। ২০১৯ সালের ওই সময় তা আরও বেড়ে হয় ১ হাজার ৭৩৯। ২০২০ সালের ওই সময়ে ছিল ১ হাজার ৫৮৭ মাইক্রোসিমেন্স।

মৃত্তিকা সম্পদ ইনস্টিটিউটের বরিশাল আঞ্চলিক কার্যালয়ের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. সাব্বির হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, লবণাক্ততার মাত্রা এতটা উজানে চলে আসার বিষয়টি আমাদের জন্য অশনিসংকেত। এখনই তা অনুসন্ধান করা উচিত। তিনি মনে করেন, খরা, তাপমাত্রার পাশাপাশি উজানে পানিপ্রবাহ হ্রাস এর পেছনে আসল ভূমিকা রাখছে।

বাড়ছে তাপমাত্রা

আবহাওয়া বিভাগের তথ্য অনুয়ায়ী, চলতি বছর ফেব্রুয়ারিতে বরিশাল অঞ্চলের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা থাকার কথা ২৮ দশমিক ২ ডিগ্রি, কিন্তু ছিল ৩৪ ডিগ্রি, মার্চে থাকার কথা ৩২ দশমিক ২, ছিল ৩৬ দশমিক ৭ ডিগ্রি, এপ্রিলে থাকার কথা ৩৩ দশমিক ৪, ছিল ৩৫ দশমিক দশমিক ৭ ডিগ্রি। তবে অনুভূত তাপমাত্রা ছিল ৪০-এর ওপরে।

একইভাবে ২০২০ সালের জানুয়ারিতে বরিশালে সর্বোচ্চ স্বাভাবিক তাপমাত্রা থাকার কথা ছিল ২৫ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। কিন্তু ১৫ জানুয়ারি সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ১৬ জানুয়ারি তা ২৮ দশমিক ৬ ডিগ্রিতে পৌঁছায়। আর ১৭ জানুয়ারি তা আরও বেড়ে দাঁড়ায় ৩০ দশমিক ৬ ডিগ্রিতে, যা স্বাভাবিকের ৫ ডিগ্রি বেশি।

তাপমাত্রার এই অস্বাভাবিকতা দেখা গেছে ২০১৯ সালের শীত মৌসুমেও। ওই বছর ২৮ জানুয়ারি বরিশালে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি, যা শীত ঋতুতে গড় তাপমাত্রার চেয়ে প্রায় ৫ ডিগ্রি বেশি। ওই বছরের ২৭ জানুয়ারি সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৯ দশমিক শূন্য ডিগ্রি।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপকূল শিক্ষা ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের চেয়ারম্যান হাফিজ আশরাফুল হক বলেন, প্রয়োজনীয় বৃষ্টিপাত না হওয়ার কারণে আমাদের গড় তাপমাত্রা বাড়ছে। ফলে শীত ও গ্রীষ্ম অত্যধিক চরম ভাবাপন্ন হয়ে উঠেছে।

বৃষ্টিপাতের হেরফের

তাপমাত্রার এমন অস্বাভাবিকতার ফলে বরিশালসহ উপকূলীয় এলাকায় ছয় ঋতুর চরিত্র ক্রমে ম্লান হচ্ছে। উষ্ণায়নের ফলে বেশি প্রভাব পড়েছে বৃষ্টিপাতে। কয়েক বছর ধরে মৌসুমে কম বৃষ্টি আবার কখনো অধিক বৃষ্টি এ অঞ্চলে নতুন দুর্যোগের সৃষ্টি করছে।

আবহাওয়া বিভাগের তথ্য বলছে, চলতি বছর জানুয়ারি থেকে এপ্রিল চার মাসে ২৩০ দশমিক ১৭ মিলি বৃষ্টিপাত হওয়ার কথা থাকলেও হয়েছে মাত্র ১ দশমিক শূন্য ৩ মিলি, যা স্বাভাবিকের ৯৯ দশমিক ৫ শতাংশ কম।
২০১৯ সালেও এ অঞ্চলে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত হয়নি। জুন-জুলাইয়ে গড় বৃষ্টিপাত হওয়ার কথা ৮১৫ দশমিক ৭ মিলিমিটার। হয়েছিল ৫৯২ দশমিক ১০ মিলি। আগস্ট-সেপ্টেম্বরে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত হওয়ার কথা ৫৩০ দশমিক ৪ মিলি। হয়েছিল ৪৩৬ মিলি।

২০১৭ সালের বর্ষা মৌসুমের চার মাসে বৃষ্টি হয়েছে স্বাভাবিকের চেয়ে ১৯ দশমিক ১৭ শতাংশ বেশি। অথচ ২০১৬ সালে দেশে বৃষ্টি হয়েছিল ৩ দশমিক ৩ শতাংশ কম। আবার ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর (ভাদ্র-আশ্বিন) মাসে সারা দেশে বৃষ্টিপাতের স্বাভাবিক হারের চেয়ে ৪৩ দশমিক ৬ শতাংশ কম বৃষ্টিপাত হয়েছে।

নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও বরিশাল বিভাগে কয়েক বছর ধরে চালের উৎপাদন বাড়ছে। গত বছর তিন ফসল মিলিয়ে এই বিভাগে প্রায় ৩১ লাখ মেট্রিক টন চাল উৎপাদন হয়। একইভাবে দেশের ৮০ ভাগ মুগ ডাল, ৬৫ ভাগ তরমুজ উৎপাদন হয় এই বিভাগে।



চলতি বছর বোরো আবাদ হয়েছে ১ লাখ ৬৪ হাজার হেক্টর জমিতে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ৭ লাখ মেট্রিক টন চাল। মুগ আবাদ হয়েছে ২ লাখ ৭৫ হাজার হেক্টরে। লক্ষ্যমাত্রা সাড়ে তিন লাখ মেট্রিক টন। এ ছাড়া ৫০ হাজার হেক্টরের বেশি জমিতে রবি আবাদ হয়েছে।

কিন্তু টানা তাপপ্রবাহ, খরা আর লবণাক্ততার কবলে পড়েছে এই ফসল। ধারাবাহিক উচ্চ তাপপ্রবাহে এরই মধ্যে কয়েক হাজার হেক্টর জমির বোরো এবং মুগ ডাল ও রবি ফসলের খেত পুড়ে গেছে। কৃষি বিভাগ এর হিসাব কষছে।

কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের আঞ্চলিক কার্যালয়ের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আলিমুর রহমান বলেন, ‘জমি একবার লবণাক্ত হয়ে গেলে তা স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরানো (রি ক্লানেশন) সহজ নয়।

আমরা যত সহিষ্ণু ভ্যারাইটি করি না কেন তাতে কোনো কাজে আসবে না। উৎপাদন হ্রাস পাবে। তাই এটা রোধে দ্রুত সম্মিলিতভাবে সিদ্ধান্ত নিতে হবে আমরা কীভাবে লবণাক্ততা আগ্রাসন ঠেকাতে পারি।’

শুধু কৃষি নয়, বেশ কয়েক বছর ধরে দেশের মোট ইলিশের ৬৬ ভাগের জোগান দেয় বরিশাল অঞ্চল। একইভাবে মিঠাপানির মাছ উৎপাদনেও এই বিভাগের অবদান অনেক। নদ-নদীতে লবণাক্ততা বেড়ে যাওয়ায় ইলিশসহ মিঠাপানির মাছের বংশবিস্তার, বেড়ে ওঠা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা আছে।

ডায়রিয়াসহ রোগবালাই বাড়ছে

উচ্চ মাত্রার লবণাক্ততার প্রভাব পড়ছে এ অঞ্চলের জনস্বাস্থ্যে। পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কমিউনিটি হেলথ অ্যান্ড হাইজিন বিভাগ ২০১৮ সালের জুনে এ নিয়ে একটি গবেষণা চালায়। জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে ওই গবেষণাটি পরিচালিত হয়।

পটুয়াখালীর বলাপাড়া উপজেলার টিয়াখালী ও বালিয়াতালী দুটি ইউনিয়ন থেকে মোট ১০০ জন নারীকে (যাঁদের পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু রয়েছে) নিয়ে প্রথমে সমীক্ষা হয়। ওই এলাকার গভীর নলকূপ, পুকুর-খালের পানি এবং সমীক্ষায় অংশ নেওয়া নারীদের প্রস্রাবের (ইউরিন) নমুনা সংগ্রহ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবে পরীক্ষা করা হয়।

নমুনা পরীক্ষায় দেখা যায়, ৫৮ ভাগ নারী প্রতিদিন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা নির্ধারিত ২ গ্রামের বেশি সোডিয়াম গ্রহণ করছে। বিস্ময়কর ব্যাপার হচ্ছে, এখানে নলকূপের পানিতে লবণাক্ততার পরিমাণ পুকুরের পানির তুলনায় বেশি। গভীর নলকূপের পানির লবণাক্ততার পরিমাণ প্রতি সেন্টিমিটারে ২২২০ মাইক্রো সিমেন্স। পুকুরের পানিতে তার পরিমাণ পাওয়া যায় ৪১০ মাইক্রো সিমেন্স।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্ধারিত মান অনুযায়ী ওই এলাকার গভীর নলকূপে সহনীয় সোডিয়ামের মাত্রা হচ্ছে ৬৯৭ মাইক্রোসিমেন্স। আর পুকুরে লবণাক্ততার সহনীয় মাত্রা ১৩৪ মাইক্রো সিমেন্স। পানির এই উচ্চমাত্রার লবণাক্ততা এ নারীদের প্রস্রাব ও রক্তচাপে দৃশ্যমান প্রভাব ফেলেছে।

উচ্চ মাত্রার লবণাক্ততার প্রভাবে স্বাস্থ্যগত সমস্যা সম্পর্কে গবেষণায় অংশ নেওয়া নারীদের মধ্যে কোনো সচেতনতা নেই। কেবল গ্যাস্ট্রিক, চর্মরোগ, বাতব্যথা, উচ্চ রক্তচাপ এসব স্বাস্থ্য সমস্যার কথার কথা জানেন তাঁরা।



তবে কিছু উত্তরদাতা প্রশ্নোত্তরে মূত্রথলির জ্বালা, বেদনাদায়ক প্রস্রাব, স্ত্রীরোগজনিত সমস্যা, রক্তপাত এবং অকাল গর্ভপাত, কার্ডিওভাসকুলার ডিজিজ (হৃদরোগ ও রক্তনালির রোগ), হাঁপানি, অ্যালার্জিসহ বেশ কিছু স্বাস্থ্য সমস্যার কথা উল্লেখ করেছেন। আবার অনেকে টাইফয়েড, পাইলস, অবসাদ, থাইরয়েড, স্ট্রোক, সর্দি, দন্তরোগ, ডায়াবেটিস, চোখের সমস্যা, রক্ত স্বল্পতার কথাও বলেছেন।

২০১৩ সালে বিশ্ব ব্যাংক এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, পানির বর্ধিত লবণাক্ততা ডায়রিয়ার ক্রমবর্ধমান সংখ্যার সঙ্গেও যুক্ত হয়েছে। প্রতিবেদনে এ–ও বলা হয়, লবণাক্ত জলে কলেরার জীবাণু ভিব্রিও কলেরি (ব্যাকটেরিয়া ঘটিত ক্ষুদ্রান্ত্রের একটি সংক্রামক রোগ) দীর্ঘকাল বেঁচে থাকার কারণে ঘন ঘন কলেরার প্রাদুর্ভাব হতে পারে।

পানির বর্ধিত লবণাক্ততার প্রভাব দেখা যায় এবার এই অঞ্চলের ব্যাপক হারে ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাবের মধ্য দিয়ে। স্বাস্থ্য বিভাগের হিসাবে, গত ১ জানুয়ারি থেকে এই বিভাগে ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়।

সেই থেকে ২৬ এপ্রিল অবধি বিভাগে ৪০ হাজারের বেশি মানুষ ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে ২০ থেকে ২৬ এপ্রিল সপ্তাহে আক্রান্ত হয়েছে ১০ হাজার ৭ জন। আর গত এক মাসে এই বিভাগে আক্রান্ত হয়েছে ২৫ হাজারের বেশি। এপ্রিল মাসে সরকারি হিসাবে মারা গেছে ১১ জন। তবে বেসরকারি হিসাবে মৃত্যুর সংখ্যা প্রায় ৩০ জনের বেশি।

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কমিউনিটি হেলথ অ্যান্ড হাইজিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক লিটন চন্দ্র সেন প্রথম আলোকে বলেন, লবণাক্ততার প্রভাবে উচ্চ রক্তচাপ, প্রি-অ্যাকলামসিয়ার মতো আরও অনেক স্বাস্থ্যগত সমস্যা উপকূলে প্রকট হচ্ছে—সেটা গবেষণায় প্রমাণ পাওয়া গেছে। ডায়রিয়ায় এর প্রভাব নিয়ে এখনো গবেষণা হয়নি।

তবে এটা ঠিক খরা এবং তাপপ্রবাহের কারণে নদ-নদী, পুকুর শুকিয়ে যায়। এতে লবণের ঘনত্ব বাড়ে। অতিরিক্ত গরমে মানুষের শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দেওয়ায় সোডিয়াম পটাশিয়াম ইমলান্স হয়। এতে শরীরে উপকারী ব্যাকটেরিয়া মারা গিয়ে হজম শক্তি হ্রাস পায় এবং প্রবল তৃষ্ণা থাকায় মানুষ হাতের কাছে যেকোনো আঁধারের পানি পেলেই তা পান করার প্রবণতা আছে। ফলে পরোক্ষভাবে ডায়রিয়ায় লবণাক্ততার প্রভাব থাকতে পারে।

সংগ্রহিত – প্রথমআলো

“Green Page” কে সহযোগিতার আহ্বান

সম্পর্কিত পোস্ট

Green Page | Only One Environment News Portal in Bangladesh
Bangladeshi News, International News, Environmental News, Bangla News, Latest News, Special News, Sports News, All Bangladesh Local News and Every Situation of the world are available in this Bangla News Website.

এই ওয়েবসাইটটি আপনার অভিজ্ঞতা উন্নত করতে কুকি ব্যবহার করে। আমরা ধরে নিচ্ছি যে আপনি এটির সাথে ঠিক আছেন, তবে আপনি ইচ্ছা করলেই স্কিপ করতে পারেন। গ্রহন বিস্তারিত